What do you think?
Rate this book


188 pages, Paperback
ভেবে অবাক হয়েছি, ১৯৬২ সালের একটা উপন্যাস কতটা relevant রয়ে গেছে এই আজকের ২০২১ এর বিশ্বেও! নীতা, গীতা, শঙ্কর, মন্টু, কাদম্বিনীরা এখনো কিভাবে পাক খাচ্ছে আমাদের ভেতর, আমাদের চারপাশে। জীবনযুদ্ধে যারা অপরিসীম পরিশ্রম করছেন নিজের পায়ের নিচের ভীতটা শক্ত করতে, নিজের স্বপ্নকে কিছুতেই বেচতে চাইছেন না সংসারের বিকিকিনির বাজারে, তবুও নিয়ত লড়ে যাচ্ছেন নিজের সাথে, প্রশ্ন করছেন ঠিক করছি তো, স্বার্থপর হয়ে রইলাম না তো? পারবো তো?, তারা একবার হলেও পড়ে নেবেন নীতা নামের মেয়েটির কথা। এ একদম বাঁধা দায়িত্ব আপনার। বিশ্বাস করুন, আপনার বিশ্বাসের ভিতটা তাতে এতটুকু কাঁপবে না, শুধু এটুকুই বলতে পারি।
দেশভাগের পর কলকাতায় পাড়ি দিয়ে মাধববাবুর শিক্ষকতা পেশা তার সংসারে বিত্তবৈভব তো আনেইনি, বরং তাকে দিনে দিনে এক শক্তিহীন গৃহকর্তায় পরিণত করেছে। আমরা অনেকেই আমাদের বাস্তব জীবনে নিজের ঘরে পিতা-দের এমন রূপান্তর দেখেছি। কিন্তু এই উপমহাদেশে পৃথিবী উলটে গেলেও পুরুষ মাত্রই 'গৃহকর্তা'। যত উপন্যাসের সামনে এগুবেন, এই irony of hypocrisy র কদর্য রূপটা খসে পড়বে। কাদম্বিনী গৃহকর্ত্রী, পৃথিবীতে মায়ের গুণগানই তো আমরা করি তাই না? কখনো কি ভেবে দেখেছেন তারাও ওই একই প্রজাতিরই অংশ কিন্তু, মানুষ। সুতরাং তাদের কেন সব সময় সকল সমালোচনার উর্দ্ধে ভাবেন বলতে পারেন?
মন্টু, গীতা, সনত এদের আমরা প্রত্যেকেই জীবনের কোন না কোন পর্যায়ে অন্তত একবার হলেও দেখছি। এরা আমাদের বড় চেনা। একটু মিলিয়ে দেখবেন, এদের সাথে আপনি কি মিল খেয়ে যাচ্ছেন? তবে বইটা পড়ার পর একটু গভীরভাবে নিজেকে নিয়ে ভাবার সময��� এসেছে বোধহয়।
আমার কষ্টটা শঙ্করের জন্য। আমি চেয়েও পারিনি শঙ্করকে ক্ষমা করতে। আবার ঠিক একই ভাবে পারিনি তাকে ভুল প্রমাণ করতে! কিন্তু শঙ্কর আমাকে শিখিয়েছে। অনেক।
নীতার জীবনের গল্পটা পড়ুন। কারণ নীতাদের আপনি যুগে যুগে কালে কালে দেখেছেন। নীতা-রা সবসময়ই ছেঁড়া চটিই পেয়ে যায়। নীতাদের জন্য কেউ ব্যস্ত-সমস্ত হয়ে এক জোড়া নতুন চটি বা একটা শাড়ী কিনে আনে না। নীতাদের গল্পটা পড়া আমাদের জীর্নতাকে চেনার জন্য বড় প্রয়োজন।
মেঘে ঢাকা তারা আমাদের সমাজে মধ্যবিত্তের শিক্ষাপ্রীতি আর নামকাওয়াস্তে গৌরবের উপর এক সবল চপেটাঘাত। একটু ভাবুন, বাঙালি মধ্যবিত্তের যে আজীবন গৌরব সেটা কিসের ভিতে দাড়িয়ে আছে? শিক্ষার প্রতি দরদ, সামাজিক লৌকিকতার প্রতি সম্মান, সাদাসিধে জীবনযাপন, পারিপার্শ্বিক জগত নিয়ে সুচিন্তিত ম���ামত ইত্যাদি ইত্যাদি। আজীবন মধ্যবিত্তের সুখ্যাতিই কিন্তু গেয়েছেন সকলে। কিন্তু এই মধ্যবিত্তের আদর্শের জীর্ণ কুটিরের পর্দাটা একটু সরিয়ে ঘরের ভেতরে উঁকি দিলে দেখবেন, সেখানে কদর্য মানসিকতার মাকড়সার জাল যুগে যুগে এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এটা কোন ঢালাও অভিযোগ নয়, বরং অভিজ্ঞতা। Shaktipada Rajguru বাঙালি নর-নারীর স্বার্থপরতাকে এমন এক রিপ্রেজেন্টেশন দিয়েছেন, যেটা সচরাচর বাংলা সাহিত্যে দেখা যায় না। যুগে যুগে আমরা মধ্যবিত্তরাই সকল প্রশংসার দাবিদার। আমাদের জীর্ণতাকে সবাই ওই পর্দার আড়ালেই রেখে দিতে চায়। মেঘে ঢাকা তারা আমাদের ওই পর্দাটা খসিয়ে দিয়েছে, জীর্ণতাকে সামনে এনে আমার মুখে প্রশ্ন ছুঁড়েছে, ত্যাগ, তিতিক্ষা, সহ্যশক্তির যে গান তোমরা গাও, সেটায় কি আদৌ সুখ মেলে? সকলকে নিয়ে পথ চলাতেই কি মনে শান্তি পাও তোমরা? নাকি সেটা তোমাদের আমৃত্যু অভিনয়?