Jump to ratings and reviews
Rate this book

মেঘে ঢাকা তারা

Rate this book
দেশভাগের অভিশাপে পশ্চিমবঙ্গে আসা এক পরিবারের সংগ্রামের কাহিনী।

188 pages, Paperback

5 people are currently reading
136 people want to read

About the author

Shaktipada Rajguru

74 books9 followers
Shaktipada Rajguru (Bengali: শক্তিপদ রাজগুরু) was an Indian Bengali writer. Several of his novels have been adapted for the screen including the Ritwik Ghatak-directed Meghe Dhaka Tara and the Shakti Samanta-directed Amanush. His works have been translated into Hindi, Tamil, and Malayalam.

Shaktipada Rajguru was fond of travelling and many of his novels are set in locations such as Chota Nagpur, Maharashtra, and Dandakaranya, places distant from Kolkata, where his novels are published. He was fond of describing nature in great detail and in portraying strong central characters in these locations. He cites Bibhutibhushan Bandyopadhyay and Tarashankar Bandyopadhyay as major influences.

[from Wikipedia]

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
49 (56%)
4 stars
22 (25%)
3 stars
14 (16%)
2 stars
1 (1%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 24 of 24 reviews
Profile Image for Nusrat Mahmood.
594 reviews736 followers
January 29, 2017
ঋত্বিক ঘটকের বানানো ১৯৬০ সালের সিনেমাটা দেখেছিলাম বেশ আগে। দুপুরের রোদ পহিয়ে আড়মোড়া দেওয়া আলোয় বোকাবাক্সের জানালায়, যখন সিনেমাকে বলতাম বই। দিদা অবশ্য এখনো বলে। এতদিন পরে এসে জানলাম তা ছিল বুক এডাপ্টেশন। তা শক্তিপদ নামের সার্থকতা রাখলেন নিজের লেখায়। বুক হু হু করা লেখাগুলো মাঝরাতে কাঁপন ধরায় ,বুঝিনা তাপমাত্রা কি শীতঋতুর নিয়ম মেনে কমেছে না এ বইয়ের মহিমা। নীতার জন্য এবার তবে একটু কাঁদি?
Profile Image for Omar Faruk.
263 reviews18 followers
November 16, 2021
বইটার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নীতার বিষন্নতা যেন আমাকে ছুঁয়ে যাচ্ছিল বার বার। আমি যেন তার হয়ে, তার দুঃখ-দূর্দশার গ্লানি ভোগ করছিলাম। যেখানে শুধুমাত্র দু'মুঠো খেয়ে পরে বেঁচে থাকাটা যেখানে কমনীয়তা, শুচিতাকে নিঃশেষ করে দিয়েছে সে। মেনে নিয়েছে অন্যের কল্যাণে নিজের পরাজয়।

বইটা নিয়ে এক কথায় বলতে গেলে, এ এক বিষন্ন সুন্দর বই।
Profile Image for Nadia Jasmine.
212 reviews18 followers
June 21, 2019
ঋত্বিকের বানানো যতো ছবি, তার মধ্যে আমার সবচেয়ে প্রিয় ‘মেঘে ঢাকা তারা’। সেই সুবাদেই বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের বিক্রয়কেন্দ্রে চোখে পড়ায় বইটা কিনেছিলাম। কি যে সুন্দর ঝরঝরে গদ্য! এর আগে শক্তিপদ রাজগুরুর আর কোন বই পড়া হয় নি। এখন মনে হচ্ছে সব কিনে টানা তার লেখা পড়ি! গল্পের ফাঁকে ফাঁকে একটুও সুর তালে গোজামিল না করে প্রকৃতি ও জীবনদর্শনের এতো সুন্দর বর্ণনা আমি আগে পড়ি নি। রূঢ় বাস্তবতার চিত্র মনকে ঠিক যেন বিষিয়ে দেয় না! মেনে নিয়ে কেমন মন বিষন্ন করে তুলে। নীতার প্রতি শ্রদ্ধায় যেমন মাথা নত হয়ে আসে, অভাব অনটনে জর্জরিত বাকিদের স্বার্থপরতাও যেন তাদেরকে ঠিক ঘৃণা করতে দেয় না। একরকম সহানুভূতিতে তাদের জন্য মন আর্দ্র করে তোলে। বুঝতে বাধ্য করায় যে, পরিস্থিতি বাদে কেউই এখানে খলনায়ক নয়। তরতর করে পড়ে শেষ করার ফাঁকে নীতার জন্য মন কেমন করে চোখে পানি চলে আসলো। অনেকদিন পর কোন বই পড়ে কাঁদলাম। শেষ করে ভীষন আবেগী ঋত্বিককেও স্মরণ করলাম। তিনি ছবিটা না বানালে হয়তো কখনোই এই চমৎকার উপন্যাসটা পড়া হতো না!
Profile Image for HR Habibur Rahman.
284 reviews55 followers
May 14, 2022
টকটকে রঙ এইসা মোটা হবো, হাঁ করে চেয়ে থাকবি।

সময়ের স্রোতে কত কিছুই মানুষ হারায়। পাওয়া না পাওয়ার খেলায় হয়তো কারোর হাত নেই। অদৃষ্টের প্রতি বিশ্বাস থাকলে ধরে নেওয়া উচিৎ হয়তো এমোনি লেখা ছিলো কপালে। কিন্তু স্বত্বা টা? দুঃখ, কষ্ট,সুখ, আনন্দ সব কিছু মিলিয়ে জিবন। সে জিবনের কী স্বার্থ যে জিবনে অকাতরে কিছু না-ই করতে পারলাম। সৃষ্টির প্রতি স্রষ্টার কোনো চাওয়া পাওয়া থাকবেনা তাই বা কেমন করে হয়! কিন্তু কজন মানুষই বা পারে আগমনের আগে স্রষ্টার কাছে করে আসা ওয়াদা রাখতে।


না, আমার রাগ কাদম্বিনী, গীতা বা অন্য কারোর উপরই নাই । আমার রাগ নীতার উপর। সবকিছুতে ভেবে চিন্তে কাজ করার পরও নিজের প্রতি এত অমানবিক মানুষ হতে পারে কেমন করে! নিজের বলেও তো মানুষের কিছু থাকে। হয়তো তুমি সাধনা না করেও স্রষ্টার মুল মন্ত্র পেয়ে গিয়েছিলে, নয়তো তুমি বোকা। তুমি যা-ই হও না কেন তুমি ভালোবাসা পাবার যোগ্য। তুমি শব্দ করে না হলেও নিঃশব্দে সমুদ্র সমান কান্না পাবার দাবিদার। তোমার জন্য সহানুভূতি ছাড়া আর কিছু বরাদ্দ দেবার মতো ক্ষমতা হয়তো আমাদের নেই। তবে তোমার শেষ স্মৃতিটুকুও তোমার পরিবার মুছে ফেললেও আমাদের মন থেকে মুছে যাবেনা কোনোদিন।
Profile Image for Farzana Raisa.
533 reviews240 followers
September 7, 2025
বইটা সুন্দর নাকি না, সুন্দর হইলে কতখানি সেটা আমার বলার আগে আরো অনেকে বলে গেছেন। আমি বইটার প্রথম ৩০/৪০ পাতা পড়েই হাঁপিয়ে উঠেছিলাম প্রায়। আর এভাবে একটা গোটা জীবন টেনে নেয়া! কীভাবে সম্ভব??

ওই যে, অনেক গল্প কিংবা সিনেমায় থাকে না রাতের বেলা লেখক নিজের চরিত্রদের হ্যালুসিনেট করতে থাকে। বঞ্চিত ক্যারেক্টাররা এসে লেখককে প্রশ্নের পর প্রশ্ন করে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে কেন, কেন লেখকের হাতে অসীম ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও চরিত্রটার প্রতি বিন্দুমাত্র মায়া দয়া দেখালো না? মেঘে ঢাকা তারা লেখার সময় লেখক কি এরকম প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছিলেন নীতার কাছ থেকে? খুব জানতে ইচ্ছা করে। আবার নীতার উপর রাগও হচ্ছিল খুব। বাংলা সিনেমায় সর্বংসহা রূপে পরিচিত বিখ্যাত রোগ 'শাবানা সিন্ড্রোম' বোধহয় নীতার কাছ থেকেই আমদানি করা। রাগ উঠছিল প্রচণ্ড। কেন একটা মানুষ নিজের অধিকার কিংবা দাবির কথা মুখ ফুটে বলবে না??? আর সনৎ গাধাটা যে আমার কতো গালি খাইসে। বইটা পড়তে পড়তে একটু পর পর জোরে জোরেই দাঁত কিড়মিড় করে গালি দিচ্ছিলাম স্টুপিডটাকে। মানে কিভাবে সম্ভব???? অভাব অনটন থাকলেই বুঝি প্রতিটা ক্যারেক্টার এতোটা স্বার্থপর হয়ে যায়?
ও হ্যা, আরেকটা জিনিস। একটা ব্যাপার অসম্ভব ভাল্লাগসে। পরেশ ক্যারেক্টারটা। আমরা আসলে অনেক সময় নিজেকে নিয়ে নিজেই যখন হতাশায় ভুগতে থাকি, তখন আর চোখ মেলে তাকানো হয় না। সেজন্য পরেশের মতো চরিত্রগুলো থেকে যায় চোখের আড়ালে। টের পাওয়া হয় না...


শেষটা অবশ্যই শেষের মতো। শেষটা এমন বলেই শক্তিপদ রাজগুরুর 'মেঘে ঢাকা তারা' এমন ক্লাসিক হয়ে আছে।
Profile Image for Ësrât .
516 reviews86 followers
June 1, 2020
বিষাদের যদি কোনো শুদ্ধ সুন্দর রং থেকে থাকে,যদি বইয়ের পাতা থেকে বাস্তবে অনুভব করানোর মত এক অসম্ভব শক্তির সামনে দাঁড় করানোর ক্ষমতা কারো থেকে থাকে তবে শক্তিপদ মশাই বোধহয় এক্ষেত্রে সিদ্ধপুরুষ,স্মৃতির পাতায় নীতাকে তিনি খুব সুনিপুণ ভাবে সাবলীল অথচ গভীর ভাবে গেঁথে দিলেন আমৃত্যু

এর থেকে বেশী কিছু লেখার মত শক্তি, সামর্থ্য সাহস কোনোটাই আমার আপাতত নেই,পরে যদি কোনোদিন হয় তবে আবার লিখবো মেঘে ঢাকা কোনো এক শুকতারাকে নিয়ে 😊
Profile Image for Shuvongkar Shitu.
44 reviews17 followers
August 22, 2020
নোংরা স্বার্থপরতার কী সুন্দর কাহিনী। প্রতিটা পৃষ্ঠায় মানবতার কী চরম অবক্ষয়ের বর্ননা। লেখকের ধন্যবাদ প্রাপ্য এই চরম সত্যটা তুলে ধরার জন্য যে, দুনিয়াতে কোন সম্পর্কই স্বার্থের উর্ধে নয় হোক সে বাবা-মায়ের সাথে সন্তানের সম্পর্ক।
Profile Image for Kripasindhu  Joy.
557 reviews
Read
November 13, 2025
এইসব Family Drama-মার্কা গল্প-উপন্যাস পড়তে ভালো লাগে না তেমন একটা।
Profile Image for অলকানন্দা .
110 reviews5 followers
May 19, 2021
প্রখ্যাত সাহিত্যিক শক্তিপদ রাজগুরুর লিখনের সাথে আমার পরিচয় ঘটে তার লেখা শিশুতোষ সাহিত্যকর্ম "পটলা" সিরিজের মাধ্যমে। আমি এতকাল ধরে ভাবতাম, শক্তিপদবাবু শুধু বুঝি ছোটদের জন্যেই লিখে গিয়েছেন; কিন্তু আমার এই ভুল ধারণা ভাঙলো তার লেখা এই সামাজিক-পারিবারিক আবহে ঘেরা মর্মস্পর্শী উপন্যাস "মেঘে ঢাকা তারা" পড়ে।

মধ্যবিত্ত সংসারের পারিবারিক ও আর্থিক টানাপোড়েনের গল্পগুলো এত করুণ হয় কেন? যেকোন সামাজিক কাঠামোতে সবচেয়ে বেশি মানসিক যন্ত্রণার শিকার হন এই মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষগুলোই; এ যেন এক চিরাচরিত অলিখিত নিয়ম! আর এই চিরচেনা বাঙালি পারিবারিক ছকটি বোনা থাকে একজন নীতিবান ও আদর্শপরায়ণ কর্তা, খিটমিটে মেজাজের গিন্নী এবং পিঠেপিঠি কিছু ভাইবোনের সম্মেলনে। আর এই পারিবারিক ছকের বুনিয়াদেই গড়ে উঠেছে "মেঘে ঢাকা তারা" উপন্যাসটিও।

উপন্যাসের মূল চরিত্র নীতা, সৎ, নীতিপরায়ণ হেডমাস্টারমশাই মাধববাবুর জ্যেষ্ঠা কন্যা এবং সংসারের একমাত্র আর্থিক উপার্জনকারী। দেশভাগের চক্রব্যূহয়ে আবর্তিত হয়ে পশ্চিমবঙ্গে আসতে বাধ্য হয় মাধববাবুর পরিবার। একসময় মাধববাবু রিটায়ারমেন্টে যান, এবং সাংসারিক দুঃশ্চিন্তায় পক্ষাঘাতগ্রস্থ হয়ে পড়েন। আর সেই থেকেই সংসারের গোটা হাল তুলে নেয় পরিশ্রমী, বুদ্ধিমতী নীতা।

কিন্তু ঐযে বললাম, এই পারিবারিক ছকের একটি অংশে যে আছেন খিটখিটে মেজাজের মা, যাকে কোনকিছু দিয়েই সন্তুষ্ট করা সম্ভব না। মাধববাবুর স্ত্রী কাদম্বিনী যেন এই মধ্যবিত্ত পরিবারের আর্থিক হুতাশনে দগ্ধপ্রায় এক গৃহিণীর প্রতিভূ। মাধববাবুর সংসারে পায়ে পায়ে ঘুরতে থাকা অভাবকে কাদম্বিনী যতটা উপলব্ধি করেছেন, আর কেউ হয়ত ততটা পারেনি, একমাত্র নীতা বাদে। পারেনি তার অন্য সন্তানেরা-- শঙ্কর, গীতা, মন্টু! একসময় স্নেহকোমল মাতৃহৃদয়ের অধিকারী ছিলেন কাদম্বিনী, কিন্তু কালের আবর্তে এবং অভাবের তাড়নায় আজ সে জায়গায় স্থান করে নিয়েছে তার কর্কশপ্রায় কণ্ঠ এবং জগৎসংসারের প্রতি বিতৃষ্ণা। আর এই বিতৃষ্ণার জাঁতাকলে সকলের পিষ্ট হওয়া যেন দৈনন্দিন রোজনামচার এক অংশ।

সে যাইহোক, নীতার কথায় ফিরি। পিতার আদর্শে উজ্জীবিত নীতা এমনই এক চরিত্র, যে অকাতরে নিজের সবটুকু বিলিয়ে দিয়ে নিঃশেষ হয়ে যায়, যেন কোন অন্ধকার রুমে জ্বলতে থাকা এক মোমবাতির মত। যে মুখখানি একসময় লাবণ্য ও স্নিগ্ধতায় টলমল করতো, তাতে আজ জীবনসংগ্রামে পোড় খাওয়ার ছাপ সুস্পষ্ট। যে বয়সে পড়াশোনার পাট চুকিয়ে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে একটি ভালোমানের চাকুরির পাশাপাশি নিজের সংসারজীবনের স্বপ্ন দেখে মেয়েরা, সেই বয়সে টিউশনি এবং কেরানীগিরির ধকলে জীবন ও সময় দুটোই উজাড় করে দেয় সবে অনার্সের গণ্ডি পেরুনো নীতা। অথর্ব বৃদ্ধ পিতার ঔষধ, ছোট ভাইবোনদের বিলাসিতাময় আবদার, মায়ের সাংসারিক খরচ যোগাতে যোগাতে নিজের কথাই ভুলতে বসে সে। তবে তার এই ব্যস্ততাময় রুদ্ধশ্বাসকর জীবনে একটুকরো শান্তির পরশ নিয়ে আসে এম এ পড়ুয়া সনৎ, মাধববাবুর এককালের ছাত্র। আর এই সনৎকে ঘিরেই মোড় বদলায় কাহিনীর, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন নীতার মা কাদম্বিনী ও নীতার সম্পূর্ণ বিপরীত স্বভাবের ছোটবোন গীতা।

কি হয় শেষমেষ তা পাঠকদের জন্যেই তোলা রইলো, আমি আর স্পয়লার দিলাম না। শুধু এটুকুই বলব, পুরো বইটি জুড়ে নীতা আমার জন্য এক নীলরঙা নরম বিষাদ রেখে গিয়েছে, যে বিষাদ উপলব্ধি করার শক্তি সঞ্চয় করা প্রায় দুঃসাধ্য। একটি মানুষ প্রিয়জনদের সুখের জন্য কতখানি স্বার্থত্যাগ করতে পারে, নীতা তার জ্বলন্ত প্রমাণ; এবং এক্ষেত্রে শক্তিপদবাবুর এই উপন্যাসের নামকরণের সার্থকতা যথার্থ!

বলে রাখা ভালো, এই উপন্যাসের মূল খলনায়ক কোন চরিত্র নয়, বরং আমাদের ঘুণে ধরা সমাজের অবকাঠামো; যে সমাজ আমাদেরকে কিছু অলিখিত নিয়মকানুন ও অনুশাসনের বেড়াজালে আবদ্ধ করে দিয়েছে সভ্যতার সূচনালগ্ন থেকেই। আর সে থেকেই হাজারবার আত্মত্যাগের মহিমায় ভাস্বর হয়েও নীতারা বাতিলের তালিকায়ই থেকে যায়, যে এতখানি ত্যাগ স্বীকার করেও দিনশেষে যার জন্য তোলা থাকে প্রতারণা, লাঞ্ছনা, অবজ্ঞা, ধিক্কার!

শক্তিপদবাবু একজন নীতার কথাই লিখেছেন হয়ত, কিন্তু সমাজে যে আরো নীতারা রয়েছে, যারা দিনশেষে মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং স্বার্থপরতার মত রাহুগুলোর শিকার, তাও একান্ত আপনজনেদের দ্বারাই! উপন্যাসটি পড়ে যা বুঝলাম, জগৎসংসারে নীতার প্রাপ্য সম্মান না মিললেও পাঠকের কাছে ঠিকই তার সম্মানের জায়গাখানি বেশ উঁচু! আবেগে ভারাক্রান্ত চোখদুটো ও মনখানি ভিজিয়ে অবশেষে শেষ করতে হলো ১২৩ পৃষ্ঠার এই প্রিয় উপন্যাসখানি, আর রেখে যেতে হলো প্রিয় চরিত্র নীতার প্রতি একরাশ শ্রদ্ধা, মুগ্ধতা ও ভালোবাসা।

একই নামে প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা ঋত্বিক ঘটক ১৯৬০ সালে তৈরি করেছিলেন তার প্রথম ব্যবসাসফল ছবি "মেঘে ঢাকা তারা"। উপন্যাসটিতে নীতার ভূমিকায় অভিনয় করা কিংবদন্তীতুল্য অভিনেত্রী সুপ্রিয়া দেবীর অভিনয় সকলের দৃষ্টি কেড়ে নিতে বাধ্য।

উপন্যাসের নামঃ মেঘে ঢাকা তারা
লেখকঃ শক্তিপদ রাজগুরু
ধরনঃ সামাজিক-পারিবারিক উপন্যাস
প্রকাশনীঃ অমৃতধারা
মোট পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ১২৩

রেটিংঃ ৫/৫
Profile Image for Shamik.
218 reviews9 followers
June 21, 2021
সিনেমাটা না তৈরী হলেও এটা সবসময় পাঁচতারা উপন্যাস
Profile Image for Jannat E Jahan.
23 reviews6 followers
August 23, 2021

ভেবে অবাক হয়েছি, ১৯৬২ সালের একটা উপন্যাস কতটা relevant রয়ে গেছে এই আজকের ২০২১ এর বিশ্বেও! নীতা, গীতা, শঙ্কর, মন্টু, কাদম্বিনীরা এখনো কিভাবে পাক খাচ্ছে আমাদের ভেতর, আমাদের চারপাশে। জীবনযুদ্ধে যারা অপরিসীম পরিশ্রম করছেন নিজের পায়ের নিচের ভীতটা শক্ত করতে, নিজের স্বপ্নকে কিছুতেই বেচতে চাইছেন না সংসারের বিকিকিনির বাজারে, তবুও নিয়ত লড়ে যাচ্ছেন নিজের সাথে, প্রশ্ন করছেন ঠিক করছি তো, স্বার্থপর হয়ে রইলাম না তো? পারবো তো?, তারা একবার হলেও পড়ে নেবেন নীতা নামের মেয়েটির কথা। এ একদম বাঁধা দায়িত্ব আপনার। বিশ্বাস করুন, আপনার বিশ্বাসের ভিতটা তাতে এতটুকু কাঁপবে না, শুধু এটুকুই বলতে পারি।

দেশভাগের পর কলকাতায় পাড়ি দিয়ে মাধববাবুর শিক্ষকতা পেশা তার সংসারে বিত্তবৈভব তো আনেইনি, বরং তাকে দিনে দিনে এক শক্তিহীন গৃহকর্তায় পরিণত করেছে। আমরা অনেকেই আমাদের বাস্তব জীবনে নিজের ঘরে পিতা-দের এমন রূপান্তর দেখেছি। কিন্তু এই উপমহাদেশে পৃথিবী উলটে গেলেও পুরুষ মাত্রই 'গৃহকর্তা'। যত উপন্যাসের সামনে এগুবেন, এই irony of hypocrisy র কদর্য রূপটা খসে পড়বে। কাদম্বিনী গৃহকর্ত্রী, পৃথিবীতে মায়ের গুণগানই তো আমরা করি তাই না? কখনো কি ভেবে দেখেছেন তারাও ওই একই প্রজাতিরই অংশ কিন্তু, মানুষ। সুতরাং তাদের কেন সব সময় সকল সমালোচনার উর্দ্ধে ভাবেন বলতে পারেন?

মন্টু, গীতা, সনত এদের আমরা প্রত্যেকেই জীবনের কোন না কোন পর্যায়ে অন্তত একবার হলেও দেখছি। এরা আমাদের বড় চেনা। একটু মিলিয়ে দেখবেন, এদের সাথে আপনি কি মিল খেয়ে যাচ্ছেন? তবে বইটা পড়ার পর একটু গভীরভাবে নিজেকে নিয়ে ভাবার সময��� এসেছে বোধহয়।

আমার কষ্টটা শঙ্করের জন্য। আমি চেয়েও পারিনি শঙ্করকে ক্ষমা করতে। আবার ঠিক একই ভাবে পারিনি তাকে ভুল প্রমাণ করতে! কিন্তু শঙ্কর আমাকে শিখিয়েছে। অনেক।

নীতার জীবনের গল্পটা পড়ুন। কারণ নীতাদের আপনি যুগে যুগে কালে কালে দেখেছেন। নীতা-রা সবসময়ই ছেঁড়া চটিই পেয়ে যায়। নীতাদের জন্য কেউ ব্যস্ত-সমস্ত হয়ে এক জোড়া নতুন চটি বা একটা শাড়ী কিনে আনে না। নীতাদের গল্পটা পড়া আমাদের জীর্নতাকে চেনার জন্য বড় প্রয়োজন।

মেঘে ঢাকা তারা আমাদের সমাজে মধ্যবিত্তের শিক্ষাপ্রীতি আর নামকাওয়াস্তে গৌরবের উপর এক সবল চপেটাঘাত। একটু ভাবুন, বাঙালি মধ্যবিত্তের যে আজীবন গৌরব সেটা কিসের ভিতে দাড়িয়ে আছে? শিক্ষার প্রতি দরদ, সামাজিক লৌকিকতার প্রতি সম্মান, সাদাসিধে জীবনযাপন, পারিপার্শ্বিক জগত নিয়ে সুচিন্তিত ম���ামত ইত্যাদি ইত্যাদি। আজীবন মধ্যবিত্তের সুখ্যাতিই কিন্তু গেয়েছেন সকলে। কিন্তু এই মধ্যবিত্তের আদর্শের জীর্ণ কুটিরের পর্দাটা একটু সরিয়ে ঘরের ভেতরে উঁকি দিলে দেখবেন, সেখানে কদর্য মানসিকতার মাকড়সার জাল যুগে যুগে এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এটা কোন ঢালাও অভিযোগ নয়, বরং অভিজ্ঞতা। Shaktipada Rajguru বাঙালি নর-নারীর স্বার্থপরতাকে এমন এক রিপ্রেজেন্টেশন দিয়েছেন, যেটা সচরাচর বাংলা সাহিত্যে দেখা যায় না। যুগে যুগে আমরা মধ্যবিত্তরাই সকল প্রশংসার দাবিদার। আমাদের জীর্ণতাকে সবাই ওই পর্দার আড়ালেই রেখে দিতে চায়। মেঘে ঢাকা তারা আমাদের ওই পর্দাটা খসিয়ে দিয়েছে, জীর্ণতাকে সামনে এনে আমার মুখে প্রশ্ন ছুঁড়েছে, ত্যাগ, তিতিক্ষা, সহ্যশক্তির যে গান তোমরা গাও, সেটায় কি আদৌ সুখ মেলে? সকলকে নিয়ে পথ চলাতেই কি মনে শান্তি পাও তোমরা? নাকি সেটা তোমাদের আমৃত্যু অভিনয়?


3 reviews
July 30, 2020
একটা সময় খুব ইমোশনাল ছিলাম।বই এর পাতায় পছন্দের চরিত্র গুলোর কষ্ট আমাকেও ভীষণ ভাবে ছুঁয়ে যেত। বই পড়বো অথচ স্রষ্টা আর সৃষ্টির সমব্যথি হবো নাহ তা তো অন্যায়। শেষ কাদিয়ে ছিলেন সমরেশ বাবু। বছর পাঁচেক আগে। খুব কেদেছিলাম। প্রথম কোনো বই আমাকে এতটা ছুয়ে গিয়েছিল। খুব কষ্ট হয়েছিল দীপার জন্যে। আজকাল যখন বই পড়ি, স্রষ্টা আর সৃষ্টির ব্যাথায় ব্যথিত হলেও ঠিক প্রকাশ করতে পারি নাহ। কষ্ট হলেও প্রকাশ করার ক্ষমতা হারিয়েছি। কিংবা হয়ত এতটাই কঠিন হয়ে গেছি যে চোখের জলই শুকিয়ে গেছে।

সে যাই হোক, অনেকদিন পর আজ আবার চশমা ঘোলা করে দিলেন শক্তিপদ বাবু। এবার আর ইমোশান লুকিয়ে রাখার বৃথা চেষ্টা করলাম নাহ।

আমি উনার বই খুব একটা পড়িনি। কাল জেঠির কথায় বইটা পড়তে লাগলাম। অসাধারণ একটা চরিত্র নীতা। সংসারের সবার কথা ভাবতে ভাবতে মেয়েটি নিজেকেই ভুলে গেছে। জীবনের সব আনন্দের ভোজ থেকে সে বাতিল একটি প্রাণী।কিন্তু সে কি পেলো? প্রতারণা, লাঞ্ছনা,অপবাদ,অবজ্ঞা?? এই কি তার প্রাপ্য??

তার এত কষ্ট বোধ হয় শক্তিবাবু আর নিজেই সহ্য করতে পারছিলেন না ।তাই অকালেই তার সব কষ্ট একেবারে শেষ করে দিলেন।

নাহ, আজ এই বইয়ের কাহিনী সংক্ষেপ আমি বিস্তারিত লিখবো নাহ। লিখার মত অবস্থা আমার নেই। আমার শব্দ ভান্ডারে শব্দ আজ কম পড়ে গেছে। কিন্তু শক্তি বাবু বড় অন্যায় করে ফেললেন নাহ মেয়েটির প্রতি? কিছু সুখ তো লিখতে পারতেন তার ভাগ্যে।

যাই হোক, আপনি নাহ হয় কিছু নাই দিলেন। মুখ ফিরিয়ে থাকলেন। তাই বলে কি আমরাও মুখ ফিরিয়ে থাকবো?? আমরা নাহ হয় নীতার এত কষ্টের প্রতিদান হিসেবে আমাদের ক ফোঁটা চোখের জলই দিলাম। আমরা কাঁদছি নীতা।তোমার কষ্টে তোমার বাবা,মা ,ভাই ,বোন কেউ নাহ কাঁদলেও আমরা পাঠক সম্প্রদায় তোমাকে নিরাশ করবো নাহ। আমরা কাঁদছি।
Profile Image for Kishore.
106 reviews
August 27, 2024
Madhavbabu was a man of honesty and principles, though his generous heart often left him struggling financially. His daughter Nita was a bright student, carrying the weight of his high hopes for the future. Gita, Nita's younger sister, was her opposite in many ways—fair-skinned and beautiful, unlike Nita, who had a darker complexion. Despite their differences, the family relied heavily on Nita's intelligence and support.

One day, Gita overheard her father expressing concerns to her mother, Kadambini, about how difficult it would be to find a husband for Nita. This saddened Gita, but her spirits lifted whenever she thought of Sanat, a former student of her father. Sanat was pursuing a master’s degree, and Gita would often visit his boarding house on her way to school. Through her father's reputation, Gita managed to secure a job at the local school, using her salary to help support the family.

Her brother, Shankar, was determined to become a classical singer, much to the frustration of the rest of the family, who constantly urged him to find a stable job. Only Nita believed in his talent, defending his dreams despite the difficulties.

One day, Sanat visited Madhavbabu, informing him that he had passed his master’s degree with second-class honors. Seeing the connection between Sanat and Gita, Kadambini began plotting to arrange a marriage between the two. However, life took a harsh turn when Madhavbabu retired. With no income and mounting responsibilities, Nita found herself under immense pressure to support the family. Soon after, Madhavbabu suffered a stroke, and in his weakened state, he began to fear that Nita’s life would be consumed by these obligations, robbing her of happiness.

Despite the weight on her shoulders, Nita continued to encourage Sanat, urging him to pursue a PhD and promising to support him. Meanwhile, Mantu, Nita’s younger brother, got a job but had a falling out with his brother Swapan over something as small as a shirt. Gita, driven by jealousy and insecurity, began slandering Nita to Sanat, attempting to sabotage their relationship.

Nita was deeply hurt when Sanat failed to tell her about his new job. When she visited his boarding house to confront him about his relationship with Gita, she learned that Sanat had moved without informing her. This left her wondering if she had lost importance in his life.

Around the same time, Shankar gave Nita some money, proudly telling her that he had secured a job as a music teacher. He urged Nita to pursue her master’s degree and cursed Sanat for marrying Gita, declaring that Sanat would never find happiness in his marriage.

In a painful confrontation, Nita lied to Sanat, telling him she never loved him. Feeling insulted and humiliated, Sanat eventually married Gita, drawn to her physical beauty. However, their marriage quickly soured. Sanat grew to resent his toxic clerical job and dreamed of pursuing his PhD while working as a teacher. Gita, however, opposed the idea and blamed Nita for putting such thoughts into his head. Their relationship became strained as Gita’s mistrust of Sanat and Nita deepened.

Tragedy struck the family when Mantu’s leg was amputated following a terrible accident at work. Gita, too, fell ill, her health deteriorating rapidly. In the midst of this, Nita’s hard work finally bore fruit—Madhavbabu’s book was published, a testament to her dedication and love for her father.

One day, Shankar returned home in a car, having achieved fame as a classical singer. But joy quickly turned to sorrow when he saw Gita coughing up blood. Realizing she had tuberculosis, Shankar took her to a sanatorium in Shillong. She began to recover, and there was hope that she would soon be discharged. But one day, unexpectedly, Gita passed away in Shankar’s arms.

Months later, Shankar observed how easily his family had forgotten Gita, the girl who had sacrificed so much for them. Now that Shankar was the most respected member of the family, the very people who had once cursed him were eager to claim a connection with him. Even his sister, who had never cared for his well-being, now demanded a gold chain for her newborn baby. His mother, who had once doubted him, now urged him to build a second floor on the house.

Shankar had seen this coming years ago and had warned Nita, but she hadn’t listened. In the end, he chose to leave the house, disillusioned with the people who had once been his family.

As for Sanat, he came to the painful realization that he was a coward. His dreams of pursuing a PhD were dashed, and he returned to his clerical job, where he faced daily humiliation. Now, with a child and a dissatisfied wife, Sanat had no choice but to accept his fate, trapped in a life far removed from the one he had once envisioned."
This entire review has been hidden because of spoilers.
Profile Image for Edward Rony.
91 reviews9 followers
August 6, 2025
‘–অনেক সেরে উঠেছিস নীতা। ডঃ সেনও বললেন আর দু-এক মাসের মধ্যেই সুস্থ হয়ে উঠবি।
নীতা গাছের নীচে ঘাসের ধারে বসেছে শঙ্করের বর্ষাতির উপর। মুখে ওর হাসির আভা। বলে উঠে নীতা– সত্যি বড়দা আর থাকতে ইচ্ছে করছে না এখানে! কবে- কবে বাড়ি ফিরে যাবো?’
ঋত্বিক ঘটকের সিনেমার নীতা হয়তো বাড়ি ফিরেছিল, কিন্তু শক্তিপদ রাজগুরুর উপন্যাসের নীতা বাড়ি ফেরেনি।
কলকাতার শহরতলির উদ্বাস্তু জীবন, দারিদ্র্য, চিরস্থায়ী অনিশ্চয়তা, পরিবারের অবহেলা সহ্য করে টিকে থাকার সংগ্রামে বিজয়ী হলেও নীতাকে হার মানতে হয়েছিল রাজরোগের কাছে।

‘মেঘে ঢাকা তারা’ দেশভাগের পর কলকাতায় আশ্রয় নেওয়া এক উদ্বাস্তু পরিবারের গল্প। কিন্তু লেখক শক্তিপদ রাজগুরু নিজে উদ্বাস্তু নন, তিনি পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা, বাঁকুড়ায় সাত পুরুষের ভিটে ছিল৷ কিন্তু বাবা চাকরি করতেন ‘পোস্ট অ্যান্ড টেলিগ্রাফস’-এ৷ মুর্শিদাবাদ জেলার পাঁচথুপি গ্রামের পোস্ট মাস্টার ছিলেন, বারো বছর বয়স অবধি সেখানে কেটেছে লেখকের ৷ ঐ জায়গাকে লেখক আপন করে নিয়েছিল, কিন্তু বারো বছর পর বাবা যখন ট্রান্সফার হয়ে গেলে লেখক আবিষ্কার করেন ঐ মাটির আমি কেউ না৷ সরকারের এক কলমের খোঁচায় তার পায়ের তলা থেকে মাটিটা সরে গেল৷ বন্ধুবান্ধব, বারো বছরের ইতিহাস, স্মৃতি সব কিছু ছেড়ে আমি উদ্বাস্তু হয়ে পথে নামলেন।
তার কিছু কাল পর বাবা মারা গেলেন৷ খুব দুঃখ দুর্দশার মধ্যে কাটল অনেক দিন, উদ্বাস্তু হয়ে গেলাম তখন থেকেই৷ এই যন্ত্রণাটা আমার অবচেতন মনে কোথাও ছি���৷ পরে দেশ বিভাগের পর বানস্রোতে ভেসে আসা খড়কুটোর মতো দলে দলে মানুষ যখন আসছেন, সেই সময়ে আবার লেখক যন্ত্রণাটাকে অনুভব করেন, আর সেই সময় থেকে উদ্বাস্তুদের নিয়ে কাজ করা আরম্ভ হল৷
লেখক নিজে বিভিন্ন উদ্বাস্তু শিবিরে বাস করেছেন, তাঁদের জীবনযাত্রা দেখেছেন, অনুভব করেছেন উদ্বাস্তুদের মানসিকতা, যন্ত্রণা আর হাহাকার।

এক শনিবারে লেখকরে এক বন্ধুর ছেলের অসুখের জন্য পাঁচশো টাকা দরকারে সাহায্য করেন ‘প্রসাদ’ পত্রিকার মালিক, কিন্তু শর্ত তিন সপ্তাহের মধ্যে একটা লেখা দিতে হবে৷
অগ্রিম নেওয়া টাকার পরিবর্তে ‘চেনামুখ’ নামে একটা বড়ো গল্প লেখেন শক্তিপদ রাজগুরু, লেখা ছাপা হলে চার-পাঁচ দিন পরে লেখকের কাছে ফোন আসে প্রসাদ পত্রিকা থেকে ‘ঋত্বিক ঘটক তোমায় খুঁজছে৷ বড়ো ডিরেক্টর৷ ও ছবি করতে চাইছে তোমার চেনামুখ নিয়ে৷ দিয়ে দাও, ভালো ছবি হবে৷’
এটাই মেঘে ঢাকা তারা সিনেমার পেছনের গল্প।

………………………
এই উপন্যাসের কাহিনী কোন ফিকশন গল্প না, বরং উদ্বাস্তু বিভিন্ন পরিবারেরই গল্প। লেখক নিজে যখন বেলেঘাটায় একটা বাড়িতে ভাড়া থাকটেন, সেই বাড়িওয়ালা ভদ্রলোক ছিল অন্ধ। ভাড়ার টাকাতেই সংসার চলত। ছেলেরা বেকার, বড় ছেলে– বিনোদ, তার জীবনে স্বপ্ন ছিল বড়ো সরোদ বাজিয়ে হবে৷ ছেলেটা পাগলের মতো ঘুরে বেড়াত সরোদ নিয়ে আর প্রায়ই রাত জেগে কনফারেন্স শুনতে যেত৷ ভোরবেলা বাড়িতে কাউকে ডাকতেও পর্যন্ত পারত না৷ সদর দরজায় হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে গিয়েছে৷ এক এক দিন লেখক সকালে সদর দরজা খুলতে গিয়ে দেখতেন সে দরজায় হেলান দিয়েই ঘুমিয়ে আছে৷ এই ‘বিনোদ’ই হয়ে উঠেছিল মেঘে ঢাকা তারার ‘শঙ্কর।‘

‘নীতা’ চতিত্রটিও ওই বাড়ির একটি মেয়েকে ঘিরে। গ্র্যাজুয়েশন শেষে স্কুলে শিক্ষিকার চাকরি করে, ভালোবাসে একটি ছেলেকে। লেখক ঘটকালি করে তাদের বিয়ে দেয়।
বিয়ে তাদের হয়ে গেল বটে৷ কিন্তু এক দিন মেয়েটির মা একদিন খুব আক্ষেপ করে বললেন, ‘মেয়ে আমাকে দেখল? তখন চাকরি করছিল, মাইনেটা আমাকে দিত, তিন হাজার টাকা৷ বিয়ের পরে সে অন্য সংসারে চলে গেল, আজকে আমার সংসার চলবে কী করে? আজ এই অন্ধ স্বামী আর বেকার ছেলেদের মুখে কী করে অন্ন জোগাব? সে তো আমার কথা ভাবল না৷’ লেখক সেদিন দেখেছিলেন যে, মা হয়েও এক জন মানুষ মেয়ের সুখের সংসারে আপত্তি জানাচ্ছেন শুধু নিজের বেঁচে থাকার তাগিদে৷ এই চরিত্রই হয়েছিল উপন্যাসের কাদম্বিরী।
………………………
শুটিং-এর সময়ে একদিন লেখককে ধরে নিয়ে যাওয়া হল শিলং-এ৷, প্রডিউসার চাইছিলেন যে নীতাকে শেষ কালে মারা যাবে না৷ নীতাকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে, সমাজে ফিরিয়ে আনতে হবে৷ সমাজে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে হবে৷
শেষ অবধি ভোট হল নীতা বাঁচবে না মরবে তাই নিয়ে! ঋত্বিক বাবু নিউট্রাল রোল নিয়ে ভোট দিলেন না৷ দেখা গেল মেজরিটি নীতাকে বাঁচানোর পক্ষে৷ সিদ্ধান্ত হল, নীতাকে ফিরিয়ে আনতে হবে৷
ঋত্বিক বললেন, ‘দেখুন, সব নাটক তো দেখলেন৷ কী করব আমি তো কিছু বুঝতে পারছি না৷ কেন আপনাকে এখানে ধরে এনেছি, আপনি এ বার বুঝতে পারছেন তো! আপনি যে ভাবে হোক একটা মিলনান্তক লাইনে নীতাকে এন্ড করুন৷ আমি সেটা শুট করব৷ আর যেটা অরিজিনাল, সেটাও শুট করব৷ আজকে যদি বলি আমি, শুধু স্ক্রিপ্ট অনুসারে শুট করব, প্রোডিউসার চটে যাবে, শুটিং হবে না৷ ক্যানসেল হয়ে যাবে ছবি৷ তাই ওকে স্যাটিস্ফাই করার জন্যে আমাকে এ কম্ম করতে হবে৷ পরে করে দেখালে বুঝতে পারবে গাড়োলগুলো যে হোয়াট ইজ ওয়ার্ক৷ এখন বুঝল না৷ সুতরাং, আপনাকে লিখতে হবে৷ আপনি লিখুন৷ এটার ট্র্যাজিক এন্ড পসিবল৷’
এরপরই শক্তিপদ রাজগুরু লিখেছিলেন নীতার সেই বাঁচতে চাওয়ার আকুতি – "দাদা, আমি বাঁচতে চাই!"

Profile Image for Kinshuk Majumder.
205 reviews11 followers
September 22, 2024
"মেঘে ঢাকা তারা" - শক্তিপদ রাজগুরু

পীরগঞ্জের দরিদ্র শিক্ষক মাধব বাবু ও তাঁর স্ত্রী কাদম্বিনীর সন্তান - নীতা, গীতা, শঙ্কর ও মন্টু। প্রবল দারিদ্রের সাথে লড়াই করে চলে শিক্ষিতা নীতা। মাধববাবু বৃদ্ধ হয়েছেন। তাঁর টিউশনি ও নীতার চাকরি ও টিউশনির টাকায় সংসার চলে। গীতা তার সাজসজ্জা ও শঙ্কর গান নিয়ে মত্ত থাকে। নীতা পছন্দ করে তার বাবার প্রিয় ছাত্র সনৎ কে। কিন্তু পরিবারের আর্থিক দুরাবস্থার চাপে কাদম্বিনী দেবী গীতার সাথে সনৎ এর বিয়ে দেন, সনৎ বাবু উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন ছেড়ে একটা অফিসে কেরাণীর চাকরী নেয়। মন্টু ভালো খেলার জন্য একটা চাকরি পায়, বাড়ি ছেড়ে চলে যায় অফিসের মেসে। শঙ্কর নীতার সাথে এই অন্যায় মেনে নিতে পারে না, প্রতিবাদে সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। কিন্তু সনৎ এর সাথে গীতার মানসিক দূরত্ব তৈরি হয়। অফিসে এক দূর্ঘটনায় মন্টুর পা কেটে বাদ যায়। নিজের চেষ্টায় মাধব বাবুর লেখা রচনার বই প্রকাশে সচেষ্ট হয়। কয়েকজন হতভাগ্য মানুষকে বাঁচিয়ে তুলতে নিজের জীবনীশক্তি নিঃশেষ করে ফেলে নীতা। যক্ষা রোগে আক্রান্ত হয় নীতা। শঙ্কর নীতাতে চিকিৎসার জন্য শিলং এর স্যানিটোরিয়ামে নিয়ে যায়। কিন্তু শেষ রক্ষা হয় না। নীতা চলে যায়।

শক্তিপদ রাজগুরুর লেখা এক কালজয়ী উপন্যাস মেঘে ঢাকা তারা, যেখানে এক দরিদ্র পরিবারের মেয়ে পরিবারের বাকিদের সুখী করতে গিয়ে আত্মাহুতি দেয়। এ এক মন কেমন করা উপন্যাস।
Profile Image for Tisha.
205 reviews1,121 followers
April 14, 2025
বিষণ্ণতা নামের জিনিসটাকে দেখা যায় না, ছোঁয়া যায় না। অথচ মাঝে মাঝে কিছু বই পড়লে বা কোন গান শুনলে অথবা কোন সিনেমা দেখলে এই অদৃশ্য জিনিসটা এমনভাবে বুকের ওপর চেপে বসে যেন আস্ত একটা পাথর! আমি এখনও বিষণ্ণ, আমি নীতা নামের মেয়েটির জন্য বিষণ্ণ। নীতা নামের মেয়েটির তিলে তিলে শেষ হয়ে যাওয়ার কথা ভেবে আমি বিষণ্ণ। শক্তিপদ রাজগুরুর লেখা আমি এর আগে কখনো পড়ি নি। নিজের নামের মতই ভীষণ শক্তিশালী গল্প লিখেছেন তিনি, মানুষের স্বার্থপরতার গল্প। আর এই গল্প নানান অনুভূতির এক বিশাল ঢেউয়ে তলিয়ে দিয়ে গেল আমার মন। সেই ঢেউয়ে আছে রাগ, আছে কষ্ট, আছে ভালো লাগা, আছে সহানুভূতি।অনেকদিন পর বই পড়ে বিষণ্ণ হলাম। অনেকদিন পর কোন বই পড়ে চোখ ভিজলো।
Profile Image for Kuntal.
11 reviews1 follower
September 16, 2021
স্ট্র্যাপ ছেঁড়া চটি, বিবর্ণ চাহনি, মলিন জরাজীর্ণ শাড়ি, রোদে পোড়া শ্যামল মুখ, আলগা হয়ে আসা রুক্ষ চুলের খোঁপা নিয়ে যেসব নিতান্তই সাধারণ, ছোট্টো তারা ঘন মেঘের গরজেও নিজের সর্বস্ব দিয়ে যৎসামান্য আলো ছড়িয়ে নিজের ধরা'কে অক্ষত রাখতে মরিয়া, তাদের গল্প। আমার প্রিয় বইগুলোর তালিকায় নিঃসন্দেহে এক উজ্জ্বল সংযোজন।❣
Profile Image for Anupoma Sharmin Anonya.
72 reviews1 follower
October 28, 2025
জানলা গলে আসা সূর্যের রোশনাইয়ের মতন। নিত্য সংঘর্ষের বিষময়তার মধ্যে একটু বিরাম নীতা। এডমিশনের আছে ১ মাস, মাথায় মনে তীব্র দৈন্য, নৈরাশ্য। তবুও জীবন কেটে যায়, কেটে যায়। জীবন ফুরিয়ে যায়।
"ওগো হতাশ তোমরা কেঁদোনা
কোনো সান্তনা আমি দেবোনা
সূর্য ডোবার সংকেতে দেখো
মুক্তি রঙের নিশানা"
Profile Image for Raj Aich.
352 reviews1 follower
June 27, 2021
Beautiful. 5 rating cannot justify this timeless book.
Profile Image for Khan.
1 review
January 6, 2023
Just giving 5 stars so more people might read it, or else i would have given 4 stars!
1 review
January 12, 2023
কিছু বই এমন হয়, যা সময়কে ছাড়িয়ে যায়। যেকোনো সময়ের সাথে মানিয়ে যায়। এটা তেমন বই।
এ এক বিষন্ন সুন্দর গল্প।
15 reviews
October 10, 2023
অসাধারণ.... মন জুড়িয়ে যায়!!! দুদিন শেষ করেছি পড়ে। দুর্দান্ত।!
Displaying 1 - 24 of 24 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.