নীল আকাশ বিস্তৃত হয়ে নেমে এসেছে সমুদ্রের কোল ঘেঁষে। পূর্ণিমা চাঁদের পূর্ণ কিরণ ঠিকরে পড়ছে জলতরঙ্গের উপর। সেই তীরের কিনারে, দুই বাহু প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে আছে এক অপূর্ব সুন্দরী রমণী—চুলে লেগে আছে বাতাসের ঢেউ, চোখে অনন্তকাল পার হয়ে আসা জেদ। দূরে, কুয়াশার গর্ভে দাঁড়িয়ে অর্ধমানবের ছায়ামূর্তি। যার অস্তিত্বে জড়ানো আছে ভয়, স্তব্ধতায় লুকানো আছে অতীত ইতিহাস। মেয়েটা বাঁকা হেসে উচ্চারণ করলো, "আমার রূপের মাদকতায় নে*শা হয়। আর সেই নে*শায় মানব শরীরের মৃ*ত্যু লেখা হয়। আমি আ*গুন হয়ে ভ*স্মীভূ*ত করে দিয়েছি ওই সকল হৃদয়, যাদের অন্তরে লুকিয়ে আছে কা*লো জা*দুর পা*পিষ্ঠ ছোঁয়া।" দূর থেকে পুরুষালী গম্ভীর কণ্ঠে উত্তর আসলো, "নি*ষ্ঠুর তুমি। নি*ষ্ঠুর তোমার হৃদয়। নারীর হৃদয় সেতো নমনীয় হয়। যেখানে প্রতিনিয়ত ভালোবাসার কমল কুঁড়ি ফোঁটে। অথচ তুমি?..." মেয়েটা হয়তো মজা পেলো। খলখল শব্দে হেসে উঠলো। দক্ষিণা বাতাসে দীর্ঘশ্বাস ফেলে চন্দ্রের দিকে চেয়ে উত্তর দিলো, "আমি সুলতানা কোহিনূর ফারুকী, সুলতান জুবায়ের ফারুকীর কন্যা। আমার হৃদয় এতো ঠুনকো না। আমার হৃদয় আগ্নেয়গিরির অ*গ্নুৎপাত। এখানে কমল না, বরং আ*গুন ফোঁটে। জ্বা*লিয়ে দিতেই আমার জন্ম।"