'হিয়া টুপটাপ জিয়া নস্টাল'। দশটি মুক্তগদ্যের অসামান্য সংকলন বইটি। স্মৃতিকথার আঙ্গিকে লেখা প্রতিটি গদ্য স্বতন্ত্র ধারায় প্রবাহিত হয়ে এক অদ্ভুত সুর রচনা করেছে যা প্রথম পাতা থেকে শেষ পাতা পর্যন্ত পাঠককে আচ্ছন্ন করে রাখবে। নানা গদ্যের ভেতর আমাদের ছোটবেলা ও মধ্যবেলাও চুপিসারে ঢুকে পড়ে। মনে হতে থাকে, এই অভিজ্ঞতা তো একান্তভাবে আমার শৈশবের, শ্রীজাতের কলমে তা প্রকাশিত হল কিভাবে ! এখানেই 'হিয়া টুপটাপ, জিয়া নস্টাল' বইটির মজা। নিম্নলিখিত দশটি নামকরনের অধীনে মুক্তগদ্যগুলি সুসজ্জিত হয়েছে।
★ আমি, সে ও দেবী ★ কাল আমাদের দোল ★ দুই প্রণামের বন্ধনী ★ ছোটবেলার হৃদপিন্ড ★ বর্ষার সন্ধ্যে ও আশ্চর্য মুড়িমাখা ★ রথের দেশে প্যারাসুট পুতুল ★ তপ্ত ঠোঙ্গার নোনতা গল্প ★ তুমি তা জানো না কিছু ★ সিঁড়িভাঙ্গা অঙ্ক ★ বড়দিনের আলো
Srijato Bandopadhyay (born 21 December 1975 in Kolkata), is an eminent poet of the Bengali younger generation. He won the Ananda Puroskar in 2004 for his book Udanta Sawb Joker: All Those Flying Jokers. He has also attended a writer's workshop at the University of Iowa.
His notable works include Chotoder Chiriyakhana: The menagerie for kids (2005), Katiushar golpo: Tales untold (2006), Borshamongol : The monsoon epic (2006), Okalboisakhi: Storms unprecedent (2007), Likhte hole bhodrobhabe lekho: Write politely, if you have to (2002), Ses Chithi: Last Letter (1999), Bombay to Goa (2007), Coffer namti Irish : Irish Coffee (2008), Onubhob korechi tai bolchi : Revealing the feeling (1998).
Having worked as journalist, he is now on the editorial board of the magazine "Prathama". He lived at Garia and spend his childhood at Kamdohari, Narkelbagan.
Srijato is the grandchild of classical vocalist Sangeetacharya Tarapada Chakraborty and nephew of musician and the Khalifa of Kotali Gharana Pandit Manas Chakraborty; his mother is also a classical vocalist Gaan Saraswati Srila Bandopadhyay.
Other than poetry he has also penned the lyrics of many popular playbacks in several movies like Autograph (2010 film,)Jaani Dyakha Hawbe, c/o Sir (2013 film),Mishawr Rawhoshyo,Iti Mrinalinee, charulata, Abosheshe etc.
ক্লাস এইট-নাইনের দিকে যখন শ্রেয়া ঘোষালের গলায় ‘চল রাস্তায় সাজি ট্রামলাইন’ গানটা অনেক শুনতাম, তখন জানতাম না যে সেটি শ্রীজাত'র লেখা। এমনকি শ্রীজাতর নামও শুনিনি সে বয়সে। সেই গানেরই কিঞ্চিতাংশ ‘হিয়া টুপটাপ জিয়া নস্টাল’ শব্দগুলি।
‘যা কিছু আজ ব্যক্তিগত’ যারা পড়েছি তাদের কাছে এই বইয়ের লেখাগুলোর ধরণটা একইরকম মনে হবে। কি সুন্দর করে শ্রীজাত নিজের জীবনের গল্প আমাদের সাথে তুলে ধরেন। বইয়ের পৃষ্ঠা ভেদ করে গত শতকের শেষাংশে যেতে আমাদের বেশি বাধা পেতে হয় না। আমরা লেখকের সাথে ক্রিকেট খেলতে গিয়ে বল হারিয়ে ফেলি, সরস্বতী পূজায় দেবীর কাছে চাই আমাদের পছন্দ করা মেয়েটার সম্মতি।
এক টুকরো স্বর্গ; সকলের শৈশব-কৈশোর; যা স্মৃতি হয়ে এখন দূরতম গ্রহ; যেখানে আমরা আর ফিরে যেতে পারব না। তবে এই বইটা আমাদের নিয়ে যাবে স্মৃতির মধ্যকার জীবন্ত ছোটোবেলার স্বর্গে।
স্কুল লাইফ, ধর্মীয় এবং বাৎসরিক উৎসব, গ্রীষ্মকালীন ছুটি, লুকোচুরি খেলা, সার্কাসে যাওয়া, বই পড়া এবং বইমেলার স্মৃতি— এমন শত শত ছোটোবেলার মুহূর্ত যেগুলো বিস্মৃতির আড়ালে হারিয়ে যাচ্ছে; সেসব স্মৃতির দেশে পাঠক আবার ভ্রমণ করে আসতে পারবে। এই বই পড়ার জার্নিটা মধুর স্মৃতির দেশের স্বর্গে ভ্রমণেরই নামান্তর। তবে নিজের হোম টাউনে বসে এই বইটা পড়লে মন অদ্ভুত এক ঐশ্বরিক আনন্দে ছেয়ে যাবে।
'হিয়া টুপটাপ জিয়া নস্টাল' এর প্রথম ও দ্বিতীয় খন্ড প্রকাশ পেয়েছে দে'জ এবং আজকাল থেকে। প্রতি খন্ডে দশটি করে স্মৃতিগদ্য রয়েছে। তবে ডাকবাংলা ওয়েবসাইটে লেখক এই সিরিজের ৪০টি স্মৃতিগদ্য প্রকাশ করেছেন। আমার সবগুলোই পড়া হয়েছে। প্রতিটি স্মৃতিগদ্য পড়া যেন ছোটোবেলার অম্ল-মধুর স্মৃতির ভেতর যাত্রা। আর প্রতি প্যারা স্বর্গীয় স্মৃতিকাতরতায় ভরপুর।
অনেক আগে থেকে কবি শ্রীজাতের কবিতার নিয়মিত পাঠক ছিলাম। এই প্রথম গদ্যকার শ্রীজাতের গদ্যের প্রেমে পড়লাম। এতো মিষ্টি করে এভাবে ছোটোবেলাকে ভাষা দেয়ার জন্য লেখকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এই সিরিজের আরও লেখা পড়তে আগ্রহী।
জন্মদিনে অত্যুষা বনির থেকে উপহার পেয়েছিলাম 'শ্রীজাত'র লেখা দশটি মুক্তগদ্যের অসামান্য সংকলন 'হিয়া টুপটাপ জিয়া নস্টাল' বইটি । মাত্র ৬৪ পাতার ছোট্ট একটা বই এত সুন্দর হবে ভাবিনি । এই বইয়ের প্রতিটি পাতায় জড়িয়ে আছে আমাদের 'শিশু-কিশোর'বেলার নস্টালজিয়া । পড়তে পড়তে রীতিমতো অবাক হয়ে যেতে হয় এই ভেবে যে - 'শ্রীজাত' কিভাবে আমার ছোটবেলার কথা জানলেন !! ভারী অদ্ভুত তো । এখানেই 'হিয়া টুপটাপ জিয়া নস্টাল' বইটির মজা । স্মৃতিকথার আঙ্গিকে লেখা প্রতিটি গদ্য স্বতন্ত্র ধারায় প্রবাহিত হয়ে এক অদ্ভুত সুর রচনা করেছে যা প্রথম পাতা থেকে শেষ পাতা পর্যন্ত পাঠককে আচ্ছন্ন করে রাখবে ।
📖 নিম্নলিখিত দশটি সুন্দর নামকরনের মাধ্যমে মুক্তগদ্যগুলি সাজানো হয়েছে -
▫️আমি, সে ও দেবী ▫️কাল আমাদের দোল ▫️দুই প্রণামের বন্ধনী ▫️ছোটবেলার হৃদপিণ্ড ▫️বর্ষার সন্ধ্যে ও আশ্চর্য মুড়িমাখা ▫️রথের দেশে প্যারাসুট পুতুল ▫️তপ্ত ঠোঙ্গার নোনতা গল্প ▫️তুমি তা জানো না কিছু ▫️সিঁড়িভাঙ্গা অঙ্ক ▫️বড়দিনের আলো
📖 'বসন্ত পঞ্চমী' দিয়ে শুরু হচ্ছে প্রথম লেখা । সরস্বতী পুজো ছোটবেলায় স্বপ্নের মত সুন্দর হয় । পুজোর নানা আয়োজন, ডেকোরেশন, আল্পনা ইত্যাদির সাথে হলুদ শাড়ি, লম্বা ছাড়া চুলের অপরূপ দৃষ্টি তো থাকেই বুকে ঝড় তোলার জন্য । এরপর দোল উৎসবও পিছিয়ে থাকে না । দোলের আগের সন্ধ্যায় ন্যাড়া পোড়া থেকে শুরু করে রঙ এবং আবির নিয়ে সারা সকাল দুপুর উদ্দাম হুল্লোর চলতে থাকে এপাড়া থেকে ওপাড়া । কিন্তু ন্যাড়া পোড়ানোর আনন্দটা সবার চেয়ে আলাদা । 'দুই প্রণামের বন্ধনী' তে লেখকের নিজের কথা চলে আসে প্রত্যক্ষভাবে । 'ছোটবেলার হৃৎপিন্ড' গদ্যে চলে আসে আমাদের ছোটবেলার ক্রিকেট । শীতকাল, বল ব্যাট উইকেট জোগাড়, মুহুর্মুহু নর্দমায় বলের প্রবেশ, জানলার কাঁচ ভাঙা, চুইংগাম কেনা, জঙ্গলে বল হারানো... সবকিছুই আমাদের ছোটবেলার হৃদস্পন্দনের সঙ্গে বড় বেশি মিলে যায় । বর্ষাকালের সন্ধ্যার সঙ্গে চলে আসে আশ্চর্য সুন্দর মুড়িমাখা এবং দাবাখেলা । সঙ্গে টক ঝাল মিষ্টি চানাচুর ও দু-চার রকমের তেলেভাজাও থাকতো । অঙ্ক কষার শেষে আম-তেলের গন্ধ আর কাঁচা পেয়াজ লঙ্কার ঝাঁঝ দীর্ঘস্থায়ী হত শরীর মন জুড়ে । রথের মেলায় কলা-বাতাসা, দড়ি ছোঁয়া, হঠাৎ বৃষ্টি সবকিছুই ভীষণ প্রাণময় । দোসর হতো আলুর চপ, শোনপাপড়ি, লেবুর আচার । আবার বড়দিনের আলো বড় মায়াবী । কেক-পেস্ট্রি, গিটার বাজিয়ে গান এবং বালিশের পাশে রাখা সান্তা বুড়োর উপহার... এসব ভোলার নয় ।
📖 'হিয়া টুপটাপ জিয়া নস্টাল' পড়তে পড়তে প্রতিটি পাঠক তার ছেলেবেলাকে খুঁজে পাবেন । তবে যৌবনবেলাও এখানে উপেক্ষিত নয় । জীবনের ছোট-বড়, হাসি-কান্নার নানা উপাদানকে লেখক এমনভাবে সাজিয়েছেন যে বইটির প্রতিটি পাতা বড় আপন হয়ে উঠেছে । হৃদয়ের টুপ করে ঝরে পড়া আবেগমুহূর্তকে লেখক আরো সুন্দর করে সাজিয়ে প্রতিস্থাপন করেছেন হৃদয়জুড়েই । তাই ছোট্ট এই বইটি স্মৃতিতে অমলিন থাকবে বলেই আমার মনে হয় । এছাড়া শুভময় মিত্রের প্রচ্ছদটি বেশ সুন্দর, যা বইটিকে নস্টালজিক ছোঁয়া দিয়েছে ।