What do you think?
Rate this book


184 pages, Hardcover
First published February 1, 2001
বর্তমান দুনিয়ায় বেশ কিছু সংখ্যক দেশের ভাষা ইংরেজি হওয়া সত্ত্বেও ইংরেজি ভাষার মর্যাদা রক্ষার মূল দায়িত্ব ইংরেজদের, তেমনিভাবে বাংলা, বিহার ও আসামের একাংশ এবং ব্রিটেন ও মধ্যপ্রাচ্যে বাংলা ভাষাভাষী জনগোষ্ঠী থাকা সত্ত্বেও বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার মূল দায়িত্বটা বাংলাদেশের বাঙ্গালীর উপর ন্যস্ত হয়েছে। উপরন্তু একটা কথা স্মরণ রাখা প্রয়োজন যে , ভারতে বসবাসকারী বঙ্গবাসীরা হচ্ছেন ভারতীয়। এরা কিছুতেই আর বাঙালী নন। বর্তমান বিশ্বের একমাত্র বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর জাতীয়তা হচ্ছে 'বাঙালী'।
একটা এলাকার জনগোষ্ঠীর পরিচয় একই সঙ্গে দু'ধরণের জাতীয়তা হতে পারে না। ওদের জাতীয়তার পরিচয় একটাই এবং সেই মোতাবেক ওরা বাংলায় কথা বললেও ওরা হচ্ছে 'ভারতীয়'।
তাই লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, পশ্চিমবঙ্গের ভারতীয় বঙ্গবাসীরা মাঝে মাঝে নিজেকে "বাঙালী" হিসেবে দাবী করায় যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হচ্ছে, তাতে বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়াশীল ও ধর্মীয় মৌলবাদী গোষ্ঠী ফায়দা উঠাবার চেষ্টা করে থাকে। অতএব পশ্চিমবঙ্গের বাংলাভাষীর কাছে অনুরোধ যে, আপনারা বাস্তবতাকে স্বীকার করে নিন। কেননা ইতিহাসের গতিধারায় বর্তমান বিশ্বের একমাত্র বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর জাতীয়তা হচ্ছে 'বাঙালী'। আর কেউ এই বাঙালীত্বের দাবি করতে পারে না।
নাটকের উদ্দেশ্য গুরুতর-যে সকল নাটক এরূপ উদ্দেশ্যে প্রণীত হয়, সে সকলকে আমরা আমরা নাটক বলিয়া স্বীকার করিতে পারি না। কাব্যের উদ্দেশ্য সৌন্দর্য্য সৃষ্টি, সমাজ সংস্কার নহে। মুখ্য উদ্দেশ্য পরিত্যক্ত হইয়া সমাজ সংস্কারাভিপ্রায়ে প্রণীত হইল নাটকের নাটকত্ব থাকে না।
১৮৫৭ সালের ২৬ মে 'তে কোলকাতার হিন্দু মেট্রোপলিটন কলেজের রাজা রাধাকান্ত দেব -এর সভাপতিত্বে "সম্ভ্রান্ত মহাশয়ের" এক সভায় মিলিত হয়ে সিপাহী বিদ্রোহের প্রতি এক নিন্দাসূচক প্রস্তাব পাশ করে। সভায় সর্বসম্মতিভাবে ইংরেজ সরকারকে সক্রিয় সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি প্রদান করে আরও একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়। অন্যদের মধ্যে এই সভায় কালীপ্রসন্ন সিংহ, হরেন্দ্র চন্দ্র প্রমুখ নেতৃস্থানীয় বুদ্ধিজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।
মানুষকে ঘৃণা করা যে দেশের ধর্মের নিয়ম, প্রতিবেশীর হাতে জল খাইলে যাহাদের পরকাল নষ্ট হয়, পরকে অপমান করিয়া যাহাদিগকে জাতি রক্ষা করিতে হইবে, পরের হাতে অপমান না হইয়া তাহাদের গতি নেই। তাহারা যাহাদিগকে ম্লেচ্ছ বলিয়া অবজ্ঞা করিতেছে, সেই ম্লেচ্ছের অবজ্ঞা তাহাদিগকে সহ্য করিতেই হইবে। আমরা বহুশত বৎসর পাশে পাশে থাকিয়া এক ক্ষেতের ফল, এক নদীর জল, এক সূর্যের আলোক ভোগ করিয়া আসিয়াছি; আমরা এক ভাষায় কথা কই, আমরা একই সুখ-দুঃখের মানুষ, তবুও প্রতিবেশীর সঙ্গে প্রতিবেশীর যে সম্বন্ধ মনুষ্যোচিত যাহা ধর্মবিহিত, তাহা আমাদের মধ্যে হয় নাই। আমাদের মধ্যে সুদীর্ঘকাল ধরিয়া এমন একটি পাপ পোষণ করিয়াছি যে, একত্রেও মিলায়াও আমাদের বিচ্ছেদ ঠেকাইতে পারি নাই। এ পাপকে ঈশ্বর কোন মতেই ক্ষমা করিতে পারেন না। আমাদের পাপই ইংরেজদের প্রধান বল।