Jump to ratings and reviews
Rate this book

পূর্ব পুরুষের সন্ধানে

Rate this book
'পূর্ব পুরুষের সন্ধানে' বইটিতে গাঙ্গেয় ব-দ্বীপ এলাকার জনগোষ্ঠির প্রকৃত পরিচয় দেয়া ছাড়াও অত্র এলাকার ইতিহাস সম্পর্কিত নানা উপাদান উপস্থান করা হয়েছে। সূচিপত্র -

প্রাচীন যুগ ও বৌদ্ধদের সময়কাল
গাঙ্গেয় ব-দ্বীপ এলাকার বাংলা ভাষার বিবর্তন
সুফীদের আগমন ও পূর্ববঙ্গে বাঙ্গালী সংস্কৃতির উন্মেষ
বাংলার রেনেসাঁ : বিতর্কিত অধ্যায়
বাংলার কৃষক বিদ্রোহগুলোর পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস নেই
বাংলার চোখে বঙ্কিমচন্দ্র
ওহাবী আন্দোলনের ব্যর্থতা ও বাঙ্গালী মুসলিম সমাজ
সন্ত্রাসবাদ আন্দোলন ও সাম্প্রদায়িকতা
বঙ্গভঙ্গ ও কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ
অবাঙালী মুসলিম নেতৃত্বে পূর্ববঙ্গের স্বার্থ জলাঞ্জলি
বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদের প্রকৃত স্বরূপ নির্ণয়

184 pages, Hardcover

First published February 1, 2001

Loading...
Loading...

About the author

M.R. Akhtar Mukul

21 books16 followers
M. R. Akhtar Mukul (in Bengali: এম. আর. আখতার মুকুল) was a Benaglee author and journalist from Bangladesh; earned fame for Chorompotro, a radio programme from Shwadhin Bangla Betar Kendra.

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
0 (0%)
4 stars
0 (0%)
3 stars
0 (0%)
2 stars
1 (100%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 of 1 review
Profile Image for Emtiaj.
237 reviews86 followers
June 30, 2015
বর্তমান দুনিয়ায় বেশ কিছু সংখ্যক দেশের ভাষা ইংরেজি হওয়া সত্ত্বেও ইংরেজি ভাষার মর্যাদা রক্ষার মূল দায়িত্ব ইংরেজদের, তেমনিভাবে বাংলা, বিহার ও আসামের একাংশ এবং ব্রিটেন ও মধ্যপ্রাচ্যে বাংলা ভাষাভাষী জনগোষ্ঠী থাকা সত্ত্বেও বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার মূল দায়িত্বটা বাংলাদেশের বাঙ্গালীর উপর ন্যস্ত হয়েছে। উপরন্তু একটা কথা স্মরণ রাখা প্রয়োজন যে , ভারতে বসবাসকারী বঙ্গবাসীরা হচ্ছেন ভারতীয়। এরা কিছুতেই আর বাঙালী নন। বর্তমান বিশ্বের একমাত্র বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর জাতীয়তা হচ্ছে 'বাঙালী'।

একটা এলাকার জনগোষ্ঠীর পরিচয় একই সঙ্গে দু'ধরণের জাতীয়তা হতে পারে না। ওদের জাতীয়তার পরিচয় একটাই এবং সেই মোতাবেক ওরা বাংলায় কথা বললেও ওরা হচ্ছে 'ভারতীয়'।

তাই লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, পশ্চিমবঙ্গের ভারতীয় বঙ্গবাসীরা মাঝে মাঝে নিজেকে "বাঙালী" হিসেবে দাবী করায় যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হচ্ছে, তাতে বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়াশীল ও ধর্মীয় মৌলবাদী গোষ্ঠী ফায়দা উঠাবার চেষ্টা করে থাকে। অতএব পশ্চিমবঙ্গের বাংলাভাষীর কাছে অনুরোধ যে, আপনারা বাস্তবতাকে স্বীকার করে নিন। কেননা ইতিহাসের গতিধারায় বর্তমান বিশ্বের একমাত্র বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর জাতীয়তা হচ্ছে 'বাঙালী'। আর কেউ এই বাঙালীত্বের দাবি করতে পারে না।


আমি হতবাক। এতো পূর্বের সেই "ঘটি-বাঙ্গাল" সমস্যারেই আধুনিক রূপ দেখালেন লেখক।

আমি একটা বিষয়ে অবাক হতাম যে, উপমহাদেশে বৌদ্ধদের সংখ্যা এত কম কেন? কারণটা জানলাম বইটা পড়ে। এই এলাকায় প্রথম বিদেশী হচ্ছে আর্যরা। চীনের হুনদের আক্রমণে এরা বিপর্যস্ত হলে স্থানীয় বাঙালীরা বিদ্রোহ করলে শুরু হয় গৃহযুদ্ধ। আর্যরা পিছু হটলে স্থানীয়রা গোপাল নামের বৌদ্ধ সেনাপতিকে রাজা নির্বাচিত করেন। এই রাজাই গোড়াপত্তন করেন পাল বংশের। প্রায় চারশ বছর রাজত্ব করার পর এদেরকে উচ্ছেদ করেন অবাঙালী হেমন্ত সেন। সেন শাসনামলেই মূলত বৌদ্ধদের বিতাড়িত করা হয়।

নাটকের উদ্দেশ্য গুরুতর-যে সকল নাটক এরূপ উদ্দেশ্যে প্রণীত হয়, সে সকলকে আমরা আমরা নাটক বলিয়া স্বীকার করিতে পারি না। কাব্যের উদ্দেশ্য সৌন্দর্য্য সৃষ্টি, সমাজ সংস্কার নহে। মুখ্য উদ্দেশ্য পরিত্যক্ত হইয়া সমাজ সংস্কারাভিপ্রায়ে প্রণীত হইল নাটকের নাটকত্ব থাকে না।


এই উক্তিটি করেছেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। দীনবন্ধু মিত্রের 'নীলদর্পণ' প্রকাশিত হওয়ার পর। মীর মশাররফের 'জমিদার দর্পণ' নাটককে সরাসরি বে-আইনী ঘোষণার জন্য তিনি ইংরেজদের কাছে দাবিও জানিয়েছিলেন। লেখকের দাবি, বঙ্কিমচন্দ্র ছিলেন কট্টরপন্থী হিন্দু জাতীয়তাবাদের প্রচারক রক্ষক। একই ভাবধারার ব্যক্তি ছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ।

বাঙালীদের মধ্যে বেঈমানের সংখ্যা এত বেশি কেন? ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহকে কোথায় সমর্থন করবে, উলটো দমন করার জন্য ইংরেজদের অনুরোধ জানালেন। আমি অবাক হয়ে যাই। বিখ্যাত এক লেখকের কথা উল্লেখ করি।
১৮৫৭ সালের ২৬ মে 'তে কোলকাতার হিন্দু মেট্রোপলিটন কলেজের রাজা রাধাকান্ত দেব -এর সভাপতিত্বে "সম্ভ্রান্ত মহাশয়ের" এক সভায় মিলিত হয়ে সিপাহী বিদ্রোহের প্রতি এক নিন্দাসূচক প্রস্তাব পাশ করে। সভায় সর্বসম্মতিভাবে ইংরেজ সরকারকে সক্রিয় সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি প্রদান করে আরও একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়। অন্যদের মধ্যে এই সভায় কালীপ্রসন্ন সিংহ, হরেন্দ্র চন্দ্র প্রমুখ নেতৃস্থানীয় বুদ্ধিজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

কোলকাতার এই বুদ্ধিজীবীরা ইংরেজদের পাশে ছিলেন বলেই কোন মার্শাল ল জারী হয়নি।

ওহাবী এবং ফরায়েজী আন্দোলন নিয়ে সামাজিক বিজ্ঞান বইয়ের বাইরে বেশ কিছু তথ্য জানলাম। সৌদী থেকে আসার পর হাজী শরিয়তউল্লাহ এদেশকে "বিধর্মীর এলাকা" ঘোষণা করে নির্দেশ জারী করলেন যে, ফরায়েজীরা ঈদের এবং জুম্মার নামাজ আদায় করতে পারবেন না। কেননা এসব রীতিনীতি কেবল মুসলিম শাসিত রাজ্যগুলোতে উদযাপিত হতে পারে। তাঁর ছেলে তিতুমীর ওরফে দুদু মিয়া তাঁর অনুসারীদেরকে বিধর্মী তো দূরের কথা স্বীয় মতাবলম্বী ছাড়া অন্যান্য মুসলমানদের সঙ্গে পর্যন্ত পানাহার পর্যন্ত বর্জনীয় নির্দেশ দিয়েছিলেন।

বঙ্গভঙ্গ হলে আন্দোলন শুরু হওয়ার ৯০ দিন পর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যে কট্টর হিন্দুপন্থীদের সাথে একমত হতে না পেরে যে আন্দোলনের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করে, তা কিন্তু অজানাই ছিল। তাঁর একটা উক্তি উল্লেখ না করে পারছি না -
মানুষকে ঘৃণা করা যে দেশের ধর্মের নিয়ম, প্রতিবেশীর হাতে জল খাইলে যাহাদের পরকাল নষ্ট হয়, পরকে অপমান করিয়া যাহাদিগকে জাতি রক্ষা করিতে হইবে, পরের হাতে অপমান না হইয়া তাহাদের গতি নেই। তাহারা যাহাদিগকে ম্লেচ্ছ বলিয়া অবজ্ঞা করিতেছে, সেই ম্লেচ্ছের অবজ্ঞা তাহাদিগকে সহ্য করিতেই হইবে। আমরা বহুশত বৎসর পাশে পাশে থাকিয়া এক ক্ষেতের ফল, এক নদীর জল, এক সূর্যের আলোক ভোগ করিয়া আসিয়াছি; আমরা এক ভাষায় কথা কই, আমরা একই সুখ-দুঃখের মানুষ, তবুও প্রতিবেশীর সঙ্গে প্রতিবেশীর যে সম্বন্ধ মনুষ্যোচিত যাহা ধর্মবিহিত, তাহা আমাদের মধ্যে হয় নাই। আমাদের মধ্যে সুদীর্ঘকাল ধরিয়া এমন একটি পাপ পোষণ করিয়াছি যে, একত্রেও মিলায়াও আমাদের বিচ্ছেদ ঠেকাইতে পারি নাই। এ পাপকে ঈশ্বর কোন মতেই ক্ষমা করিতে পারেন না। আমাদের পাপই ইংরেজদের প্রধান বল।

বঙ্গভঙ্গ রদের পর যে বাংলা প্রদেশ থেকে উড়িষ্যা ও বিহারকে বাদ দেয়া হল তা নিয়ে কোন আন্দোলন হল না, এটা বিস্ময়কর ব্যাপার বটে!

বইয়ে Repetition এর পরিমাণ এতো বেশী যে কি বলব, বিরক্তি ধরে ছিল। ধর্মনিরপেক্ষতা আর স্বাধীনতা না থাকলে যে রেনেসাঁ হয় না, এই কথাটা যে কতবার উল্লেখ করা হয়েছে! একই শব্দ দিয়ে বাক্যগুলো কিভাবে যে লিখলেন? নাকি পি সি তে ডিরেক্ট কপি-পেইস্ট করে দিয়েছেন!

এই বইয়ের একটা মূল কথা আছে। সেটা হচ্ছে, কট্টরপন্থী বর্ণহিন্দুরা ইংরেজদের সাহায্য সহযোগিতা করেছেন (এবং তারও আগে ব্রাক্ষ্মণরাই শাসন-শোষণ, ষড়যন্ত্র করেছেন) , তাদের পৃষ্টপোষকতা করেছেন, কৃষক আন্দোলন সহ যাবতীয় বৃটিশ বিরোধী আন্দলনে বিরোধী তথা বৃটিশদের সাথে ছিলেন, বাঙালী জাতীয়তাবাদের আড়ালে হিন্দু জাতীয়তাবাদের প্রচার, প্রসার করেছেন। সবচেয়ে বড়কথা লেখক বলেছেন, বর্তমান বাংলাদেশ এবং অপরাপর বাংলা জাতীগত এবং নৃতাত্ত্বিকভাবেই আলাদা ছিল। শেষের এই ব্যাপারটাই আমি হতভম্ব!

বইটাতে বাঙালী জাতির (বাংলা অঞ্চলের) ক্রমান্বয়িক একটা বর্ণনা ছিল। বিষয়টা ভালোই ছিল। দ্রাবিড় (আর্যপূর্ব যুগ), আর্য যুগ, গুপ্ত শাসন, পাল বংশ, সেন বংশ, ইখতিয়ার উদ্দীন মোঃ বিন বখতিয়ার, ব্লাহ, ব্লাহ, ব্লাহ।
Displaying 1 of 1 review