একের পর এক খুন, আনএক্সপেক্টেড টুইস্ট অ্যান্ড টার্নস, অসম্ভব গতি – আদর্শ থ্রিলার। কিন্তু এরপরেও কিছু আছে। সেটা হল মানবমনের গহীন কুঠিতে লেখকের অবাধ যাতায়াত। সেইখানে গিয়েই এই থ্রিলার তিনটি কালোত্তীর্ণ। এ ভরা বাদর (উপন্যাসিকা) – দ্বাপর থেকে কলি, মথুরা থেকে কোলকাতা, খুনগুলোর ধরন কিন্তু একই। খুনের পাশে বৈষ্ণব পদাবলীর পদ পড়ে থাকে। তাহলে কি… রিইউনিয়ন – টাপুর টুপুর বৃষ্টি পরে, নদে এলো বান , শিব ঠাকুরের বিয়ে হবে, তিন কন্যা দান… ” কিন্তু ওরা তো চারজন। অন্তরা, প্রীতি, স্বাতী, মাহি। তাহলে ছড়া যে কাটে সে কি ওদের তিনজনকে খুন করতে চায়? জাহান্নমের কবর – জগৎ শেঠের পরিবারে নাকি অভিশাপ আছে। এই যে এতগুলো খুন হচ্ছে, সে কী অভিশাপের কারনে নাকি অভিশাপের ঢাল করে কেউ…
তিনটি কাহিনি স্থান পেয়েছে আলোচ্য বইটিতে। আপাতদৃষ্টিতে সেগুলো মনস্তত্ত্ব-নির্ভর হত্যারহস্য। তারা হল~ ১. এ ভরা বাদর মাহ ভাদর: শ্রীকৃষ্ণকে নিয়ে গবেষণার জন্য বরেণ্য একের পর এক গবেষক খুন হচ্ছেন। মৃতদেহের পাশে পড়ে থাকছে পদাবলির ছিন্ন অংশ। কেন এই সিরিয়াল কিলিং? ২. রি-ইউনিয়ন: চার বান্ধবী দীর্ঘদিন পর একত্র হল। কিন্তু উত্তরবঙ্গের সেই নির্জন কোণে 'দেও'-এর হানায় প্রাণ গেছে অনেক মহিলার। এবার কি এদের মধ্যে কারও পালা? ৩. জাহান্নমের কবর: জগৎ শেঠের উত্তরাধিকারীদের ওপর নাকি এক অভিশাপ নেমে আসে, যার ফলে মানুষটি হয়ে যায় পিশাচ! এবারও কি তেমন কিছু ঘটেছে? লেখাগুলো চরম প্রিটেনশাস্, ভুলভাল স্টিরিওটাইপিঙে ভর্তি, লজিকের লুপহোলের চোটে প্রায় ছাঁকনি-সদৃশ, আর অনাবশ্যক ভ্যাজর-ভ্যাজরে আকীর্ণ। পড়ে মনে হল, সময়টা স্রেফ বরবাদ করলাম। বইটি সুমুদ্রিত। বানান শুদ্ধ। প্রচ্ছদ রুচিশীল। ব্যস!
লেখক কল্যাণ গুপ্তের সঘন গহন রাত্রি..... অসম্ভব ভালো একটি বই।বইটির প্রচ্ছদ, পৃষ্ঠার মান অত্যন্ত ভালো
বইটিতে তিনটে গল্প আছে। প্রথমটি বৈষ্ণব পদাবলী নিয়ে।একের পর এক খুন হয়ে চলেছে।কে আছে সেই রহস্যময় খুনের পেছনে।এক নিপুণ দক্ষতার সাথে লেখক অতীত আর বর্তমান দুটি সময়কে তার কলমে বেঁধে নিয়ে চলেছেন।কোথাও এতটুকুও খাপছাড়া মনে হয় নি।আর সব রহস্যের সমাধান না করে বই ছেড়ে ওঠা মুস্কিল।এ ভরা বাদর মাহ ভাদর অসম্ভব ভালো উপন্যাসিকা।
দ্বিতীয় গল্পটি রিইউনিয়ন।গল্পের শুরুতেই এক খুন।একটু পড়লে ভাবলাম এই বুঝি খুনি।কিন্তু লেখকের কলমের জাদুতে সেই গল্পের শেষে এসেই জানা যায় আসল খুনি কে?এই গল্প একবার শুরু করে শেষ না করে পর্যন্ত থামা যাবে না। তৃতীয় গল্প হলো জাহান্নামের কবর। এই গল্পে ইতিহাস আর রহস্য এই দুই বিষয়ের অপূর্ব মেলবন্ধন করেছেন লেখক।ইতিহাসের হারিয়ে যাওয়া একটি বিষয়কে নিয়ে গল্প এগিয়েছে।লেখকের লেখনী জাদুতে সমস্ত বিষয়টি চোখের সামনে ভেসে ওঠে। যারা থ্রিলার ভালোবাসেন তাদের জন্য এই 'সঘন গহন রাত্রি ' খুব ভালো বই।
চিরকালই থ্রিলার ধর্মী লেখা পড়তে ভালোবাসি। তাই সঘন হাতে পাওয়ার পরে এক নিশ্বাসে শেষ করেছি। বইয়ের প্রচ্ছদ, পৃষ্ঠার মান, আর বানানের শুদ্ধতা গল্প পড়তে আলাদাই আরাম দেয়।
বইটিতে তিনটে গল্প আছে।
বৈষ্ণব পদাবলী নিয়ে একটা আকর্ষণ ছিল বরাবরই। তাই এ ভরা বাদর এই উপন্যাসসম লেখাটি সবার আগে পড়ি। অসামান্য দক্ষতার সঙ্গে প্রতি টা ছত্রে ছত্রে রহস্য আমদানি করেছেন লেখক। কখনো অতীত, কখনো বর্তমান লেখক আপনাকে থামতে দেবেননা। লেখার গতির সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হবে আপনাকেও।
রিইউনিয়ন গল্পে পরিবারের একটা বিরাট বড় ভূমিকা আছে। আমরা সাধারণত পরিবারকে আমাদের মাথার ছাদ বলে থাকি। সেই ছাদ নড়বড়ে হলে যে সন্তানের ওপর কি অভিশাপ নেমে আসে তার একটা চিত্র ফুটে ওঠে এই গল্পে।
জাহান্নমের কবর গল্পের মেজাজ ঐতিহাসিক। লেখককে অনেক গবেষণা করতে হয়েছে এগুলো লিখতে তা বোঝাই যায়। এই গল্পটা নিয়ে বেশি লিখতে গেলে শেষের টুইস্ট এসে পড়বে তাই বলছি না।
বইটি পড়ে এটুকু বলতে পারি, একবার পড়ে আশ মিটবে না। সংগ্রহে রাখার মতো একটি বই।