ছুটি কাটানোর উদ্দেশ্যে টেক্সাসের ছোট্ট শহর গ্রীনহিল-এর মাটিতে পা দিতেই কিডন্যাপ হয়ে গেল দুই বন্ধু অয়ন আর জিমি। ব্যাপার কী? ওদের কাছে কী চায় দুই ভয়ানক দাগী আসামী? জ্যাক আর মাইক প্রাইস কে? কীসের ম্যাপ? কীসের চিঠি? আসলে রহস্যটা কী? একে একে সব প্রশ্নেরই জবাব পাওয়া গেল, কিন্তু সবশেষে এল সত্যিকারের বিপদ - আটকা পড়ল ওরা কালকুক্ষি, অর্থাৎ, মৃত্যুগুহাতে।
এই কিশোরোপন্যাসটা নাকি তৎকালীন ক্লাস টেনে পড়া এক কিশোরের লেখা। তাও আবার পুরোদস্তুর মৌলিক! এমন মাথা চুলকানো দুর্বোধ্য গুপ্তধনের ধাঁধা, অমন পাহাড় আর গুহার ভেতরকার বিস্তারিত প্রাকৃতিক বর্ণনা, গহীন অন্ধকার সুড়ঙ্গের মধ্যকার রুদ্ধশ্বাস অভিযান, আমেরিকার পটভূমিতে শহর আর শহরতলীর পাহাড়-জঙ্গল এলাকায় দৌড়াদৌড়ি করা টানটান উত্তেজনার রোমাঞ্চ-অ্যাডভেঞ্চার - একটা বাংলাদেশে বাস করা স্কুল ছাত্রের মাথা থেকে বের হওয়া, কিভাবে সম্ভব?!! ওয়াও। (ক্লাস টেন তো আমিও এককালে পার করছিলাম, নাকি? একের পর এক পরীক্ষায় ধরা খাওয়া আর একের পর এক মাসুদ রানা গলদঘরণ করা ছাড়া আর কিছু করতে পারছিলাম বলে তো মনে পড়তেছে না।)
১৯৯২ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত উপন্যাসটিকে ইসমাইল আরমানের বিশ বছর পরের লেখনির সাথে তুলনা করলে হয়ত প্রথমজীবনের প্রথম লেখা হিসেবে একটু কাঁচা হাতের ছাপ পাওয়া যেতে পারে, তাও সেটা শুধুমাত্র আতস কাঁচের নিচে ফেলে স্ট্রিক্টলি তাঁর বয়সকালের লেখনির সাথে তুলনামূলক বিচার করলেই। এমনিতে পড়ার সময় লিটারেলি একবারের জন্যও মনে হয়নি এটা কোন পরিণত হাতের লেখা নয়। কাহিনিতে রহস্য বলতে প্রায় পুরোটাই ব্যাংক ডাকাতি করে লুকিয়ে রাখা দুই মিলিয়ন ডলার উদ্ধার করা নিয়ে, দুর্গম পাহাড় জঙ্গল থেকে যার সন্ধান বের করতে হলে কয়েকজন দুঃসাহসী কিশোরের সমাধান করতে হবে প্রায় অসম্ভব জটিল কিছু ধাঁধার, এদিকে পেছনে লেগে আছে ভয়ঙ্কর দুই খুনে ব্যাংক ডাকাত আর একদল মাস্তান। সহজসরল সুখপাঠ্য, আরামদায়ক ঝরঝরে সাবলীল ভাষা, বুড়োবয়সের পাকা চোখে অনেকটা অনুমেয় হলেও মেদহীন দুরন্ত গতির নাটকীয়তাপূর্ণ একটানে পড়ে ফেলার মতো উপভোগ্য কিশোর অ্যাডভেঞ্চার... অন্তত এই একটা ক্ষেত্রে যা বেরিয়েছিল একজন কিশোরের মস্তিষ্ক থেকেই! ব্রাভো, ইসমাইল আরমান ভাই।
আপনার হাতে এক দুই ঘণ্টা সময় আছে ? কি করবেন বুঝছেন না ? কোন বড় বই পড়তে চাচ্ছেন না শেষ করতে পারবেন না এই ভয়ে ? কিন্তু কম সময়ে ভালো সময় পার করার ইচ্ছে ষোল আনাই আছে ? তাহলে আপনি বইটা পড়তে পারেন । সেবার সোনালী যুগে কিশোরদের জন্য অনেকগুলা থ্রিলার সিরিজ ছিল । তার মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হচ্ছে অয়ন-জিমি সিরিজ । যারা এখনো তিন গোয়েন্দা পড়তে ভালোবাসেন বা এই টাইপ বই পড়তে চান তারা বইটা পরে দেখতে পারেন । কিছুটা তিন গোয়েন্দা তিন গোয়েন্দা ফ্লেভার আছে । তবে বইটির সাথে তিন গোয়েন্দা কোন সম্পর্ক নেই । বইটি সম্পূর্ণ মৌলিক । আরো সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে এই বই হচ্ছে ইসমাইল আরমান ভাইয়ের লেখা প্রথম বই । আরো মজার কথা এই বই লিখা সময় আরমান ভাই স্কুলে পড়তেন । আমি এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না । কিভাবে সম্ভব ? ক্লাস ১০ টেনে পড়ে এই রকম একটা কমপ্লেক্স প্লট মাথায় আসলো কিভাবে । তাও আবার এমন নীট এন্ড ক্লিন পাজল ওয়ালা প্লট । তবে বই পড়ে যে আপনার কাছে আহামরি কিছু মনে হবে , তাও না । যেহেতু বইটি কিশোর থিল্রার তাই বইটি কিশোরদের উপযোগী করেই লিখা । তবে মজা বই পড়ে মজা পাবেন কিশোর থেকে শুরু করে বুড়ো পর্যন্ত । অতঃপর ফ্রান্স বসে আছেন কেন ? টাইম পাস করেন grin emoticon
প্লট -
গরমের ছুটি কাটানোর জন্য গ্রীনহিলসে এসেছে দুই জিগরি দোস্ত অয়ন আর জিমি । কিন্তু শহরে পাড়া দিতে না দিতেই দুই ষান্ডা তাদের কিডন্যাপ করলো মাইক আর জ্যাক মনে করে ।তাদের কাছে চাইলে একটি ম্যাপ আর চিঠি । কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না অয়ন আর জিমি । কে মাইক আর জ্যাক । তাদের সাথেই বা অয়ন জিমির কি সম্পর্ক । শেষে বন্ধু মিকির কল্যাণে কোনক্রমে পালাতে পারলো তারা । কিন্তু পাজল মিলছে না কিছুতেই । কিসের ম্যাপ আর কিসের চিঠি ? দুই জেল খাটা আসামী টিম আর বিগই বা কি করছে গ্রীনহিলসে । ওদিকে জঙ্গলের কেবিনে বসে বসে কি করে বুড়ো শিকারী ড্যানি হার্ভে ? অবস্থা বড়ই গোলমেলে । সব দেখে শুনে ভয় পেয়ে গেল জিমি । চাচা নিজের প্রান বাঁচা নীতি অবলম্বন করতে চাইলো জিমি । কিন্তু অয়ন নাছোড়বান্দা । এই রহস্য সমাধান না করে কোনক্রমেই ও গ্রীনহিলস ছাড়বে না । অতঃপর শুরু হল বুদ্ধির খেলা ।
সেবার বই পড়তে এই এক মজা । যে বইই হোক । সমালোচনা করার স্কোপ দেয় না । কোন বই আপনার ভালো নাও লাগতে পারে কিন্তু বই খারাপ সেইটা বলা যাবে না । এই জিনিসটা যদি বাকি প্রকাশনীর বইয়ের ক্ষেত্রে হত unsure emoticon । বাই দা ওয়ে আমার রেটিং ৭ । টাইম পাস হিসেবে ভালো বই
অয়ন - জিমি সিরিজের প্রথম বইটা দিয়েই সিরিজের শুরু করলাম। অসাধারণ লেগেছে কিশোর উপন্যাসটা। রীতিমতো ফ্যান হয়ে গিয়েছি। সিরিজের বাকি বইগুলোও একে একে পড়ে ফেলবো।
একটি ঐতিহাসিক বই। কালকুক্ষি। বইটি লেখক/অনুবাদক ইসমাইল আরমান ভাইয়ের প্রথম উপন্যাস। যা তিনি লিখেছিলেন ক্লাস ৮ এ থাকতে। সেই অর্থেই বইটি ঐতিহাসিক। যে কোনও লেখকের প্রথম উপন্যাসের প্রতি তার মায়া থাকে অপরিসীম এবং এই বইটিও তার ব্যতিক্রম নয়। ওটুকু বয়সে আস্ত একটি উপন্যাস লিখে ফেলা যে কতটা সাহসিকতা আর ধৈর্যের পরিচয় তা হাড়ে হাড়ে বুঝি এবং জানি কাজটি কতো তাৎপর্যপূর্ণ।
গল্পের মূল ভিত্তি একটি পাজল। এবং সেটি মোটামুটিভাবে পাঠক হিসাবে আমাকে মাথা চুলকতে বাধ্য করেছে। আর গল্পের নায়ক অয়ন যখন সেগুলো সলভ করেছে তখন মনে হয়েছে, আমারি তো পারা উচিত ছিল! আর এখানেই লেখকের সার্থকতা। গল্পের মিকি চরিত্রটিও বেশ, আমার জিমির থেকে ওকে বেশি সক্রিয় মনে হয়েছে।
গল্পে আছে তিন গোয়েন্দা ফ্লেভার। লেখকের মুখে শুনেছি এটা ওই সিরিজ থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে লেখা। তাই অভিযোগ তোলার উপায় নেই। বরং মোটামুটি ভাবে সার্থক হয়েছে লেখাটি। হালের তিন গোয়েন্দা থেকে গল্পের গঠন এবং প্রগতি অনেক ভালো।
প্রথমে এটি সেবার অ্যাডভেঞ্চার সিরিজের চতুর্থ বই হিসাবে মুক্তি পেলেও পরে অয়ন-জিমি নতুন সিরিজ হিসাবে স্থান করে নেয় সেবাতে। বেশ কিছু বই বের হয় এই সিরিজে। পরে লেখকের সময়ের অভাব এবং আরও কিছু আনুসাঙ্গিক কারণে থেমে যায় সিরিজটি। যা খুবই হতাশাজনক একটি ঘটনা। সিরিজটি আরও কিছুদিন চললে ভালো হতো।
গল্পে অয়নের ভুমিকাই মুখ্য। আমার মতে জিমিরও আরও একটু সক্রিয় হওয়া উচিত ছিল। কেননা জিমি নিজেই সিরিজের নামের অর্ধেক শেয়ার করছে। এবং সেজন্য ওর আরও গুরুত্ব পাওয়া উচিত।
এছাড়াও সমাপ্তির দিকে একটা জিনিশ আমার বেখাপ্পা লেগেছে। যদিও লেখক নিজের মতো করে সেটার ব্যাখ্যা দিয়েছেন একদম শেষের অধ্যায়ে। ব্যাখাটা মেনে নিয়েছি। তবে অয়ন যেহেতু যথেষ্ট বুদ্ধিমান সেহেতু তার আগেই ভেবে রাখা উচিত ছিল কিছু বিষয়। তবুও মানুষ মাত্র ভুল হয়। ... যাকগে এসব নিয়ে ভাবছিনা।
তখন তিন গোয়েন্দায় পাগল ভক্ত ছিলাম। দিনাজপুরের যে দোকানটায় তিন গোয়েন্দা সিরিজের বই পাওয়া যেতো, তার প্রায় সব তিন গোয়েন্দা কিনে ফেলেছিলাম। দোকানদার মামা তখন এই বইটা হাতে তুলে দিলেন। "কিশোর থ্রিলার" লেখাটা আর সেবা প্রকাশনীর লোগো দেখে কিনে নিলাম বইটা। সত্যি বলতে, আমার প্রত্যাশা তেমন কিছু ছিল না বইটা নিয়ে। অথচ এই অসাধারণ বইটা স্কুলের প্রথম ঘন্টায় ধরেছি আর শেষ ঘন্টায় টানা পড়েছি। এতো সুন্দর একটা গল্প পড়ে ইসমাইল আরমানের ভক্ত বনে গেছিলাম সেদিন থেকে। পরে জেনে বিস্মিত হয়েছি, এই বইটা যখন লেখা হয় তখন লেখক ক্লাস টেনে পড়তেন! যাইহোক, গল্পের কাহিনি সুন্দরভাবেই এগিয়েছে। কিছু ধাঁধা ছিল, অয়ন-জিমিরা যখন ধাঁধা সমাধান করছিল, আমি নিজেও মাথা ঘামিয়েছিলাম, একটা-দুটা পেরেও গেছিলাম। খুব আনন্দিত আর উত্তেজিত হয়ে গেছিলাম তখন। বইটা এক বসাতেই পড়ে ফেলার মতো। বিশেষ করে শেষ অংশটা টানটান উত্তেজনায় ঢাসা। তিন গোয়েন্দার পর সেবা প্রকাশনীর আরেকটি জনপ্রিয় সিরিজ হয়ে উঠেছে "অয়ন-জিমি"।
এক রাতে শেষ করে ফেললাম কিশোর রহস্যোপন্যাসটা। মাঝেমধ্যে ভারী ভারী বইপত্র থেকে ডেটক্স নিতে হয়। অয়ন জিমি ভলিউম ৩-এর হলেও সিরিজের প্রথম গল্প এটাই। আহামরি কোনো প্লট না। খুবই নিট এন্ড ক্লিন একটা প্লট। তিন ডাকাত মিলে দুই মিলিয়ন ডলার হাপিশ করেছে। দুইজন ধরা পড়েছে। তৃতীয়জন টাকাগুলো লুকিয়ে রেখে গেছে এক জায়গায়। তা খুঁজে পেতে চাইলে আপনাকে সমাধান করতে হবে এক ধাঁধার। ব্যস, এই তো!
অয়ন জিমি মিকির বন্ধুত্ব আপনার ঠোঁটে একচিলতে হাসি ফুটিয়ে তুলবে। তিন গোয়েন্দার ভক্ত হলে তো কথাই নেই। সিরিজের প্রথম বইতেই অয়ন হোসেনের পাজল সলভিং স্কিল আপনাকে অবাক করবে, একইসাথে মুগ্ধও।
ভাবতেই অবাক লাগে সিরিজের প্রথম গল্পটা ইসমাইল আরমান ভাই লিখেছেন মাত্র ক্লাস টেনে!
টেক্সাসের এক ছোট শহরে বেড়াতে এসেই ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ল অয়ন ও জিমি, অপহরণ করা হল ওদের। ওদের কাছে কি চায় শয়তান লোকগুলো? বহুদিন আগের এক অমীমাংসিত রহস্য কি আছে এসবের মূলে?
বইটা পড়ে বিশ্বাসই হতে চায় না এটা স্কুল পড়ুয়া ক্ষুদে লেখকের লেখা! দারুণ সব ধাঁধার জট সৃষ্টি করেছেন লেখক।