এস এম এস ফ্রেন্ডশিপ ঠিক কী? নিছকই বন্ধুত্ব, না তার থেকে বড় কিছু প্রাপ্তির ইশারা? এই রহস্যময় বন্ধুত্বের জগতে নিছকই খেলার ছলে যোগদান করে এক উদ্ভিন্নযৌবনা, তরুণী কৌশিকী ও তার দাদু অনাদি তথা অ্যান্ডি। তারপর একের পর এক খুলতে থাকে এক একটা গোপনীয় ও লোভনীয় জগতের দরজা। এস এম এস-এর হাত ধরে কৌশিকীর জীবনে আসে শশাঙ্ক’র মতো মধ্যবিত্ত মানুষ, নীরব ও শুভজিতের মতো জমকালো ব্যক্তিত্ব, বন্ধুত্বের নামে আস্তে আস্তে শুরু হয় অভিনব এক খেলা। কৌশিকী কাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হবে? সে কি লোভের আবর্তে পড়ে গেল? অথবা স্বপ্ন সফল করবার জন্য মরিয়া? ‘আনন্দধারা’ উপন্যাসে নবীন কথাকারের কলমে উঠে এসেছে আমাদের নতুন সমাজ।
সায়ন্তনীর গড়িয়ায় বাস। প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতক ও কলকাতা ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতকোত্তর। ছোটবেলা থেকেই লেখালেখির শখ। কবিতা ও গদ্য দুইই চর্চার বস্তু।ক্লাস সেভেনে প্রথম প্রকাশ সংবাদ প্রতিদিনের শনিবাসরীয় পাতায়'চশমা' ছোট গল্প। তারপর প্রতিদিন, বর্তমান, সুখী গৃহকোণ, আর ছোটদের পত্রিকা সাহানা আর বাংলা দেশের পত্রিকা ভোরের কাগজে লাগাতার লিখে যাওয়া।
সায়ন্তনী তার মনের মাধুরী আর ফ্যান্টাসি মিলিয়ে অধিরাজ চরিত্রের সৃষ্টি করেছিলেন, ধীরে ধীরে সুপারম্যান অধিরাজে তিনি এত গুণ আর বেলাগাম ফ্যান্টাসি মিশিয়ে দিয়েছেন, আজকাল রহস্য কাহিনি হিসেবে পাশমার্ক পেলেও বাকিটুকু বদহজম হয়।
আনন্দধারা উপন্যাসটিও সমগোত্রীয়। বেলাগাম, অত্যাধুনিক ফ্যান্টাসি মেশিনে জারিত মনে হয়। হয় লেখিকা তার মনের সুপ্ত কামনা বাসনার প্রতিফলন ঘটাতে চেয়েছিলেন এই কাহিনির মাধ্যমে, প্রোটাগনিস্ট চরিত্রটির মাধ্যমে আর নয়তো পাঠক হিসেবে আমার মূল্যায়ন ভুল, আমিই হয়তো একটু বেশি পিছিয়ে আছি, সমাজের ব্যাকডেটেড, এক্সপায়ার্ড জেনারেশন হয়ে গেছি এই ত্রিশের কোঠা পেরিয়ে।
কাহিনির মুখ্য চরিত্র কৌশিকী, ছোটবেলায় মা-বাবাকে হারিয়ে, তার দাদু অনাদির স্নেহচ্ছায়ায় বড় হয়ে ওঠে না আদরে বাঁদর হয়ে ওঠে, ঠিক বুঝিনি। নিঃসঙ্গতা দূর করতে গিয়ে এসএমএস ফ্রেন্ডের খোঁজে সে আস্তে আস্তে 'ফাঁকা ফ্ল্যাটে লেনিন বুঝতে চাওয়া নিব্বি' হয়ে ওঠে। আর তার 'নেটফ্লিক্স অ্যান্ড চিল' অনাদি দাদু তাকে সঠিক ঢিল সঠিক মৌচাকে মারার টেকনিক শিখিয়ে হঠাৎ শেষে এসে বাংলা সিনেমার সুড়সুড়ি শাশুড়ি হয়ে যান, মানে তার বোধোদয় ঘটে এবং তিনি কলকাতা মেট্রোর Moral policing খুড়ো হয়ে যান। ভুবনের কানকাটা মাসির এক আধুনিক সংস্করণ এই অনাদি চরিত্রটি। উপন্যাসের আরেকটি চরিত্র নীরব, পাঠান্তে নীরব করে দিয়েছে আমাকে। সারা কাহিনিতে অ্যানিমাল সিনেমার রণবীর কাপুর হয়ে শেষে এসে তিনি স্নেহশীল পিতা হয়ে উঠেছেন। এসএমএস ফ্রেন্ডের কনস্ট্যান্ট সিগনাল তার টাওয়ারে ধরে না। হায়রে দুনিয়া!
লেখিকার থেকে সস্তার গঞ্জিকাসেবনের উৎসটি জেনে এই উপন্যাসের পিছনে আমার অর্থ ও সময় অপচয় করা উচিৎ ছিল। ক্ষমা করবেন সায়ন্তনী এবং তার ফ্যানবেস। আমার ভীষণ ভুল হয়ে গেছে। অন্যায় করে ফেলেছি এই লেখাটুকু লিখে। আমার শাস্তি পাওয়া উচিৎ। 😏
হুম নন্দিনী আর তারপর আরাধিকা পড়ার পর ঠিক আমার অভিব্যক্তি এই রকমই ছিল,তাই তো যখন আনন্দধারা হাতের মুঠোয় পেলাম তখনই মনটা খুশিতে বাকবাকুম করে উঠেছিল 😃
কিন্তু হায় !এ আমার ক্ষনিকের বিভ্রম ছিল,বইটা শুরু করার প্রথম দুপাতা পর্যন্ত সবই ঠিকঠাক ছিল, আধুনিক কাহিনী তাই তার মালমশলা সব অত্যাধুনিক হবে এটাই স্বাভাবিক তাই যখন অ্যান্ডি ওরফে অনাদি যখন তার বংশের শিব রাত্রির সলতে কৌশিকী কে এসএমএস এ নিঃসঙ্গতা কাটানোর জবরদস্ত উপায় হিসেবে নিঃসঙ্গ মানুষের মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ করে তাদের মন জয়ের চুলচেরা পথ বাতলে দিত থাকল চির কাল থেকে ব্যাকডেটেড খেতাব পাওয়া আমি বেশ ভালোই ঢাক্কা পেলাম 😑এ ও কি হয় নাতনীকে দাদু বলছে পুরুষের মন জয়ের উপায়!
গত বছরে প্রেমাতাল পড়ে মেজাজের পারদমাত্রা যেভাবে বেঠিক পথে বেড়েছিল এবার ঠিক সেই ঝাঁ ঝাঁ অনুভূতি টা টের পাচ্ছিলাম, কিন্তু ঐ যে আগের বইগুলোর শব্দজাল আমাকে কুহকিনীর মত বলছিল আর একটু দেখো না এরপর ঠিক গরলে অমৃত পাবে.আর এই আশায় আশায় শেষ পর্যন্ত যেয়ে কি পেয়েছি?
একটা দুঃখমেদুর গল্প। সবাই এক একটা বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। সমুদ্রের মধ্যে ভেসে চলেছে। কখনো তারা পরস্পরের কাছাকাছি আসছে। আবার তারা নিজের চেতনায় পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এক অবিরত ভাঙার গল্প। এ যেন যাহা চাই তাহা ভুল করে চাই, যাহা পাই তাহা চাই না।