হুয়ান কর্টেয ওরফে সাবাডিয়া। এক নতুন বন্ধুর সুপারিশে চাকরি নিল ওয়াই যেড বাথানে। ওদের তখন দুর্দিন যাচ্ছে। হরদম ছিনতাই হচ্ছে গরু। ফোরম্যান ব্রেইন মনে করে কাজটা ইণ্ডিয়ানদের। কিন্তু মালিক বুড়াে সায়মন তা মানতে নারাজ। কর্টেযও তার সঙ্গে একমত। রহস্যভেদের দায়িত্ব পড়ল ওর উপর। অল্পের জন্য একবার প্রাণে বেঁচে গেল সে। ওদিকে ওর প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে প্রিয়দর্শিনী নরিন পিটার, বাথান মালিকের একমাত্র কন্যা। শত্রুর পরিচয় জেনেছে হুয়ান কর্টেয। বিপক্ষের সঙ্গে হাত মেলাল সে। টের পেল না ফাঁদে পা দিতে যাচ্ছে—গরু চুরি আর সায়মনকে হত্যা করার চেষ্টার অভিযােগে ফাসিয়ে দেয়া হলাে ওকে...ওদিকে নরিন বন্দি নাটের গুরু জো টারম্যানের হাতে। এরপর?
রওশন জামিল বাবার কাছ থেকে পেয়েছেন লেখালেখির করার অনুপ্রেরণা। জীবনে প্রথম লেখা ক্লাস ফাইভে। স্কুল ম্যাগাজিনে। এর পর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে আবার শুরু পত্রিকায় রিপোর্ট/ফিচার লেখার মধ্যদিয়ে, যখন তিনি মাস্টার্সে পড়েন। লেখালেখির পাশাপাশি তার আরো একটা পেশা আছে সেটা হলো সাংবাদিকতা। স্ত্রী গৃহিণী, দুই সন্তানের জনক তিনি। বড় ছেলে ও ছোট মেয়ে নিয়ে তার পরিবার।
সেবা প্রকাশনীতে তার প্রথম বই বই প্রকাশিত হয় কাজীদার সাথে যৌথ ভাবে ১৯৮৫ সালের জুন মাসে দাগী আসামী-১ দিয়ে। পরবর্তিতে দুইটি কিশোর ক্লাসিক হাকলবেরি ফিন প্রকাশিত হয় ফেব্রয়ারী ১৯৮৬ এবং দ্বিতীয়টি দি ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সী নভেম্বর ১৯৮৭তে প্রকাশিত হয়। এছাড়া শিশু ক্লাসিক পিটারপ্যান-ও তিনি লিখেন ১৯৮৯ সালে।
তিনি ছিলেন ওয়েস্টার্ন সিরিজে একজন সফল লেখক। প্রথম ওয়েস্টার্ন বই "ফেরা" প্রকাশিত হয় ১৯৮৬ সালে। ওসমান পরিবার এবং সাবাডিয়া নামের সাথে আমরা সবাই কম বেশি পরিচিত। সেবা প্রকাশনীতে তার একক ভাবে ৩৫টিরও বেশি ওয়েস্টার্ন বই বের হয়।
১৯৯৪ সাল পর্যন্ত নিয়মিত লিখলেও সে বছর আমেরিকায় প্রবাসী হলে বিরতিতে চলে যান তিনি। তবে সাবাডিয়ার ফেরা, না-ফেরা বই এর মধ্য দিয়ে তিনি আবার লেখায় ফিরেন ২৪ বছর পর ২০১৮ সালে। আর এর আগে ২০১২ সালের ঈদসংখ্যা ইত্তেফাকে ওসমান পরিবারকে ফিরিয়ে আনেন "সেই ওরিন ওসমান" নামে একটি উপন্যাসিকার মাধ্যমে।
'বাথান' নির্দ্বিধায় সেবা'র সেরা ওয়েস্টার্নগুলোর একটা। 'প্রত্যয়' দিয়ে সাবাডিয়া'র আগমনে যে প্রতিশ্রুতি, সেটা পূর্ণতা পেয়েছে 'বাথান'-এ এসে। সম্ভবত একটু বেশিই পূর্ণতা পেয়ে গেছে, কারণ সিরিজের কোন একটা বই এত ভাল হলে বাকিগুলো সেই মানে সাধারণত পৌঁছায় না। ক্লাসিক ওয়েস্টার্নের পাঠকরা যেমন পছন্দ করেন তেমন রাফ এন্ড টাফ অথচ সংবেদনশীল নায়ক, সুন্দরী অথচ বুদ্ধিমতী নায়িকা, ভয়ানক কুটিল ভিলেইন, আর তারচেয়েও বড় ব্যাপার, নায়কের সঙ্গীসাথীরাও বেপরোয়া ও বন্ধুঅন্তপ্রাণ এবং গল্পে তাদেরও সরব কার্যকর ভূমিকা। সব মিলিয়ে, এমন পাঁচতারা ওয়েস্টার্ন সেবাতে হাতে গোণা কয়েকটা। কারো ওয়েস্টার্ন ভাল লাগলে, অবশ্যপাঠ্য।
সম্ভবত বছর পঁচিশেক পরে একটা আস্ত ওয়েস্টার্ন বই পড়লাম, তাও আবার দুই খণ্ডে সমাপ্ত। পঁচিশ বছর আগে ওয়েস্টার্ন বই পড়লে যে বিষয়গুলো মাথায় আসতো না এখন সেই বিষয়গুলো চলে আসলো। এই বিষয়গুলোর ব্যতিক্রম যে কোন বইয়ে নেই তা নয়, বরং তারা প্রমাণ করে যে তারা আসলে ব্যতিক্রম এবং বাকিসব নর্ম মেনে চলা।
১. ওয়েস্টার্নের নায়কেরা অতিমানবীয় বা আসুরিক ক্ষমতা ও দক্ষতাসম্পন্ন। একইসাথে তারা সদাই ভাগ্যদেবীর নেকনজর পাওয়া অতি সৌভাগ্যবান ব্যক্তি। চাক নরিস, রজনীকান্তরা আকাশ থেকে পড়েনি।
২. ওয়েস্টার্নের নায়কেরা মূলত নিঃসঙ্গ। (ক) তাদের বন্ধু (পুরুষ) হয়ে যারা আসে তারা যতটুকু না বন্ধু তারচেয়ে বেশি স্যাঙাত/চামচে/মোসাহেব। নায়কের ব্যক্তিত্ব, স্কিল, ম্যানারিজমের প্রখর আলোয় তারা দিনের আকাশের তারা মতো। (খ) তাদের প্রেমিকা হয়ে যারা আসে তারা কাহিনীতে একটা নারী চরিত্র না ঢোকালেই নয় এমন গুরুত্ব নিয়ে আসে। তাদের প্রধান কাজ নায়কের জন্য কিছু ঝামেলা তৈরি করা। এদের প্রেমের প্রকৃতি ভিক্টোরিয়ান, পিউরিটান ছাড়িয়ে মোটামুটি প্লেটোনিক পর্যায়ের। তারা খড়ের গাদায় একসাথে গড়াগড়ি দিলেও তাদের শরীর জাগে না। কারণ, তখনো তাদের বিয়ে হয়নি। (গ) প্রেমিকা ভিন্ন তাদের কোন নারীবন্ধু নেই। এক-আধটা কাহিনীতে প্রেমিকা ভিন্ন কোন নারীর সাথে সুসম্পর্ক থাকলে দেখা যায় সেই সম্পর্ক অন্য কোন পুরুষ বন্ধু দ্বারা এনডোর্সড। ওয়েস্টার্নের কাহিনী স্পষ্টত মেল শভিনিস্টিক, কোথাও কোথাও মেগালোম্যানিয়াকদের গল্প।
৩. ওয়েস্টার্নের কাহিনীগুলো মোটামুটি নারীবর্জিত। মূল নায়িকা বা নায়ক-নায়িকার পরিবারের এক-আধটা নারী সদস্য, নাইটক্লাব/বার/ব্রথেলের কতিপয় দুষ্টু বালিকা ছাড়া আর কোন নারী নেই। বিশাল বাথানগুলোর কর্মযজ্ঞের কোথাও নারী নেই। বাথানের বিশাল কর্মচারীকুলের মধ্যে কোন নারী নেই, এমনকি বাথানকর্মীদের স্ত্রী-সন্তান থাকার কথাও কোথাও নেই। বাথান মালিকের পরিবার কোথাও কোথাও দেখা যায় বটে আর বাকি পুরুষদের পরিবার নামক কিছু আছে বলে দেখা যায় না। শারিরীক প্রয়োজন মেটানোর জন্য তাদের ব্রথেলের নারীদের কাছে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই। ওয়েস্টার্নের কাহিনীগুলোর নারীদের মধ্যে প্রধান নায়িকার অবস্থার কথা আগের পয়েন্ট বলেছি, সুতরাং বাকি নারীদের অবস্থা সেখানে কী পরিমাণ শোচনীয় সেটা বোধগম্য। ওয়েস্টার্নের কাহিনী মিসোগাইনিক বলার মতো রূঢ় যদি না হই তাহলে বলতে হয় ওয়েস্টার্নের কাহিনী নারীর প্রতি অবজ্ঞাসুলভ।
৪. ওয়েস্টার্নের বাথানগুলোতে গরু পালনের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র জ্যান্ত গরু বিক্রি করা। সেখানে কোথাও বাণিজ্যিকভাবে মাংস উৎপাদন – বিক্রি, দুধ দোয়ানো – বিক্রি, দুগ্ধজাত খাদ্য প্রস্তুত – বিক্রি, চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ – বিক্রি করতে দেখা যায় না। এটা শুধু আজব না, অবাস্তব।
৫. বাথানের বাইরে মানুষজন আছে এমন জায়গা হচ্ছে সেলুন-বার-নাইটক্লাব-হোটেল, মুদি দোকান, শেরিফের অফিস, বড় জোর সোনার খনি। কৃষি কাজের সাথে সম্পর্কিত কোন মানুষ, ছোটবড় শিল্পোৎপাদনের সাথে সম্পৃক্ত কোন মানুষ, কোন শিক্ষায়তন, কোন আরোগ্যালয় সমাজের এমনসব স্বাভাবিক ও আবশ্যক প্রতিষ্ঠান, শ্রেণী, পেশা ও তৎসংক্রান্ত মানুষ সেখানে প্রায় অনুপস্থিত।
৬. ওয়েস্টার্ন কাহিনীতে ইন্ডিয়ানদের ভূমিকা হয় তস্করসূলভ অথবা নীচ। ইন্ডিয়ানরা সেখানে হয় গরুচোর, অথবা ডাকাত-লুটেরা, অথবা মানুষচোর, অথবা গৃহকর্মী। তাদেরকে রিজার্ভেশনে সীমাবদ্ধ রাখাটা জাস্টিফাই করার সর্বতোচেষ্টা করা হয়, এবং এই ব্যাপারে কোন অনুশোচনাবোধ নেই।
৭. ওয়েস্টার্ন কাহিনীতে কালোদের ভূমিকা ইন্ডিয়ানদের চেয়ে উন্নত নয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে কাহিনীতে আলগোছে বর্ণবাদ ঢুকিয়ে দেবার ব্যাপার থাকে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সাম্প্রদায়িকতা ঢুকিয়ে দেবার ব্যাপারও থাকে।
এই তালিকাটা আরও লম্বা করতে পারতাম, কিন্তু বিরক্ত লাগছে বলে করলাম না যেমন এই বইটা পড়ে বিরক্ত লাগছে। আমার বয়স বেড়েছে সত্য, তবে তার চাইতে বেশি সত্য — ওয়েস্টার্ন গল্পের দিন শেষ হয়ে গেছে।
টেক্সাসের পর বন্ধু ল্যারির অনুরোধে YZ বাথানে চাকুরি নিল হুয়ান কার্টেজ ওরফে সাবাডিয়া। চাকুরীর পরে থেকেই দেখতে পেল যে বাথানে একেরপর এক গরু চুরি করছে। বাথানের ফোরম্যান ব্রেইনের মতে ইন্ডিয়ানের কাজ। মালিক সায়মন মতে এটা গরু চোরের কাজ ইন্ডিয়ান নয়। কর্টেজরও একই মত, উপরন্তু তার সন্দেহের তীর ফোরম্যানের দিকে। এদিকে ফোরম্যানও উঠে পরে লাগল কর্টেজের দিকে। পর্দায় আবির্ভাব ঘটল ট্যারমানের। যে কিনা এলাকার সব বাথান কিনে নিতে চাচ্ছে। তার আসল উদ্দেশ্যই বা কি। পিছু নিল গরু চোরদের কর্টেজ। কিন্তু তাদের পাতা ফাদেই উলটা পা দিয়ে ফেলল সাবাডিয়া। ফাস হয়ে গেছে তার পরিচয়। কি করবে এখন সে?
পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ সাবাডিয়া সিরিজ সেই ছোট থাকতে শুরু করেছিলাম। পড়তে গিয়ে দেখলাম এটা আগেই পড়া। তাও খারাপ লাগল না পুনরায় পড়তে।
It could have easily reached 5 stars. I mean, really really. However the logic less battle ethics of the hero made me annoyed by the final chapters. Not to mention the out of behaviour foolish actions and falling on traps after traps and not getting killed in any of them felt like cliché. There were also parts where the words uttered by the characters don't justify their ethnicity. So, even after liking the story and the storytelling so much, I couldn't give it full five stars. Because, that would have been dishonest to my actual feelings.
But, this will stay with me as one of the greatest wild west stories nonetheless.
আমার পড়া প্রথম ওয়েস্টার্ন 🙃 এতকাল বই পড়ছি কিন্তু এই প্রথম ওয়েস্টার্ন পড়লাম। বেশ ভালো লেগেছে। ঘোড়া, কাউবয় আর বন্দুকের গল্পে মজে ছিলাম পড়ার সময়। বইটা ভালো লেগেছে তাই ৪ তারা দিলাম। আর এখন থেকে নিয়মিত ওয়েস্টার্ন পড়া হবে আশা করছি।
প্রত্যয় যতটা ভালো লেগেছিলো, ঠিক ততটাই বিরক্ত লাগছিলো বাথান পড়তে। প্রত্যয় যেখানে আটসাট, দ্রুতগতির একটা বই, বাথান ঠিক ততটাই ঢিলেঢালা, অপ্রয়োজনীয় রকমের বড় একটা বই। অনেক যায়গাই মনে হয়েছে বাহুল্য, না থাকলেও চলতো৷ একই বইয়ে ভেতর যেন জোর করে ঢুকানো সম্ভাব্য সব ধরনের ঘটনা। কাহিনীও অনেকটাই বাংলা সিনেমার কথা মনে করিয়ে দেয়। এক ও অদ্বিতীয় নায়ক, সুন্দরী নায়িকা, রাজকন্যা ও রাজত্ব একসাথে হস্তগত করতে চাওয়া লোভী ভিলেন, শেষ মুহুর্তে ভিলেনের হাতে নায়িকা বন্দিনী, নায়কের উদ্ধার। পাশাপাশি যাকে খুন করতে নায়কের আগমন, তাকেই প্রথমে প্রেমিকার বাবা, তারপর আবার নিজের জন্মদাতা পিতা... মেলোড্রামা মাত্রাছাড়া মনে হয়েছে এ পর্যায়ে এসে।
সাবাডিয়ার ক্যারেক্টারও যতটা সলিড আর রাফ এন্ড টাফ মনে হয়েছিলো, এখানে বারবার অতি "সারল্য" সেই ক্যারেক্টারের সাথে যায় না, বরং সরাসরি তিন তিন বার বোকার মত ফাঁদে পা দেওয়াটা বোকামি ছাড়া আর কিছুই মনে হয় নি। যেখানে তার সাইডকিক পর্যন্ত বারবার সতর্ক করছে ফাঁদের ব্যাপারে, সেখানে সাবাডিয়া অতিমাত্রায় বিশ্বাসপ্রবণ।
বেশ কয়েকটা রিভিউতে দেখলাম এটা সেবার সেরা ওয়েস্টার্ন গুলোর একটা, কিন্তু আমাকে বাথান হতাশ করেছে।
সবার রিভিউ পড়ে এমন মনে হয়েছিল যেন এটা সেবার বেস্ট ওয়েস্টার্নগুলোর একটা! পড়তে গিয়ে দেখি মেলোড্রামাটিক বাংলা মুভির কিঞ্চিৎ উন্নত সংস্করণ। বিপদসঙ্কুল কুটিল ভিলেনে ভরা পশ্চিমে নায়ক যেন ন্যায়ের অবতার। আর তাই তিন তিনবার ঘুরেফিরে ভিলেনের ফাঁদে পড়ে সাইডকিকের বারংবার সাবধানবাণী সত্ত্বেও।
শেষ কথা, অলমোস্ট পাঁচ ঘণ্টা নষ্ট করলাম এই বই পড়তে যেয়ে।