Jump to ratings and reviews
Rate this book

ইতি ভারতী

Rate this book
Collection of Two Mythological Tales

83 pages, Paperback

First published January 31, 2025

9 people want to read

About the author

Pratibarta

4 books1 follower

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
3 (75%)
4 stars
1 (25%)
3 stars
0 (0%)
2 stars
0 (0%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 2 of 2 reviews
Profile Image for Riju Ganguly.
Author 39 books1,876 followers
April 22, 2025
ক্ষীণতনু এই বইটিতে ভারতের অতীত ও ভবিষ্যৎ নিয়ে লেখা দুটি বড়োগল্প আছে। দুটিই প্রোজেকশন— একটি প্রাগিতিহাস ও ইতিহাস-ভিত্তিক, অন্যটি ঘটমান বর্তমানের। গল্পদুটি হল~
১. চণ্ডালিনী: শুষ্ক সরস্বতীকে পুনরুজ্জীবিত করতে উদ্যোগী হয়েছেন দক্ষ। তাঁর আশ্রয়ে ও প্রশ্রয়ে সাত ঋষি মহাযজ্ঞ করে চলেছেন দীর্ঘদিন ধরে। কিন্তু এরই মধ্যে সর্বত্র প্রচারিত হল এক কুৎসিত সংবাদ। কুৎসা ও নিন্দার সেই আবর্ত থেকে সত্যকে কি মুক্ত করতে পারল কেউ?
২. কালান্তরে: ভবিষ্যতের ভারত এবার সত্যিই ধ্বংসের মুখোমুখি। প্রত্যেক যুদ্ধে সে হারছে। প্রত্যেক হারে হারিয়ে যাচ্ছে তার নাগরিকেরা, তার ঐতিহ্য, তার ইতিহাস। অবশ্যম্ভাবী ও চূড়ান্ত বিপর্যয়ের মুখে দুর্ভেদ্য ব্যূহ ভেদ করার জন্য ভারতের কাছে আছে মাত্র এক যোদ্ধা— যাকে বালক বললে অত্যুক্তি হবে না। কী করতে পারে সে?
প্রথম লেখাটি সাহিত্যমূল্যে অতুলনীয় শুধু নয়, বরং এই ধারায় আমার পড়া সর্বশ্রেষ্ঠ লেখাদের মধ্যে থাকবে।
দ্বিতীয় লেখাটিতে ফাঁকফোকর আছে। কিন্তু প্রাসঙ্গিকতায় এবং চরিত্রদের আচরণে ও পরিণতির বাস্তবিকতায় সেটা একরকম বাধ্য করে লেখকের হাত ধরে কাহিনির শেষ অবধি ছুটে যেতে।
অসাধারণ বই। কিন্তু দুটি আক্ষেপ থেকে গেল। তারা হল~
প্রথমত, এমন লেখার সঙ্গে অলংকরণ অত্যাবশ্যক। তা না পেয়ে হতাশ হলাম।
দ্বিতীয়ত, আয়তন অনুপাতে বইটির মূল্য অত্যধিক।
এ-ছাড়া বিশেষ কিছু বলার নেই। লেখকের লেখনী অক্ষয় হোক। ইতোমধ্যে, স্পেকুলেটিভ ফিকশনের অনুরাগী হলে এই বইটি দয়া করে উপেক্ষা করবেন না।
Profile Image for Preetam Chatterjee.
7,469 reviews439 followers
July 9, 2025
রিভিউ | ইতি ভারতী — প্রতিবর্ত

কিছু বই আসে, যারা কেবল গল্প শোনায় না—তারা সময়কে চিত্রায়িত করে, সভ্যতার অবচেতনে আলো ফেলে। ইতি ভারতী তেমনই এক বিরল গ্রন্থ, যা আমাদের নিয়ে যায় দুই বিপরীত প্রান্তে—ঋষিযুগের প্রাগৈতিহাসিক আখ্যান আর ভবিষ্যতের ধ্বংসপ্রায় ভারতবর্ষের সম্ভাব্য সময়সীমা। এই বইয়ের দুটি দীর্ঘগল্প, চণ্ডালিনী ও কালান্তরে, কেবল দুই কালের মধ্যে সেতুবন্ধন নয়, বরং দুটি বিপরীত সংকট ও তাদের অন্তর্লীন উত্তরণের ইঙ্গিত।

একদিকে চণ্ডালিনী আমাদের ফিরিয়ে নিয়ে যায় সেই শুষ্ক সরস্বতীর তীরে, যেখানে যজ্ঞ হচ্ছে সভ্যতাকে পুনরুজ্জীবিত করতে, আর অন্যদিকে কালান্তরে আমাদের এনে ফেলে ২০৭৯ সালের ভাঙা, ক্লান্ত, রক্তাক্ত ভারতের মুখোমুখি। এখানে একদিকে ঋক সংহিতার মতো সুচারু উপমায় গড়ে ওঠা সমাজ—অন্যদিকে একটি এআই-নিয়ন্ত্রিত, তথ্যপ্রযুক্তি-বিদীর্ণ রাজনৈতিক যুদ্ধক্ষেত্র।

আর ঠিক এখানেই বইটির অন্তর্নিহিত শক্তি—speculative fiction-এর মোক্ষম প্রয়োগ। কারণ, এই ধারা ভবিষ্যৎ কল্পনার আড়ালে বর্তমানের নিরবধি সংকটগুলোকেই চিহ্নিত করে। Frederick Pohl বলেছিলেন, “A good science fiction story should be able to predict not the automobile but the traffic jam.” কৌশিক সামন্তের লেখনীও সেই জ্যোতির্বিজ্ঞানীর মতো, যিনি প্রযুক্তির জোয়ারে নয়, বরং মানুষ হারিয়ে ফেলার আশঙ্কাতেই চোখ রাখেন।

Margaret Atwood মনে করিয়ে দেন, “Speculative fiction is not about predicting the future, but about exploring the human condition in worlds that never were but could be.” ইতি ভারতী-তে সেই মানবিক পরিস্থিতিই ধরা পড়ে—ভিন্ন সময়কাল, ভিন্ন আঙ্গিক, কিন্তু একই ব্যথা, একই দহন। কখনো তা ধর্ম ও জাতের ভিত্তিতে পরিত্যক্ত চণ্ডালপল্লীর আর্তি, কখনো যুদ্ধের মাঠে আত্মপরিচয়ের টানাপোড়েন।

এমন গল্পে, যেখানে একটি বালকই হয়ে ওঠে জাতির শেষ আশা, কিংবা যেখানে একজন ব্রাহ্মণ জল চেয়ে চণ্ডালের কাছে নত হয়—সেখানে Ursula K. Le Guin-এর কথাটাই যেন সত্য হয়, “We create fantastical futures not to escape the present, but to reimagine it — and ourselves — anew.” এই পুনর্গঠনের প্রয়াসই এই দুই কাহিনির কেন্দ্র।

Octavia Butler বলেছিলেন, “Science fiction is a mirror held to the future; speculative fiction is a mirror held to ourselves.” এই বই সেই আয়নার মতোই আমাদের দাঁড় করায় আমাদেরই সামনে—আমাদের ইতিহাস, আমাদের ভবিষ্যৎ, আর সবচেয়ে বেশি, আমাদের মর্মান্তিক বর্তমান।

তবে সবচেয়ে গভীরে গিয়ে বইটি যা ছুঁতে চায় তা হলো—সময়ের ছায়ায় বসবাসকারী মানুষের অন্তর্গত ভয়, বিশ্বাসঘাতকতা, এবং মুক্তির আকাঙ্ক্ষা। Neil Gaiman যেমন বলেন, “Speculative fiction opens doors in the mind — to fears, dreams, and possibilities we’re often too timid to name.” এই কাহিনিগুলোর প্রতিটি চরিত্র, প্রতিটি বাঁক যেন সেই দুয়ারটিই খোলার চেষ্টা।

এবং অবশেষে, Fantasy is hardly an escape from reality. It’s a way of understanding it. — Lloyd Alexander-এর এই মন্তব্য যেন ইতি ভারতী'র প্রতি পাতায় প্রমাণ হয়। কারণ বাস্তবকে চেনার এই চেষ্টাতেই বইটি কখনো ঋষির স্তব, কখনো লালচাঁদের নিচে কাঁপতে থাকা সাইবার যোদ্ধার করুণ সংলাপে উঠে আসে।

ইতি ভারতী কোনও ভবিষ্যদ্বাণী নয়। এটি এক প্রতিবর্তনের নথি। সেইসব ক্ষণগুলোর প্রতিচ্ছবি—যা হয়তো ঘটেনি, কিন্তু ঘটতেই পারত। ঘটতে পারে। এবং ঠিক সেই কারণেই, এই বই শুধুমাত্র পড়ার নয়—এটি উপলব্ধির। এক বার বার ফিরে আসার বই। এক প্রজন্মের আয়নাবন্দি হাহাকার। এক সভ্যতার গোপন প্রার্থনা।

চণ্ডালিনী গল্পটি যেন এক অলৌকিক ঋকসৃষ্টি, যেখানে প্রতিটি বাক্য ঝরে পড়ে মন্ত্রের মতো, আর প্রতিটি দৃশ্য যেন স্তবের মতো ধ্বনিত হয়। গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে শুষ্ক সরস্বতীর পাড়ে যজ্ঞরত তপস্বীদের দৃশ্য—নদী ফিরিয়ে আনার এক মহান ব্রত, সভ্যতার মেরুদণ্ডকে পুনরুজ্জীবিত করার এক নীরব প্রচেষ্টা। কিন্তু সেই আশু পুনর্জাগরণের ভিতরে চাপা পড়ে থাকে অন্য এক প্রবল সংকট—কুৎসা, সন্দেহ আর প্রাচীন শাস্ত্রাচারের ছায়ায় বিস্তার লাভ করা বিষাক্ত বিশ্বাস।

একজন চণ্ডালের উপস্থিতি—যে সমাজব্যবস্থার চোখে নিষিদ্ধ, কিন্তু যে নিজের ভগ্ন পল্লী থেকে উঠে এসে মাথা নিচু করে জিজ্ঞাসা করে, “বলুন তপস্বীগণ, এই চণ্ডাল কী সেবা করতে পারে?” সেই প্রশ্ন যেন এক প্রাগৈতিহাসিক বিস্ফোরণ হয়ে ধাক্কা দেয় পাণ্ডিত্য ও পবিত্রতার মুখোশপরা কোরামে। এই প্রশ্নে অস্থির হয়ে ওঠে ব্রাহ্মণ্যসংস্কারের ভিত, কেঁপে ওঠে যজ্ঞের পবিত্র আগুন।

এখানে কেবল সমাজের শ্রেণিবিভাজন নয়, ধরা পড়ে ‘শুদ্ধতা’র নামে পরিচালিত এক নির্মম বিচারের দর্শন, যেখানে শাস্ত্র হয়ে ওঠে সংহার, আর রক্ষাকারীরা নিজেরাই হয়ে ওঠে ভক্ষক।

গল্পটি যতটা যুক্তিনির্ভর, তার চেয়ে অনেক বেশি আবেগভিত্তিক, এবং ঠিক সেখানেই তার শক্তি। এটি একটি সময়ের প্রতিবিম্ব নয়, এটি এক সভ্যতার আত্মসমীক্ষা। চণ্ডালিনী শুধুমাত্র একটি গল্প নয়, এটি এক গভীর প্রতীক—যেখানে সরস্বতী আর পাপ, ঋষি আর চণ্ডাল, শ্লোক আর লাঞ্ছনা—all collapse into one searing, unsettling reflection of our mythic roots.

এই গল্প পড়তে পড়তে মনে পড়ে যায় Emily Dickinson-এর বিখ্যাত পংক্তি— "Tell all the truth but tell it slant—" কারণ চণ্ডালিনী-র সত্যটি ঠিক সেভাবেই বলা, বক্ররেখায়—শব্দ আর স্তবের মাঝে গুঁজে রাখা দহন।

গল্পের ভাষা এমন এক অনন্য সংমিশ্রণ, যেখানে পাণ্ডিত্য আর আবেগ—দুই হাত ধরাধরি করে চলে। তাপস যখন রচনা করে সরস্বতীস্তোত্র, সেখানে তার শব্দেরা কেবল বাক্য নয়—তারা যেন ঋকসদৃশ মন্ত্র, যা পাঠকের শরীরে বাজে বিদ্যুতের মতো। সরস্বতীকে সে কল্পনা করে ‘দুগ্ধস্রোতরূপে মাতৃভূমির স্তনে’, আর সেই চিত্রমালায় বিস্ময় আর শ্রদ্ধা একসঙ্গে হিমেল স্রোতের মতো বয়ে যায় পাঠকের অন্তঃস্থলে। এই রচনার প্রেক্ষাপট কেবল পুরাণ নয়, এটি এক মহাভারতীয় মনোভূমি, যেখানে ইতিহাস ধরা দেয় ত্রিষ্টুপের ছন্দে, আর সভ্যতার স্তব ভেসে আসে কাশ্যপমেরু থেকে ভৃগুকচ্ছ পর্যন্ত বিস্তৃত ব্রহ্মবর্তে।

এখানে Mark Twain–এর কথা মনে পড়ে য��য়: “The difference between the almost right word and the right word is really a large matter—’tis the difference between the lightning bug and the lightning.” শব্দচয়ন সেই ‘lightning’—আলোর মতো তীব্র, ঈশ্বরের মত অভ্রভেদী।

শব্দের এই দক্ষ প্রয়োগই গল্পটিকে করে তোলে এক স্নিগ্ধ ও তীব্র বোধের একসঙ্গে বাসস্থান। Wittgenstein বলেছিলেন, “The limits of my language mean the limits of my world.” চণ্ডালিনী-তে তাপসের ভাষা তাই কেবল তার আধ্যাত্মিক অনুসন্ধান নয়—সেটি সভ্যতার সীমা ভাঙারও প্রয়াস।

অন্যদিকে কালান্তরে, গল্পটি যেন অতীতের মহাকাব্য থেকে ছিটকে পড়া এক ভবিষ্যত-ভীত গীতিকা, যার রঙ—কালো, লাল আর ছাই। ভারতে দীর্ঘ আঠারো বছর ধরে যুদ্ধ চলছে—না, শুধু অস্ত্রের যুদ্ধ নয়, মানুষের স্বপ্ন আর অস্তিত্বের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। দেশ আধভাঙা, জনগণ উদভ্রান্ত, ভাইরাস আর ড্রোনের মাঝে বাসরপাতা স্বপ্নদেখা মানুষগুলো হারিয়ে যাচ্ছে ধোঁয়ার মেঘে।

হাসপাতালের জানালায় লাল চাঁদের পেছনে এক চৌখোপ নীরবতা, আর তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে এক বালক—প্রত্যাশিত নয়, কিন্তু নিয়তির ক্রূর রসিকতায় হয়ে উঠেছে একমাত্র যোদ্ধা। তার মুখে নেই বীরত্বের জিগির, কিন্তু কাঁধে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে এক জাতির ভবিষ্যৎ পুনর্গঠনের দায়।

Huxley বলেছিলেন— “Words can be like X-rays if you use them properly—they’ll go through anything. You read and you’re pierced.”
কালান্তরে-র ভাষা এমনই—তার প্রতিটি সংলাপ, প্রতিটি চিত্র বর্ণনা যেন আত্মায় বিদ্ধ করে।

এই সংকলনের ভাষার সৌন্দর্য এমন যে Hemingway-এর আপ্তবাক্য: “Prose is architecture, not interior decoration…”
তাও এখানে এক রকম পাল্টে যায়—কারণ এখানে গদ্য আর্কিটেকচারের মতোই নির্মাণশীল, কিন্তু তার অভ্যন্তরেও এক বিশুদ্ধ অলংকারবিদ্যার বাস।

অবশেষে, মনে পড়ে Auden–এর সেই বিখ্যাত বয়ান: “A poet is, before anything else, a person who is passionately in love with language.” এই সংকলনের প্রতিটি গল্প, বিশেষত চণ্ডালিনী ও কালান্তরে, তার নিখুঁত উদাহরণ—ভাষার সঙ্গে এক গূঢ় প্রেমের নিবেদন, যা কেবল পড়া নয়, অনুভব করার জন্যই রচিত।

এখানে ‘বিপ্লব’ কেবল হাততালির বিষয় নয়। এটা বিশ্বাসঘাতকতা, যন্ত্রণায় পোড়া শরীর, যুদ্ধপ্রবণ জাতিগুলোর হাতে জন্মানো সেইসব সন্তান, যাদের জন্মলগ্নেই লেখা হয়—“He is born to serve, or to kill.” কিরীটির সংলাপে তাই ধরা পড়ে সেই নির্মম বাস্তব, “আমরাও তো ওদের মতো হয়ে যাচ্ছি, তাই না?” যেখানে সম্পর্ক, শুদ্ধতা, প্রেম—সব কিছুই যেন কেবল ত্যাগের পাল্লায়।

তবু, ইতি ভারতী শুধুই বিষণ্ণতার দলিল নয়—এ এক প্রতিরোধের অনুসম্বর। এখানে ইতিহাসের কুয়াশা থেকে উঠে আসে দুই কালের দুই নায়ক—একজন ঋষি, যিনি সরস্বতীর তীরে বসে সভ্যতার পুনর্জাগরণের জন্য যজ্ঞ করছেন; আর অন্যজন এক সাইবার-যোদ্ধা, যে ধ্বংসসীমায় দাঁড়িয়ে মৃত্যুকে উপেক্ষা করে লড়ছে অস্তিত্বের শেষ লড়াই। এক আশ্চর্য সেতুবন্ধনে তারা এসে মিলিত হয় সেই চূড়ান্ত প্রশ্নে—“ইতিহাস কি সত্যিই নিজেকে বারবার পুনরাবিষ্কার করে, নাকি আমরা শুধু ভিন্ন পোশাকে একই বিপর্যয়ের পুনরাবৃত্তি দেখি?”

প্রতিবর্তের এই সংকলনে দুই গল্পেই নির্মিত হয়েছে এক ঝলমলে speculative স্পেস—যেখানে অতীত আর ভবিষ্যৎ পরস্পরকে প্রতিফলিত করে এক আয়নায়। যেন ব্রহ্মার স্বপ্নে প্রবেশ করা—এক ছায়াপথ, যেখানে সময় চলে উল্টো দিকে, আর গল্পরা হয়ে ওঠে ভবিষ্যতের প্রাচীন গ্রন্থ। চণ্ডালিনী এই পরিসরের সবচেয়ে দীপ্ত রচনা—ভাষার সৌকর্য, মেটাফোরের রোশনাই, আর বয়ানের জটিল ভঙ্গিমায় এটি নিঃসন্দেহে বাংলা সাহিত্যের স্পেকুলেটিভ ধারায় এক শ্রেষ্ঠ সংযোজন। এখানে প্রত্যেক বাক্য যেন এক ঋকের মতো, উচ্চারিত হলেই জাগে প্রতিধ্বনি—ঐতিহ্যেরও, প্রশ্নেরও।

অন্যদিকে, কালান্তরে হয়তো কিছু জায়গায় স্পর্শযোগ্য ফাঁক থেকে যায়—বিশেষ করে প্রেক্ষাপটের আরও বিস্তার বা পার্শ্বচরিত্রগুলোর আরও সংহত নির্মাণের ক্ষেত্রে। তবুও, এর যে জোরালো বাস্তবতা, তা পাঠককে ক্লান্তি না দিয়ে বরং চেপে ধরে, প্রায় হঠাৎই, কানের কাছে কেউ বলে ওঠে—
“The only thing you have to betray is death.”
সেই উচ্চারণ কেবল সংলাপ নয়, যেন এক জাতির দিকে ছুঁড়ে দেওয়া চ্যালেঞ্জ।

এই দুই গল্পের মাধ্যমে প্রতিবর্ত বাংলা সাহিত্যে এমন একটি মহাজাগতিক বলয় তৈরি করেছে, যেখানে কল্পনা আর চেতনা, ঐতিহ্য আর প্রযুক্তি একসঙ্গে ধরা দেয়। একদিকে চণ্ডালিনী—যেখানে ভাষা হয়ে ওঠে আগুনের মতো, তীব্র আর শুদ্ধ; অন্যদিকে কালান্তরে—যেখানে ভবিষ্যৎ যেন এক আহত সেনার চোখে ধরা বাস্তব, বিদ্যুৎঝলমলে মেঘপুঞ্জের নিচে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করে এক কিশোর যোদ্ধা।

তবে, একটি প্রশ্ন কাঁটা হয়ে রয়ে যায়—এইরকম একটি উচ্চমানের সাহিত্যকর্মের জন্য একটি সৃজনশীল ও ভাব-উপযুক্ত অলঙ্করণ কেন অনুপস্থিত? ওঙ্কারনাথ ভট্টাচার্যের মতো শিল্পীর সহযোগিতা এই সংকলনে এক গাঢ় মাত্রা যোগ করতই করত। আর বইটির আয়তন ও মুদ্রিত মূল্যও কিছুটা ভারী বলে অনুভূত হয়, বিশেষত সেই পাঠকদের জন্য, যারা এখনো এই ধারার সাহিত্যে পুরোপুরি অভ্যস্ত নন।

তবুও, সবকিছুর ঊর্ধ্বে দাঁড়িয়ে ইতি ভারতী এক দুঃসাহসিক ঘোষণা—যেখানে কল্পনাশক্তি ইতিহাসের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে হাঁটে, আর প্রতিটি পৃষ্ঠা সাক্ষ্য দেয় ভাষা ও ভাবনার নতুন এক সম্ভাবনার। যে সাহিত্যে অতীত আর ভবিষ্যৎ এক সুতোর মালা হয়ে উঠে আসে, সে সাহিত্য শুধু পড়া যায় না—সে আপনাকে পড়িয়ে নেয়।

তবু, এই বইটির কথা আলাদা করে মনে রাখতেই হবে। কারণ এমন লেখা আমরা বারবার পাই না। Paulo Coelho বলেছিলেন, “The simple things are also the most extraordinary things, and only the wise can see them.” ইতি ভারতী সেই জ্ঞানী পাঠকদের জন্য—যাঁরা সময়, ইতিহাস আর অস্তিত্বের গূঢ় ছায়াগুলোতে পড়ে খুঁজে নিতে পারেন আমাদের চিরন্তন প্রশ্নগুলো।

এই বই একসাথে পুরাণ ও প্রকল্প, প্রার্থনা ও প্রতিরোধ, পুরনো ঋক আর ভবিষ্যতের কাঁটাতার। এখানে নদীর ধারে যজ্ঞ যেমন আছে, তেমনি ড্রোনের নিচে এক তরুণের নির্জন প্রতিজ্ঞাও। Words can be like X-rays, লিখেছিলেন Aldous Huxley—এই দুই গল্প সেই এক্স-রে, যা আমাদের আত্মার ভেতর পর্যন্ত গিয়ে বিদ্ধ করে দেয়।

ইতি ভারতী শেষ নয়—এ যেন কেবল এক সূচনার আলতো দাগ, এক সিগন্যাল যা অতীতের গহ্বর আর ভবিষ্যতের রেখায় সমান্তরাল বয়ে যায়। এটা একটি ধূপকাঠির মতো, যার ধোঁয়া উঠে গিয়ে ভাষার আকাশে একটি প্রতিজ্ঞার ছায়া আঁকে—নীরব অথচ দীপ্তিমান।

এই শুরু, সেই যাত্রার... যেখানে "ইতি" মানে শেষ নয়, বরং একটি নবপ্রভা। যেখানে "ভারতী" মানে শুধু দেশ নয়, এক জীবন্ত সত্তা, এক বহমান চেতনা। আর "প্রতিবর্ত"—হয়তো একদিন, তা শুধু কোনো গল্পের নাম থাকবে না, সেটাই হয়ে উঠবে আমাদের নিজের নাম, আমাদের উত্তরাধিকার।

এই বই তাই শুধু পঠনের বস্তু নয়, এটা এক ক্রিয়া—যেখানে পাঠক, লেখক, ভাষা আর সময় মিলে রচনা করে এক অনন্ত ধ্বনি। এক নীরব কিন্তু উত্তাল উচ্চারণ।

ইতি ভারতী। শুরু হোক এখনই।

অলমতি বিস্তরেণ।
Displaying 1 - 2 of 2 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.