গত শতাব্দীর সমবয়সী সুকুমার সেন আজীবন অনুসন্ধান করেছেন বিচিত্র বিষয়ে। কখনও ব্যস্ত থেকেছেন সাহিত্যের ইতিহাস রচনায় আবার কখনও বা ভাষার ঐতিহাসিক বিশ্লেষণে। এর পাশাপাশি শব্দের ইতিহাসের খনি থেকে সংস্কৃতির আঙিনায়, পুরাণ থেকে মহাকাব্যের গভীরে, ভূত থেকে গোয়েন্দা গল্পের রহস্য উন্মোচনে, বটতলার ধূসর পাতা থেকে ইতিহাসের গহ্বরে নিরলস ভ্রমণ করেছেন। এই অনুসন্ধিৎসু মনের প্রথম পরিচয় পাওয়া যায় ‘প্রবাসী’ পত্রিকার পাতায় ১৩২৭ সালে। তারপর আমৃত্যু তাঁর কলম থেমে থাকেনি। ছোট প্রবন্ধ থেকে শুরু করে লিখেছেন দীর্ঘ প্রবন্ধ আবার কখনও বা লিখেছেন তাঁর নিজস্ব মতামত প্রবন্ধ গ্রন্থগুলিতে। শোনাতে চেয়েছেন তাঁর চিন্তাভাবনার নতুন দিকগুলি। বাঙালির রাজনৈতিক-সামাজিক ইতিহাস, বিদ্যাপতির রহস্য উন্মোচন, ভারতীয় নাটকের আদি উৎস, মহাভারতের গ্রন্থিমোচন, রামায়ণের দেশি-বিদেশি সংস্করণ, স্থাননামের মধ্যে লুকিয়ে থাকা ইতিহাস। চতুর্থ খণ্ডে দুই মলাটের মধ্যে ধরা থাকল এই বিষয়গুলির আলোচনা। বিদ্যাচর্চা কখনও এক জায়গায় থেমে থাকে না। নতুন তথ্য, নবতর বিশ্লেষণ বিদ্যাচর্চাকে প্রতিদিন ঋদ্ধ করে। তবু বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার পথিকৃৎ সুকুমার সেনের গ্রন্থগুলি আজও মূল্য হারায়নি।
সুকুমার সেন (১৬ জানুয়ারি ১৯০১ - ৩ মার্চ ১৯৯২) ছিলেন একজন ভাষাতাত্ত্বিক ও সাহিত্য বিশারদ। বৈদিক ও ধ্রুপদি সংস্কৃত, পালি, প্রাকৃত, বাংলা, আবেস্তা ও প্রাচীন পারসিক ভাষায় তাঁর বিশেষ বুৎপত্তি ছিল। তুলনামূলক ভাষাতত্ত্ব ও পুরাণতত্ত্ব আলোচনাতেও তিনি তাঁর বৈদগ্ধের পরিচয় রেখেছিলেন।
ভাষার ইতিবৃত্ত (বাংলা ভাষাতত্ত্বের একটি পূর্ণাঙ্গ আলোচনা) Women's Dialect in Bengali (বাংলা মেয়েলি ভাষা নিয়ে গবেষণামূলক রচনা) বাংলা স্থাননাম (বাংলা স্থাননাম নিয়ে ভাষাতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ) রামকথার প্রাক-ইতিহাস (রামায়ণ-সংক্রান্ত তুলনামূলক পুরাণতাত্ত্বিক আলোচনা) ভারত-কথার গ্রন্থিমোচন (মহাভারত-সংক্রান্ত তুলনামূলক পুরাণতাত্ত্বিক আলোচনা) ব্রজবুলি সাহিত্যের ইতিহাস বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস (৫ট খণ্ডে, সুকুমার সেনের সবচেয়ে বিখ্যাত বই, বাংলা সাহিত্যের একটি পূর্ণাঙ্গ ও সামগ্রিক ইতিহাস) বাঙ্গালা সাহিত্যের কথা বাঙ্গালা সাহিত্যে গদ্য বঙ্গভূমিকা (বাংলার আদি-ইতিহাস সংক্রান্ত গ্রন্থ) বাংলা ইসলামি সাহিত্য দিনের পরে দিন যে গেল ( আত্মজীবনীমূলক রচনা )