মহাভারত কি মহাকাব্য না কি ইতিহাস?শ্রীকৃষ্ণ কি সত্যিই ছিলেন ? আজকের দ্বারকা নগরীর নিকটে সমুদ্রের নিচে খুঁজে পাওয়া শহরের অবশেষ কি শ্রীকৃষ্ণের শহর? সমুদ্রের তলায় কি এমন আবিষ্কার হয়েছে যা বদলে দিতে পারে ভারতের ইতিহাস? অনুসন্ধানকারী দলের ওপরে আক্রমন করছে কারা? মৃত্যুর পদক্ষেপ, রহস্যময় আততায়ী আর বিক্ষুব্ধ সমুদ্রের তরঙ্গ এর মাঝে পুরান ,ইতিহাস আর রহস্যের মেলবন্ধনে এগিয়ে চলা এক টানটান থ্রিলার সম্ভবামি যুগে যুগে।
কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের ৩৬ বছর পর কতিপয় মুনি দ্বারা যাদবরা অভিশপ্ত হয় যে কৃষ্ণপুত্র শাম্ব একটি লৌহ মুষল প্রসব করবে।ঐ মুষলই পরবর্তীতে যদুবংশ ধ্বংস করবে। যথারীতি শাম্ব একটি মুষল প্রসব করে এবং আসন্ন বিপদ থেকে বাঁচতে ঐ মুষল চূর্ণ করে সমুদ্রে ভাসিয়ে দেয়।এই চূর্ণ সমুদ্রের তীরে জমা হলে শনের জন্ম হয় , পরবর্তীতে এই শন ব্যবহার করে যাদবরা একে অপরকে হত্যা করে। চোখের সামনে যদুবংশ ধ্বংস হতে দেখে কৃষ্ণ ও বলরাম দেহত্যাগ করেন। পরবর্তীতে কৃষ্ণের দ্বারকা নগরী সমুদ্রে তলিয়ে যায়।
সাত্যকি বিশিষ্ট সাংবাদিক ও পুরাণবিদ।একটি গোপন ও গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্টে তার বস তাকে খোঁজখবর নিতে পাঠায়। প্রজেক্টটি ছিল ভারত-পাকিস্তান জলসীমায় কৃষ্ণের হারিয়ে যাওয়া দ্বারকা নগরী পুনঃআবিষ্কার নিয়ে। সেখানে অন্যান্য সহযোগীদের সাথে তারা জলের নিচে দ্বারকা নগরী, কৃষ্ণমূর্তি খুঁজে পান। গোপনীয় এই প্রজেক্টে কাজ করতে গিয়ে দুজন সহকারী খুন হয়। প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করা হয় পাকিস্তান নৌ সেনাদের কাজ এটি। কিন্তু পরে দেখা গেল সর্ষের মধ্যেই ভূত আছে। গভীর এক রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে এই প্রজেক্টে। কারা যেন চাইছে মানুষ মারা যাক তারপরও যেন এই প্রজেক্ট চলমান থাকুক। আবার কাদের যেন লোভ কৃষ্ণের দামী অলংকারের উপর।
জনরা হিসেবে বইটি মাইথো-অ্যাডভেঞ্চার থ্রিলার। কিন্তু পড়তে গিয়ে কোনো থ্রিল কাজ করেনি। মাঝে মাঝে কিছু পৌরাণিক তথ্য দিয়ে গতিশীল করা হয়েছে। আদতে আমার কাছে রাজনৈতিক থ্রিলারের মতোই মনে হয়েছে।