সত্তর দশক। দু’হাতে আগুন মাখার প্রস্তুতি নিচ্ছে সময়। তার আগেই এক সকালে কড়া নাড়ার শব্দে সরকারি হাসপাতালে ডক্টর’স কোয়ার্টারে ছোট্ট জেসির জীবনটা বাঁক নিয়েছিল এক জটিল মোড়ে। বাবা আশিস রায়, স্কুল, রোববার মর্নিং শোয়ে সিনেমা, সার্কাস, লম্বা ছুটিতে ঘুরতে যাওয়া হরিদ্বার নয়তো পুরী… এই রঙচঙে পোস্টকার্ড ছবির মতো জীবনটাকে অনেক পেছনে ফেলে মা প্রতিমা রায়ের সঙ্গে চলে আসতে হয়েছিল উত্তর কলকাতায় বেজায় পুরনো, দেওয়ালে শ্যাওলার গন্ধ লাগা হেদো পাড়ার মামাবাড়িতে। ওপর নীচ ওলটপালট করে দেওয়া এ যাত্রায় হারিয়ে গেল সবকিছুই। রয়ে গেল শুধু জেসি নামটা আর চলে আসার দিন পাথরের মতো হয়ে যাওয়া মায়ের মুখখানা। দুই ছেলেকে ঘিরে ফের যখন আবর্তিত হতে শুরু করেছে মা প্রতিমা রায়ের স্বপ্নের চাকাটা, ঠিক তখনই লাভাস্রোতের মতো হুড়মুড়িয়ে নেমে এল সত্তর দশক। মায়ের মেট্রনের চাকরি, দিদা গিরিবালা কুণ্ডুর বাড়িভাড়ার টাকা, প্রবাসী রেলচাকুরে মামা… মামাবাড়ি নামক নিশ্চিন্ত, নিরাপদ নৌকোর আশ্রয় ছেড়ে সেই ফুটন্ত লাভাস্রোতে সাঁতার কাটতে নেমে গেল জেসি। অতঃপর কীভাবে একের পর এক আরও তিনটি বাঁকে মোড় নিল তার জীবন, সেসব নিয়েই এই অগ্নি উপাখ্যান।