When Kuntala was lonely and heartbroken and jobless, she discovered what a ‘blog’ is and promptly jumped on the bandwagon. Kuntala found what she was looking instant gratification. More than four years later, when Kuntala is no more lonely or heartbroken, ‘Abantor’ has become her ‘real’ job. This book is a collection of posts from Abantor.
বাংলায় ব্লগ লেখার ব্যাপারে আমাদের মতো অলস থেকে শুরু করে সিরিয়াস জনগণ— মোটামুটি সবার 'গডমাদার' হলেন কুন্তলা বন্দ্যোপাধ্যায়। 'অবান্তর' নামক ব্লগটিতে কুন্তলা তাঁর নিজস্ব ভাবনা তথা মুক্তগদ্যের আড়ালে আমাদের দিনযাপনের যাবতীয় প্রাপ্তি, অপ্রাপ্তি, আলো, অন্ধকার, রোদ আর কুয়াশার কথাই লেখেন। তার একেবারে প্রথমদিকের কিছু লেখার এই সংকলনটি প্রকাশিত হয়েছিল অ...নে...কদিন আগে। আমি বইটা পড়েওছিলাম প্রায় আড়াই বছর আগে! ব্লগ লিখতে বসে যেভাবে স্মৃতিরা হঠাৎ করে মুখ দেখায়, অনেকটা সে-রকমভাবেই বইটা আজ সকালে হাতে উঠল।
এই বইয়ের গোড়াপত্তন হয়েছিল ব্লগের চার বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে। 'চার' শীর্ষক ছোট্ট ভূমিকাটির পর এই বইয়ে ধরা পড়েছে তারই মধ্য থেকে বেছে নেওয়া কিছু লেখা। সেই লেখাগুলোর মাধ্যমে আমরা ফিরে যেতে পারি পুরোনো সময়ে, পুরোনো অনুভূতিমালায়— যখন আমাদের চোখে পৃথিবীর রঙ আরও উজ্জ্বল ছিল, ভাবনাগুলোও বোধহয় আরও আন্তরিক ছিল। তবে সেজন্যই এই লেখাগুলো পড়ার অনুভূতি শুধুই মিষ্টত্ব নয়, বরং অম্ল আর ক্ষারের স্বাদও আনে আমাদের মনে। স্মৃতি তো সতত সুখের হয় না! ইতিমধ্যে, আমাদের রোজকার টানাপোড়েন নিয়ে লেখা এই একঝাঁক সরস ও সৎ মুক্তগদ্য পড়ার সুযোগ পেলেই তাতে ডুবে যান। এটুকু দায়িত্ব নিয়েই বলতে পারি যে এই লেখাগুলোর নাম যাই হোক না কেন, এরা কিছুতেই অবান্তর নয়! অলমিতি।
আজকের বইটা আপনাদের সব ক্লান্তি দূর করার জন্যে। এই ফুরফুরে হাওয়ার মতো বইটা পড়লে মানুষ নিজেও হাওয়ায় বিচরণ করবে, এই আমার গ্যারান্টি। কুন্তলা বন্দোপাধ্যায় এর ব্লগ আমি নিয়মিত ঘুরে আসি, স্ট্রেস বাস্টিং এর জন্যে এর খাসা জায়গা। দুটো লেখা পড়লেই মনটা খিলখিলিয়ে হেসে ওঠে। যাঁরা পড়েননি, ঠকে গেছেন মশাই। এট্টু ঘুরে আসুন দেখি টুক করে। রিসেন্ট একটা লেখা থেকে খানিক স্যাম্পল তুলে দিলাম নীচে।
"মেন্টেন আ ডেডিকেটেড ওয়ার্ক স্পেস।
এতক্ষণে একটা উপদেশের মতো উপদেশ। ডেডিকেটেড ওয়ার্ক স্পেস সত্যি কাজের জিনিস। আমার অফিসের চেয়ারটার কথাই ধরুন। ব্যাটার ভেতর কিছু একটা আছে, অঙ্গ ঠেকানো মাত্র ডেডিকেশনের বান ডাকে। সাহিত্যচর্চায় জীবন উৎসর্গ করার, ক্যান্ডি ক্রাশ খেলার, আধপড়া গল্পের বই শেষ করার। মোদ্দা কথা অফিসের কাজ ছাড়া আর সমস্ত কাজের মোটিভেশন, চেয়ারটা আমাকে সারাদিন ধরে জুগিয়ে যায়। এই যে অবান্তরের দীর্ঘজীবন, কার কৃতিত্ব? ভাবছেন আমার? সব ওই অফিসের চেয়ারটার। চেয়ারটা না থাকলে আমার অবান্তরের ঝাঁপ অনেক আগেই বন্ধ হত। ভাবানুবাদ? তাহলেই হয়েছে। স্বরচিত গল্প? লিখব কখন? কেনই বা লিখব? সুখে থাকতে ভূতের কিল খাব কেন?
স্রেফ ওই চেয়ারটায় বছরের পর বছর, মাসের পর মাস, দিনের পর দিন গিয়ে তশরিফ রাখতে বাধ্য হয়েছি বলে আমি এই সব আবোলতাবোল অকাজ চালিয়ে গেছি।
ওয়ার্কস্পেসের সন্ধানে বেরোলাম। বিকল্প বেশি নেই। এ ঘরের খাটের বদলে ও ঘরের খাট।
এঘর ওঘর নির্বিশেষে খাটের গঠনতন্ত্রে একটা গোলমাল আছে, যা দীর্ঘসময় ধরে (আমার ক্ষেত্রে দশ মিনিট) মাধ্যাকর্ষণের সঙ্গে যুদ্ধ করার পরিপন্থী। কুলকুণ্ডলিনী জাগ্রত করার ভঙ্গিতে বসি, তারপর ক্রমে নরম হয়ে আসা শিরদাঁড়ায় একটা বালিশ গুঁজতে হয়। তারপর সে বালিশও কখন যেন নেতিয়ে পড়ে। আধঘণ্টা বাদে চটকা ভেঙে দেখি ইনবক্সে আর্জেন্ট লেখা মেল অপেক্ষা করে আছে।
অফিসের কাজ তো ছেড়েই দিলাম, আমাকে দিয়ে অফিসের কাজে ফাঁকি মারানোর যোগ্যতাও অপোগণ্ড খাটের নেই। অবান্তর লেখার কথা মনে উঠলে ক্লান্ত লাগে, গল্পের বইগুলো বোরিং ঠেকে যে ছাদের সমান হাই ওঠে, ক্যান্ডি ক্রাশ দু’দান খেলতে চোখ মুদে আসে।
খাট আমাকে খালি একটি বিষয়েই উদ্দীপ্ত করতে পারে। ঘুমোতে।"
প্রচ্ছদের এই অভিনব আইডিয়া রোহণ কুদ্দুস এর। টুক করে কিনে পড়ে ফেলুন মাত্র ৯৯ টাকায়।