চিঠি লেখা প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়ে কলকাতার এক কিশোর পেয়েছিল ‘রাউণ্ড দ্য ওয়ার্ল্ড’-এর টিকিট। সেই সূত্রেই সে এসে হাজির ব্রাজিলের রিও ডি জেনেরো-তে— কাকার কাছে। অভিযানের শুরু এখানে , অ্যাডভেঞ্চারেরও। কাকা চললেন আমাজনে— রঙিন পাথরের ব্যবসা তাঁর, কাজেকর্মে নাকি প্রায়ই যেতে হয়। পৃথিবীর সব থেকে চওড়া নদী আমাজন —সেই বিশাল নদীতে নৌকা করে যাত্রা— যাত্রী মাত্র চারজন। কিন্তু পথে গেল ব্যাগ হারিয়ে—নৌকা থামিয়ে কাকা ও তাঁর বন্ধু গঞ্জালোও, গেলেন কোথায় হারিয়ে। কিশোর নাছোড়বান্দা— কাকাকে সে খুঁজে বার করবেই—কিন্তু কী করে? অপেক্ষায় অপেক্ষায় দিন চলে যায়। প্রায় মৃতপ্রায় অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উবা। কেউ বোঝে না কারো ভাষা— তবু সম্পর্কের জোর ভালোবাসায়। অভিযান, রহস্য, আমাজনের আশপাশের অনেক না-জানা কথা নিয়ে অসাধারণ ও চমকপ্রদ এই কিশোর উপন্যাস—এককথায় নিঃশ্বাস ফেলতে দেবে না।
১৯৭৯ সালে শাদা ঘোড়া ও ১৯৮৬-তে হীরু ডাকাত, তারপর গৌর যাযাবর, আমাজনের জঙ্গলে, বরফের বাগান, গরিলার চোখ প্রভৃতি ছোটদের বইয়ের লেখক, শিশুসাহিত্যে বিদ্যাসাগর ও সাহিত্য অকাদেমি-সহ বিবিধ পুরস্কারে ভূষিত অমরেন্দ্র চক্রবর্তীর কয়েকটি বই ইতিমধ্যেই বহু ভাষায় অনূদিত। তাঁর ভ্রমণকাহিনি ‘সুমেরুবৃত্তে ভ্রমণ’, ‘বন্ধুভরা বসুন্ধরা’-র পাশাপাশি তাঁর ছোট গল্প সংকলন ‘নিমফুলের মধু’-র পর ২০১৩ সালে লেখকের প্রথম উপন্যাস ‘বিষাদগাথা’ ধারাবাহিক প্রকাশের সময় থেকেই বহুজনের প্রশংসাধন্য। ‘কবিতা-পরিচয়’, ‘কর্মক্ষেত্র’, ‘ভ্রমণ’, ‘কালের কষ্টিপাথর’, ‘ছেলেবেলা’ ইত্যাদি পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক, ওয়ার্ল্ড এডিটর্স ফোরামের প্রাক্তন এক্সিকিউটিভ মেম্বার অমরেন্দ্র চক্রবর্তী বিশ্বের নানা দেশ ঘুরেছেন। বিভিন্ন দেশের ওপর তাঁর হাতক্যামেরায় ভিডিও চিত্র টেলিভিশন চ্যানেলে নিয়মিত সম্প্রচারিত। ২০১৪ ও ২০১৬-য় কবি, কথাসাহিত্যিক, চিত্রশিল্পী অমরেন্দ্র চক্রবর্তীর একক চিত্র-প্রদর্শনী বহু বিশিষ্টজনের প্রশংসাধন্য। কবিতা, কিশোরসাহিত্য, গল্প, উপন্যাস, ভ্রমণকথা- সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় তাঁর স্বচ্ছন্দ বিচরণ।
"চাঁদের নিজের দেশে কেউ যায়নি। সে দেশ কেমন হবে, কারও জানা নেই। কিন্তু অমরেন্দ্র চক্রবর্তী এক জাদু-লেখক। আমাজনের জঙ্গলে লিখে তিনি আমাদের মস্ত উপকার করেছেন। বইটি পড়ে জানলাম 'আমাজনই চাঁদের নিজের দেশ'। বইটি না পড়লে এর জাদু জানা যাবে না৷ মনে হচ্ছে, দীর্ঘকাল পরে বাংলাসাহিত্যের একটা মস্ত প্রয়োজন মেটাতে অমরেন্দ্র কলম ধরেছেন। " - মহাশ্বেতা দেবী
বইয়ের পেছনের এই কথা কটা আর বইটার চেহারা দেখে ছেলেবেলা ডাক দিল। চাঁদের পাহাড়ের মতোন আরেকটা অসাধারণ অ্যাডভেঞ্চার এর লোভে তাই দেরি না করে কিনে ফেললাম বইখানা। অমরেন্দ্র চক্রবর্তী এর নাম আমি আগে জানিনি, চমৎকার কিছু ছোটদের বই লিখেছেন তিনি। অনেক নামী পত্রিকার সম্পাদক খ্যাতিমান এই শিশুসাহিত্যিক। মায়ায় মোড়ানো জাদুর কলম দিয়ে তিনি অল্প কথায় রচনা করেছেন এক মনোমুগ্ধকর কাহিনী। কিশোর এক স্কুলছাত্র চিঠি লেখা প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়ে পেয়ে যায় বিশ্ব ভ্রমণের এক টিকিট। কাকার থাকার সুবাদে হাজির হয় রিও ডি জেনিরোতে। আর সেখান থেকেই শুরু হয় আমাজন অ্যাডভেঞ্চার এর পথে চলা। কিন্তু শুরুতেই বিপদ। দ্রুতগামী উলি মাংকি ছিনিয়ে নেয় কাকার ব্যাগ, সেই ব্যাগ উদ্ধারের জন্য আমাজনে হারিয়ে যায় কাকা এবং তার সঙ্গী। ভাইপোর কথা একবারও মনে আসে না তার। কিন্তু আমাদের গল্পের কথক সেই কাকাকে উদ্ধারের জন্য দুঃসাহসী হয়ে উঠে। আমাজনের গহীনে পরিচয় হয় তার উবা নামের এক সরল কিশোরের সাথে, ছবির ভাষায় দুজন দুজনকে জানায় সমস্ত কথা। অকৃত্রিম বন্ধু হয়ে উঠে। কিন্তু সভ্য জগতে ফিরতে তো হবে, কাকাকে তো খুঁজে পেতে হবে? সেই দ্বন্দ্বেরই অবসান কীভাবে হয় জানতে হলে পড়ে ফেলতে হবে মাত্র ৭৯ পৃষ্ঠার উৎস প্রকাশন প্রকাশিত বইটি। শিশুসাহিত্যে কত চমৎকার মণিমুক্তো এখনো অনাবিষ্কৃত রয়ে গেছে, রচিত হচ্ছে সমানতালে, ভাবতে ভালো লাগে। আমাজন জঙ্গলের সাথে এই বৃষ্টিমুখর সন্ধ্যেটা বেশ ভালো কাটল।
আমাজন আমাকে বরাবরই টানে। আর আমাজন নিয়ে কিশোর উপন্যাস তো দারুণ হবে, এই ভেবে এ বই হাতে নিলাম। কিন্তু সত্যি বলতে কি, মনে হলো যেন একটা গল্পের আদ্ধেক পড়লাম। লেখকের লেখার হাত ভালো হলেও বলার মত কোন গল্প খুঁজে পেলাম। সেই সাথে মেজাজ বিগড়ে দিলো বইয়ের শেষটা। স্রেফ লেখার হাত ভালো বলে ৩ স্টার দিলাম, নয়তো ২ স্টার দিতাম। হাতে কোন বই না থাকলে, তবে থাকলে এইটা মোটেও রেকমেন্ড করবো না।
ভীষণ ভীষণ সুন্দর একটা রূপকথার মতো গল্পটা । ছোট্ট গল্প কিন্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণ সহজ স্বাভাবিক ঘটনা মনে হলো। আমি শুধু গল্পে বুঁদ হয়ে রইলাম। যেন মনে হলো এরকম কখন যদি আমাজনে যেতাম! এবং একটা শিক্ষণীয় গল্পও বটে। আমার তো খুব ভালো লাগলো👌