সাম্প্রতিক কথাসাহিত্যে অভাবিত ও দিব্যোজ্জ্বল চিহ্ন রেখে চলেছেন ফয়জুল ইসলাম। সেখানে যেমন লক্ষণীয় কাহিনির চমৎকারিত্ব, অন্যদিকে ভাষার শিল্পিত শৈলী। বিদ্যায়তনিক অর্থনীতি চর্চা তাঁর এই ভাষার শিল্প-সৌন্দর্য আবিষ্কারে বাধা হতে পারেনি। গল্প রচনার সঙ্গে আধুনিক বাংলা গদ্যের ক্রমবিকাশ নিয়ে তাঁর অভিনিবেশ ঈর্ষণীয়। ওই প্রজ্ঞার পরিচয় রয়েছে সংকলনের রচনাসমূহে। বাংলা গদ্যচর্চার দীর্ঘ ইতিহাস, অসংখ্য দৃষ্টান্ত সামগ্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাপকতার কারণে তা গবেষণারই বিষয়। ফয়জুল ইসলাম অত্যন্ত সাবলীল ভাষায় সেটি উপস্থাপন করেছেন। ফলে জটিলতাজনিত কোনো দুর্বোধ্যতা রচনাগুলো পাঠে বাধা সৃষ্টি করে না। অধ্যাপক সনৎকুমার সাহার নাতিদীর্ঘ ভূমিকাটিও বইটির গুরুত্ব বৃদ্ধি করেছে। বইটি বাংলা গদ্যচর্চার ইতিহাসে দিব্যদ্যুতিময়।
ফয়জুল ইসলামের জন্ম ২৪ নভেম্বর ১৯৬৩, ঢাকার সিদ্ধেশ্বরীতে। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে পড়েছেন পাবনা জিলা স্কুল ও পাবনা এডওয়ার্ড কলেজে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। পরে উন্নয়ন অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন যুক্তরাষ্ট্রের উইলিয়ামস কলেজ থেকে। প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘নক্ষত্রের ঘোড়া’ প্রকাশিত হয় ১৯৯৮ সালে। ফয়জুল ইসলাম ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন। তাঁর ‘খোয়াজ খিজিরের সিন্দুক’ বইটি প্রথম আলো বর্ষসেরা বইয়ের পুরস্কার লাভ করেছে।