রিটায়ার্ড জজ আকবর সাহেব আত্নভোলা মানুষ। তিনি জানেনই না যে গতরাতে তিনি খুন করেছেন নাতনীর গোপন প্রেমিক খসরুকে।লাশ সরিয়ে ফেললেন কন্যা আফসানা বিলকিস।সব দায় এখন আফসানা বিলকিসের।সবকিছু চাপা দিতে হবে। নইলে তার সত্যনিষ্ঠ পিতা আকবর সাহেব জানতে পারলে সব কথা স্বীকার করবেন পুলিশের কাছে গিয়ে, আর পুলিশ জানতে পারলে তার অষ্টাদশী কন্যা সোহানা বিলকিসের দুর্নামে ছেয়ে যাবে সারা দেশ।কিন্তু শেষ রক্ষা বুঝি হল না।একদিকে ব্ল্যাকমেইলার তৈমুর বিল্লা, অন্যদিকে পুলিশ ইন্সপেক্টর হায়দার আলী। গন্ধ শুকে ক্রমেই এগিয়ে আসছে তারা
কাজী আনোয়ার হোসেন ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দের ১৯ জুলাই ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পুরো নাম কাজী শামসুদ্দিন আনোয়ার হোসেন। ডাক নাম 'নবাব'। তাঁর পিতা প্রখ্যাত বিজ্ঞানী, গণিতবিদ ও সাহিত্যিক কাজী মোতাহার হোসেন, মাতা সাজেদা খাতুন। কাজী আনোয়ার হোসেন সেবা প্রকাশনীর কর্ণধার হিসাবে ষাটের দশকের মধ্যভাগে মাসুদ রানা নামক গুপ্তচর চরিত্রকে সৃষ্টি করেন। এর কিছু আগে কুয়াশা নামক আরেকটি জনপ্রিয় চরিত্র তার হাতেই জন্ম নিয়েছিলো। কাজী আনোয়ার হোসেন ছদ্মনাম হিসেবে বিদ্যুৎ মিত্র নাম ব্যবহার করে থাকেন।
বছরটা শুরু করতে পারছিলাম না; শুরু করার জন্য এই ধরনের টনিক টাইপ কিছু দরকার ছিল। কাহিনি তেমন আহামরি কিছু না। তবে ভিন্টেজ কাজীদার শক্তিশালী কলমের জোরে টানা পড়ে ফেলা যায়। গল্পটা দিয়ে খুব ভালো টেলিফিল্ম হবে, ঘষামাজা করলে সিনেমাও হতে পারে।
বইয়ের মূল চরিত্র আফসানা বিলকিস। এই মহিলাটির চরিত্র এতটাই বিরক্তিকর যে পুরো বইটা তিনি একাই তার সিনেম্যাটিক ডায়ালগ আর চিন্তাভাবনা দিয়ে নষ্ট করেছেন। সারাক্ষণ তার মনে 'লোকে কী বলবে, অমুকে কী ভাববে, পরিবারের কী হবে, আমার কী হবে' এইসব চিন্তা ঘোরে। জানি, কাহিনীটা মৌলিক নয়। তবে আশা করছি মূল প্লটটা যেন জেমস হ্যাডলি চেজের কাছ থেকে ধার করা না হয়। জেমস হ্যাডলি চেজ এত লেইম প্লট নিয়ে লিখেছেন ভাবতে খুব খারাপ লাগবে।
মুল চরিত্র আফসানা বিলকিস খুবই বিরক্তিকর। এক কথায় এক নম্বর বেকুব মহিলা। বইটাকে বলা চলে এক বিরক্তিকর মহিলার একের পর এক করা বেকুবি কাজের সিরিয়াল নিদর্শন। কাজী আনোয়ার হোসেনের নাম দেখে পড়া শুরু করে প্রচন্ডভাবে বিরক্ত হয়েছি। এখন পর্যন্ত কাজীদার লেখা আমার পড়া সবচেয়ে ফালতু উপন্যাস।