এই বইতে মোট ১১টি ছোট গল্প আছে। প্রত্যেকটি গল্পই ভিন্ন ধরনের। কোনটার সাথে কোনটার মিল নেই। গল্পগুলি ভালো ছিল। কোন গল্প পড়ে খারাপ লাগেনি। নিচে কয়েকটি গল্প নিয়ে লিখলাম।
১. উনার নাম আলাউদ্দিন ⭐️২/৫ এই গল্পটি আলাউদ্দিন নামে একজন ব্যক্তিকে নিয়ে। যে হঠাৎ করে গায়েব হয়ে যায়। তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না। সর্বশেষ তাকে দেখা নিয়ে সঠিক কোন তথ্য পাওয়া যায় না। একেকজন একেক জায়গায় আলাউদ্দিনকে দেখার দাবী করে। তারপর সন্দেহ করা হয় ঘরের সামনে থেকে কিছু আগন্তক আলাউদ্দিনকে ধরে নিয়ে গেছে, অথবা সে পালিয়ে গেছে, বা হারিয়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত আলাউদ্দিনকে খুঁজে না পেয়ে আত্মীয়-স্বজন সবাই মিলে গেছে পির-ফকিরের কাছে। পাগলা বাবার কাছে। পির-ফকিরের একেকজন একেককথা বলেছেন। কেউ বলেছে আলাউদ্দিন জীবিত নাই। আবার কেউ দিয়েছে তাবিজ, কবচ, পানিপড়া। শুভাকাঙ্ক্ষীরা পরামর্শ দেয় প্রেস কনফারেন্স করার। পত্রিকায় খবর ছাপা হয়। কোনকিছু করে আলাউদ্দিনকে খুঁজে পাওয়া যায় না। আলাউদ্দিনের স্ত্রী রুবিনার কাছে বিভিন্ন রকম উড়ো খবর আসতে থাকে। কিন্তু কোন খবরেই সত্যতা পাওয়া যায় না। আট মাস পেরিয়ে যাবার পর উদ্ভট বেশভূষার একজন লোক আসে। সে আলাউদ্দিনকে দেখার দাবী করে। তার কথা মতো আলাউদ্দিনকে খুঁজে পাওয়া যায় পাবনার মানসিক হাসপাতালে। আলাউদ্দিন কাউকে চিন্তে পারেনা। আলাউদ্দিন নিজেকে জালালউদ্দিন বলে দাবী করে। গল্পটা মোটামোটি ধরনের।
২. এক ক্রুদ্ধ অন্ধকার ⭐️৩.৫/৫ এই গল্পে লেখিকা, একটি ছেলেকে চোর বলে কিছু মানুষের দেয়া শারীরিক যন্ত্রনা তুলে ধরেছেন। ব্যথা, তীব্র যন্ত্রনা, কষ্ট, কান্নার মাঝে ছেলেটির চিন্তা করা জীবনে কাটানো কিছু স্মরণীয় মূহুর্তের কথা তুলে ধরেছেন। আরো তুলে ধরেছেন পৃথিবীতে ঘটা এক অদ্ভুত ঘটনার। পৃথিবীর এক অদ্ভুত পরিবর্তনের। যে পরিবর্তনে পৃথিবীর সব শিশু একরাতে প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে যায়। শিশুরা গায়ে গতরে বড় হয়ে যায়, হাত-পা বড় আর লম্বা হয়ে য়ায়। বালকদের কচি সরল মুখে কাঠিন্য ধারন করে। মুখে গজায় অসময়ের ঘন গোঁফ ও দাড়ি। আচরনে পরিবর্তন, কথায় পরিবর্তন, হাসিতে নিয়ন্ত্রন। পৃথিবার সব নারীরা বন্ধ্যা হয়ে যায়, নতুন করে কেউ গর্ভবতী হয় না, নতুন করে কোন শিশু জন্ম নেয় না, গর্ভবতী নারীদের পেট থেকে বের হতে’ও অস্বীকৃতি জানায় পরিণিত বা অপরিণিত শিশুরা। চিকিৎসকরা অপারেশন করে তাদের বাইরে বের করে আনলেও সঙ্গে সঙ্গে মরে যাচ্ছে তারা। কেউ সন্তানের পিতা হয়না, কেউ নতুন করে মা হয় না। কেউ শিশুদের নিষ্পাপ মুখ দেখে না। শোনা যায় না শিশুদের হাসি বা কান্নার আওয়াজ। একসময় শিশুদের মানুষ ভুলে যায়। এই গল্পটা লেখিকা চমৎকার লিখেছেন।
৩. কাকস্য বেদনা ⭐️৩.৫/৫ মানুষ শখ করে কতো ধরনের পাখি পোষে! গল্পের চরিত্র পোষে কাক! কাক কে নিয়ে তার চিন্তা ভাবনা। কাকের সাথে তার কথা বার্তা। কাকের মতোই আধার, অন্ধকার তার জীবন।
৪. দুর্ঘটনা ⭐️২.৫/৫ অফিসের কলিগ নূর-এ-হাফসা যখন অফিস ছুটির পর বাড়িতে পৌছে দেওয়ার অনুরোধ করেছিল তখন জামশেদ না করতে পারেননি। ভুলে গিয়েছিলেন অফিসের কারো চোখে পড়ে যেতে পারেন অথবা আত্মীয়-স্বজন দেখে ফেলতে পারে এবং সে কথা ফিরোজার কানে চলে যেতে পারে। জামশেদ হাফসাকে বাড়িতে পৌছে দিয়ে নিজের বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্য রওনা হওয়ার পর দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিলেন। তারপর কি হল, তার কি আসলেই দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল নাকি হয়নি বুঝা গেল না।
৫. কান ⭐️৩/৫ এই গল্প আতর বানু আর হাতেম মাস্টারের। এই গল্প প্রেমের কারনে কান হারানোর গল্প। সাধারণ মাস্টার হয়ে গ্রামের চেয়ারম্যান মেম্বার বংশের পরিবারের মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাবের কারনে বিপদে পড়ে হাতেম মাস্টার। আতর বানুর ভাইয়েরা চরম আক্রোশে ক্রোধের বশবর্তী হয়ে তাদের লাঠিয়াল দিয়ে হাতেম মাস্টারের কান কেটে নেয়। হাতেম মাস্টার তার কান হারিয়েছিল কিন্তু কানের বদলে পেয়েছিল আতরের সুগন্ধে সুগন্ধিত মীর বাড়ির সুগন্ধী কন্যা আতর বানুকে।
৯. দুই বিছানা ⭐️৪/৫ এই গল্পটা আমার কাছে চমৎকার লেগেছে।