Jump to ratings and reviews
Rate this book

আশ্চর্য ভ্রমণ

Rate this book

92 pages, Hardcover

First published February 1, 1976

Loading...
Loading...

About the author

Shirshendu Mukhopadhyay

416 books946 followers
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় একজন ভারতীয় বাঙালি সাহিত্যিক।

তিনি ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির অন্তর্গত ময়মনসিংহে (বর্তমানে বাংলাদেশের অংশ) জন্মগ্রহণ করেন—যেখানে তাঁর জীবনের প্রথম এগারো বছর কাটে। ভারত বিভাজনের সময় তাঁর পরিবার কলকাতা চলে আসে। এই সময় রেলওয়েতে চাকুরিরত পিতার সঙ্গে তিনি অসম, পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের বিভিন্ন স্থানে তাঁর জীবন অতিবাহিত করেন। তিনি কোচবিহারের ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। শীর্ষেন্দু একজন বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। বর্তমানে তিনি আনন্দবাজার পত্রিকা ও দেশ পত্রিকার সঙ্গে জড়িত।

তাঁর প্রথম গল্প জলতরঙ্গ শিরোনামে ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দে দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। সাত বছর পরে সেই একই পত্রিকার পূজাবার্ষিকীতে তাঁর প্রথম উপন্যাস ঘুণ পোকা প্রকাশিত হয়। ছোটদের জন্য লেখা তাঁর প্রথম উপন্যাসের নাম মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
11 (22%)
4 stars
12 (25%)
3 stars
14 (29%)
2 stars
10 (20%)
1 star
1 (2%)
Displaying 1 - 8 of 8 reviews
Profile Image for Tiyas.
474 reviews141 followers
April 28, 2025
টিপিকাল। টিপিকাল শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। শুরুতে বিরক্তির মোক্ষম ধোঁয়াশা। ধোয়ার জ্বালায় নিজেকে পুজোর সিজনের খান্না মোড়ে জ্যামে আটক অবস্থায় পেয়ে যখন ভাবছি এ জিনিস দেড় কি দুই তারা না হয়ে যায় না, তক্ষুনি ইউরেকা! দেখতে দেখতেই বইটা দেড় থেকে দুই...দুই থেকে আড়াই...আড়াই থেকে তিন হয়ে এক্কেবারে...সাড়ে তিনের কাঁধে চড়ে সোল্লাসে বলে উঠলো, ক্যাসা লাগা মেরা মজাক?

হয়তো রেটিংয়ের ঘরে উপন্যাসটির আরেকটু বেশি প্রাপ্য ছিল। কিন্তু ঐ যে, লেখকের চিরাচরিত হ্যাপি-এন্ডিং প্রীতি। এখানেও তার কোনোরকম অন্যথা হয় না। মুশকিলটা হলো যে এই নিয়ে অধিক চেঁচালে নিজেকে হিপোক্রিট বলে মনে হয়। যতই হোক, শীর্ষেন্দুর এই ছোটো লেখাগুলো পড়ি কী জন্যে? দু-এক চামচ মিষ্টি বলবর্ধক সিরাপ খুঁজে পাই বলেই না এই পাড়ায় বারংবার ফিরে আসা। তবে, তাই বলে, সব-মেলানোর এই হ্যাবিট হেতু, উপন্যাসটির অভ্যন্তরীণ হৃদয় যে টলে যায় সেটাও অদেখা করা অন্যায়।

কোনো লালমুখো সাহেব থাকলে নিশ্চই এতক্ষণে বলে উঠতেন, 'হর্নস অফ ডিলেমা!'

তবে আপনি খামোকা চিন্তা করবেন না। এতে আর যাই হোক, বইয়ের পাঠযোগ্যতা মার খায় না। এ হলো সত্তরের দশকের প্রাইম শীর্ষেন্দু। গদ্য তো নয় যেন অজন্তা সার্কাস! উপরন্ত, মূল চরিত্রটিকে লেখক এঁকেছেন বেশ রসিক ভাবে। নাম, ইন্দ্রজিৎ। কাজ, ওভারথিংকিং। অ্যাদ্দিন ভাবতাম আমিই বুঝি এই ফিল্ডে চরম লেভেলের ডক্টরেট করে বসে আছি। উপন্যাসটা পড়তে গিয়ে আমার সে ভুল ভাঙলো।

আপনি যদি আমার মতই ট্রামে, বাসে, ট্রেনে বসে শুধু ভাবেন আর ভাবেন, আর মনে মনে মহাভারতের এক-দুটো চ্যাপ্টার এক্সট্রা লিখে ফেলেন, তাহলে বুঝি ইন্দ্রজিতের সাথে আপনারও জমবে ভালো। ইন্দ্রজিতের মতো এমন হাফ-বুড়োটে, অবার্চীন, নোবডিদের-কে নিয়ে প্রথম প্রথম জন্মায় ধুন্ধুমার বিরক্তি। এটাই স্বাভাবিক। এটাই বাস্তব। কিন্তু পরক্ষণেই, আপনার অজান্তে, ধীরেসুস্থে উন্মোচিত হয় আয়নার প্রতিচ্ছায়া। আপনি বোঝেন, যে আপনি ফাঁদে পড়ে গেছেন। এই ফাঁদ, মায়ার ফাঁদ। স্মৃতির নরম টোপ।

ইন্দ্রজিৎ খুঁতখুঁতে। ইন্দ্রজিৎ শ্যালো। তার প্রেমের সংজ্ঞা পৃষ্ঠস্তর ভেদ করতে জানে না। কিন্তু তাও সে ভালোবাসার কাঙাল। সে হঠকারি। সে ভাবুক। সে ভুলতে না পারার কারাসৌধে চিরকালীন এক বন্দী। এবং এখানেই, বইটি আমায় আটকে, ধরে, বেঁধে রাখে। বেড়ে দেয় এক থালা গরম ভাত। আমিও বসি। বসে বসে হাসি অনেকক্ষণ। বইয়ের দার্জিলিং অংশটি অনেকটা অন্ধকার বুকে নিয়েও নির্মল হাস্যরসে ধোঁয়া। অপরপ্রান্তে, চাঁদের আলোয় মাখামাখি কোনো ফলের গাছের ছায়া। নস্টালজিয়ার পোকায় কাটা বইয়ের দ্বিতীয় ভাগ। যা অল্প সামর্থ্যে সুন্দর।

এক আশ্চর্য ভ্রমণই, বটে।

কিন্তু এই যে লেখক, অসম্পূর্ণতা ও অপ্রাপ্তির বেড়াজাল ডিঙিয়ে ক্লাইম্যাক্সের নামে একটা গোঁজামিল হ্যাপি-এন্ডিং গুজে দিলেন, এতে কার কী লাভ হলো বলুন দেখি? দিলেন তো দিলেন, আরেকটু লিখুন না দাদা। এ কিরম দায়সারা কার্যক্রম! কোটা সিস্টেমে আসন পাওয়া যাচ্ছে বলেই কি সবাইকে উজিয়ে বসতে হবে? প্রেম জিনিসটারও তো একটা ডিজার্ভিং আনডিজার্ভিং আছে, নাকি? হুশ!

(৩.৫/৫ || এপ্রিল, ২০২৫)

বন্ধুগণ, বন্ধুগণ, পৃথিবীতে সময়ের চেয়ে নিষ্ঠুর কিছু নেই। যেদিকেই যাই, দেখি মানুষের ছড়ানো বীজ থেকে গজিয়ে উঠেছে ঘরবাড়ি, মানুষ-ছানা, নতুন গাছ। সব পুরনো মাঠ প্রান্তর হারিয়ে গেছে। চেনা জায়গার সব চিহ্ন মুছে নিয়ে গেছে এক অদ্ভুত অদৃশ্য সময়-নদীর বান। শৈশবে যেমন আলো দেখেছি, অন্ধকার দেখেছি, তার আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। বুড়ি নদী, তুমি আমার কত কী ভাসিয়ে নিয়ে গেছ!

নদী উত্তর দেয়, পাগল ছেলে, ফিরে যা, ফিরে যা। তোর যা হারিয়েছে সব ফিরিয়ে দেব একদিন। তখন বলবি, এত জঞ্জাল কোত্থেকে এল?
Profile Image for Taznina Zaman.
256 reviews73 followers
January 5, 2019
এই বইটার কেন যেন তেমন একটা নাম শুনিনি! কিন্তু বইটা অসাধারণ, ঠিক ছাই চাপা রত্নের মতো। আমরা যারা অন্তর্মুখী, তারা অনেক কথাই মনে রেখে দেই কিন্তু মুখে বলতে পারি না। আবার মুখে বলতে পারি না বলে যে মন চুপ থাকে, তাও না। আমরা মনে মনে কনভারসেশন চালিয়েই যাই, চালিয়েই যাই। হোক তা নদীর সাথে কিংবা ট্রেনের সাথে কিংবা এমন কোন মানুষের সাথে যার সাথে জীবনে আর দেখা হওয়ার কোন সম্ভাবনাই নেই! ইন্দ্রজিতের চরিত্রটার সাথে এতটাই একাত্ম হয়ে গিয়েছিলাম যে মনে হচ্ছিলো উপন্যাসটা চলুক, অনন্তকাল ধরে চলুক! শীর্ষেন্দু চট্টোপাধ্যায়ের সবচেয়ে অনবদ্য সৃষ্টিগুলোর মধ্যে একটি।
Profile Image for Mehedi Hassan.
46 reviews22 followers
September 1, 2023
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের “আশ্চর্য ভ্রমণ” পাঠের পর...
.
বন্ধুগণ, আসুন, আপনাদেরকে ইন্দ্রজিৎ ব্যানার্জির সাথে পরিচয় করিয়ে দিই। ইন্দ্রজিৎ ব্যানার্জির রকম-সকম অনেকটা আমার এক বন্ধুর মতন। এখন আমার বন্ধু কেমন সেটা শুনতে আপনারা নিশ্চয়ই কেউ আগ্রহী নন। তাই আসুন, আপনাদেরকে ইন্দ্রজিৎ ব্যানার্জির কথা শোনাই। অবশ্য ইন্দ্রজিৎ ব্যানার্জির কথা বললে মূলত আমার বন্ধুর কথাই আপনাদের জানানো হয়। যাই হোক, ইন্দ্রজিৎ ব্যানার্জির বয়স ছত্রিশ, ব্যাংকে চাকরি করে এবং সে অবিবাহিত। অবিবাহিত তার কারণ এই নয় যে, তার জীবনে প্রেম আসেনি। অবিবাহিত; কারণ সে প্রেমের বাণে জর্জরিত। তার বক্তব্য অনুযায়ী, “প্রেম যেন এক গহীন খাদ, তার তলা নেই, আর আমারও পড়ে যাওয়ার শেষ নেই।” নিরন্তর এইভাবে একের পর এক প্রেমে পড়ে ইন্দ্রজিৎ। তাই তার আর বিয়ে করা হয়ে ওঠে না। কিন্তু তার প্রেমে পড়াকে বড়জোর আছাড় খাওয়ার সাথে তুলনা করা যেতে পারে। কারণ বেশিরভাগ প্রেমই তার মূলত একপাক্ষিক। ইন্দ্রজিৎ অনেকটা মুখচোরা, ওই কিছুটা ভীতু আর লাজুক গোছের মানুষ যেমনটি হয় তেমন। প্রেমে পড়ে আবার নিজেই সে প্রেম ভেঙে দেয়। কেননা মানুষের খুঁত বড় বেশি চোখে পড়ে ইন্দ্রজিতের। জয়া ঘোষ নাম্মী এক মহিলার প্রেমে পড়েছিল একদা ইন্দ্রজিৎ। কিন্তু খুব কাছে এসে মেয়েটা যখন কলম চাইল তখন দেখল, “জয়ার ঠোঁটের লোম কিছু বড়, নাকের দু’ধারে রেখা গভীর, ভ্রূতে চুল প্রায় নেই, মুখের চামড়া খসখসে, কথা বলার সময় জয়ার দাঁত দেখা যাচ্ছিল, ফোলা মাড়ি এবং দাঁতে হলদে দাগ।” এহেন খুঁতখুঁতে মানুষের জীবনেও কিন্তু প্রেম এল। সে মিতুন, মাস্টার্সে ইন্দ্রজিতের সাথেই পড়ত। এবং বলা বাহুল্য অপরাপর প্রেমের মতন এই প্রেমেরও বয়স হয়েছিল মাস তিনেকের মতন। বিয়ের কথা যখন উঠল, তখন ইন্দ্রজিৎ ভাবতে শুরুর করল যেহেতু সে আর মিতুন সমবয়সী সেহেতু সে যখন মধ্যবয়সে যাবে মিতুন তখন বুড়োটে হয়ে যাবে। খুবই টিপিক্যাল চিন্তাভাবনা। যা হোক, তাছাড়াও সে দেখতে পেল মিতুনের হাঁটার ধরন কেমন জানি পাশদোলানি। সিরিয়াসলি বলছি, পাশদোলানি মানে কি আমি নিজেও জানি না। আমার বন্ধু জেনে থাকলেও থাকতে পারে (যেহেতু সে অনেকটা ইন্দ্রজিৎ-এর মতন), আপনাদের মধ্যে কেউ জানলে, জানাবেন প্লিজ।
.
তো একবার আমাদের এই ইন্দ্রজিৎ ব্যানার্জি অফিস থেকে ছুটি নিয়ে ভ্রমণে বের হল। সে এক আশ্চর্য ভ্রমণ। ভ্রমণ করতে গেলে মানুষ মূলত জায়গাটাকেই মুখ্য বিবেচনা করে কিন্তু ইন্দ্রজিতের এই ভ্রমণ জায়গা কেন্দ্রিক নয়, সময় কেন্দ্রিক। ফেলে আসা সময়কে হাতড়ে বে���়াচ্ছে অনেক বছর আগের দেখা সব জায়গায়। উপন্যাসটি পড়তে পড়তে একধরণের নস্টালজিয়াতে আক্রান্ত হতে হয়। ইন্দ্রজিৎ-এর সাথে হাতে হাত ধরে আমরাও যেন নিজেদের শৈশব কৈশোর আর যৌবনে ফেলে আসা সময় আর স্থানকগুলোকে কল্পনা করে নিতে থাকি। সে বড় মধুর কল্পনা, সে বড় যাতনাময় কল্পনা।
.
বইটা বেশ সুন্দর। ছোটখাটো ছিমছাম ধরণের। খুব বেশি প্যাঁচঘোঁচ নেই, তত্ত্বকথাও নেই কোনো। আছে শুধু একরাশ স্মৃতির বয়ান। ইন্দ্রজিৎ-এর জীবনকে একইসাথে বর্তমান আর অতীতে রেখে গল্প বলে যাওয়ার কাজটি দারুণ মুনশিয়ানার সাথে সম্পন্ন করেছেন শীর্ষেন্দু। উপন্যাসের বয়ানেও নতুন আঙ্গিকের প্রয়োগ ঘটিয়েছেন। মূলত উত্তম পুরুষে বর্ণিত হলেও উপন্যাসটির এক পর্যায়ে বিশেষ একটি অবস্থার বর্ণনা করার সময় তৃতীয় পুরুষে বর্ণনা করে গেছেন, কেননা যে মানুষের কথা তিনি বলছেন সে মানুষ আর এখনকার মানুষ এক নয়। ব্যাপারটা দারুণ লেগেছে আমার কাছে। কিছু উপমা ছিল যাকে বলে আউটস্ট্যান্ডিং, যেমন-এমোনিয়ামের গন্ধ এসে নাকে ঘুষি মারা, পায়রার ডানার শব্দে বিস্মৃতির পরত ভেঙে পড়া, কিংবা লজ্জায় মাথা নুইয়ে দেশলাইয়ের নিভে যাওয়া ইত্যাদি ইত্যাদি। কিছু উপমা ছিল চিত্ররূপময়।
.
“একটু আগেই এক পশলা বৃষ্টি হয়ে গেছে। রাস্তাঘাট কালো, গাছপালা সবুজ, বাড়িঘর ম্যাড়ম্যাড়ে আর আকাশ ময়লা মশারির মতো দেখাচ্ছিল।”
.
তবে কিছু কিছু উপমার বারবার ব্যবহার বিরক্তিকর লেগেছে। যেমন “আকাশে নিখুঁত একটা দাঁতের মতো কাঞ্চনজঙ্ঘা উঁচু হয়ে আছে।” প্রথমবার পড়তে অসাধারণ লাগে। বারবার পড়তে গেলে লেখকের কল্পনাশক্তির প্রতি সন্দেহ জাগে। পুরো উপন্যাসটিই বেশ হালকাচালে বলা। ছোটখাটো হাস্যরসিকতায় ভরপুর বইটি। যারা শীর্ষেন্দুর “আক্রান্ত”, “ফুলচোর” ইত্যাদি উপন্যাস পড়েছেন তারা ব্যাপারটা বুঝতে পারবেন। তবে কিছু ক্লিশে জোকসও আছে বইতে। যেমন দাঁতের ডাক্তার বলে সে দাঁত দেখে মানুষ চেনে, এমনিতে চেনে না।
.
আমার কাছে শীর্ষেন্দুর বেশ কয়েকটা উপন্যাসের সমগ্র আছে। দশটি উপন্যাস, শ্রেষ্ঠ উপন্যাস, এরকম নাম যাদের। প্ল্যান করেছি এখন থেকে প্রতি মাসে একটা করে শীর্ষেন্দুর উপন্যাস পড়ব।
.
হাতে ঘণ্টাখানেক সময় থাকলে চট করে পড়ে নিতে পারেন বইটি। সবাইকে পড়বার আমন্ত্রণ জানিয়ে ধন্যবাদ।
Profile Image for Neela.
85 reviews56 followers
September 7, 2023
ইন্দ্রজিৎ নামক ফিকশনাল একজন ব্যাক্তি, যে কি না এই বইয়ের প্রধান চরিত্র সে দার্জিলিং বেড়াতে যায় তাঁর এক বন্ধুর বাসায়। এই বন্ধুটিকে তাঁর প্রেমিকার সাথে পালিয়ে বিয়ে করতে সাহায্য করেছিলো ইন্দ্রজিৎ। এককালে প্রেমে আধপাগল হয়ে টুকি'র সাথে একদিনের সরাসরি আলাপে পালিয়ে বিয়ে করা মলয় এখন পাঁড় মাতাল। দাম্পত্য কলহে এফোড় ওফোড় মলয়ের বাসায় বেড়াতে এসে জীবন নিয়ে ইন্দ্রজিতের নানা উপলব্ধি হয়। ৩৫/৩৬ বছরের পেছনে ফেলে আসা জীবনের অনেক কিছুই ইন্দ্রজিতের কল্পনায় ঘুরে ফিরে আসে। জীবন নিয়ে তাঁর উপলব্ধি আর চিন্তা প্রকাশে লেখক এমন মাত্রায় হিউমার আর হাস্যরস যুক্ত করেছেন যে কিছু কিছু জায়গায় পড়তে গিয়ে হাসির চোটে পেটে খিল ধরে যাবার যোগাড়!
দার্জিলিঙে এসে পুরনো প্রেমিকা মিতুনের সাথে দেখা, মিতুনের ননদ সনাতনীর সাথে এক অদ্ভুত বন্ধনে জড়িয়ে পড়া; জীবনের এই অতি স্বাভাবিক চক্রের মধ্যে ইন্দ্রজিৎ নামক চরিত্রটির মাধ্যমে লেখক সত্যিকার অর্থেই জীবন, সংসার, পারস্পরিক সম্পর্ক, বন্ধুত্ব, প্রেম সম্পর্কে আমাদের উপলব্ধির জগতকে এক আশ্চর্য ভ্রমণ করিয়ে নিয়ে এসেছেন।
Profile Image for Tahmeed Ashab.
1 review
November 9, 2022
এই উপন্যাসের মূল চরিত্রের সাথে আমার আশ্চর্য রকমের মিল আছে। উপন্যাসটি পড়তে যেয়ে আমার বারবার মনে হয়েছে যে, আমি যেন আমারই জীবনটাকে একটা অবজার্ভার'স পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে দেখছি। অনেকদিন বাদে আজ আবার এই উপন্যাসটি পড়তে বসেছি। পড়া শেষ হলে ফুল রিভিউ লিখবো বলে ঠিক করেছি আপাতত।
15 reviews
November 6, 2025
দুর্দান্ত সুন্দর লেখনী, এমন স্বতঃস্ফূর্ত লেখা শুধু শীর্ষেন্দু বাবুর কলম থেকেই বেরোতে পারে। পড়তে পড়তে ঘোরের মধ্যে চলে গেছিলাম।
Profile Image for Meem Arafat Manab.
379 reviews273 followers
June 15, 2017
কী প্রিটেনশাস রে বাবা!
পড়ে ভাল্লাগছে অবশ্য। নদীর সাথে পাহাড়ের সাথে কথাবার্তা অনেক জবরদস্তি মনে হইছে। কিন্তু চেলুর সাথে, টুকির সাথে কথাবার্তা, এইসব ভাল্লাগছে।
ক্লাসিক না হয়ত, কিন্তু শীর্ষেন্দু এটা নিয়ে পড়ে থাকলে একটা বেশ বই হইতে পারত। মনে হয়। কী জানি।
আমি কম জানি এম্নিতেই
Displaying 1 - 8 of 8 reviews