বিলাসী খালের পারের দিকে তাকিয়ে গোড়ায় তেমন কিছুই দেখতে পায়নি। অন্য সময়ের মতোই একেবারে শান্ত জঙ্গল। তার পর ছোটো এক হেঁতাল-ঝাড়ের দিকে চোখ পড়তে চমকে ওঠার পালা। কী ভয়ানক! হালকা ঝোপের ভেতর মস্ত এক ডোরা-কাটা বাঘ। জিবের ডগা দিয়ে টপটপ করে লালা গড়াচ্ছে। ঝোপের আড়াল থেকে শ্যেন-দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ওদের দিকে। দুই চোখে আগুন ছুটছে যেন...
শিশির বিশ্বাসের কলমে জল, জঙ্গল ও নরখাদকের এমনই দুরন্ত সতেরোটি কাহিনি সংকলিত হল 'জল জঙ্গল নরখাদক সমগ্র'-র এই তৃতীয় খণ্ডে।
জন্ম ৫ জানুয়ারি ১৯৪৯। অবসরপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সরকারি আধিকারিক। প্রথম প্রকাশিত গল্প মৌচাক পত্রিকায়। কর্মক্ষেত্রে ব্যস্ততার কারণে সাহিত্যচর্চা অনিয়মিত। তবুও যখনই সুযোগ হয়েছে কলম ধরেছেন ছোটোদের জন্য। হাসির গল্প থেকে শুরু করে সুন্দরবনের কাহিনি, রোমহর্ষক অ্যাডভেঞ্চার, ভৌতিক-অলৌকিক, এমনকি ঐতিহাসিক গল্প-উপন্যাসও। এ পর্যন্ত শুকতারা, সন্দেশ, কিশোর ভারতী, আনন্দমেলা, আমপাতা জামপাতা, মায়াকানন, ঝালাপালা, শিশুমেলা, রঙবেরঙ প্রভৃতি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত গল্প ও উপন্যাসের সংখ্যা কয়েক শত।
প্রথম গ্রন্থ ‘নিউস্ক্রিপ্ট’ প্রকাশিত ‘বাঘবন্দি মন্তর’। তারপর একে একে প্রকাশিত হয়েছে আরও বহু গ্রন্থ। তার কয়েকটি: ‘শিশু সাহিত্য সংসদ’ প্রকাশিত আমবাগানের পদ্মগোখরো, মৃন্ময়ী মন্দিরের তোপদার, সোনার পাহাড়, পাথরের চোখ, জনাইগড়ের জঙ্গল রহস্য। এছাড়া গ্রন্থ প্রকাশ করেছে দেব সাহিত্য কুটির, নির্মল বুক এজেন্সি, মায়াকানন, জয়ঢাক, নৈর্ঋত, অরণ্যমন প্রভৃতি প্রকাশন সংস্থা। তার সাম্প্রতিক কয়েকটি: নিশুতি রাতে আসে, সাঁঝরাতের অন্ধকারে, জল জঙ্গল নরখাদক সমগ্র ১ম খণ্ড, মৃত্যু যখন ডাক দেয়, বাদাবনে আতঙ্ক, হঠাৎ এল হার্মাদ, বর্মার অন্ধকারে, মায়ংয়ের মন্ত্র, সাক্ষী ছিলেন পূর্ণচন্দ্র প্রভৃতি।
বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রিয় সব গল্প নিয়ে প্রিয় সংকলন জল জঙ্গল নরখাদক সমগ্র। পুরো ২০২৫ সালটা ধরে সিরিজের এই তৃতীয় খন্ড নিয়ে নাড়াচাড়া করেছি। অবসর সময়ে একটা দুটো গল্পে ডুবও মেরেছি। কিছু গল্প আবার একাধিকবারও পড়েছি। এবছর চতুর্থ খন্ড নিজের সংগ্রহে সংযুক্ত করে তবেই এ খানার ইতি টানলাম। খুব শীঘ্রই পঞ্চম খন্ড চাই।
শিশির বিশ্বাসের লেখা কখনো খারাপ লাগেনা। সুন্দরবনকে ঘিরে হোক বা অন্য কোনো পরিবেশকে ঘিরেই হোক - তাঁর ছোটোগল্পগুলো বোর হওয়ার সুযোগ দেয়না। অল্প কথায়, কয়েক পৃষ্ঠাতেই সাসপেন্স নিয়ে আসতে পারেন। তথ্য কিংবা হিউমার - কোনোটাই বেশি হয়না।
বাকি দুই খন্ড পড়েছি। তৃতীয়টাও সেরে ফেললাম। 'বাঘিনী', 'পাইথন পেরুমল', 'কুঁজোখালির কাঁটা', 'পাখিরালার গল্প', 'সর্পকান্ড শিলং-এ' ও 'জঙ্গলের গভীরে ভূতেরচর' - এই গল্পগুলোকে এগিয়ে রাখলাম। রেটিং ৪/৫।