রাক্ষসদের রাজত্বে চলছে রাজনৈতিক পালাবদলের ষড়যন্ত্র, আর তার প্রভাব সরাসরি এসে পড়ছে সমরগরিমার মানুষ আর অর্ধরাক্ষসদের দুনিয়ায়। ওদিকে চুপ করে বসে নেই ঐশিকরাও। প্রলয়যোদ্ধার হিমশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য তাঁরা তৈরি করছেন এক অলৌকিক শক্তিসম্পন্ন অগ্নিদানবকে। এই দানবের সঙ্গে সম্মুখসমরে দাঁড়ানোর ক্ষমতা আছে একমাত্র অভীর, কিন্তু তাহলে দুর্ধর্ষ শৈত্যের সঙ্গে দুর্নিবার অগ্নির এই অকল্পনীয় সংঘাতে অনিবার্য হয়ে উঠবে সর্বধ্বংসী প্রলয়। মহাবীর বজ্রধরের রেখে যাওয়া সমরগরিমা আয়তন সম্মুখীন হতে চলেছে সেই অমোঘ নিয়তির। শিবের পাশুপতে ভর করে মৃত্যু আসছে সেখানে সকলের জন্য; প্রলয়ের রক্তমেঘ ছেয়ে ফেলেছে সমরগরিমার আকাশ, আর তারই মধ্যে কেউ সুযোগ খুঁজছে ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার, আবার কেউ সন্ধান করে ফিরছে হারিয়ে যাওয়া ভালোবাসার। প্রলয়যোদ্ধা অভীর দুঃসাহসিক অভিযানের তৃতীয় তথা শেষ পর্বে মহাপ্রলয় আসছে সমগ্র মায়াজগতের ধ্বংসের বার্তা নিয়ে। অভী নিজেও খুব ভালো করেই জানে, এই ভয়াবহ পরিণামকে আটকানোর ক্ষমতা ত্রিভুবনে কারও নেই। কিন্তু তারপর? সর্বগ্রাসী প্রলয়ের পরে আর কিছু কি বাকি থাকে?
সৌম্যসুন্দর মুখোপাধ্যায়ের জন্ম মেদিনীপুর শহরে ১৯৮৫ সালে। ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র। পেশায় স্কুলশিক্ষক। নেশায় পাঠক। দুঃসাহসে লেখক। লেখেন মূলত কল্পবিজ্ঞান ও ফ্যান্টাসি। বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষাতেই লেখালিখি করছেন দেশ ও দেশের বাইরের বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও গল্প-সংকলনে। বাংলায় তাঁর ফ্যান্টাসি-অ্যাডভেঞ্চার উপন্যাস ‘প্রলয়যোদ্ধা’ ইতিমধ্যেই পাঠকমহলে সমাদৃত হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া এবং আমেরিকার একাধিক স্পেকুলেটিভ সংকলন ও পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে বেশ কিছু গল্প। হলিউডে অনুষ্ঠিত কল্পসাহিত্য প্রতিযোগিতা এল. রন হাবার্ডের নামাঙ্কিত ‘রাইটার্স অব দ্য ফিউচার’-এ একমাত্র ভারতীয় হিসাবে পরপর তিন বছর পেয়েছেন ‘অনারেবল মেনশন’-এর সম্মান। ভালোবাসেন বেড়াল, ব্যাটম্যান, সুকুমার রায় এবং নলেন গুড়ের সন্দেশ।
শেষ হল 'প্রলয়'-ট্রিলজি। কেমন লাগল বইটা, বা বইতিনটি? বাংলায় ফ্যান্টাসি লেখার সময় লেখকের মনের মধ্যে যে কথাগুলো ঘুরপাক খায়, তাদের অন্যতম হল~ পাঠক একে রূপকথা ভাববেন না তো? পাঠক যাতে তেমন কিছু ভাবতে না পারেন, তা নিশ্চিত করার জন্য লেখকের হাতে থাকে~ ১. একটি বিস্তৃত ভুবন নির্মাণ— যাতে কাহিনির নিজস্ব যুক্তি ও ক্রম বিশ্বাসযোগ্য উপায়ে পরিবেশিত হয়; ২. কিছু বিশ্বাসযোগ্য ও বাস্তবানুগ চরিত্র নির্মাণ— যাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল নায়কের চরিত্র; ৩. ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও নায়কের আত্মানুসন্ধানকে যথাসম্ভব ফুটিয়ে তোলা। এই ট্রিলজি উপরোক্ত তিনটি শর্তকেই পালন করেছে। এই বই তথা বইতিনটি তাই, আমার মতে, একটি অত্যন্ত উপভোগ্য ফ্যান্টাসিই হয়েছে। তিনটি উপন্যাসের অপেক্ষাকৃত বৃহৎ পরিসরকে কাজে লাগিয়েছেন লেখক। ধূসর ও অন্য নানা রঙের চরিত্ররা তাদের মতো করে সংকটের মোকাবিলা করেছে৷ তাদের সেই সংগ্রামের মধ্য দিয়েই কেউ পেয়েছে রিডেম্পশন, আর কারও জন্য বরাদ্দ হয়েছে রিট্রিবিউশন। সব মিলিয়ে, এই ফ্যান্টাসি ট্রিলজিটি আমার বেশ ভালো লেগেছে। অলমিতি।