স্বাধীনচেতা নির্ভীক এক জেদি মানুষ অ্যালান ওসমান। পথের ধারে একদিন স্বর্ণমুদ্রা কুড়িয়ে পেল। বেচতে গিয়েই পড়ল বিপদে। প্রচণ্ড ক্রোধ আর তলোয়ারে মারাত্মক দক্ষতা তাকে নিয়ে গেল চরম দুর্ভোগের শেষ প্রান্তে। স্বদেশ ইংল্যান্ড ছেড়ে পশ্চিমে রওনা দিল সে, জলদস্যু-অধ্যুষিত সাগর পাড়ি দিয়ে পৌঁছল আমেরিকার এক অজানা বিপদসংকুল সীমান্তে। সেখানে পদে পদে ইন্ডিয়ান, পিস্তলবাজ আর খুনে-ডাকাতের ভয়। পশ্চিমে কীভাবে বসতিস্থাপন শুরু হয়; তার এক শ্বাসরুদ্ধকর কাহিনি।
রওশন জামিল বাবার কাছ থেকে পেয়েছেন লেখালেখির করার অনুপ্রেরণা। জীবনে প্রথম লেখা ক্লাস ফাইভে। স্কুল ম্যাগাজিনে। এর পর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে আবার শুরু পত্রিকায় রিপোর্ট/ফিচার লেখার মধ্যদিয়ে, যখন তিনি মাস্টার্সে পড়েন। লেখালেখির পাশাপাশি তার আরো একটা পেশা আছে সেটা হলো সাংবাদিকতা। স্ত্রী গৃহিণী, দুই সন্তানের জনক তিনি। বড় ছেলে ও ছোট মেয়ে নিয়ে তার পরিবার।
সেবা প্রকাশনীতে তার প্রথম বই বই প্রকাশিত হয় কাজীদার সাথে যৌথ ভাবে ১৯৮৫ সালের জুন মাসে দাগী আসামী-১ দিয়ে। পরবর্তিতে দুইটি কিশোর ক্লাসিক হাকলবেরি ফিন প্রকাশিত হয় ফেব্রয়ারী ১৯৮৬ এবং দ্বিতীয়টি দি ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সী নভেম্বর ১৯৮৭তে প্রকাশিত হয়। এছাড়া শিশু ক্লাসিক পিটারপ্যান-ও তিনি লিখেন ১৯৮৯ সালে।
তিনি ছিলেন ওয়েস্টার্ন সিরিজে একজন সফল লেখক। প্রথম ওয়েস্টার্ন বই "ফেরা" প্রকাশিত হয় ১৯৮৬ সালে। ওসমান পরিবার এবং সাবাডিয়া নামের সাথে আমরা সবাই কম বেশি পরিচিত। সেবা প্রকাশনীতে তার একক ভাবে ৩৫টিরও বেশি ওয়েস্টার্ন বই বের হয়।
১৯৯৪ সাল পর্যন্ত নিয়মিত লিখলেও সে বছর আমেরিকায় প্রবাসী হলে বিরতিতে চলে যান তিনি। তবে সাবাডিয়ার ফেরা, না-ফেরা বই এর মধ্য দিয়ে তিনি আবার লেখায় ফিরেন ২৪ বছর পর ২০১৮ সালে। আর এর আগে ২০১২ সালের ঈদসংখ্যা ইত্তেফাকে ওসমান পরিবারকে ফিরিয়ে আনেন "সেই ওরিন ওসমান" নামে একটি উপন্যাসিকার মাধ্যমে।
সিরিজের মাঝের দুইটা বই পড়া হলেও প্রথম বইটা এতদিনে পড়া হলো। উসমান পরিবারের উত্থান এই বইয়ের মাধ্যমেই । সিরিজের বাকি বইগুলো পড়ার ইচ্ছা রইলো ইন শা আল্লাহ সুযোগ পেলে পড়বো ।
বেওয়েস্টার্ন এর সংস্করণটা পড়লাম। আহামরি কিছুই মনে হয়নি। নাকি সময়টাই পালটে গেছে? এখনকার সাথে কাহিনিটা যায় না! সেবা প্রকাশনীর সংস্করণে আলাদা কিছু ছিল কিনা জানা নেই। না থাকলে হতাশা আরও বাড়বে, কেননা সম্পাদনার অংশে আশাহত।
অনেক দিন পর আবার ছেলেবেলায় ফিরে গেলাম। বইটা ওয়েস্টার্ন জনরার হলেও কন্টেম্পোরারি ওয়েস্টার্ন না এটা। আমেরিকায় ইউরোপিয়ানদের বসতি স্থাপনের প্রথম দিককার ঘটনা। বইয়ের প্রায় অর্ধেকই ইংল্যান্ডের ঘটনায় পূর্ণ। বইটা পড়ার সময় কেন যেন বার বার মার্ক টোয়েনের টম স্যয়ার আর হাকলবেরি ফিনের স্বাদ পাচ্ছিলাম। একটা অন্যরকম সুখপাঠ্য ওয়েস্টার্ন।
আমার প্রথম পড়া ওয়েস্টার্ন। ওয়েস্টার্ন শুনলে মনের মাঝে উঁকি দেয় পশ্চিম প্রান্তর, কাঠের সরাইখানা, ধুলোমলিন রাস্তা, গোলাগুলি কিংবা ধুন্ধুমার ঘোড়ায় লড়াই। এসব তেমন চোখে পড়েনি কাহিনীতে বরং পশ্চিমে যাওয়ার প্রেক্ষাপট ফুটে উঠেছে অ্যালান ওসমানের একচ্ছত্র প্রচেষ্টায়। গতানুগতিক ওয়েস্টার্ন থেকে বেরিয়ে ক্লাসিক গল্পের ধাঁচেই মূল কাহিনী বর্ণিত হয়েছে (যেটা ব্যক্তিগতভাবে আমার পছন্দ হয়েছে)। কাহিনীর ২য় অংশ নীলগিরি-তে শীগ্রই দেখা হবে ওসমান পরিবারের সাথে.. ~ ৪.৫/৫
ওয়েস্টার্ন বলতে যা বুঝায়, বইটা ঠিক তা নয়। বরং ঘটনাপ্রবাহ তারও আগের, যখন পশ্চিমে মানুষের যাত্রা শুরু হয়েছে, কেবল আবিষ্কার করছে নতুন এক মহাদেশ। পড়তে পড়তে মনে হচ্ছিল ওয়েস্টার্নের বদলে হেনরি রাইডার হ্যাগার্ডের কোন অতি সংক্ষিপ্ত উপন্যাস পড়ছি। কিংবা এডভেঞ্চার অব টম স্যয়ার টাইপের কোন বই।
সত্যি বলতে, বইটা উপভোগ্যও লাগে নি ততটা। কেবল ওসমান পরিবার সিরিজটির পরবর্তী বই গুলো দুর্দান্ত, এই রিভিউ শুনেই বইটা পড়ে গেছি।