ভূত কয়প্রকার? ভূত নিয়ে সাহিত্যই বা কতধরণের? মামদো, শাকচুন্নি, ব্রহ্মদৈত্যের মত গ্রামের লৌকিক ভূত, আবার ড্রাকুলা, জম্বির মতো বিদেশি ভূত কিংবা লাভক্র্যাফটের অজানা অভাবনীয় ভূত, যা মানুষের ধারণক্ষমতারই বাইরে। ভূত থাকেইবা কোথায়? কবরস্থান পোড়োবাড়ি ডাকবাংলো হয়ে রাজপ্রাসাদ - সবখানেই তো তার বিস্তৃতি। লীলা মজুমদার কিংবা শীর্ষেন্দুর হাসিখুশি ভূত থেকে সত্যজিৎ হরিনারায়ণের সিরিয়াস ভূত, আবার ভূত সন্ধানী শরদিন্দুর বরদা থেকে প্রেমেন্দ্র মিত্রের মেজোকর্তা, অলগারনন ব্ল্যাকউডের জন সাইলেন্স থেকে হোপ হজসনের টমাস ক্রানাকি - সবাইকে নিয়েই গবেষণা চালিয়েছেন প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত। সেই ভৌতিক গবেষণা কতটা সফল - তার জবাব মিলবে চৌদ্দ পর্বের বইটির পাতায় পাতায়।
পরিষ্কার ছাপায়, শুদ্ধ বানানে, সুন্দর লেখায়, সুদৃশ্য হার্ডকভারে ছাপানো বই যাতে... থোড়-বড়ি-খাড়া আর খাড়া-বড়ি-থোড় ছাড়া কিচ্ছু নেই! এটা কী বই লিখলেন আপনি, প্রসেনজিৎদা? যতরাজ্যের শিশুপাঠ্য এবং পড়ে-পড়ে মুখস্থ হয়ে যাওয়া গল্পগুলোর সারসংক্ষেপ তুলে দিয়ে আপনি কী সাব্যস্ত করতে চাইলেন? প্রাপ্তমনস্ক পাঠকের উপযোগী একটি কাহিনি নিয়েও আলোচনা পেলাম না। ইংরেজিতে অলৌকিক কাহিনির ধারায় আসা পরিবর্তনের কোনো চিহ্ন দেখলাম না। হালের ইউ-টিউব কাঁপানো 'গ্রাম বাংলার ভূতের গল্প' থেকে শুরু করে তান্ত্রিক হরর, বা গজেন্দ্রকুমার মিত্রের মনস্তত্ত্ব-প্রধান আখ্যান, মনোজ সেনের অসামান্য 'কালরাত্রি' বা তারানাথের রাশি-রাশি ক্লোন— এ-সব নিয়ে কিছুই পেলাম না। এটা কী... কী লিখলেন আপনি?!? এই বইয়ের ভূত আছে কি না জানি না; তবে এর কোনো ভবিষ্যৎ নেই। দ্যুৎ!
এক্সপেক্টেশন পূরণ হয়নি। 'ভূতের গল্পের ভূত ভবিষ্যৎ' কিছুটা ছন্নছাড়াই মনে হয়েছে। লেখক রেন্ডমলি বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন ভৌতিক গল্প এনে সেগুলোকে দুচার লাইনে বর্ণনা করে ছেড়ে দিয়েছেন। বাংলায় ভৌতিক সাহিত্যের ইতিহাস, ভৌতিক সাহিত্যের প্রকারভেদ, বিবর্তন এসব নিয়ে ভালোমানের লেখা আশা করেছিলাম, সেটা পূরণ হয়নি। একগাদা ভূতের গল্পের চার পাঁচ লাইনের জিস্ট বলাটা তো আহামরি কিছু না। সেটাকে গবেষণা বলা যায়না। আর অধ্যায়গুলোও খাপছাড়া। কখনো ডাকবাংলো, কখনো লীলা মজুমদার, কখনো যম দত্ত - সুনির্দিষ্ট প্যাটার্ন নেই। লাভের মধ্যে কিছু অজানা ভালো ভূতের গল্পের নাম পাওয়া গেছে।