মহান রব অফুরন্ত ভালোবাসায় মানুষকে সৃষ্টি করেছেন সুনিপুণ অবয়বে। মানুষের আরাম-আয়েশ ও শান্তিপূর্ণ জীবনের জন্য দুনিয়াকে সাজিয়েছেন অসীম নিয়ামতে। সম্পদ, ঐশ্বর্য, সন্তানাদি ও পরিবার-পরিজন দিয়ে তাকে আবৃত্ত করেছেন এক মায়ার জালে। এত সব নিয়ামতে যেন মানুষ আত্মভোলা না হয়ে যায়, তাই নিয়তই সতর্ক করে চলেছেন-'এ দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী, এটি একটি পরীক্ষাকেন্দ্র মাত্র'। কিন্তু মানুষ বারবারেই এ ধ্রুব সত্যকে ভুলে নফসের তাড়নায় অন্ধ হয়ে গিয়েছে। জুলুম ও বিদ্রোহ করে বসেছে মহান রবের প্রতি। আবার কতক মুমিন বান্দা মহান রবের গোলামির জন্য বেছে নিয়েছেন কণ্টকাকীর্ণ পথ। মুখ বুজে সয়েছেন শত জুলুম-নির্যাতন। সূরা কাহাফ এমনই কিছু অতীত ঘটনাকে উম্মতে মুহাম্মাদির সমীপে উপস্থাপন করেছে অতি সুনিপুণভাবে। সেই ঘটনাসমূহের ক্লাইমেক্স থেকে মানবজীবনের প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা তুলে ধরতেই আমাদের প্রয়াস সূরা কাহাফ : মানবজীবনের প্রতিচ্ছবি বইটি।
★আলোচনা ও পর্যালোচনাঃ ~~~~~~~~~~~~~~~~~~ রাসুল (সা) প্রত্যেক শুক্রবার আমাদেরকে সূরা কাহাফ পড়ার ও চর্চা করার জন্য উপদেশ দিয়েছেন। এটি দাজ্জালের ফিতনা থেকে রক্ষা করবে যা কিয়ামতের পূর্বের বড় ফিতনাগুলোর মধ্যে অন্যতম। সুধু কি এই কারণেই রাসুল (সা) আমাদেরকে এই সূরা প্রতি শুক্রবার পড়তে বলেছেন? নাকি এর পিছনেও কোনো গূঢ় রহস্য বা কারণ আছে?
অবশ্যই আছে। সুরাটিতে উল্লেখিত চারটি ঘটনা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে যে শিক্ষাগুলো পাওয়া যায় তা মানবজীবনে প্রতিফলিত করলে ছোট ছোট যে ফেতনাগুলো আছে সেগুলো থেকেও মুক্ত থাকা যাবে ইনশাআল্লাহ । আমাদের জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে ভাবে জড়িত বিভিন্ন বিষয় ও সমস্যার দিকনির্দেশনা প্রতিফলিত হয়েছে সুরা কাহাফে যা লেখিকা অত্যান্ত বিচক্ষণতার সাথে আমাদের মাঝে তুলে ধরেছেন। ইনশাআল্লাহ বলার প্রয়োজনীয়তা,জ্ঞান সম্পদের বড়াই থেকে রক্ষা,আল্লাহ যতটুকু জানাতে চান সেই নিয়েই সন্তুষ্ট থেকে বেশি ঘাটাঘাটি না করা,আল্লাহর প্রতি শোকরগুজারী ও বিনয়ী থাকা প্রভৃতি আরো অনেক বিষয় সুরা কাহাফের আলোকে আলোকপাত করা হয়েছে বইটিতে।
সুরা কাহাফে বর্ণিত চারটি ঘটনাগুলো হচ্ছে-- ১) "আসহাবুল কাহাফ" গুহাবাসী যুবকদের ঈমানী পরিক্ষা ২) দুই প্রতিবেশি বন্ধুর সম্পদ ও সন্তানের পরিক্ষা ৩)মুসা ও খিজির (আ.) এর জ্ঞানের পরিক্ষা ৪)ক্ষমতাসীন জুলকারনাইনের ক্ষমতার পরিক্ষা
আল্লাহ এই দুনিয়ায় আমাদের জ্ঞান,সম্পদ,ক্ষমতা,সন্তান-সন্ততি ইত্যাদি দিয়ে পরিক্ষা করেন। সেই পরিক্ষায় তারাই উত্তীর্ণ হয় যারা প্রকৃতপক্ষে মুত্তাকী ও সবরকারী। আল্লাহ তার প্রিয় বান্দাদের তার পবিত্র গ্রন্থ আল কুরআনের মাধ্যমে সবার কাছে পরিচিত ও সম্মানিত করেছেন। এভাবেই তিনি মুত্তাকীদের দুনিয়ায় ও আখিরাতে সম্মানিত করেন ও উত্তম প্রতিদান দেন।
★পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ ~~~~~~~~~~~ বইটির জন্য লেখিকার সূক্ষ্ণদর্শিতার ও গভীরভাবে অনুধাবনের প্রশংসা করতেই হয়। কেননা বইটা পড়ার পর আপনার সূরা কাহাফের প্রতি ধারণা সম্পূর্ন পালটে যাবে। এত সুন্দর করে প্রতিটা কাহিনির সংক্ষিপ্ত বর্ণনা ও তা থেকে মানবজীবনের সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন সমস্যা ও সে থেকে পরিত্রানের উপায়,শিক্ষনীয় দিকগুলো চমৎকারভাবে উপস্থাপন করেছেন লেখিকা। লেখনশৈলী সাবলীল,সহজ ও গোছানো হওয়ায় পড়তে বিন্দুমাত্র বিরক্ত লাগেনি। কুরআন কেবলমাত্র তেলাওয়াত করে আর অর্থসহ পড়লেও অনেক কিছু আমরা বুঝতে পারিনা যদি না সেটা নিয়ে চিন্তাভাবনা করি। বইটি আমাকে কুরআন অর্থসহ পড়ার, আয়াতগুলো ও ঘটনাগুলো নিয়ে চিন্তা করার আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। বইতে উল্লেখিত প্রতিটি ঘটনার শিক্ষাগুলোকে জীবনে কাজে লাগাতে হবে,মস্তিষ্কে গেঁথে ফেলতে হবে প্রতিটি উপদেশ। বইটি পড়ার পর প্রচন্ড আশ্চর্যান্বিত হয়েছি এত সুক্ষ্ণ ব্যাপারগুলো লেখিকা কি সুন্দরভাবে অনুধাবন করেছেন। দোয়া করি আল্লাহ তার জ্ঞানে অনেক অনেক বারাকাহ দান করুন যেনো বাকি সুরাহগুলোও তিনি আমাদের সামনে এভাবে তুলে ধরতে পারেন।এবং আমাদেরকেও কুরআন বুঝে,চিন্তাকরে পড়ার ও অনুধাবন করার তাওফিক দান করুন।
★প্রচ্ছদ ও প্রোডাকশনঃ ~~~~~~~~~~~~~~~ বইটির প্রচ্ছদ আমার কাছে দারুন ও আকর্ষনীয় লেগেছে। কালার কম্বিনেশনটা অনেক সুন্দর,কেমন যেনো একটা মায়া মায়া ভাব । সেই সাথে বইয়ের বাইন্ডিং ও পেজগুলোর কোয়ালিটিও ভালো ছিলো।