মূলত পাশ্চাত্য শিক্ষার আনুকূল্যে উনিশ শতক বাঙালি সমাজের সার্বিক উত্থানের কাল হয়ে উঠেছিল। অবশ্য এর পাশাপাশি সমাজঅভ্যন্তরে অনাচারের একটি চোরা-স্রোতও বহমান ছিল। ভুঁইফোঁড় নব্যধনী এবং সেইসঙ্গে শিক্ষিত সম্প্রদায়ের একাংশের মধ্যেও চারিত্রিক স্থলিন দেখা দেয়। এমন কী সমাজের নেতৄ স্থানীয় খ্যাতিমান ব্যক্তিবর্গের কেউ কেউও এই নৈতিক স্থান থেকে মুক্ত ছিলেন না । সুরাপান, বেশ্যাসক্তি ও রক্ষিতা-পােষণ সেকালে একধরনের সামাজিক স্বীকৃতি লাভ করেছিল। কোন কোন ক্ষেত্রে গণিকাচর্চা গৌরব ও মর্যাদার প্রতীক বলে বিবেচিত হতাে। এই আদিম পেশার সাথে জড়িত হওয়ার পেছনে আর্থ-সামাজিক কারণ তাে ছিলই, তার ওপরে প্রতারণা-প্রবঞ্চনা-প্রলােভনের হাতও ছিল ।। অনেক সম্ভান্ত ঘরের রমণীও অবস্থার শিকার হয়ে বারবনিতার জীবন বেছে নিতে বাধ্য হন। সাধারণত পতিতারা সামাজিকভাবে ঘৃণিতঅবহেলিত হলেও বাংলার সাংস্কৃতিক জগতে তাদের একটি গৌরবময় ভূমিকা ছিল। বিশেষ করে সংগীতে ও থিয়েটারে, আরাে পরে সিনেমায় । ফলে বারবনিতাদের কেউ কেউ জনপ্রিয়তা, আর্থিক প্রতিষ্ঠা ও সামাজিক মর্যাদাও পেয়েছিলেন। তাঁদের কেউ কেউ শিক্ষিতাও ছিলেন, আবার কেউ বা নিজের চেষ্টায় লেখাপড়া শিখেছিলেন। দু'চারজন সাহিত্যচর্চাও করতেন- নিজের জীবনকথাও লিখেছেন। এ-সব রচনায় পতিতাদের জীবনের অন্তরঙ্গ কাহিনী তাঁদের ঘরােয়া জীবনের চালচিত্র প্রতিফলিত হয়েছে। এই ধরনের আত্মকথা সময়ের বিশ্বস্ত সামাজিক দলিল হিসেবে বিবেচনার যােগ্য। অন্ধ গলির নারকীয় ভুবনের এ-সব কাহিনী নাটকীয় ঘটনায় পূর্ণ, কখনাে বা উপন্যাসকেও হার মানায়। এরকম চারটি বই এখানে সংকলিত হয়েছে : সেকালের বিখ্যাত অভিনয়শিল্পী নটী বিনােদিনীর আমার কথা (১৩১৯), মানদা দেবীর শিক্ষিত পতিতার আত্মচরিত (১৩৩৬), রমেশচন্দ্র মুখােপাধ্যায়ের