গিরিশ ঘোষের লেখার হাত ভালোই ছিল। একজন দারোগার অভিজ্ঞতা এমনিতেই বৈচিত্রপূর্ণ, তার উপর তিনি লিখেছেন ঊনবিংশ শতকের অভিজ্ঞতার কথা, চোর, ডাকাতদের সাথে সাথে নীলকর আর মুর্শিদাবাদের নবাব পরিবারে চাকরীর অভিজ্ঞতার কথাও আছে এই বইয়ে। লেখক নিজেও ইতিহাস সংরক্ষনের কথা ভাবতেন, নিজেও তার সময়ের কথা লিখে সে আমলের ইতিহাস আমাদের জন্য রেখে গেছেন। যদিও ঘুষ বা ইংরেজদের প্রতি অতিরিক্ত ভক্তি বিষয়ে তার মনোভাব সমালোচনার যোগ্য, নীলকরদের দোষের চাইতে গুণের বর্ণনাও একটু চোখে লেগেছে। তবু সবমিলিয়ে ভালো লাগার মতোই। বাংলা সাহিত্যের এ এক অমূল্য সম্পদ।
আগ্রহোদ্দীপক বই। ঊনবিংশ শতাব্দীর কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে এক পুলিশ কর্মকর্তার স্মৃতিচারণ। পশ্চিমবঙ্গের একাংশে পুলিশ, ইংরেজ শাসক, জমিদার আর প্রজাবর্গের চরিত্র সম্পর্কে খানিকটা জানা যাবে বইটা পড়লে। কিছু উপাখ্যান সম্ভাব্য গল্পের আকর হতে পারে।
উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে লেখক ছিলেন একজন দারোগা । এই দারোগা জীবনের নানাবিধ অভিজ্ঞতা নিয়ে এই বইটি লেখা । পুলিশীসূত্রে তাঁকে কাজ করতে হয়েছে নবদ্বীপ,কৃষ্ণনগর , মুর্শিদাবাদ প্রভৃতি জায়গায় এবং তৎকালীন সমাজের বিভিন্নস্তরের ও বিভিন্ন পদের মানুষের সাথেই কাজ করতে হয়েছে। সেইদিক থেকে বইটি হয়ে উঠছে সেইসময়কার ইংরেজ আমলের এক অসামান্য সামাজিক নথি । নীলকুঠির সাহেবদের সম্পর্কে এখানে চিরাচরিত ধারনার বাইরে কিছু ধারনা পাই ।