একাত্তরের অব্যবহিত পরে জন্ম নেওয়া পিতৃপরিচয়হীন একটি শিশুর প্রতিকূল সমাজবাস্তবতায় মনস্তাত্ত্বিক ঘাতপ্রতিঘাতে বেড়ে ওঠা দিয়ে উপন্যাসের শুরু। যার মা যৌবন বিরূপ প্রতিবেশের মাঝে স্বেচ্ছামৃত্যু বেছে নিয়েছে উদ্বন্ধনে। তার জন্ম থেকে বড় হয়ে ওঠার পুরো সময়কার শুধু নিগৃহীত হবার বিবর্ণ ঘটনায় ভরপুর। সে কখনো রুখে দাঁড়াতে, প্রতিরোধ করতে কিংবা প্রতিকার চাইতে শেখে নি। নির্যাতন এবং বঞ্চনাকে সে ললাট লিখনের মতো অমোঘ বলে মেনে নিয়েছে। কিন্তু সহ্যশক্তির পরীক্ষায় শেষপর্যন্ত সে হেরে যায়। বাঁচার রাস্তা খোঁজে। নিজের ভিতর অন্তত নিগৃহীত হবার কারণ কিংবা উত্তর খুঁজতে গিয়ে বুঝতে পারে পিতৃপরিচয়হীন বলেই সে বর্তমান অবস্থার শিকার। পুরো উপন্যাসে তার সমান্তরালে বিন্যস্ত হয়েছে মধ্যযুগের কবি শুকুর মামুদের ‘গুপিচন্দ্রের সন্ন্যাস’ আখ্যানটি। গুপচন্দ্রের পিতৃপরিচয় জানার আকুলতার সঙ্গে মিশে যায় একাত্তরের যুদ্ধশিশুর আকুলতা ও দীর্ঘশ্বাস। প্যারালাল টেক্সট-এর প্রকরণে নির্মিত এই উপন্যাস বাংলা কথাসাহিত্য সম্পর্কে পাঠককে নতুনভাবে আশাবাদী করে তুলবে বলে আমাদের বিশ্বাস।
জন্ম ২০ জনুয়ারি ১৯৬৫, নাটোরে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে স্নাতক। স্নাতকোত্তর ডিগ্রী স্বাস্থ্য অর্থনীতিতে। সমকালীন মূলধারার বাংলা কথাসাহিত্যে তাঁর অপরিহার্যতা ইতোমধ্যেই প্রতিষ্ঠিত। অনবরত বাঁকবদল তাঁর সাহিত্যিকতার প্রধান বৈশিষ্ট। বিষয় ও আঙ্গিকে, মাধ্যম ও প্রকরণে তাঁর স্বাতন্ত্র্যচিহ্নিত অবস্থান সকল মহলেই স্বীকৃত। পেয়েছেন বাংলা একাডেমিসহ দেশের প্রধান প্রায় সকল সাহিত্য পুরস্কার।
এ উপন্যাস এগিয়েছে পাশাপাশি দুটি আখ্যান নিয়ে। একটি লেখা হয়েছে মধ্যযুগের কবি শুকুর মাহমুদের কাব্য গুপিচন্দ্রের সন্ন্যাস অবলম্বনে, টানা পড়ে গিয়েছি - কী অসাধারণই না এর আখ্যান, লোকায়ত মিথ আর জীবন মিলেমিশে মশগুল। প্রাপ্তবয়ষ্কদের এ কাহিনী যে জাকির তালুকদার পুনর্কথন করলেন, তার আঙ্গিক একেবারে শিশুপাঠ্য সাহিত্যকণিকার মত ঠেকেছে, পরিণতির দিকে যাবার ঝোঁক সর্বদেহ জুড়ে - দুর্দান্ত আখ্যানটিতে প্রাণ কোনো মতেই প্রতিষ্ঠা পায়নি হয়তো সেজন্যই। সাহিত্যে পূর্বসৃষ্ট কোনো চরিত্র কীভাবে ম্যাড়ম্যাড়ে হয়ে যায় - কুরসিনামার গুপিচন্দ্র তার উদাহরণ। একইভাবে অপর আখ্যানে যুদ্ধশিশু দুলালের যে গল্প আমরা পাই: সেটি হৃদয়বিদারক ও বিবর্ণ, বিবর্ণ এই কারণে যে দুলাল আমাদের অচেনা কেউ নয় কিন্তু কুরসিনামায় তার চলাফেরা দাঁড়িয়েছে ডকুমেন্টারির সাক্ষাৎকারদাতার মতো, যেন সাংবাদিক খুব ব্যস্ত - দুলালের কথা গহন মনযোগে শুনছেন না তিনি, একটা কথা শেষ না হতেই নয়া প্রশ্ন করছেন এইরকম।
সুতরাং কুরসিনামাকে সার্থক উপন্যাস বলা কঠিন আমার জন্য। তবু যা বলার: সবমিলিয়ে এ বই সুখপাঠ্য। গুপিচন্দ্রের সন্ন্যাস কাব্যটি সমস্তপাঠের ইচ্ছে জেগে উঠবে শেষান্তে - আহা, এইরকম কাহিনী কি হারিয়ে যেতে পারে?
একাত্তরের অব্যবহিত পরে জন্ম নেওয়া পিতৃপরিচয়হীন একটি শিশুর প্রতিকূল সমাজবাস্তবতায় মনস্তাত্ত্বিক ঘাতপ্রতিঘাতে বেড়ে ওঠা দিয়ে উপন্যাসের শুরু। যার মা যৌবন বিরূপ প্রতিবেশের মাঝে স্বেচ্ছামৃত্যু বেছে নিয়েছে উদ্বন্ধনে। তার জন্ম থেকে বড় হয়ে ওঠার পুরো সময়কার শুধু নিগৃহীত হবার বিবর্ণ ঘটনায় ভরপুর।
সে কখনো রুখে দাঁড়াতে, প্রতিরোধ করতে কিংবা প্রতিকার চাইতে শেখে নি। নির্যাতন এবং বঞ্চনাকে সে ললাট লিখনের মতো অমোঘ বলে মেনে নিয়েছে। কিন্তু সহ্যশক্তির পরীক্ষায় শেষপর্যন্ত সে হেরে যায়। বাঁচার রাস্তা খোঁজে। নিজের ভিতর অন্তত নিগৃহীত হবার কারণ কিংবা উত্তর খুঁজতে গিয়ে বুঝতে পারে পিতৃপরিচয়হীন বলেই সে বর্তমান অবস্থার শিকার।
বইটিতে মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তি একটা পরিস্থিতির কথা বলা হয়েছে । যেখানে বীরঙ্গনাদের কোন ঠাই নেই । তারা যে আত্মত্যাগ করেছে সেটাই তখন তাদের বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে । তাদের আত্মত্যাগ শুধু মাত্র দেশের জন্য দেশের মানুষের জন্য নয় । কারণ দেশের মানুষ বীরঙ্গনাদের মেনে নিতে পারেনি ।
"জাকির তালুকদার" এর লেখা পড়া শুরু করলাম "কুরসিনামা" বইটি দিয়ে।প্যারালাল টেক্সট এর প্রকরণে নির্মিত এই উপন্যাসটি দারুণ লেগেছে আমার।
ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত বলেই জীবন এত রোমাঞ্চকর। ত্রিকালদর্শী হয়ে উঠলে আর সেই রোমাঞ্চকর অনুভূতি থাকেনা।অমরত্বে পৌঁছেই গুপিচন্দ্র বুঝতে পেরেছে,মৃত্যু আছে বলেই জীবনের রূপ- রস-গন্ধ এত মধুর, এত মূল্যবান। পুরো উপন্যাসে পিতৃ পরিচয়হীন যুদ্ধ শিশু দুলালের সমান্তরালে বিন্যস্ত হয়ে উঠেছে মধ্যযুগের কবি শুকুর মামুদের "গুপিচন্দ্রের সন্ন্যাস" আখ্যানটি। গুপিচন্দ্রের পিতৃপরিচয় জানার আকুলতার সঙ্গে মিশে যায় একাত্তরের যুদ্ধ শিশুর আকুলতা ও দীর্ঘশ্বাস। এই উপন্যাস আমাদের এমন এক সত্য ও বাস্তবতার মুখোমুখি দাড় করায়, যে সত্য সহ্য করার ক্ষমতা সকলের থাকেনা।🫠
পার্সোনাল রেটিংঃ ৪.৫/৫✅
🔴বইঃ কুরসিনামা 🔵জনরাঃ সমকালীন উপন্যাস 🟢লেখকঃ জাকির তালুকদার ⚪প্রকাশনীঃ কবি প্রকাশনী