মৃত্যুর পর একগলা আগুনের ভিতর বাবাকে চলে যেতে দেখে সমস্ত মোহ, সব রোমান্টিকতা কেটে গিয়েছিল বিশ্বরূপের। কিন্তু সোহাগিনী নামের একটি মেয়ে, যাকে ‘গিনি’ বলে ডাকে সবাই, ওর জীবনে ফিরিয়ে নিয়ে আসে রং। বাংলা কবিতার রাজনীতি আর ব্যক্তিগত সংকটের ঘূর্ণাবর্তে টালমাটাল বিশ্বরূপের চোখে গিনি হয়ে উঠল সেই রংমশাল, যা প্রত্যেকটা অন্ধকার রাত্রিকে হাজার ওয়াট আলোয় উজ্জ্বল করে তোলে। বিশ্বরূপ তাই ওকে আঁকড়ে ধরল প্রাণপণে। কিন্তু সমস্ত প্রাণময় শরীর যেমন ভিতরে বহন করে মৃত্যুর বীজ সমস্ত সম্পর্ক কি লালন করে বিচ্ছেদ? তা না হলে হঠাৎ করে কেন পালটে যায় গিনির ব্যবহার? নিজে এগিয়ে এসে যে-সম্পর্ক তৈরি করেছিল, সেই সম্পর্ক থেকে কেন নিজেকে সরিয়ে নিতে যায় সে? কিছু বুঝতে না পেরে বিশ্বরূপ যখন বেঁচে থাকার প্রতিজ্ঞা আর আত্মহত্যার ইচ্ছের ভিতর লাট খেতে থাকে, তখন হঠাৎ ওর মনে পড়ে যায় গিনির মুখে শোনা রবীন্দ্রনাথের একটি কবিতা। সেই কবিতার স্পর্শে ওরা কি দু’জনেই খুঁজে পায় পথের শেষ কিংবা সম্পর্কের অন্যরকম আরম্ভ?
বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম কলকাতায়। বাবা খ্যাতনামা সংস্কৃত পণ্ডিত, স্বর্গীয় পরেশনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়; মা গৌরী বন্দ্যোপাধ্যায়। পিতৃকুল নিঃসম্বল উদ্বাস্তু, মাতৃকুল মলুটির রাজপরিবার। প্রথম কবিতা প্রকাশ পায় সাউথ পয়েন্ট স্কুল ম্যাগাজিনে। প্রথম গল্প ‘উনিশ-কুড়ি’ পত্রিকায়। প্রথম উপন্যাস, শারদীয় ‘দেশ’ পত্রিকায়, ২০০৭ সালে। লিখেছেন কবিতা, গল্প, উপন্যাস ও প্রবন্ধ। কবিতার জন্য পেয়েছেন কৃত্তিবাস পুরস্কার, বাংলা আকাদেমি শক্তি চট্টোপাধ্যায় পুরস্কার, ভাষানগর পুরস্কার ইত্যাদি। গদ্যের জন্য পেয়েছেন শর্মিলা ঘোষ স্মৃতি পুরস্কার। লিখতে ভালবাসেন এমন লেখা যা আমরা পড়তে চাইলেও লেখার সাহস পাই না। আইওয়া আন্তর্জাতিক লেখক শিবিরে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছেন ২০১৪ সালে। ঠাকুর শ্রীশ্রী দুর্গাপ্রসন্ন পরমহংসদেবের শিষ্য। শখ: নতুন বই, পুরনো গান।