ভারতবর্ষের ইতিহাসে ১৯৪৭-এর দেশভাগ এক মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি। সূত্রপাত অবশ্য আগেই; ১৭৫৭-এর পলাশীর যুদ্ধে । প্রথম সেই ট্র্যাজেডিরই পরিণতি দ্বিতীয় ট্র্যাজেডি। দেশভাগের মূল দায়িত্ব ব্রিটিশ শাসকদেরই; কলকাঠি তারাই নেড়েছে; তবে ভারতীয় নেতারাও যে দায়ী ছিলেন না এমন নয়। এই নেতাদের ভেতর প্রধান ছিলেন মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী ও মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। তাঁদের মধ্যে দূরত্ব ও বিরোধ ছিল; কিন্তু আবার নৈকট্যও ছিল। উভয়েই ছিলেন জাতীয়তাবাদী; এবং তাঁদের জাতীয়তাবাদ যদিও পরস্পরবিরোধী ছিল; তবু তাঁরা ঐকমত্য ছিলেন এক ব্যাপারে; সেটা হলো সামাজিক বিপ্লবকে প্রতিহত করা। গান্ধী ও জিন্নাহর চিন্তা, অবস্থান ও ভূমিকা নিয়ে এ বইয়ের আলোচনা উভয় নেতাকে বুঝতে তো বটেই, দেশের ইতিহাসকেও জানতে সহায়ক হবে। গবেষণালব্ধ তথ্যসমৃদ্ধ বইটিতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্নের জবাব যেমন আছে, তেমনি রয়েছে ভাবনা উদ্রেককারী অনেক উপাদানও । সন্দেহাতীতভাবেই এটি একটানা পড়বার এবং পড়ে আনন্দ পাবার মতো একটি প্রকাশনা।
২.৫/৫ নিরপেক্ষতা বজায় রেখে ইতিহাস রচনা ও বিশ্লেষণ দুরূহ কাজ। এ বইতে লেখক নিরপেক্ষ থাকতে চাননি ব্যাপারটা এমন নয় কিন্তু লেখার মধ্যে পক্ষপাতিত্ব ঢুকে গেছে অগোচরে।সাতচল্লিশের দেশভাগে জিন্নাহ'র দায় ও ভূমিকা আলোচনা করতে যেয়ে অন্য সব ক্রিয়াশীল উপাদান (কংগ্রেস, উগ্র হিন্দুত্ববাদ, ব্রিটিশদের "ডিভাইড এন্ড রুল" নীতি) কে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী এতোটাই ক্ষুদ্র করে ফেলেছেন যে পাঠান্তে মনে হবে দেশভাগের দায় একা জিন্নাহ'র। গান্ধীর নৈতিক অবস্থান, পরস্পরবিরোধী কথাবার্তা যতোটা আলোচনায় এসেছে, দেশভাগে তার ভূমিকা ততোটা আসেনি। ইতিহাস জানতে আগ্রহী নতুন পাঠকের প্রচুর ভুল ধারণা পাওয়ার সম্ভাবনা আছে বইটি থেকে। কারণ লেখক যা তুলে ধরেছেন তা অর্ধসত্য আর অর্ধসত্য প্রকারান্তরে এক ধরনের মিথ্যা।
সিরাজুল সাহেব পিসার হেলানো টাওয়ারের মতো সবসময় একটা নির্দিষ্ট দিকে হেলে থেকে ইতিহাস পর্যালোচনা করেন এটা নতুন কথা নয়। তার এই লেখাতেও সেই হেলে থাকার প্রবণতার ব্যত্যয় ঘটেনি।
লেখায় নিরপেক্ষতার অভাব। মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ রে নিয়ে যত বিশ্লেষণ গান্ধীকে নিয়ে তত বিশ্লেষণ করা হয় নি। এক কথায় তথ্য এর ঘাটতি। আরও ভালো বিশ্লেষণের আশা করছিলাম...