মন্দারগড় এক রহস্যময় স্থান, যেখানে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার নেই,এমনকি ম্যাপেও এই জায়গার কোন উল্ল্যেখ নেই। এরকম এক অদ্ভুতুরে জায়গায় নাকি সময়ে সময়ে এক রহস্যময় জোৎস্নার আবির্ভাব হয়। অমাবস্যার কালো চাদরেও নাকি স্নিগ্ধ আলোর রেখা দেখা যায়। এমনকি মন্দারগড়ের আকাশে মাঝেমধ্যে নাকি ইউ.এফ.ও সদৃশ্য বস্তুরও দেখা মিলে।
এরকম এক গোপন অজানা স্থানের সাথেই কৃপানাথের নাম জড়িয়ে যায়। কৃপানাথের বড় ভাই শিবনাথ গুহমজুমদারের এক ডায়েরির সূত্র ধরে এই রহস্যময় স্থান সমন্ধে জানতে পারে কৃপানাথ। গল্পের শুরুতেই দেখা যায় শিবনাথ দুই বছর আগে থেকে নিখোঁজ এমনকি সে বেঁচে আছে কিনা সে বিষয়েও তার পরিবারের লোকজন ওয়াকিবহাল নয়। এরকম অবস্থাতেই কৃপানাথ এক চিঠি পায়, যেই চিঠির সাথে শিবনাথের একটি ডায়েরিও ছিলো। ঐ ডায়েরির সূত্র ধরেই কৃপানাথ মন্দারগড় সমন্ধে এই সব অদ্ভুতুরে তথ্য জানতে পারে এবং আরো জানতে পারে তার ভাই ঐ মন্দারগরের কোন এক রহস্যময় আলোর সন্ধানে ছিলো। অদ্ভুত সব বিষয়ের উপর শিবনাথের ছোট বেলা থেকেই আলাদা আকর্ষণ ছিলো,তার সংগ্রহে নানা বিষয়ের অনেক বইও ছিলো।
এরপর কৃপানাথের মনে কিছু আশার সঞ্চার হয়,সে মনে করে যদি সে এই চিঠি এবং ডায়েরির সূত্র ধরে খোঁজ করে তবে হয়তো সে তার দাদা শিবনাথের খোঁজ পেতে পারে। অতপর ভাবনামত কৃপানাথ তার বন্ধু আনন্দ কে নিয়ে বেরিয়ে পড়ে এক অজানা গন্তব্যের খোঁজে। অনেক খুঁজে খুঁজে অনেক সূত্র এবং তথ্য এক করে তারা এক ধর্মশালায় পৌছায়। সেই ধর্মশালায় গিয়ে পরিচয় হয় কুমারবাবু নামক এক ব্যক্তির সঙ্গে। পুরো কাহিনি কুমারবাবুকে খুলে বলার পর সে কৃপানাথদের সঙ্গী হতে রাজি হয়। তারপর তারা সেই রহস্যময় মন্দারগড়ের জোৎস্না এবং শিবনাথের সন্ধানে এক অ্যাডভেঞ্চার যাত্রার শুরু করে। তারা কি এই রহস্যের কিনারা করতে পেরেছিলো? ঐ রহস্যময় জোৎস্না এবং ইউ এফ ও সদৃশ্য বস্তু আসলে কি? শিবনাথের শেষ পরিনতিই বা কি?
এতসব প্রশ্নের উত্তর লিখিত আছে বিমল করের লেখা কল্পবিজ্ঞান কাহিনী "মন্দারগড়ের রহস্যময় জ্যোৎস্না" বইতে। কাহিনীতে পুরো রহস্যের উন্মোচন হইনি,আমার ধারনামতে বিষয়টি হয়তো কোন গোপন পরমানু প্রজেক্ট নিয়ে।
বিমল করের লেখনি বরবারই ভালো লাগে,এই বইটিও তার ব্যাতিক্রম নয়,বাড়তি বর্ননা নেই। পুরো বই জুড়েই ছিলো এক রহস্যময় আবহাওয়া। দেশীয় প্লটে লেখা এক কল্পবিজ্ঞান। যারা কল্পবিজ্ঞান জনরা পছন্দ করেন তাদের কাছে বইটি ভালো লাগবে।