শিশু-কিশোরসাহিত্যে শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা। ছোটদের জন্য তিনি নির্মাণ করেছেন সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র জগৎ। রসে টইটম্বুর অদ্ভুতুড়ে সেই জগতে হাজির আশ্চর্য সব চরিত্র। তাঁর নিজের কথায়— ‘‘ভূতপ্রেত, বিটকেল আর খিটকেলে লোক, উজবুক আর ভবঘুরে, বোকা আর চালাক, নানা সাইজের দারোগাবাবু, এমনকী রাজাগজা অবধি এসে আমার লেখার পাতায় গ্যাঁট হয়ে বসে যায়।’’ শুধু কি তাই? কাপালিক, মাথাপাগলা লোক, পেটুক, হাড়কিপটে, ভুলোমনের মানুষ— কে নেই তাঁর কিশোর উপন্যাসগুলিতে? তাদের আজব সব কাণ্ড-কারখানা মজিয়ে রাখে ছোটদের, পাশাপাশি রহস্য-রোমাঞ্চের স্বাদ বইয়ের পাতা থেকে চোখ তুলতে দেয় না। শীর্ষেন্দুর রচনায় ভূতেরা প্রবল উপস্থিত, কিন্তু তারা কেউই ভয়ংকর নয়, বরং বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেয়, যে বিপদগ্রস্ত তাকে সাহায্য করে।
‘কিশোর উপন্যাস সমগ্র’ পঞ্চম খণ্ডে রাখা হল:
অষ্টপুরের বৃত্তান্ত, মদন তপাদারের বাক্স, সর্বনেশে ভুল অঙ্ক, ভোলু যখন রাজা হল, হাবু ভুঁইমালির পুতুল, নন্দীবাড়়ির শাঁখ, জং বাহাদুর সিংহর নাতি, আসমানির চর, গড় হেকিমপুরের রাজবাড়়ি, হিরণগড়়ের ব্যাপারস্যাপার।
কৌতুক, রহস্য আর কল্যাণবোধের আলোয় উপন্যাসগুলি উজ্জ্বল হয়ে আছে বাংলা কিশোরসাহিত্যে।
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় একজন ভারতীয় বাঙালি সাহিত্যিক।
তিনি ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির অন্তর্গত ময়মনসিংহে (বর্তমানে বাংলাদেশের অংশ) জন্মগ্রহণ করেন—যেখানে তাঁর জীবনের প্রথম এগারো বছর কাটে। ভারত বিভাজনের সময় তাঁর পরিবার কলকাতা চলে আসে। এই সময় রেলওয়েতে চাকুরিরত পিতার সঙ্গে তিনি অসম, পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের বিভিন্ন স্থানে তাঁর জীবন অতিবাহিত করেন। তিনি কোচবিহারের ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। শীর্ষেন্দু একজন বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। বর্তমানে তিনি আনন্দবাজার পত্রিকা ও দেশ পত্রিকার সঙ্গে জড়িত।
তাঁর প্রথম গল্প জলতরঙ্গ শিরোনামে ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দে দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। সাত বছর পরে সেই একই পত্রিকার পূজাবার্ষিকীতে তাঁর প্রথম উপন্যাস ঘুণ পোকা প্রকাশিত হয়। ছোটদের জন্য লেখা তাঁর প্রথম উপন্যাসের নাম মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি।