সায়েন্স ফিকশন জিনিসটা ঠিক কী? বাংলার 'কল্পবিজ্ঞান'-ই কি সায়েন্স ফিকশন? তা যদি না হয়, তাহলে কেন? এই প্রশ্নগুলো নিয়ে ভাবেননি— এমন পাঠক বাংলায় পাওয়া কঠিন। অথচ তার উত্তরে শুরু হওয়া আলোচনা এত দ্রুত বাদ-বিবাদে পরিণত হয় যে প্রশ্নগুলো সহজ হলেও উত্তর অধরাই থেকে যায়। এই সমস্যাটির সমাধান হয়ে এসেছে আলোচ্য বইটি। এতে অত্যন্ত সহজ ভাষায়, সব ধরনের জার্গন বা '-লজি' বাদ দিয়ে, এক পাঠকের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বুঝতে ও বোঝাতে চাওয়া হয়েছে বিষয়টা। প্রারম্ভিক "উপক্রম অথবা এই বইয়ের বিগ ব্যাং"-এর পর এতে আলোচনা বিন্যস্ত হয়েছে এইক'টি অধ্যায়ে~ ১. সংজ্ঞার সন্ধানে; ২. গোত্রভেদ; ৩. ইউটোপিয়া ও ডিস্টোপিয়া; ৪. গ্রহান্তর-যাত্রা ও ভিনগ্রহী; ৫. পটভূমি পৃথিবী; ৬. শাখাপ্রশাখা; ৭. বিজ্ঞান ও ভূত-টুত; ৮. সায়েন্স ফিকশনের সীমারেখা; ৯. আদর্শ সায়েন্স ফিকশন; শেষে এসেছে 'সহায়ক গ্রন্থ'। কেন এই বইটি, আমার মতে, প্রতিটি কল্পবিজ্ঞান-প্রেমী পাঠকের কাছে অবশ্যপাঠ্য? তার কারণগুলো হল~ প্রথমত, আলোচনার জন্য বিশ্বসাহিত্যের সেরা লেখকদের নানা লেখাকে উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করা হলেও এই লেখার ভিত্তি হলেন খাঁটি বাঙালি লেখকদের নানা ভাবনা। সত্যজিৎ, প্রেমেন্দ্র, সিদ্ধার্থ, অদ্রীশ, রণেন— এঁদের ভাবনার সাহায্যে এই বইয়ে বাঙালির সায়েন্স ফিকশনের একটা প্রামাণ্য চেহারা তুলে ধরা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, বাংলা সায়েন্স ফিকশনের আলোচনাটিকে লেখক শুধুই স্মৃতিমেদুরতায় আবদ্ধ রাখেননি। এই প্রসঙ্গে তিনি একেবারে হালের লেখাপত্রও উল্লেখ করেছেন। এক্ইভাবে, সমসাময়িক লেখা নিয়ে অজ্ঞতার বশে নামজাদা লেখকেরাও কী ধরনের আলগা মন্তব্য করে বসেন, তা তিনি, মোলায়েম ভঙ্গিতে হলেও, দেখিয়েছেন। ফলে এই আলোচনা কোনোমতেই বাস্তব-বিচ্ছিন্ন কোনো গবেষণাপত্র নয়। বরং এ এক সত্যিকারের খোলা মনের অনুসন্ধান। তৃতীয়ত, লেখকের যুক্তি, তর্ক ও গপ্পোগুলো পড়লেই দেখবেন, তিনি আদৌ আপনার ওপর কিছু চাপিয়ে দিতে চাইছেন না। তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে একমত হওয়ার কিছুমাত্র বাধ্যবাধকতা নেই। বরং লেখাটা পড়লে মাথার মধ্যে নতুন করে প্রশ্নেরা মাথা তোলে, নতুন করে পুরোনো ক্লাসিকগুলো পড়তে ইচ্ছে করে— যে উদ্দেশ্য নিয়েই নন-ফিকশন লেখা হয়। চমৎকার লেখা। বইটির ছাপা ও লে-আউটও নয়নসুখকর। তবে আয়তন অনুপাতে দামটা সাংঘাতিক। প্রকাশক এটির একটি সুলভ পেপারব্যাক সংস্করণ প্রকাশ করলে সেটার তুমুল প্রচার করা সহজতর হবে। অলমিতি।
কল্পবিজ্ঞান ও বিজ্ঞান নির্ভর বেশ কিছু গল্পের বই পড়েছি।ব্যক্তিগতভাবে এই বিষয়ের উপর ফিকশন লেখা পড়তে ভালোই লাগে।এই বইটি সম্পর্কে যখন সোস্যাল মিডিয়াতে প্রকাশনার তরফে পোস্ট দেখেছিলাম তখন থেকেই এই বইটি নিয়ে কৌতুহল ছিল ।
'অবৈজ্ঞানিকের সায়েন্স ফিকশন' কল্পবিজ্ঞান সম্পর্কে লেখালেখি নিয়ে একটি নন ফিকশন বই। নামটাও বেশ অভিনব এবং এটাই বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে যে এই বিষয়ের গল্প, উপন্যাস পড়তে বিজ্ঞানী হওয়ার প্রয়োজন নেই।🙂
বইতে মোট নয়টি অধ্যায় রয়েছে। একদম বেসিক লেভেল থেকে সায়েন্স ফিকশন অথবা কল্পবিজ্ঞান ঘরানার লেখা বলতে ঠিক বোঝা যায় সেই সম্পর্কে বলা হয়েছে। বিজ্ঞান ভিত্তিক কাহিনি, ফিকশন ও ফ্যান্টাসি এই লেখাগুলির মধ্যে কিছু পার্থক্য আছে সেগুলো উদাহরণ সহ সহজ ভাবে যাতে পাঠক বুঝতে পারে সেভাবেই আলোচনা করেছেন লেখক।গল্প বা উপন্যাস যাই হোক না কেন, সেখানে কল্পনা আসবেই কিন্তু সেই কল্পনার মাত্রা কতটুকু ও কিভাবে এই ধরনের লেখায় এসেছে বা আসতে পারে আর সেখানেই কল্পবিজ্ঞান ও ফ্যান্টাসি নির্ভর লেখা আলাদা হয়ে যায় এই বিষয়টি নিয়ে এই ঘরানার লেখকদের নিজস্ব মতামত বইতে রাখা হয়েছে। লেখক নিজেও এই পার্থক্য গুলি বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। সায়েন্স ফিকশন বলতে এলিয়েন, স্পেসশিপ ,অন্য গ্ৰহে যাওয়া এই ধরনের গল্প বা টপিক সাধারণত প্রথমে আমাদের মনে আসে ।এই বিষয় ছাড়াও টাইম ট্রাভেল, বিভিন্ন রকম গ্যাজেট নিয়ে গল্প, পৃথিবীর মধ্যেই অজানা কোন অঞ্চলে প্রাকৃতিক পরিবর্তনের গল্প সেখানকার বসবাসকারী অজানা প্রানীদের কথা,ইউটোপিয়া,ডিসটোপিয়া,স্টীমপ্যাংক ইত্যাদি বিষয়গুলি ও এই ঘরানার অন্যতম অংশ সেই সব নিয়ে সুন্দর ভাবে বর্ণনা করেছেন। এমনকি বেশ কিছু গল্পে অলৌকিক ও পুরাণের ব্যবহার কিভাবে করা হয়েছে তাও বলা হয়েছে।
সব থেকে ভালো লাগলো সমস্ত অধ্যায়ে দেশি বিদেশি লেখকদের এই সব বিষয়ে নিজস্ব মতামত ও দৃষ্টিভঙ্গি আলোচিত হয়েছে। এইচ জি ওয়েলস, জুল ভার্ন ক্লার্ক , রে ব্রাডবেরি, আইজ্যাক আসিমভ ,ফিলিপ কে ডিক , সত্যজিৎ রায়, প্রেমেন্দ্র মিত্র, অদ্রীশ বর্ধন, সিদ্ধার্থ ঘোষ, রনেন ঘোষ , সুমিত বর্ধন আরো অনেক লেখকের কথা বইতে রয়েছে ,এর ফলে সায়েন্স ফিকশন লেখালেখির ইতিহাস সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পাওয়া যায় ও পাঠক সহজেই এই ঘরানার লেখকদের সাথে পরিচিত হতে পারবেন। কল্পবিজ্ঞান সম্পর্কে সিদ্ধার্থ ঘোষের ছোট ছোট লেখাগুলি খুব ভালো লাগলো পড়ে। স্পষ্ট ধারনা দিয়েছেন লেখার মাধ্যমে। ওঁর লেখা নন ফিকশন বই পড়বার ইচ্ছে বেড়ে গেল।বইএর ভেতরে সায়েন্স ফিকশনের উপর বই এর কভার ও সিনেমার পোস্টারের ছবিও রয়েছে।
কল্পবিজ্ঞান যারা পড়বেন ভাবছেন ,যারা নিয়মিত এই ধরনের বই পড়েন এবং এই বিষয় নিয়ে যারা লেখালেখি করছেন তাদের সকলের কাছে নিঃসন্দেহে একটি সংগ্ৰহযোগ্য বই বলেই আমার মনে হয়। It is a perfect starter to read science fiction books for those who are keen to read science fiction stories
লেখক ও প্রকাশক উভয়কেই সাধুবাদ জানাই এই বিষয়ে এরকম একটি রেফারেন্স বই তৈরি করবার জন্য। বিষয় ভাবনা এককথায় অভিনব।এইটুকু বুঝতে পেরেছি যে সায়েন্স ফিকশন সম্পর্কে ছোট বড়ো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ ও লেখালেখি মোটেই সহজ কাজ নয়। কল্পবিজ্ঞানের উপর বাংলায় লেখা অন্যতম ভালো একটা নন ফিকশন কাজ। Excellent work 👍
কল্পবিজ্ঞান এর গল্প পড়লেও কল্পবিজ্ঞান বিষয়ে আমি যে কতটা অজ্ঞ সেটা নির্দিষ্ট ভাবে চিহ্নিত করে দেবার জন্য লেখক কে অসংখ্য ধন্যবাদ। প্রসেনজিৎ বাবুর এই বইটি আমি ইতিমধ্যেই দুবার পড়ে ফেলেছি । প্রথমবার খালি মুগ্ধ হয়েছি । পরের বার কাগজ কলম নিয়ে লিস্ট বানিয়েছি কি কি লেখা পড়তে হবে । সত্যি কথা বলতে বইটির সিংহ ভাগ অংশের সম্পূর্ণ আত্মীকরণ সম্ভব হয়নি কারণ কল্প বিজ্ঞানের জগতে আমার এখনও অনেক কিছুই পড়া হয়নি । ভালো কথা, আপনি যদি ফেবু দেখে শঙ্কুর লেখা কল্পবিজ্ঞান কিনা, বা অল্টারনেট হিস্ট্রি নিয়ে প্রথম বাংলা লেখা নিয়ে ধারনা করে থাকেন , তাহলে এই বইটি এখনই পড়ে ফেলুন । প্রায় প্রতিটি পাতায় অজস্র ট্রিভিয়ার আনাগোনা লেখকের বিস্তৃত পড়াশোনার পরিচয় দেয় । বইটি ৫০ পাতা বেশি হলে নিরন্তর তথ্য বর্ষনের মধ্যে পাঠক হয়তো একটু দম নেওয়ার জায়গা পেতেন । কিছু জায়গায় ভাষা (যেমন ইতিহাসের মা মাসি) হয়তো আরো ভালো হতে পারতো। কিছু ক্ষেত্রে বিশ্ব সাহিত্যের উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক দের সাথে দেশীয় কয়���কজনের নাম এক নিঃশ্বাসে নেওয়াটা আমার ভাল লাগেনি ।
বিভিন্ন বিষয়ে পক্ষে বিপক্ষে বিভিন্ন যুক্তি ও তথ্যের মাধ্যমে এগিয়ে চলা প্রবন্ধ গুলি খুবই সুখপাঠ্য । কল্পবিজ্ঞান সম্বন্ধে কোন ধারণা না থাকলে অবশ্য পাঠ্য , কল্পবিজ্ঞান প্রেমী হলে এ লেখা নিঃসন্দেহে সুখপাঠ্য ।