পাঠকের নিজের একটা আয়না আছে। সেই আয়না যাঁর যাঁর নিজের মতন। সেখানে কে কী দেখে, কেউ জানে না। কিন্তু এই আয়নার পেছনে যদি একটা মুখ লুকিয়ে থাকে, যে কিনা সত্যি— তাহলে কেমন হয় ? 'খানিকটা আত্মজৈবনিক বাকিটা গল্প' গল্পসংকলনের মজাই এটা। শাহাদুজ্জামানের বিদগ্ধ জীবনের চাক্ষুষ অভিজ্ঞতার ইলিউশন এখানে ছায়ার মতন বিদ্যমান। যে সমস্ত গল্পের সাথে লেখকের জীবনঘনিষ্ঠতা সবচাইতে বেশি, এই গ্রন্থে তার সমাবেশ ঘটেছে এক মলাটে। আর মলাট বুজলে চোখ বুজে যে প্রশ্নের উৎপাত ঘটবে, সেইসব জবাবের বন্দোবস্ত থাকছে স্বতন্ত্র আরেকটি মলাটে। তার নাম 'জ্যোৎস্নালোকের সংবাদ'। লেখকের এইসব আত্মজৈবনিক গল্পগুলো জীবনের পর্যায় ধরে-ধরে সুসজ্জিত হয়েছে। যাতে লেখকের সাথে সাথে পাঠকের চৈতন্যেরও একটা ধারাবাহিক ক্রমানুসার রক্ষিত হয়। লেখকের খানিকটা সৃষ্টিরহস্য আর বাদবাকিটা তার কাদামাটির ঘড়ায় হাত ডুবিয়ে এই বিমূর্ত অবলোকন প্রয়াস বাংলাসাহিত্যের বিরল নিদর্শন।
Shahaduz Zaman (Bangla: শাহাদুজ্জামান) is a Medical Anthropologist, currently working with Newcastle University, UK. He writes short stories, novels, and non-fiction. He has published 25 books, and his debut collection ‘Koyekti Bihbol Galpa’ won the Mowla Brothers Literary Award in 1996. He also won Bangla Academy Literary Award in 2016.
বইটা ভালোলাগেনি। 'খাকি চত্বরের খোয়ারি' আর 'জ্যোৎস্নালোকের সংবাদ' গল্পদুটার মধ্যে যেটুকুওবা কিছু সারবস্তু খুঁজে পেয়েছি, বাকি রচনাগুলি ভীষণই ক্লিশে ধরনের তাই চমকহীন, predictable, অত্যন্ত bland; এমনকি একটাই কথা পরপর একাধিক বাক্যে ফেনিয়ে ফেনিয়ে বলা বিরক্তির উদ্রেক করেছে। সবচেয়ে রাগ হয়েছে 'ইব্রাহিম বক্সের সার্কাস' নামের প্রায় একত্রিশ পাতার গল্পটা পড়ে !! — মানে, লেখক শাহাদুজ্জামান সাহেব কি reader-মাত্রই একেকটা গর্দভ এরকম মনে করেন ? বইয়ের নামে 'আত্মজৈবনিক' শব্দটা চতুরভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে এরকম ফালতু একটা পণ্য আগ্রহী পাঠকের মাথায় ঘোল ঢেলে হাতে ধরিয়ে দেবার জন্যই ! ভাগ্যিস আমি নিজের টাকা জলাঞ্জলি দিয়ে এটা কিনিনি — ভুলবশতঃ কিনে ফেললেও আজকে পড়ার পর সেটা সটান ছুঁড়ে ফেলে দিতাম !! উফ !! শাহাদুজ্জামানের লেখা পড়ার আর এতটুকু ইচ্ছাও রইল না ।