কোনও বিশেষ নারীর কাহিনি নয় ‘নন্দিনী’, নন্দিনী শব্দটির অর্থ কন্যা। সেই কন্যা– যাকে কখনও মা, কখনও স্ত্রী, কখনও-বা আত্মজা এবং আরও বিভিন্নরূপে পেয়ে থাকে সমাজ। নারীর ভূমিকা বদলায় ঠিকই কিন্তু অদৃষ্ট বদলায় কি? এই মুহুর্তে অস্থির সমাজের দরজায় দাড়িয়ে তাদের ধ্বস্ত অবস্থায় দেখতে দেখতে হাল ছেড়ে দিয়েছে মানুষ। কন্যাভ্রূণহত্যা থেকে ধর্ষণ! নারীর ভাগ্যে কি শুধুই বঞ্চনা, লাঞ্ছনা এবং শোষণ? তার একমাত্র জবাব ‘নন্দিনী’। ‘নন্দিনী’ সেই শুভ শক্তির নাম, যার আগমনবার্তায় জেগে ওঠে মানুষের শুভবুদ্ধি৷ রুখে দাঁড়ায় চিরবঞ্চিত নারীর দল। ‘নন্দিনী’ সেই শক্তিরূপিণী— যে সবকিছু পালটে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। ‘নন্দিনী’ আসলে প্রতিবাদ। একজন নয়— অনেকের ঘুরে দাঁড়ানোর কাহিনি।
সায়ন্তনীর গড়িয়ায় বাস। প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতক ও কলকাতা ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতকোত্তর। ছোটবেলা থেকেই লেখালেখির শখ। কবিতা ও গদ্য দুইই চর্চার বস্তু।ক্লাস সেভেনে প্রথম প্রকাশ সংবাদ প্রতিদিনের শনিবাসরীয় পাতায়'চশমা' ছোট গল্প। তারপর প্রতিদিন, বর্তমান, সুখী গৃহকোণ, আর ছোটদের পত্রিকা সাহানা আর বাংলা দেশের পত্রিকা ভোরের কাগজে লাগাতার লিখে যাওয়া।
নারী শক্তির ওপর রচিত এই উপন্যাস। একবিংশ শতাব্দীর বুকেও সমাজের নারীর প্রতি মনভাব, কন্যা-ভ্রূণ হত্যা, এবং male ego - গল্পের তিন নায়িকার জীবনের মধ্যে দিয়ে তুলে ধরেছেন লেখিকা।
সামাজিক সমস্যার জীবন্ত চিত্রণ এবং তার সাথে একটি রহস্যময় phone call, সুন্দর plot এবং তেমনই ভালো লেখা - সব মিলে উপন্যাস টিকে এক অসামান্যতা এনে দিয়েছে।
মাঝে মাঝে নিজেকে আমার নন্দিনীর মতোই ফুসে উঠতে ইচ্ছে করে, সবকিছু কে বুড়ো আংগুল দেখিয়ে সব দেয়াল ভেঙে নিজের মতো করে গড়তে মনে চায়, কিন্তু তাও এই বাঁধাধরা নিয়মের সংসারে আর হয়ে ওঠা হয় না, একদিন ঠিক হব নন্দিনী আফটার অল নন্দিনীরা তো লড়তে জানে, লড়তে শেখায়, বাঁচতে জানে,মারতে পারে মরতে জানে.
🍁উপন্যাস:- নন্দিনী 🍁লেখিকা:- সায়ন্তনী পূততুণ্ড 🍁প্রকাশক:- আনন্দ(বর্তমানে আউট অফ প্রিন্ট)
শহরের নামী গয়নার দোকান ধনলক্ষী জেমস অ্যান্ড জুয়েলারির কর্ণধার এবং অভিজাত রায়চৌধুরী বাড়ির ছেলে ঋতমের সাথে বিয়ে হয় এক সাদামাটা বাড়ির মেয়ে স্নিগ্ধার। বিয়ের পর স্বাভাবিক নিয়মেই সে গর্ভবতী হয়। কিন্তু তার পরিবার তাকে জানায় সে মৃত সন্তানের জন্ম দিতে চলেছে। তাই সেই ভ্রূণ কে মাতৃগর্ভ থেকে বের করে ফেলতে হবে অচিরেই। কিন্তু অ্যাবর্শন এর ঠিক আগের রাতেই স্নিগ্ধার সঙ্গে ঘটে যায় এক আকস্মিক ঘটনা। তার কাছে একটি ফোন আসে। এক কচি কণ্ঠ তাকে জানায় "আমায় মেরো না মা। আমি নন্দিনী।" সে বলে, সে সম্পূর্ণ সুস্থ। কিন্তু শুধুমাত্র সে মেয়ে বলে তাকে ঐ পরিবারে কেউ আসতে দিতে চায়না। স্নিগ্ধার জীবনে নেমে আসে ভয় আর চিন্তার করাল ছায়া। এই একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও মানুষের এমন মনোভাব? কিন্তু গর্ভস্থ ভ্রূণ তাকে ফোন করবে এটা কিভাবে সম্ভব? কে এই নন্দিনী? তারই উত্তর পাঠক খুঁজে চলে গোটা উপন্যাস জুড়ে।
স্নিগ্ধার সাথে সাথে আমরা জানতে পারি আলো আর পাখির জীবনের গল্প। পণ চাওয়ার অপরাধে আলো ইতি টেনেছে তিন বছরের সম্পর্কে। কিন্তু তার প্রেমিক কি এত সহজে মেনে নেবে প্রত্যাখ্যান? আলোর জীবনের পরিণতিই বা কি? অন্যদিকে পাখি বিয়ে করেছে বেকার প্রদীপ কে যে লেখালিখি করে জীবনে দাঁড়াতে চায়। পাখি সাংবাদিকের কাজ করে। কিন্তু প্রদীপের "মেল ইগো" কি তাদের সংসার সুস্থ থাকতে দেবে?
সায়ন্তনী পূততুন্ডের ক্ষুরধার লেখনীর সঙ্গে এই উপন্যাসের রুদ্ধশ্বাস প্লটের মিশেল আমায় এক দিনের মধ্যে ২১০ পাতা পড়ে ফেলতে বাধ্য করেছে। থামতে ইচ্ছে করছে না এতোই গতি এই উপন্যাসের। বড়ো ভালো লেগেছে পড়ে। মন ছুঁয়ে যাওয়া লেখা। এ সমাজে নন্দিনীদের বড়োই দরকার ।
গল্পের বুনোট খুব-ই সাধারণ মানের এবং প্রত্যাশিত। কিন্ত এই আপাত সামান্য এবং সহজ কাহিনীকেই, নিজের ক্ষুরধার এবং চমৎকার লেখনির সাহায্যে, এক অন্য জায়গায় নিয়ে গেছেন লেখিকা। কম-বেশি সব পুরুষ চরিত্রই, এখানে অহং এর শিকার। এবং কম-বেশি সব নারী চরিত্র হয়তো শোষিত নইলে অবনমিত, কিন্ত গল্পের শেষে গিয়ে তারা আত্মবশ। যদিও অনেকে এখন ভেবে থাকেন যে সমাজে নারীর প্রতি এরকম মনোভাব এই শতাব্দী তে কেউ পোষণ করেন না, এবং এই রকম লেখা এক ধরনের বাঁধাধরা মুদ্রণফলক মাত্র, তাহলেও এই লেখাটি যথেষ্ট আলাদা এর গঠনশৈলী ও নির্বাহের জন্যে। তিন তারা বাঁধলাম।
বই এর এক অব্যর্থ চরিত্র , বই দেখা হয় না, শোনা যায়না । শুধু পড়া যায়। চরিত্রদের শুধু কল্পনা দিয়ে মানব রূপ দেওয়া যায়। সেই কারণেই শুধুমাত্র পড়া ছাড়া এটি উপলব্ধি করার অন্য উপায় নেই।চলচিত্র দিয়ে এটিকে এর বাস্তব রূপ দেওয়া সম্ভব নয়। নারী যুদ্ধ বইটির কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু উপস্থাপনা এবং গল্পের বুনন গল্পটি কে করে স্বতন্ত্র। ভাষার সাহিত্যগুন উৎফুল্ল হওয়ার মতো না হলেও চরিত্রবিন্যাস ও শেষ অবধি রাখা রহস্য গল্পটাকে পাঠযোগ্য রাখে। ৭/১০.
This is a upside down novel. I dont know how to say, but once you finish you will be amazed how author managed to plan this complicated flow. Must read