#পাঠকের কাছে অনুরোধ •করোনার এই দুঃসময়ে আমরা অনেক পরিশ্রম করে আপনাদের জন্য ইবুক তৈরি করছি। বিগত ৩ মাস প্রতিষ্ঠানের আয় বন্ধ। বাংলাদেশের প্রকাশনা সেক্টরের কী নাজুক অবস্থা আপনারা অনেকেই জানেন। তাই কিন্ডল আনলিমিটেড সাবস্ক্রাইবারদের প্রতি অনুরোধ আপনার সামর্থ্য থাকলে বইটি কিনে পড়ুন। •এই ভার্সনটি কিন্ডলের প্রায় সবগুলো ডিভাইস, কিন্ডল পিসি অ্যাপ এবং কিন্ডল আইওএস অ্যাপে ফন্ট ছোটবড় করে ঠিকঠাক মতো পড়া যাবে; হাইলাইটস করা যাবে এবং নোট নেয়া যাবে। •কিন্ডল অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ বাংলা ফন্ট সাপোর্ট করে না। ফলে ফন্ট ভেঙে যেতে পারে। তাই যারা কিন্ডল অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপে বই পড়েন তারা প্রিন্ট রেপ্লিকা ভার্সনটি দেখতে পারেন:
------------- বই সম্পর্কে -------------
আমার একটি বউ এবং দুটি কন্যা আছে। গাড়ি নেই, ফ্ল্যাট নেই, মাথায় নানা ছকের গল্পের প্লট ছাড়া ঢাকা অদূরে, অগভীর জলের নিচে অন্য কোনো স্থাবর প্লট নেই। তবে ৩৫ বছরে দুটি সন্তান, একটি বউ, একটু বেশি হয়ে গেল না? তা হয়তো গেল। আমি বিয়ে করেছি ম্যালা আগে। ইউনিভার্সিটির ফার্স্ট ইয়ারেই। সহপাঠীকে, অবশ্যই প্রেম-ভালোবাসার কেস। সে অন্য গল্প এবং অনেক পুরোনো গল্প। তবু সেই পুরোনো গল্পই আমাদের বয়ে বেড়াতে হয়, এটাই নিয়ম। আমি আর মিতু দুই কন্যাকে বুকে নিয়ে সেই পুরনো, মরচে পড়া, ঘুণে ধরা, শ্যাওলা পড়া, একটু বিবর্ণ হয়ে যাওয়া গল্প বয়ে বেড়াই। এর নাম সংসার। আমাদের সংসারে কোনো জ্বালাময়ী সমস্যা নেই, আবার খুব উপচে পড়া সুখও নেই। সংসার সম্পর্কে এ রকম একটি সমস্যার কথা একদা শ্রীরামকৃষ্ণ বলেছিলেন— জলে নৌকা থাকুক, সমস্যা নেই, নৌকায় জল থাকলে সমস্যা। তুমি সংসারে থাকো ক্ষতি নেই, কিন্তু তোমার ভেতর যেন সংসার না থাকে। আমরা কেউ শ্রীরামকৃষ্ণ নই। কাজেই সুনাগরিকের মতো আমাদের সংসারের ভেতর যেমন বাস করতে হয়, তেমনি আমাদের ভেতরেও জোরালোভাবে সংসার আছে, সংসার থাকে। মাস গেলে বাড়িভাড়া, আইপিএসের ব্যাটারি নষ্ট হলে, সেটি বদলে ফেলা, বড় মেয়েটা অঙ্কের চেয়ে ইংরেজিতে কেন কম নম্বর পেল, সেটি নিয়ে ভাবা, ছোট মেয়েটার জ্বর হলে তার মুখে থার্মোমিটার পুরে দেওয়া— কত কাজ। সংসারে না থেকে উপায় আছে! অতএব একটা পুরনো গল্পের বাঁধা চরিত্র হয়েই তো আমাদের বেঁচে থাকতে হয়। বেঁচে থেকে আমরা সেই পুরনো এবং ছকবাঁধা গল্পের পাতায় পাতায় ঘুরি, নির্ধারিত সংলাপ আউড়ে যাই, এক সময় শেষ পৃষ্ঠায় এসে গল্পটা আচমকা শেষ হয়ে যায়। তারপর আবার, ইয়েস আবার, সেই গল্পটা প্রথম পাতা থেকে শুরু হয় এবং একই গতিপথে শেষ পাতা অবধি চলতে থাকে।
কাহিনি সংক্ষেপঃ রাজিব হাসান একজন ফিচার সাংবাদিক। স্ত্রী মিতু ও দুই কন্যা রিনি ও ঝিনিকে নিয়ে ওর সংসার। বন্ধু স্থানীয় সিমু ও মারুফের সাথে মাঝে হুইস্কি গিলে বাড়িতে ফেরা তার রুটিনের অংশ। সিমু ও মারুফও বিবাহিত। তাই এই ত্রিমূর্তিকে অনেকটা ভয়ে ভয়েই মাতাল অবস্থায় বাসায় ফিরতে হয়। এদের স্ত্রীরাও সর্বংসহা। সামান্য কিছু শাসন ছাড়া তেমন কঠিন কিছু জোটেনা এদের কপালে।
নীল অপরাজিতা মেয়েটা স্বাধীনচেতা ধরণের। রূপবতী এই মেয়েটা নিজের চারপাশে মুগ্ধ পুরুষদের ঘোরাফেরাটা খুব পছন্দ করে। তাকে কেন্দ্র করে ছেলেরা উপগ্রহের মতো পাক খাবে, এটাই তার জীবনের বড় একটা বিনোদনের অংশ। নীল অপরাজিতা নিজেও বিবাহিত। কিন্তু ওর স্বামী শুভ অনেকটা ফার্নিচার টাইপ। তাই নিজের দুনিয়া নিয়ে সে 'মাই লাইফ মাই রুলজ' টাইপ জীবনযাপন করে যাচ্ছিলো ভালোভাবেই।
নীল অপরাজিতার একটা ফেসবুক পোস্ট থেকেই রাজিব হাসানের সাথে ওর সম্পর্কের শুরু। তিক্ত-মধুর এই সম্পর্ক ধীরে ধীরে যেন গাঢ় হতে লাগলো। দুজন বিবাহিত নারী-পুরুষের মধ্যকার এই সম্পর্ক রূপ নিতে লাগলো পরকীয়ায়। এর পরিণতি কোথায়?
পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ এই সময়ের জনপ্রিয় লেখক আশীফ এন্তাজ রবি'র কোন বই আমি এর আগে পড়িনি। ২০২০-এর একুশে বইমেলায় প্রকাশিত এই লেখকের 'পূর্বপুরুষ' বইটা রীতিমতো সাড়া ফেলে দিয়েছে। 'কাগজের নৌকা' পড়ে বিবাহিত একজন পুরুষ ও বিবাহিত একজন নারীর মধ্যকার সম্পর্কের ভাঙ্গাগড়া ও টানাপোড়েন সম্পর্কে বেশ একটা ধারণা পাওয়া হলো আমার। রাজিব হাসান ও নীল অপরাজিতার মধ্যেকার উদগ্র আবেগ ও সিদ্ধান্তহীনতাকে লেখক বেশ ভালোভাবেই ফুটিয়ে তুলেছেন এই উপন্যাসে।
বইটার অনেকটা অংশ জুড়েই ছিলো রাজিব ও নীলের ফেসবুকের কথোপকথন। এই আধুনিক সময়ে ব্যাপারটা বেশ রিয়েলেস্টিক বলে মনে হয়েছে। একদিকে বাঁধনহারা প্রেম, আর অন্যদিকে সংসার - এ যেন এক অনিবার্য দ্বৈরথ। আর এই দ্বৈরথের গল্পটাই বেশ সাবলীলভাবে বলে গেছেন আশীফ এন্তাজ রবি। 'কাগজের নৌকা'-তে হিউমারেরও কোন কমতি ছিলোনা। কয়েক জায়গা পড়তে গিয়ে বেশ হেসেছি।
লেখকের লেখনীর ধরণের মধ্যে হুমায়ূন আহমেদের লেখনীর হালকা একটায়া ছাপ আবিস্কার করেছি। সেটা অবশ্য উপন্যাসটা পড়ার ক্ষেত্রে কোন অন্তরায় হয়ে দেখা দেয়নি। 'কাগজের নৌকা' ছাড়াও আশীফ এন্তাজ রবি'র আরো কিছু বই হলো চন্দ্রমুখী, পালিয়ে যাবার পরে, আমার আছে ফেসবুক।
'কাগজের নৌকা' পড়তে শুরু করার পর হালকা টাইপ একটা উপন্যাস পড়ার অনুভূতি হচ্ছিলো। তবে শেষাংসে এসে সেই হালকা ভাবটা তিরোহিত হয়ে গেছিলো অনেকটাই এই জীবনমুখী সাম্পর্কিক সমীকরণের দেখা পেয়ে। চাইলে পড়ে ফেলতে পারেন বইটা।
অত্যন্ত স্থূলভাবে দেখলে মনে হতে পারে এই লেখায় বিবাহ-বহির্ভূত প্রেমকে গ্ল্যামারাইজ করা হয়েছে । নৈর্ব্যত্তিকভাবে বলতে গেলে- আমাদের অনেকের জীবনেই ছোট ছোট কাগজের নৌকা থাকে । খুব অল্প কিছু ভাসে, অন্যগুলো ভাসানো হয় না । লেখক একটিকে শুধুমাত্র চলতি সময়ের প্রেক্ষাপটে তুলে ধরেছেন – এবং সার্থকভাবেই ।
রাজীব, অপরাজিতা এবং শুভকে লেখক খুব পরিচিত সাইকোলজি দিয়ে গড়েছেন । রাজীবের মিডলাইফ-ক্রাইসিস, অন্য দশটা মেয়ের থেকে বাহ্যত আলাদা মনে হওয়া নীল অপরাজিতার আহত অতৃপ্তি, শুভর নীলকে বুঝতে না পারা – সবকিছুই আমরা আশে-পাশে খুঁজে পাই ।
বর্ণনার ধরন দু-এক জায়গায় বাহুল্য মনে হলেও আসলে তা এই সময় এবং চরিত্রগুলোকে জীবন্ত করতে প্রয়োজনীয় ছিল ।
শেষ পাতায় নীলের স্বগতোক্তি এক আশ্চর্য মায়ার সাথে আমাদের পরিচিত করিয়ে দেয়- সাদামাটা, ক্ষয়িষ্ণু জীবনস্রোতে ভাসাতে না পারা বড় আদরের একটি কাগজের নৌকা !
সাংবাদিক কাম ফেসবুক সেলেব বিবাহিত রাজিব জড়িয়ে পড়েন বিবাহিতা নীলা অপরাজিতার সাথে। যিনি রূপে-ধরনের মহিমায় পুরুষকুলকে ঘোল খাইয়ে থাকেন। দুই সেয়ানা একত্রে মোলাকাত করতে দিয়ে হৃদয় বিনিময় হয়ে গিয়েও হল না। কিন্তু কেন?
ফেসবুক কাঁপানো সেলেব্রিটি আশীফ এন্তাজ রবির খুব চালু লেখা লিখেন। ধরতে না ধরতেই বই শেষ! এই লোকের হিউমার ভালো, জগৎ সংসার নিয়ে আইডিয়াও ফকফকা। কিন্তু কাহিনী গুছিয়ে আনতে পারেন নি। আর বড্ড বেশি আবেগ দিতে গিয়ে কেমন যেন করে ফেললেন লেখাটাকে।
আশীফ এন্তাজ রবি বাংলাদেশের নতুন বা সমসাময়িক লেখকদের মধ্যে আমার খুবই প্রিয় একজন। ২০২০ এর লকডাউনে উনার লেখা 'পূর্বপুরুষ' আমার প্রথম পড়া উপন্যাস। তারপর পড়েছিলাম 'আমারে দেবনা ভুলিতে' এরপর 'কেবলই রাত হয়ে যায়'। একটার পর একটা পড়ে যে শুধু মুগ্ধ হয়েছিলাম এটা বললেও কম বলা হয়ে যায়। কয়েকদিন আগে শেলফের বই গোছাতে গিয়ে কোন এক বুকশেলফ থেকে এই বইটা বের হলো। ক'দিন ধরে পড়বো পড়বো করেও পড়া হয়ে ওঠেনি। কাল রাতে শুরু করে আজ ভোরে সব কাজ বাদ দিয়ে শেষ করেছি। শেষ করতে হয়েছে কারণ যেকোন বই অর্ধেক পড়ে ফেলে রাখাটা আমার জন্য অস্বস্তিকর। সত্যি বলতে পড়া শেষ করে এটা যে উনার লেখা বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়েছে। এতো দায়সারাভাবে লেখা যে মাঝেমধ্যে মনে হয়েছে এটা উনার লেখা হতেই পারে না। অনেক আগের লেখা ভেবে হয়তো ক্ষমা করে দেয়া উচিৎ কিন্তু প্রিয় লেখকের খারাপ লেখা আসলে ক্ষমা করা যায় না। আশাহত। 😔
বইটাকে ভালো বলব না, আবার একেবারেই যে বাজে সেটাও না। বিবাহ বহির্ভূত প্রেমের আড়ালে সংসার জীবনের বাস্তব কিছু বিষয় তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন লেখক। প্রতিটি সম্পর্কের পরিচর্যা প্রয়োজন, তা না হলে সম্পর্ক গুলো অন্য রকম হয়ে যায়। সেখান থেকেই তৈরি হয় সংসার নামক এই ঝামেলা থেকে মুক্তির চিন্তা। কিন্তু দিন শেষে আদৌ কি মুক্তি পায় মানুয়?
***সে অন্য গল্প এবং অনেক পুরনো গল্প।তবু সেই পুরনো গল্পই আমাদের বয়ে বেড়াতে হয়,এটাই নিয়ম।
***অতএব একটা পুরনো গল্পের বাধা চরিত্রে হয়েই তো আমাদের বেঁচে থাকতে হয়।বেঁচে থেকে আমরা সেই পুরনো এবং ছক বাঁধা গল্পের পাতায় পাতায় ঘুরি,নির্ধারিত সংলাপ আউড়ে যাই,এক সময় শেষ পৃষ্ঠায় এসে গল্পটা আচমকা শেষ হয়ে যায়।তারপর ইয়েস আবার,সেই গল্পটা প্রথম পাতা থেকে শুরু হয় এবং একই গতিপথে শেষ পাতা অবধি চলতে থাকে।
***সব সম্পর্কের বিদায় হয় না। পুত্র তাজ্জ্য হয়,কন্যা বিদায় আছে,আছে তালাক এবং বিবেধ বিচ্ছেদ ।তবু কিছু কিছু সম্পর্ক থাকে,যার কোন বিদায় নেই,যার কোন বিচ্ছেদ নেই। তোমার সঙ্গে আমার বিচ্ছেদ নেই গো। তোমার সঙ্গে আমার কোন আনুষ্ঠানিক পরিনতও নেই। এটা আমাদের কাগজের নৌকা ।এটাকে ভাসিয়ে দিয়ে কোন লাভ নেই,নৌকাটাকে আগলে রাখার মধ্যেই তো সকল বাহাদুরি । তুমি ভালো থেক রাজিব,তুমি সুখে থেক।আমি শুভর কাছে যাচ্ছি । রাজিব জানো,আমি এখন হাওয়ায় ভাসছি।হাওয়ায় আজকাল কত কিছু ভাসে।হাওয়ায় ওড়ে পাখি।হাওয়ায় ওড়ে কতিপয় পতঙ্গ।আর কিছু ঠিকমতো উড়ুক বা না উড়ুক,প্রার্থনা করো,এই প্লেনটা যেনো ঠিকমতো ওড়ে,নিরাপদে তার গন্তব্যে পৌঁছে। ভালো থেকে রাজিব,ভালো থেকো। আমাদের কাগজের নৌকা তাকে তুমিও দেখে রেখো। এটা আমাদের নৌকা । হোক না কাগজের,তবুও নৌকাতো।
মুক্তি, "আমার অনেক দিনের ইচ্ছা ছিল, একা একা কোন ফ্ল্যাটে থাকব। নিজেই রান্না করে খাব। যখন ইচ্ছা ঘরে ঢুকব। যখন ইচ্ছা বেরিয়ে যাব। কেউ বলবে না কোথায় যাচ্ছ? কেউ যানতে চাইবে না কোথা থেকে আসলে, এত রাত করে। রাত দুপুরে বেহেড হয়ে বাড়ি ফিরলে, কেউ দরজায় দাঁড়িয়ে থেকে গম্ভীর গলায় বলবে না, তোমার চোখ এত লাল কেন?"
লাইনগুলো পড়তে গিয়ে নির্মলেন্দু গুণের কবিতার লাইন মনে পড়ে গেল...
"আমি বলছি না ভলোবাসতেই হবে, আমি চাই কেউ একজন ভিতর থেকে আমার ঘরের দরোজা খুলে দিক । কেউ আমাকে কিছু খেতে বলুক । কাম-বাসনার সঙ্গী না হোক, কেউ অন্তত আমাকে জিজ্ঞেস করুক : 'তোমার চোখ এতো লাল কেন ?"
সত্যি কথা বলতে ভাল্লাগেনাই। আশীফ এন্তাজ রবি যেহেতু অলরেডি একজন স্বনামধন্য ফেইসবুক সেলিব্রিটি, সেহেতু, আমি তার স্ট্যাটাস এর লেখাজোখা থেকে ভিন্ন কিছু আশা করেছিলাম। সেটা পাইনাই। একমাত্র ভালো দিক হচ্ছে দুজনের দৃষ্টিকোণ থেকে উপন্যাসের কাহিনী এগিয়ে নিয়ে যাওয়া; এই ব্যাপারটা ইন্টারেস্টিং লেগেছে। বাকি সব গতানুগতিক, ক্লিশে।
ভালো লাগে নি। সালমান খানের একটা মুভি ছিল, "Maine pyar kyun kiya" ওটার মত এন্ডিং। আরো অনেক মুভির ই এরকম এন্ডিং দেখেছি। লেখা সাবলীল হলেও পুরো বইয়ের জায়গায় জায়গায় সুরের ছেদ ছিল।