অমৃত
১/ধর্ম সাধারন লোকের কালচার আর কালচার শিক্ষিত মার্জিত লোকের ধর্ম।
কালচার (সমাজতান্ত্রিক নয় বরং ব্যক্তিতান্ত্রিক) মানে উন্নত জীবন সম্বন্ধে চেতনা, সৌন্দর্য, আনন্দ ও প্রেম সম্বন্ধে অবহিতি।
২/ be aware of the man whose god is in the skies.
৩/ ব্যাক্তিগত জীবন দর্শন বা স্বধর্ম সৃষ্টি করা কালচারের উদ্দেশ্যে।
৪/ ব্যক্তি তো নদী, সমাজ সমুদ্র। ব্যক্তির সঙ্গে যোগ-যুক্ত না হলে সে বাঁচবে কি উপায়ে?
৫/জীবনের শ্রেষ্ঠ ও বহুভংঙ্গিম প্রকাশ নিজের দিকে তাকিয়েই হয়, সমাজের দিকে তাকিয়ে নয়।
৬/ সমাজেত আদেশ দশের মধ্যে এক হও, এগারো হয়ো না। এগারোদের সে সহ্য করে না-যদিও গৌরবের জন্য মাঝে মধ্যে মাথায় করে নাচে। কালচারের আদেশ- দশের মধ্যে এগারো হও, দশের মধ্যে থেকেই নিজেকে নিজের মতো করে, সর্বাজ্ঞ সুন্দর করে ফুটিয়ে তোলো।
৭/ সমাজ সাধারন ভাবে মানুষকে সৃষ্টি করে, মানুষ আবার নিজেকে গরে তোলে শিক্ষাদিক্ষা ও সৌন্দর্য সাধনার সহায়তায়। এইযে নিজেকে বিষেশ ভাবে গড়ে তোলা এরই নাম কালচার।
৮/ চিন্তা বা বিশ্বাসের ব্যাপারে সমতা স্থাপন করে মামুষের স্বাতন্ত্র্য লুপ্ত করতে চায় বলে ধর্ম অনেক সময় কালচারের পরিপন্থী।
৯/ ধার্মিকের জীবন নিয়ন্ত্রন করে ভয় আর পুরষ্কারের লোভ।
১০/ধর্ম চায় মানুষকে পাপ থেকে পতন থেকে রক্ষা করতে, মানুষকে বিকশিত করতে নয়।
১১/ঈশ্ব্রকে চাওয়া মানে ঐশ্বর্যকে চাওয়া। রামকৃশ্ন বলতেন, ঈশ্ব্র বেটাকে কে মানত যদি তার ঐশ্বর্য না থাকত?
১২/ সংস্কৃতি মানেই আত্ননিয়ন্ত্রন- নিজেকে নিজের আইনে বাধা।
১৩/নিষিদ্ধ বস্তু সাধারণত ভিতী ও অতিরিক্ত আকর্শন -এই দুই মনোবৃত্তির সংঘর্ষ বাধিয়ে জীবনে বিকৃতি ঘটায়।
১৪/যে বিনা কারোনে নিজেকে দুঃখ দেয়, অপরকে দুংখ দিতে তার তিল মাত্র বাধে না। Sadism এর গোড়ায় আত্নপীড়ন।
১৫/নিষ্ঠুরতার থেকে মুক্তি পাওয়ার অন্যতম উপায় যৌন তৃপ্তি। যৌনতৃপ্তির উপায় কামকে প্রেমের সংজ্ঞে যুক্ত করা। শুধু কামে তৃপ্তি নেই, তা পরিনামে ক্লান্তি ও অবসাদ নিয়ে আসে। প্রেমের সাথে যুক্ত হয়েই কাম সিদ্ধ ও তৃপ্তিকর হয়ে উঠে। অথচ সমাজ বিয়ের মারফতে কামের দ্বারটি খোলা রাখলেও (sex made easy), প্রেমের দ্বারটি বন্ধ করে দিয়েছে।
১৬/ সমাজের কাজ তো ঐ পর্যন্তই, নিজের কাঠামোকে টিকিয়ে রাখা, তার বেশি কিছু নয়।ব্যক্তির বিকাশের কথা সে যতটুকু ভাবে, তার চেয়ে অধিক বেশি ভাবে নিজেকে টিকিয়ে রাখার কথা।
১৭/ছোট ছোট নিতীর বাধনে বেধে আমার জীবনকে, আমার আগমনকে ব্যর্থ করে দিও না, আমাকেই আমার উদ্ধার কর্তা হতে দাও; আমার জীবনের নিয়ামক হতে দাও।
১৮/আমি চাই তুমি না খেয়ে মরো তথাপি তোমার সূক্ষানুভুতিকে বাঁচিয়ে রাখো, কেননা সূক্ষানুভুতিরই অপর নাম আত্না।
১৯/যা না পেলে তীব্র দুংখ, কিন্তু পেলে মামুলি সুখ, গভীর আনন্দ নয়, তাই প্রয়োজনীয় ; আর যা না পেলে তেমন দুংখ হয় না; কিন্তু পেলে গভীর আনন্দ, তাই অপ্রয়োজনীয়।
২০/ তুমি বলবে তোমার সামান্য প্রতিভা আর little genius is a great bondage. সামান্য প্রতিভা, কঠিন বন্ধন। কিন্তু সামান্য হলেও মুল্যবান। আর যা মুল্যবান তার যতন না নেওয়া মহাপাপ। বুঝলে?
২১/কামে�� চেয়ে প্রেম বড়, ভোগের চেয়ে উপভোগ।
২২/let us agree to differ 'ভিন্নরুচির্হি লোকঃ' এ-ই উক্তিতে মতবাদির আস্থা কম। অথচ সংস্কৃতিকামির কাছে এরচেয়ে শ্রদ্ধেবানী আর নেই।
২৩/ সত্যকার সংস্কৃতিকামীরা নিজেদের ছাচে ঢালাই করতে চায় না। নকল যিশু, নকল বুদ্ধ, নকল মার্ক্স বা নকল লেলিন হওয়া তাদের মনংপুত নয়। ক্ষুদ্র হলেও তারা খাটি হতে চায়।
২৪/অতিতে ধর্ম ইশ্বরকে আচ্ছন্ন করেছিলো। বর্ত্মানে মতবাদ বা আদর্শ মনুষ্যত্বকে আচ্ছন্ন করতে পারে।
মতবাদি ধার্মিকের মতোই অসহিষ্ণু ও সসঙ্কীর্ণ, ধার্মিলের মতোই দলবদ্ধতায় বিশ্বাসী, অধিকন্তু ধার্মিকের চেয়েও নিষ্ঠুর।