অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি মেয়ে জেবুন্নেসা এই উপন্যাসে পাঠকের সামনে মেলে ধরে তার জীবনের একটা দিন স্মৃতি, স্বপ্ন, অনুভ‚তি, রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং চারপাশের ছবি বুনতে বুনতে সে কথা বলে। গল্পের মঞ্চ মেলবোর্ন শহর ও সন্নিহিত সাবআরবান এলাকা জুড়ে। মেলবোর্নে এসে হোঁচট খাওয়া, বন্ধুত্ব, চাকরি ইত্যাদির পাশাপাশি সাহিত্যপাঠ তাকে সন্ধান দেয় নতুন এক দুনিয়ার। তার তীব্র প্রেম, শূন্যতা, অস্ট্রেলিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতির গল্প শোনায় সে। বইবাহিক মূলত পথচলার কাহিনি চলার পথে খুঁজে পাওয়া এবং চলতে চলতে হারিয়ে ফেলার গল্প।
লুনা রুশদীর জন্ম ২৪ অক্টোবর, ১৯৭৫ সালে। শৈশব কেটেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোয়ার্টার্সে। ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুলে লেখাপড়া নবম শ্রেণী পর্যন্ত, তারপর ১৯৮৯ থেকে সপরিবারে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী। মেলবোর্নে লা-ট্রোব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক, পরবর্তীতে বৃত্তি নিয়ে ক্রিয়েটিভ রাইটিং এ স্নাতোকত্তর লেখাপড়া সিডনির ইউ.টি.এস বিশ্ববিদ্যালয়ে। ব্যাংকিং সেক্টরে চাকরি নিয়ে দশ বছর নিউজিল্যান্ড থাকার পর বর্তমানে আবার মেলবোর্নে। প্রথম বাংলাদেশি পত্রিকা ‘অঙ্কুর’ সম্পাদনা ছাত্রজীবনে। বাংলায় প্রথম প্রকাশিত কবিতা কলকাতার ‘দেশ’ পত্রিকায় ১৯৯৪ সালে। এরপর বিভিন্ন বাংলাদেশি ও ভারতীয় পত্রিকায় লেখালেখি। প্রথম প্রকাশিত ইংরেজি গল্প নিউজিল্যান্ডের ‘লিসেনার’ পত্রিকায় ২০১১ সালে। প্রকাশিত অনুবাদগ্রন্থ অরুন্ধতি রায়ের ‘দ্যা ব্রোকেন রিপাব্লিক’ (২০১৩)। প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস ‘আর জনমে’ ২০২৪ সালের বইমেলায়। এবং দ্বিতীয় উপন্যাস ‘বইবাহিক’ও ২০২৪-এর মেলাতেই প্রকাশ পায়।
সরলরৈখিক কোনো গল্প না থাকলেও, বইয়ের ক্ষুদ্র পরিসরে প্রবাসজীবন, ইসলামোফোবিয়া, প্রেম, সংসার, বিবাদ ও জেবুন্নিসার স্বগতকথন পড়ে ভালো লাগলো।লুনা রুশদীর গল্প বলার ভঙ্গিটা বেশ মজলিশি, পাঠককে ধরে রাখে। লেখাটা আরো বড় হতে পারতো।
[ প্যাঁচাল: অবসর কেলেঙ্কারিতে মেট্রো চেপে কারওয়ান বাজার ছুটলাম৷ নেমে পড়ে, বাকিপথ পায়ে মাড়িয়ে সোজা বাতিঘর৷ ভাবলাম হার্ড-হিটিং কিছু পড়ে নাস্তানাবুদ হয়ে থাকব, পরক্ষণেই সেটা বাতিল করে বাতিঘরের এই ছোট লাইট-নভেলের দিকে ছোঁ মারলাম। ]
২লাইনের অনূভুতি। নির্দিষ্ট ভাবনা নয় — গতি নয় — দিনযাপনের ভঙ্গিতে চারপাশকে পুঞ্জীভূত করে সাদাসিধা ছবির বুনন 'বইবাহিক'। অবসর কাটাতে সাঁতার ব্যায়ামের মতই এমন লাইট-রিড আরামদায়ক।
এটা একটা সুন্দর সময় কাটানোর মতো উপন্যাস। কোনো চাপ না নিয়ে হেসেখেলে পড়ে ফেলা যায়। আর ভেতর ভেতর কিছু ধাক্কা আসে হুটহাট করে। অস্ট্রেলিয়া আর বাংলাদেশ সমানতালে চলে। বইবাহিক জীবনের কিছু পরিচিত ব্যাপারও দেখা যায়। একজন ধর্মপ্রাণ নয় তবু ধর্মবিশ্বাসের কারণে কতকিছুকে ছাড় দিতে চাওয়া। যেরকম আমরা প্রায় সবাই।
'সাদা নেটের পর্দা উড়তেছে বাতাসে, সুখের দিনের স্মৃতির মতন।' এমন এক দিনেই 'বইবাহিক' পড়তে শুরু করলাম। ২০১৩ সালের এক ভর দুপুরবেলার গল্প দিয়ে কথা শুরু। কথা না লিখে উপন্যাসও লিখতে পারতাম। কিন্তু জেবুন্নেসা তো সারাক্ষণ আমার সাথেই কথা বলল। আমার মনে হয়েছে আমার বাড়ির পাশের সেমেটারির ধূসর রঙের ঘাসে আমি আর জেবু বসে আছি। সে খুব সহজ করে আমাকে তার অস্ট্রেলিয়া জীবনের গল্প বলছে। আমি ক্লান্ত প্রাণ এক, বসে বসে তার গল্প শুনছি। মেলবোর্ন, চাকরি, অফিস, ট্রাম, বৃষ্টি, রাস্তা, হেডফোন আর জীবনীশক্তি। পরিচয়, বন্ধুত্ব, সম্পর্ক, জীবন সংগ্রাম এবং বেঁচে থাকার লড়াই। প্রবাসের ধূলোবালিময় পারিপার্শ্বিকতা তাকে ঠিক কতটুকু দিয়ে কতটুকু কেড়ে নিলো সেই গল্প। জীবনকে ঘিড়ে রাখা রাজনৈতিক বাস্তবতার গল্প। জেনেছি, গভীর প্রেমে আচ্ছন্ন জেবুর পরবর্তী সময়ে ভেতরকার শূন্যতা।
ফেসবুকে লুনা রুশদীর লেখা প্রায়ই পড়ি। বইয়ের পাতায় এই প্রথম পড়া। তার গল্প বলার যে ভাষা তা অনেকটা 'ঢাকাইয়া' কথ্যভাষার মতো। যদিও লেখার এই ধরনের সাথে আমি পূর্বপরিচিত। কারণ, তার লেখার ধরনের সাথে আলভি আহমেদের লেখার সামঞ্জস্যতা রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ ক্রিয়াপদগুলো এমন : খাইতেছি, যাইতেছি, বলতেছি, করতেছি ইত্যাদি। কিছু কিছু বাক্য এমন : 'এই অফিস খুব জোস।' 'আমার আক্কেল কই গেছে?' 'পুরাই হাবলা হয়ে গেলাম।' অনেকেই পড়তে গিয়ে এই ব্যাপারগুলোতে আটকে যাবেন। তাদের মাঝে অনেকেই হয়তো সাহিত্যে এই গদ্যভাষাকে স্বাভাবিক নজরে দেখবেন না কিংবা পড়তে পছন্দ করবেন না। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে লেখার এই ধরনটা আমার কাছে যেমন ব্যতিক্রমী মনে হয়েছে, ঠিক তেমনই খুব সহজ, সাধারণ ও স্বাভাবিক লেগেছে। আমি বেশ উপভোগ করেছি। লেখার ধরনের কারণেই মনে হয়েছে গল্পকথক আমার খুব কাছাকাছি বসে আছেন এবং আমার সাথেই কথা বলছেন।
মুহূর্তের সাথে মিলিয়ে গানের লাইন ব্যবহার করার আইডিয়াটা ভালো লেগেছে। "এই তো এলাম শঙ্খ নদীর পারে, হয়তো গো আর আসব না..." "তরুণ ইরান কবি, কাঁদে নিরজনে..." "আরে ও আসমান ওয়ালে বাতাহ, ইসমে বুড়া কিয়া হ্যায়..."
সব ঠিকঠাক। সহজ ও সাবলীল। ছোট্ট বই। সাইজটাও কিউট। প্রচ্ছদ সাধারণ ও অনিন্দ্য। এক কথায় বইটা হাতে নিলে এক অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করে। একবসায় পড়াও শেষ করে ফেলা যায়। কিন্তু শেষটায় যেন খুব তাড়াহুড়ো। হুট করেই যেন শেষ হয়ে গেলো। কিন্তু এই বিষয়ে একমত যে, 'ভালোবাসার কথা এভাবেই বলতে হয়, মনের ভাঁজ খুলে খুলে, পরম বিশ্বাসে, অবাধ সততায়৷' লেখকের জন্য শুভকামনা রইল।
বই : বইবাহিক লেখক : লুনা রুশদী প্রকাশক : বাতিঘর প্রচ্ছদ মূল্য : ২৬০৳
Luna Rushdi 'র সাথে পরিচয় বছর তিনেকের কিছু বেশি। উনি দারুণ বন্ধুবৎসল, সদাহাস্যজ্বল একজন মানুষ আমার কাছে, যিনি বিষাদকেও আনন্দের সাথে উদযাপন করতে পারেন মনে হয়। ফেসবুকের বাইরে উনার লেখার সাথে পরিচয় অবশ্য বছর দু'য়েক এর। উনি পাঠকের নির্মোহ ভালো লাগা মিশিয়ে লেখেন, যেটা ভীষণ বিরল। সাধারণত এ যুগে লেখকদের নিজেদের আলাদা একটা শ্রেণীর মানুষ হিসেবে দেখানোর মোহ থাকে, নিজেদের কেমন একটা এলিট পর্যায়ে নিয়ে একা বসবাস করার মাঝেই বুঝি তার লেখকসত্তার সাফল্য মনে করেন অনেকেই। লুনা আপা যা-ই লেখেন, সাধারণ এর কাতারে মিশেই অসাধারণ করে লিখে ফেলেন। উনি নিজে একনিষ্ঠ পাঠক হিসেবে যা পড়ে পুলক অনুভব করবেন, সেটাই যেন উনার লেখায় পাওয়া যায়। ঠিক যেন আমার পাশের বাসার জানালায় মন খারাপ করে বসে থাকা কিশোরী যে হঠাৎ জোনাকি দেখে চোখে জল নিয়েই হেসে ওঠে। নিজেদের মানুষ যেন! উনার আরও অনেক লেখা পড়তে চাই। হোক সে গল্প, কবিতা, উপন্যাস অথবা গান...
দীর্ঘ বিরতির পর গুডরিডসে ফিরলাম। লুনা রুশদীর লেখার সাথেও পরিচয় দীর্ঘদিনের। দুই দীর্ঘ মিলিয়ে নাতিদীর্ঘ (!) রিভিউ, ২০২৪ সালের পয়লা পুস্তকের, বইপাড়ায়, লিখিতভাবে।
লুনার লেখার ধাঁচ আমার পছন্দের। মরবিড, ডেসক্রেপ্টিভ। ফেসবুকের স্ট্যাটাসে যে-ভাবে তিনি লেখেন কিংবা প্রথম আলোর সাহিত্য পাতায়-- অফিস শেষে ফিরছেন, ব্যাকইয়ার্ডে কফি খাচ্ছেন, পরিবারের সবাই আশেপাশেই আছে, ওম ওম...নিরাপদ একটা অনুভূতির ছোঁয়া চারপাশটায়-- ভালবাসার, নিরাপত্তার, মমতার। ভাষার আরামের সুবাদে অই ব্যাকইয়ার্ড, কফির কাপ, ম্যাপল পাতার ওপর খেলে যাওয়া রোদ, হু হু করে বয়ে যাওয়া বিষন্নতম বাতাস...আমি দেখতে পাই পুরোটা! ভিজুয়াল কিছু দেখার চাইতে ছাপার অক্ষরে পড়ে কল্পনায় হারিয়ে যাওয়ার দলে পড়ি বলেই এই ঘরানার গদ্য আমার বেশ পছন্দের। কথ্য ধাঁচের খাইতেসি, করতেসিতে আটকে গেলেও বর্ণনার স্বাদে উতরে যায় সে বাধা, অলংঘনীয় নয় বলেই, ন্যাচারালি।
বইবাহিক প্রবাসী জেবুন্নিসার দিনলিপি, অনেকাংশে। অথবা আত্মকথন, অন্য ভাবে যদি বলি৷ জেবার গল্প।। অফিসে সবাই ডাকে কুইন জেবা, তার বহুদিনের পুরোনো চেয়ারটার নাম দেয় জেবুন্নিসার থ্রোন। জেবার সিংহাসন।
উচ্চশিক্ষার্থে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে পরবর্তী��ে জেবা থিতু হয় সেখানেই, উচ্চাকাঙ্খী আর দশজন তরুণ-তরুণীর মতো। বাংলাদেশের জঘন্য সমাজব্যবস্থা আর অনিরাপদ জীবন-জীবিকার পুলসিরাত একবার এড়াতে পারলে ফিরতে চাইবে কোন উজবুকে! তায় যদি অবিবাহিতা নারী হয়, তবে তো কথাই নেই। এ দেশে পারবেন লাঞ্চব্রেকে একটা ভেজি বার্গার আর একটা হট মোকা নিয়ে চুপচাপ মিনিট দশেক একটা খোলা পার্কের বেঞ্চিতে বসে দু-দন্ড জিরোতে? হ্যাঁ ভাই, পারবেন। সাথে বোনাস পাবেন শিস, অভব্য ইংগিত, বিব্রতকর চাউনি আর মন্তব্য। হকারের উৎপাত তো আছেই, বোঝার ওপর শাকের আঁটি।
তো এই সব মিলিয়েই জেবা আর ফেরে না, পরিবারের মতের খানিকটা বিরুদ্ধে গিয়েই সে স্থায়ী হয় অসিল্যান্ডে। কিন্তু শেকড় সে তো খাস বাংলার হে ভাই, তায় জন্মসূত্রে মুসলিম! সালওয়ার-কামিজ ছেড়ে অনভ্যাসের পর্দা হঠিয়ে ঘরোয়া, সংসারি মধ্যবয়সী নারী প্রবাসে পরতে শুরু করেন জগার্স কিংবা খাকি ট্রাউজার, উপরিবাস হিসেবে ডেনিম জ্যাকেট, প্রয়োজনের তাগিদে। দশচক্রে যেমন ভগবান-ও ভূত হন!
কিন্তু সংস্কার? অই বস্তুর ভিত বসেছে শৈশবে, কৈশোরে, বেড়ে ওঠার আর বোধ তৈরি হবার বয়সে, মুরুব্বিদের উপদেশে, আশেপাশের অসংখ্য মানুষের আচরণে, ভাবগাম্ভীর্যে, শাসনে, বারণে কিংবা ভয়মিশ্রিত ভালবাসায়৷ পাসপোর্ট বদলালেই কি সংস্কার বদলায়? খুব কি সহজ সেটা?
সুতরাং জেবা ম্যাডাম পড়েন বিপাকে। পিআর তাকে কাজের সুযোগ দেয় সর্বত্র, কিন্তু শেকড় তাকে আটকায় অহরহ। অফিস কিংবা ট্রামফিরতি যে বন্ধুদের সাথে শেয়ার্ড তার প্রাত্যহিক জীবন, সে জীবনের ভবিষ্যৎ হয়তো সরলরৈখিক কিন্তু অতীত একদম-ই নয়। ভিনদেশি যে বন্ধুর সাথে লাঞ্চের টেবিল জেবা শেয়ার করে, তার সাথে শেয়ারের জো নেই সুকুমারের ননসেন্স রাইম কিংবা জীবনানন্দের দু:খবিলাসী পংক্তি!
শিবু কুমার শীল কিংবা তানজীর তুহিন যেমন আমার কানে বেজে চলেন নিরাশায় কিংবা আনন্দে, ভিন ভাষী কারো কাছে সে আবেদন তৈরীর অপশন দূর্লভ! বৈশ্বিক নাগরিক নাহয় হলাম কিন্তু বলিউডের ভাষায় 'ফির ভি দিল হ্যায় হিন্দুস্থানি', নয়?
অতএব দেঁজাভ্যু। সাথে আবার সময়টাও খারাপ, নাইন ইলেভেনের পর থেকে পুরো পৃথিবী জুড়ে ছড়ানো মুসলিম বিদ্বেষ। ইমিগ্রেশন লাইনে চির উন্নত মম শির নামিয়ে কাঁপা কাঁপা স্বরে বলতেই হয়, বাধ্যবাধকতার সাথে-- My name is Khan and I'm not a terrorist!
ধর্ম মেলে কিন্তু মর্ম মেলে না। তবুও দূর পরবাসে, যেখানে সন্ধ্যায় কেউ অপেক্ষায় থাকে না জেবার, বাড়ি ফেরার, দুটো কথা বলার, কেমন ছিলো ইন্টারভিউ, কেমন কাটলো দীর্ঘ ব্যস্ত দিন, দীর্ঘ বরষ মাস, সেই মনোরম মনোটনাস জীবনে আসে 'তারেক রাহিমী', সুদর্শন ইরানি তরুণ। (নায়কের এই নামকরণের পেছনের ইতিহাস পুরোনো বইপড়ুয়া পাপী হিসেবে খানিকটা আন্দাজ করতেই পারি, কিন্তু সে অন্য প্যাঁচাল, গতস্য শোচনা নাস্তি ইত্যাদি)
ভাষার ব্যবধানে খুব একটা আটকায় না ঘনিষ্টতা। তারেকের মা নেপালি, বেড়ে ওঠা কলকাতায়। বাংলা সে বেশ বোঝে। 'মধ্যরাতের অশ্বারোহী', প্রচ্ছদ দেখেই সে নাম-ঠিকানা পড়ে নিতে পারে বেশ, লিখতেও!
কিন্তু সর্বগ্রাসী আবেগ থরথর নবীন দাম্পত্যের মধ্যে এসে দাঁড়ায় তরল গরল, টিপিক্যাল মূল্যবোধ। ভ্যালুজ নাকি ভালবাসা?
'ভালোবাসা, করে আশা তোমার অতল জল শীতল করবে মরুভূমি...🎵🎶'
ধন্য আশা কুহকিনী বলেই তো আজন্ম জানি। জেবার জীবনে সে কুহক কি ফুরায়?
ছোট্ট একটা বই, লাইট রিড। সাইজে কিউট, বহনেও খুব বেশি বেগ পেতে হবে না। বেরিয়েছে বাতিঘর প্রকাশনী থেকে, গত ফেব্রুয়ারিতে। বাংলাদেশি মুদ্রায় মাত্র ২৬০/, মূল্য। ড্যাঞ্চিপ, ইজন্ট ইট? প্রবাসীদের জন্য সহজলভ্য এমাজনে। জেবার প্রিয় গান শুনতে শুনতে পড়েই ফেলুন এইবেলা-- https://youtu.be/ZlRkp5H4EUI?si=bXzrC...
“...আমি যে খুব রাজনৈতিক হোমরা চোমরা কুমড়া চিন্তক তা কিন্তু না। এমনিতে হয়তো একটা পাখির দুঃখে কাঁদি, একটা তিনপাওয়ালা কুকুর দেখলে মনটা খারাপ হয়। অথচ টিভির পর্দায় সত্যিকারের মৃত্যু, যুদ্ধ এই সব কিছুরে ভিডিও গেইমের মতন লাগে। মনে হয় ব্যাকগ্রাউন্ড, আমি তার মধ্যেই আরাম করে কফি খাইতে পারি, ঘরের পুরান কার্পেট বদলায়ে নতুন কী রঙ দিলে ভালো হবে ভাবতে পারি। কিন্তু সেইদিন মনটা ভারাক্রান্ত আর নরম হয়ে ছিল।”
“ বড় হইতে হইতে মানুষ অসহায় হয়, তখন আর আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ থাকে না “….. কী যে সুন্দর একটা বই!!! মনেই হলো না যে বই পড়লাম … মনে হলো কারো diary পড়লাম…. শেষ হওয়ার পর মনে হচ্ছিল আরো পড়ি আরো পড়ি… কেন যে শেষ হলো!… স্বাদ লেগে আছে মনে একদম!! 5 star চোখ বুজেই দিয়ে দিলাম।