সেদিন শরৎ হেমন্তের সন্ধিক্ষণে নির্জন নিশীথে বয়ে যাওয়া হিমেল হাওয়ায় বিলের পদ্মর সঙ্গে ঘটে চন্দ্রের প্রথম সাক্ষাৎ। হঠাৎ স্বচ্ছ জলে প্রতিবিম্বিত হয় কারো আবছায়া। কখনো তা বিশদ আভায় মোহময় করে তোলে চারপাশ — কখনো ঘোর অমাবস্যায় ছেয়ে যায় সমস্ত আকাশ! আলোছাঁয়ার ঘোলাটে জাহানে বসবাস করা কৃষ্ণবর্ণের ঐন্দ্রজালিক চন্দ্রের জীবনে নির্মল, সুরূপা পদ্মর আকষ্মিক পদার্পণ কী পারবে অমানিশার সাথে সাথে চন্দ্রের অবশিষ্ট কলঙ্কও মুছে দিতে? নাকি অনুরাগের বাঁধনে শুকতারা হয়ে কলঙ্কিত চন্দ্রের কাছাকাছি থেকে যাবে আজন্ম!
এই বইটা পড়া শেষ করি গত মাসে। এরপরেও কেন জানি অসংখ্যবার রিভিউ লেখার চেষ্টা করলেও সবকিছু ঠিকমতো গুছায়ে আনতে পারি নাই। স্টিল পারতেসি না। আগেই বলে দিই, পুরো পোস্টজুড়ে স্পয়লার থাকবে।
তো যাই হোক, বইমেলার টাইমে দেখি বিভিন্ন বুকশপ এই বইয়ের আলপনা এডিশন, ব্ল্যাক এডিশনসহ আরো কীসব এডিশন বিক্রি করছে। লেখিকার নাম আগে কখনো শুনি নাই। তো যারীনকে একটা পোস্ট শেয়ার করে বললাম ঘটনা কী মামা? ও আমাকে রিপ্লাইয়ে আরেকটা পোস্টের লিংক পাঠালো। এরপর তো ফেসবুক আমাকে গণহারে পদ্মজার পোস্টই দেখাচ্ছে। আমি তো এসব কিছু দেখে অবাক! বিভিন্ন মডেলসহ এই বইয়ের ছবি দিয়ে আমার নিউজফিড সয়লাব। এরপর মনে হলো যে, নাহ, পড়তেই হবে!
আমি আবার যেকোনো বই পড়ার আগে গুডরিডসে একটু রিভিউ দেখে আসি৷ ওখানে একটা রিভিউ এমন ছিল, "পরিচিত সবাই বইয়ের সমালোচনা করছে দেখে মনে হলো আমিও একটু সমালোচনা করি। কিন্তু সমালোচনা করার জন্য বইটা পড়তে হবে....সবশেষে এটুকু স্বান্তনা যে আমি বইটা কিনে পড়িনি, ধার করে পড়েছি।"– ঠিক এই রিভিউটা দেখেই আমি বইটা পড়া শুরু করি।
কাহিনী খুবই ক্লিশে, মানে অখাদ্য, জঘন্য, নীচ– সবকিছু। গরিব ঘরে খুবই সুন্দরী একটা মেয়ে হয়, যার নাম পদ্মজা। তার মা বেশি পড়াশোনা না করলেও তাদের ৩ বোনকে আগলে রেখে বড় করেছেন। ওর বাবা মাতাল। ওর বাবার আগের একটা বউ আছে। এরপর গ্রামে লিখন শাহ নামে এক সেই হ্যান্ডসাম হিরো শুটিং করতে আসে, যে পদ্মজার রূপে পাগল হয়ে তাকে বউ বানাতে চায়। কিন্তু পদ্মজা তখন না করে দিলেও মনে মনে হ্যাঁ বলে (?) এর মাঝে তার আরেক ছেলের সাথে বিয়ে ঠিক হলেও শেষমেশ বিয়ে হয় আমিরের সাথে। কারণ আমির ওর বাসার সামনে খালি গায়ে দাঁড়ায় ছিল(?) কিন্তু আমির অনেক ভালো ছেলে দেখে ওর সাথে বিয়ে হয়ে যায়। এরপর পদ্মজার আমিরের বাসায় যেয়ে সবকিছুই sus লাগে(?)
তারপর হিন্দি সিরিয়ালের মতো কাহিনী অনেক টানে, এই বই কিভাবে ৪৫০ পেইজের বেশি হয় আমি জানি না। মাঝের দিকে এসে জানা যায় যে আমির নারী পাচার ব্যবসার সাথে জড়িত। ওহ মাঝখানে পদ্মজা রংতামাশা করে কিভাবে কিভাবে জানি ঢাবিতে চান্স পেয়ে যায়। এরপর ওখানে যেয়ে সে ইভটিজারদের প্রতিহত করে। তারপর সে আমিরকে বারবার বলে ব্যবসা ছাড়তে। কিন্তু আমির ছাড়তে পারে না কারণ এইটা ওদের চারশ বছরের পারিবারিক ব্যবসা। এরপর আমিরের দেবর, শ্বশুর আর চাচা শ্বশুর মিলে ওর মেজ বোনকে রে*প করে মেরে ফেলে। তারপর পদ্মজা প্রতিশোধের আগুনে জ্বলতে থাকে।
এরপর এক পূর্ণিমার রাতে পদ্মজার স্বামী, দেবর, শ্বশুর, চাচা শ্বশুর আর ব্যবসার কাজে নিয়োজিত এক মহিলা উঠানে ঘুমাচ্ছিল(?) সেখানে পদ্মজা যেয়ে একে একে সবাইকে খুন করে৷ কিন্তু আমিরকে খুন করার পর পদ্মজা "হায় আমি এ কী করলাম" টাইপ কথা বলে কাঁদতে শুরু করে।
তারপর তার জেল হয়। আসলে জেলের সিন দিয়েই উপন্যাসের শুরু। এখন আসি প্লটের ফাত্রামির কথায়।
১. পদ্মজার খালা আর খালু অনেক ফরসা ছিল। কিন্তু তাদের সন্তান কালো হয়। তাই ওর খালু ওর খালাকে বাসা থেকে বের করে দেয়। তাই পদ্মজার মা চেয়েছিল তার সন্তান যেন কালো না হয়ে ফরসা হয়। এরপর পদ্মজা আসলেই ফরসা হলো। কিন্তু ওর বাবা-মা যে কালো। এইজন্য ওর বাপ ওদের ফেলে চলে যায়।
এখন আমার কথা হলো, ওর বাপ যদি চলেই যায়, তাহলে ওর পরের দুইটা বোন কিভাবে হলো? 😏
২. কাহিনীর একটা পর্যায়ে ওর বাবার প্রথম বউ আসে। কিন্তু সে পদ্মজার মা'র ব্যক্তিত্ব দেখে পারলে তাকে ধরে চুমু খায়। এখানে কিভাবে কাহিনী জাম্প করলো বুঝি নাই।
৩. আমিরের বাসার পুরা কাহিনীই প্লট হোল দিয়ে ভরা। এতকিছু আর লিখতে ইচ্ছা করতেসে না। . . . এবার সিরিয়াস কথায় আসি। প্লট খুবই জঘন্য। খুবই। সেই তুলনায় লেখার স্টাইল খুব একটা খারাপ ছিল না। কিন্তু মানুষ এই 'পদ্মজা' বইটাকে যেভাবে বাংলার সেরা উপন্যাস তকমা দিচ্ছে, এইটা হাস্যকর। এরা কি বোর্ডের বাংলা বইও পড়ে নাই? আর ইনফ্লুয়েন্সার দিয়ে এই বইয়ের এত মার্কেটিং করা হয়েছে, চোখে লাগে। আর
বইমেলায় এই স্টলের সামনে যেয়ে দেখি উপচে পড়া ভীড়, রকমারির বেস্টসেলার এইটা। কারো বইয়ের চয়েস নিয়ে জাজ করতে ভালো লাগে না, কিন্তু আজকে মনে হয় জাজ করতে পারলে ভালো লাগবে 😋 যেই বইয়ের কাহিনী অলরেডি লেখিকা নিজেই ফেসবুকে পোস্ট করে দিয়েছেন, সেটা আলাদা করে কেনার কী দরকার?
নিম্নমানের কাহিনী৷ এই বই অবশ্য আমি একা পড়ি নাই, যারীন আর ইকরাকে নিয়মিত ভয়েস মেসেজে কাহিনী বলে আপডেটেড রেখেছি। ওরাই আমাকে বইটা শেষ করার অনুপ্রেরণা দিয়েছে। বিশেষ করে যারীন তো এই বইয়ের রিভিউ লেখার জন্য নিয়মিত তাড়া দিতো। 🥰 অবশ্য ওর মতে পদ্মজা আমাকে কালো জাদু করেছে কারণ আমি এই বই পড়ার পর টানা কয়েক মাস অন্যকিছু নিয়ে ভাবতে পারি নাই। 🥰
এমন বই না পড়লে শান্তির বইগুলোর মর্ম বুঝতে পারতাম না। ছোটবেলায়.. মানে টিনেজবেলাতে আমি ভারতীয় বাংলা সিরিয়াল দেখতাম। কাহিনীগুলো ১০০০পর্ব পেরিয়ে যেতো,তাও যেনো চোখ ৮ টা কিংবা ৮.৩০ হলেই টিভির সাথে লেগে থাকতো। একটু বয়সে বুঝলাম ও আমার বয়সের সময়ের ধারা ছিলো, আবেগের উৎপাদন বেশি ছিলো৷ এই বইয়ের হাইপ যাদের মধ্যে দেখলাম,তাদের মাঝে আমার সেই বয়সের গন্ধ খুঁজে পাই। শুধুমাত্র কেউ "আপনি পুরো পড়েননি বলে এর রস বুঝেতে পারেননি" এই অপবাদ দিতে না পারে, সেজন্য পুরোটা শেষ করা৷ এর চেয়ে সকালের "বুনো ওল" বা বিকেলের ডাকে আসা ইমতিয়ার শামীমের বইটা ধরলে বেশ হতো।
রেটিং: ১ তারকার নিচে যদি কিছু থাকতো আমি সেটাই দিতাম।
Updated Review অনেক শুনলাম পদ্মজা'র জয়গান । কেউ বলছেন শ্রেষ্ঠ উপন্যাস জীবনে এমন পড়েননি , কেউ বলছেন ঘোর থেকে বেরোতে পারছি না ,কেউ আবার বলছেন কালজয়ী উপন্যাস। এমন সব কথা শুনেও হাসি পায়। সকলে একেবারে প্রশংসায় পঞ্চমুখ কিন্তু এখানে দেখতে হবে প্রশংসা করছেন কোন পাঠকরা । মহামান্য সেই সকল পাঠকেরা কি আদৌ কোন কালজয়ী লেখক এর লেখা পড়েছেন ? আপনারা কি সত্যিকার অর্থে সাহিত্যের ঘোর কাকে বলে জানেন ? আপনারা কি আদৌ সাহিত্য বলতে কিছু বোঝেন নাকি আপনাদের পড়ার দৌড় ফেসবুকের পর্ব ভিত্তিক এসব গল্প উপন্যাস পর্যন্তই সীমাবদ্ধ? আর যে সকলে পাঠক এমন বস্তা পচা বইকে বেস্ট সেলার বানায় তাদের রুচি নিয়েও যথেষ্ট দিধা আছে আমার।
এবার আসি উপন্যাসের লেখিকা এর ব্যাপারে -
📌 লেখিকা বোধ হয় লেখার সময় কোয়ান্টিটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন কোয়ালিটি কে নয় । যদি দিতেন তাহলে পেজ সংখ্যা নেমে আসত অর্ধেকে। পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা ঠাসালেই যদি কালজয়ী উপন্যাস হতো তাহলে তো শরৎচন্দ্র চৌষট্টি পেজের দেবদাস লিখে জগত বিখ্যাত হতেন না।
📌 ছোটবেলায় একরকম বাধ্য হয়ে আম্মুর সাথে স্টার জলসা জি বাংলা সিরিয়াল দেখতে হতো ।বহু বছর পর সেই অনুভূতি আবারো পেলাম ।পদ্মজা উপন্যাসটা যেন কোন হিন্দি সিরিয়ালের স্ক্রিপ্ট। রাবারের মতো টানতে টানতে জগাখিচুড়ি বানানো একটা হিন্দি সিরিয়ালের স্ক্রিপ্ট।
📌 উপন্যাসে যে খুব সূক্ষ্মভাবে হলিউডের সিনেমার একটা অংশকে বসানো হয়েছে ফেসবুকের সম্মানিত পাঠকেরা সেটা হয়তো অনেকে ধরতেই পারেননি।
📌 এছাড়া লেখায় অনেক অসংলগ্নতা আছে যেমন- এমন বাবা-মার ঘরে পদ্মজার মতো মিস ওয়ার্ল্ড এর জন্ম ,প��রকিনসন ডিজিজ এর পেশেন্ট হয়ে এমন দুর্দান্ত চিঠি লেখার ব্যাপারটিও যথেষ্ট হাস্যকর ।এছাড়া নায়ক লিখন শাহ এর শুটিং স্পট +বেহুদা ঘোরাফেরা মানানসই না।
📌 লেখিকার লেখা সাবলীল না এবং তার শব্দভাণ্ডারেও রয়েছে যথেষ্ট অপর্যাপ্ততা। শুনেছি উনি বেশ ভালো একজন পাঠক কিন্তু পাঠক হলে তো আসলে উনার লেখার ভঙ্গি সাবলীল হওয়ার কথা ছিল, আর যারা ভালো পাঠক তাদের শব্দ ভান্ডার ও যথেষ্ট সমৃদ্ধ থাকে।
~এমন আরো অনেক প্লট হোল আছে পুরো উপন্যাসে লিখতে গেলে যা শেষ হবে না। লেখিকার বয়স বিচারে এটাকে ১ ⭐ এর বেশি দেওয়া অযৌক্তিক। আমি কখনোই সেভাবে রিভিউ দেই না কোনো বই এর ই তবে একটা নির্দিষ্ট পাঠক শ্রেণীর অতিরিক্ত মাতামাতির জন্য এই বস্তা পচা বই পড়তে এবং রিভিউ লিখতে বাধ্য হলাম। ( একটাই সান্তনা বইটা কিনে অন্তত অর্থ অপচয় করি নি)
শেষমেষ বলতে চাই যারা আমির পদ্মজার প্রেম দেখে হাবুডুবু খাচ্ছেন তারা "মেম সাহেব" বইটা পড়ে দেখতে পারেন। যারা বলছেন হেমালতার স্ট্রাগলের কথা তারা "ইন্দুবালা ভাতের হোটেল" বইটা পড়ুন। পূর্ণা প্রান্ত পদ্মজার ভাই বোনের ভালোবাসা দেখে যারা টিস্যু অপচয় করছেন তারা হয়তো অপু আর দুর্গাকে চেনেন না , তারা পথের পাঁচালীর নাম ও হয়তো এখনো শোনেননি। আর যারা কান্নাকাটি করছেন পদ্মজার পরিণতি নিয়ে তারা "কোথাও কেউ নেই" পড়তে পারেন। এমন উদাহরণ আরো অনেক দেওয়া যাবে চাইলে। সাহিত্য বুঝতে ২০০ বছর আগের বই পড়া লাগবে না ৫০ বছর আগের বইগুলো একটু নেড়েচেড়ে দেখেন অন্তত এই উপন্যাস কে আপনার কালজয়ী উপন্যাস বলে মনে হবে না।
আর যদি আপনি সাহিত্য বলতে ফেসবুক প্ল্যাটফর্ম বুঝেন তাহলে আপনার মত আলু ক্ষেতের মুলাকে নিয়ে আমার কিছুই বলার নেই। মোট কথা পদ্মজা উপন্যাসটা অনলাইন প্লাটফর্মে লেখা গল্প উপন্যাস হিসেবে ঠিক আছে কিন্তু বই হিসেবে চড়া দামে মেলায় বেস্ট সেলার হওয়ার যোগ্যতা এই বইয়ের নাই। আগেও বলছি আবারো বলতেছি এই বইকে যারা বেস্ট সেলার বানিয়েছে তাদের রুচি নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন আছে।
(ব্যক্তিগত মতামত) এটা ফেবু তে একটা গ্রুপে আমি আপলোড দিয়েছিলাম। সেখান থেকেই এখানে এড করে দিলাম।
This entire review has been hidden because of spoilers.
একেবারে খারাপ ছিল না। মোটামুটি, চলনসই। কিন্তু লেখিকার পাঠকমহলের বই নিয়ে অত্যুক্তি, রবীন্দ্রনাথের নজরুলের কালজয়ী বইয়ের সাথে তুলনা, টিকটক তোলপাড় এসবই মূলত বইটি ট্রল হওয়ার কারণ। এছাড়াও বই থেকে যেসব লাইন হাইলাইট করে পোস্ট করা হচ্ছে সেসব অতিরিক্ত লুতুপুতু ছাড়া আর কিছু লাগছে না। কিছু অংশে হিন্দি সিরিয়ালের মতো ধুমতানানা ধুমতানানা করে চুইংগামের মতো টেনে লম্বা করা হয়েছে। মোটকথা বই একেবারে অখাদ্য না হলেও, এতো অ্যাটেনশন পাওয়ার মতো কিছু না। ওভারহাইপড!
আগে ভাবতাম সাদাত সাব ত্যাঁনা প্যাঁচায়, পরে দেখলাম নাহ মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন এই কাতারে আছে। আমার ধারনা ছিল ভুল, ইল্মা বেহ্রুজ হচ্ছে সবার লর্ড। ত্যাঁনা প্যাঁচাইয়া তিল কে তাল বানায় নাই, কুমড়া বানাই ফেলসে।
বেগম রোকেয়া উপর থেকে হাসি মুখে চেয়ে আছে।
ভাল বই খারাপ বই বলে কিছু নেই, সব কিছু থেকেই আমরা জ্ঞান আহরণ করতে পারি। তাহলে আমরা এর থেকে আমরা কি শিখতে পারলাম? মাঝে মাঝে হাবিজাবি না পড়লে ভাল বইয়ের গুরুত্ব বুঝা যাবে না।
সব কিছু ছাপিয়ে কেন জানি মনে হয়েছে, রকমারি + ফেসবুকের গুণ কীর্তন ট্যাকা দিয়ে কেনা হয়েছে, goodreads এ এর প্রভাব পরবে না বলেই আশা করি।
প্রশ্ন হতে পারে আমি কি পুরো বইটা শেষ করেছি? জ্বি না, ৪২% শেষ করেছি। নতুন লেখিকা হিসেবে ২২% বেশি পড়েছি, সাধারণত কোন বইয়ের ২০% পড়েও ভাল না লাগলে সে বই শেষ করি না।
আমি নজ্রুল পড়েও দেখছি, রবি ঠাকুর পড়েও দেখেছি, বেহ্রুজ ও পড়ে দেখলাম, শান্তি শুধু সাবিতা ভাবী পড়ায়।
পরিচিত অনেক পাঠক বন্ধু কে দেখলাম বইটার সমালোচনা করতে। ভাবলাম আমিও সমালোচনা করি, কিন্তু না পড়ে তো সমালোচনা করতে পারি না, তাই বইটা পড়তে হলো। ৮ দিন বসে বইটা শেষ করলাম অবশেষে। এই বইটা তাদের কাছেই শ্রেষ্ঠ মনে হবে, যাদের পঠিত বইয়ের সংখ্যা ১-১০। বইটা অনায়াসে ২৫০ পৃষ্ঠায় লেখা যেতো কিন্তু লেখিকা রাবারের মতো টেনে টেনে বড়ো করেছেন। ছোট বেলায় বাধ্য হয়ে আম্মুর সাথে স্টার জলসার নাটক দেখতে হতো কারন বাসায় টিভি একটাই। এই বইটা স্টার জলসার নাটকের স্ক্রিপ্টের সাথে একটু সস্তা থৃল এর মিশ্রন মনে হয়েছে আমার কাছে। এসব কেবলই আমার ব্যাক্তিগত মতামত। এমনও হতে পারে আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানের পরিধির কারণে বইটা আমার কাছে ভালো লাগে নি। সবশেষে এটুকুই সান্ত্বনা যে, বইটা আমি ধার করে পড়েছি, কিনে পড়িনি।
গল্পটা সম্পর্কে আগেই একটু ধারণা ছিল, তবে কোনো কিছু না পড়ে মন্তব্য করতে পারব বইটা শেষ করলাম। শুরুতে কিছুটা ভালো লাগলেও ৩০-৪০ পর্বের পর থেকে ক্রিঞ্জের লোড নিতে পারছিলাম না৷
এবার বলি কম রেটিং দেয়ার কারন : - হাইপ অনুযায়ী আশানুরূপ কিছুই পাইনি, সবাই বলছিল টুইস্টে ভরপুর যেগুলার কিছুই দেখলাম না
- গল্পে সবাই সবাইকে কোপাচ্ছে, লাথি মারছে, ছুরি মারছে, খারাপ কথা বলছে কিন্তু একটু পরেই সব ঠিক, আবার সেইম জিনিস শুরু
- রেপিস্ট, খুনী আমির এর কাজকারবারকে গল্পের শেষ পর্যন্ত জাস্টিফাই করার চেষ্টা করা হয়েছে ভালোবাসার আবেগী কথাবার্তা টেনে এনে (বেশিরভাগ পাঠক আবার আমিরের প্রেমে পড়েছে)
-এরা এত মেয়েকে কত সহজে খুন করলো গ্রামবাসী কিছু বুঝলোনা, অথচ এই গ্রামে ছেলে মেয়ে কথা বললেই সবাই জেনে যায়, কেউ কোনো লাশ দেখলোনা শুধু পূর্নারটাই ধরা পড়লো
- লিখন শাহ (গরীবের সালমান শাহ) দেশের এত বড় নায়ক এর শ্যুটিং ঘুরেফিরে একটা গ্রামেই হয়, সিনেমার কোনো ক্রু, টিম কিছুই নাই, পরিচালক আর নায়িকা ছাড়া, নায়ক যখন তখন পদ্মজার শ্বশুরবাড়িতে যাচ্ছে ঘুরতেসে, তার উপর কত সহজে আক্রমণ ও হল
- হেমলতা মৃত্যুর আগে এত বড়, শুদ্ধ ভাষায় গুছিয়ে চিঠি লিখেছেন পারকিনসন ডিজিজের রুগী হয়ে এটা বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি
- প্রতি পর্বেই ভালোবাসার সস্তা কিছু উক্তি, আর পদ্মজার সৌন্দর্যের বর্ননা হেনতেন এগুলা কমাই দিলে ৪০০ পেইজের বইটাকে ২০০ পেইজে আনা যেত
-পদ্মজা আমির নির্ভর ছিল, সে হেমলতার মত মেন্টালি অতটা স্ট্রং বলে মনে হয়নাই আমার, সে একসাথে ৫ টা মানুষকে এত সহজে খুন করবে ব্যাপারটা মানা যায় না আবার কেউ বাঁধন ও খুলতে পারলো��া
- মেইজ কথা হল ঘোরের মধ্যে যাইনাই, কোনো কান্নাও আসেনাই (সবাই যেভাবে বলতেছে কান্না আসে এইটা পড়ে)
পজিটিভ দিক : হেমলতা আর মৃদুল চরিত্রটাই ভালো লেগেছে, পূর্নার মৃত্যুতে খারাপ লাগা কাজ করছে কিছুটা।
This entire review has been hidden because of spoilers.
Nobody will want to admit that the book was good.But believe me this was 1 of the biggest book that I finished within 2 days. I couldn't even sleep at night till I finished the book. I've seen some reviews where the readers are complaining that the writer has stretched out the book. For them, that's how the story was made interesting. If she didn't write every single thing, I can guarantee you that people would have a lot of questions. Wanna know what I personally think, the writing was much better what ever sh** humayun ahmed writes.
To those people who didn't like the book, all you could do was support the writer to write such thing. Cuz there are people in Bangladesh who are doing this. Have you listened to recent news, a guy name Fayaz Karim has done such thing.
To the people who hasn't read, I can't beg you to read the book but believe me if you want to be brave like the girl (PODDOJA), then you must read. Especially the way she killed them. A normal person can never do that.
To those who haven't read yet, I'll say (Don't Judge a Book by it's Cover) Everyone's taste are not the similar so give it a try!
To people who are judging the character (PODDOJA &AMIR). Have you ever loved someone? If not, how will you understand the deep level connection. Did you ever think how hard it was for Amir? He didn't want the past. He wanted a present and a future with Poddoja. At the sme time, it was hard for him to do so. He got addicted, he couldn't stop…
To anyone who has mood swings, believe me it's going to make you cry. I couldn't stop crying… Never read it in front of anyone if you can't control emotions.
লাইফে অনেক ফালতু বই পড়েছি। কিন্তু এইটাই প্রথম যা শেষ করিনি। আমি কখনোই ভালো কিছু বলার না থাকলে review দিই না। এটা এতটা জঘন্য একটা বই যে আমার লিখতেই হলো।
First of all, কাহিনীর আগা মাথা ঠিক নেই। একটার পর একটা ঘটনা দিতে থাকলেই তো হয় না, flow ও তো থাকা চাই। Every single event feels either forced or sudden.
আমার সবচেয়ে বেশি যেটা weird লাগে সেটা হলো পদ্মজার রূপ। গল্পটায় fantasy বা supernatural element নেই। So পদ্মজার মা- বাবা, অন্যান্য আত্মীয় স্বজনদের মধ্যে যেসব feature নেই, তা তার মধ্যে থাকাটা অযৌক্তিক। একটা contemporary গল্পে অলৌকিক ঘটনার থাকার কথা না। This clearly implies that Hemlata had an affair 🤷🏼♀️ ।
হেমলতার মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার কথাটা forced মনে হচ্ছিল। তিনি মুক্তিযোদ্ধা হলে এটা নিয়ে গল্পে আরো প্রসঙ্গ উল্লেখ করা উচিত ছিল। হঠাৎ একদিন উনি বললেন উনি মুক্তিযোদ্ধা আর সেটা নিয়ে কোনো কথাই বলা হয়নি। Hemlata also seemed kind of manipulative।
আমিরের প্রথম পরিচয়ের সময়ই ওর প্রতি এক ধরনের dislike কাজ করায় পরবর্তীতে ওর কোনো action ই ভালো লাগেনি। Amir stayed there on purpose on the first day. This makes me wonder what would've happened if no-one was there to 'catch' them?
হেমলতার পার্কিনসনস ডিসিজ এর পার্টটা পড়ে মনে হচ্ছিল যেন লেখিকা হঠাৎ একদিন এই রোগের নাম শুনে, ১০ মিনিট গুগল ঘেঁটে দিয়ে দিয়েছে।
অনেকেই বলতে পারে বইটা পুরো পড়লে হয়তো আমার ভালো লাগতো। যেকোনো বই পড়া এক একটা journey, যেখানে শুধু গন্তব্য টা important না। বইয়ের শেষে mindblowing plot twist থেকে কি লাভ যদি তার একটা page ও enjoy না করা যায়। শুধু লেখার জন্য লিখলেই তো হলো না। পাঠকদের perspective টাও দেখতে হয়। ১৫০-২০০ পৃষ্ঠাকে টেনে ৪৫০+ বানানোর কোনো মানে হয় না।
একটু সময় নিয়ে খোঁজ করলেই দেখা যাবে যাদের এই বইটা নিয়ে এতো ভালোবাসা তাদের বেশিরভাগেরই এইটা প্রথম পড়া বই। আমার নিজের personal circle এর মধ্যে খোঁজ নিয়েই আমি দেখেছি, যারা নিয়মিত পড়ে প্রত্যেকেই আমার সাথে সহমত। আর যারা বইটির প্রশংসায় পঞ্চমুখ, তাদের literary knowledge শূন্য। Painfully overhyped, কিভাবে এটাকে মানুষ masterpiece বলে বুঝতে পারলাম না। আমি মনে করি সব বই সবার পছন্দ না হওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু যারা এটাকে এতটা hype দিচ্ছে তাদের রুচি নিয়ে আমার সন্দেহ আছে। Especially, এটাকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, শরৎচন্দ্র এদের সাথে তুলনা করার মতো idiocy অবাক করার মতো।
This book made me fall into a month long reading slump. This sucked out all the joy I felt for reading.
This entire review has been hidden because of spoilers.
অনলাইন কপি টা পড়া হয়েছে হার্ড কপিতেও তেমন কোন পরিবর্তন হয়নি তাই মনে হলো একটা রিভিউ দেয়াই যায়।
গল্পটা পড়ার মূল কারণ এর হাইপ,এবং পুরোটা পড়বার পর অবশ্যই আমি হতাশ !
কেন !? কারণ গল্পের ভিতর ছিল বেশ কিছু বেমানান প্লটহোল। হাইপের কারণ এর নির্দিষ্ট একটা পাঠক শ্রেণী তাদের উপর ভরসা করে সময় দেয়া আমারই ভুল ছিল ।
তো কিছু বেমানান,অবাস্তব পয়েন্ট তুলে ধরছি - - প্রথমত নাম ! হেমলতার নামটা বেশ ইউনিক ছিল সেটার কারণও আছে,তার বাবা ছিল শিক্ষিত কিন্তু সেই একই বাবার আরেক মেয়ের নাম উম্মে হানি সেটা ভালো লাগেনি । একটা গ্রামের কিছু মেয়ে তাদের নাম পদ্মজা , প্রেমা, পূর্ণা , লাবণ্য তাও আবার ১৯৯০ এর আগে এটা একটু অসামঞ্জস্যপূর্ণ , তখনকার সময়ে গ্রামের মেয়েদের নাম এমনটা ছিল বলে আমার জানা নেই ।
-বাবা,মা কেউ সুন্দর না হলে তাদের সন্তানের এত সুন্দর হওয়া অবাস্তব , এর উপর বাকি দুবোনের সাথেও পদ্মজার অনেক পার্থক্য আছে যেটা কোনোভাবেই বাস্তবিক না ।
- একটা গ্রামে ২০০ বছর ধরে এমন কাজ এত গোপনীয়তার সাথে করা যায় না , টাইমলাইন টা আরেকটু কম হতে পারতো
- আমিরকে শেষে ভালো মানুষ সাজানোর যে অল্প চেস্টা টাও করা হয়েছে সেটা ভালো লাগেনি। তার প্রথম দুই স্ত্রী তাকে টাকার লোভে বিয়ে করেছিল সেটা সে চিঠিতে উল্লেখ করে ,তাতে কি ওদের মারা জায়েজ হয়ে যায় ?
- আমিরের পদ্মজা প্রেমে সবাই মাতোয়ারা অথচ সেই প্রেম কতটুকু খাঁটি ছিল তাতে আমার সন্দেহ রয়েছে
- শেষটাও ভীষণ অবাস্তব, মানে এতগুলো মানুষকে একা হতে মেরে ফেলা কি আসলেই এত সহজ যতটা সহজ দেখানো হয়েছে?
- পদ্মজা 'র শেষ টাও কেমন যেনো খাপছাড়া এত গুলো বাচ্চা দত্তক নিয়ে আসা, সাথে স্কুলের স্যারের কাহিনীর কোনো দরকার ছিল না। শেষ টা ওই নেটফ্লিক্স এর কোন শো এর মত মানে এটার আরো পার্ট আসতেও পারে আবার নাও পারে 😵💫
আসলে বলতে গেলে আমার লিখা আসলে শেষ হবে না । আমি লেখিকার বয়স বিচার করে এটাকে ১.৫ এর বেশি দিতে পারবো না । রিভিউ টাও লিখতাম না কিন্তু একটা নির্দিষ্ট পাঠক শ্রেণীর অতিরিক্ত মাতামাতি তে কেউ যেনো সময় বা অর্থ অপচয় না করেন তার জন্যই লেখা।
মোটকথা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে লিখা গল্প হিসেবে ঠিক আছে কিন্তু বই হিসেবে বের করার কোনো দরকারই ছিলনা তাও আবার এমন চড়া দামে !
মনে হলো এখানে এবার ফ্যানগার্ল'দের আক্রমণ করার চান্স নাই তাই একটু লিখেই ফেললাম 🙃
This entire review has been hidden because of spoilers.
২ মাস চেষ্টা করেও বইটার অর্ধেক শেষ করতে পারি নি। বইয়ে দৃশ্যপট, সমসাময়িক কোনও ঐতিহাসিক কাহিনী উল্লেখ করে সেই সময়কে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হয় নি। কাহিনী এগিয়ে নেবার সাথে সাথে ঋতু পরিবর্তন, মানুষের জীবনধারণের পরিবর্তন নিয়ে কিছু উল্লেখ নাই যা দ্বারা পাঠককে কাহিনীতে আকৃষ্ট করে রাখা যায়। বই পড়ে মনে হচ্ছে একজন টানা সংলাপ বলে যাচ্ছে শুধু।
কোনো এক মনিষী বলেছিলেন, নারীদের ক্ষমতা সম্পর্কে ��াজি লাগিয়ো না, তারা চাইলেই অনেক কিছু করতে পারে। "এই দুনিয়ায় বাঁচার দুটি পথ- চুপ থাকো, নয় প্রতিবাদ করো। কিন্তু আমার নিয়ম বলে, সামনে চুপ থেকে আড়ালে আবর্জনাটাকে ছুঁড়ে ফেলে দাও। যাতে এই আবর্জনার প্রভাবে আর কিছু না পঁচে।" (হেমলতা)
"আমি পদ্মজা" মূলত ইলমা বেহরোজের একটা রহস্যময় উপন্যাস। গল্পের শুরুতে পদ্মজা জেলে থাকা অবস্থায় নিজের জীবনের কাহিনী তুষার নামক এক অফিসারকে বলে। একসাথে ৫ জনকে নির্মমভাবে হ*ত্যা করার জন্য তাকে জেলে রাখা হয়েছিলো। গল্পের পদ্মজা খুবই নরম, ভদ্র, লাজুক ও ধর্মানুগত ছিলো। হঠাৎ একদিন পদ্মজার বিয়ে হয়ে যাওয়ায় তার জীবন সর্ব সময়ের জন্য পালটে যায়। বিয়ের পরেই হাওলাদার বাড়িতে এসে পদ্মজা অদ্ভুত কিছু অনুভব করে। সেই রহস্য উদঘাটন করতে বেরিয়ে আসে অনেক বড় তথ্য। যেটা পদ্মজার জীবন পালটে দেয় সাথে হারিয়ে যায় অনেক মানুষ তার জীবন থেকে। কি হয়েছিলো পদ্মজার? পদ্মজা জেলে কিভাবে গেলো? কিভাবে খু*ন করেছিলো পদ্মজা? গল্পের শেষ পরিণতি কি হয়েছিলো?
গল্পের একটি লাইন আমার অনেক ভালো লেগেছিলো,
আমি নিষ্ঠুর,তুমি মায়াবতী।আমি ধ্বংস,তুমি সৃষ্টি।আমি পাপ,তুমি পবিত্র। এতো অমিলে কেনো হলো মিলন,কেন কালো অন্তরে ছড়িয়ে দিলে ফুলের সুবাস? আমাকে ধ্বংস করার জন্য কী অন্য কোন অস্ত্র ছিল না!!
I checked Goodreads before starting "poddoja" and saw 1★ reviews more! And The way people were describing I was like is it that bad? And truth be told it's not as bad as some people are describing! As a new writer she did really really good!
এই বই শেষ করলাম আধ ঘন্টা মতন হয়েছে , প্রথম অংশ পড়েছি e-book এ আর দ্বিতীয় অংশ শেষ করেছি অডিও বুক শুনে । এখন কথা হলো , এই বহু সমালোচিত বই আমার কেমন লাগলো। এক রাশ সমালোচনা মাথায় নিয়ে বসলে ঘ্যানঘ্যানে সিরিয়ালের গল্প মনে হতে পারে। কিন্তু আমি বই শুরু করেছিলাম মাথা ফাঁকা রেখে। আমার ফেসবুক নেই , তাই এই বই এর হাইপ আমি অবধি পৌঁছায়নি। একদিন আমি ইউটিউবে এই বইটি আবিষ্কার করি , এবং নামটির প্ৰতি আকৃষ্ট হয়ে বইটা পড়তে শুরু করি। একজন বছর কুড়ির মেয়ের লেখা , হয়তো কিছুটা অপরিপক্ক ,কিন্তু তিনি জানেন পাঠক দের কিভাবে আকৃষ্ট করতে হয় । বইয়ের প্রথম কিছুটা অংশ পরেই আমি মধ্যিখানের টুইস্ট ধরতে পারি। আমি বই পড়ার সময় এক ফোঁটাও কাঁদিনি। বইটি পড়ে কান্না পাওয়ার হয়তো কথা ছিল , কিন্তু কেন পেলোনা আমি জানিনা । আমার শ্রদ্ধা এসেছে হেমলতার প্রতি, হেমলতা কে খুব ভালো লেগেছে আমার। সঙ্গে ভালোবেসেছি পূর্ণা কেও ।বেশ কিছু চরিত্র আমার মন ছুঁয়েছে ,আর পদ্মজার কথা না হয় বইটা পড়েই জেনে নেবেন। কিছু রিভিউ পড়ছিলাম সেখানে লেখা ছিল, যারা বইটাকে ভালো বলছে তারা কালজয়ী সাহিত্য ১-১০ টাও পড়েছে কিনা সন্দেহ। আমি সত্যি পড়িনি , তাই নিজেকে এখনও দুর্ভাগা মনে হয়। তবে চেষ্টা করছি , অনেক বই পড়ার চেষ্টা। তাই কোনো কালজয়ী উপন্যাসের সাথে আমি পদ্মজার তুলনা আমার পক্ষে সম্ভব না , তা আমি করতেও চাইনা । তবে এই উপন্যাস টি আমার সারাজীবন মনে থাকবে ।
রবীন্দ্রনাথের “শেষের কবিতা” পড়ে শেষ কারার পর এই বইটা যখন কেউ পড়ে তখন তার মনের অবস্থা একজন বই প্রেমি ছাড়া কারো বুঝা সম্ভব না। আমার মনের অবস্থা আমার মনেই থাক, Review section এ সবার মনের অবস্থা দেখে আপাদত শান্তি পাচ্ছি। লেজ শুধু আমার কাটা যায় নি, সবার কাটা গেছে। এই বইয়ের থেকে বইয়ের review গুলে bomb 🤣🤣🤣
পুরো বই সস্তা আবেগে ভরা। সব থেকে সস্তা হলো প্রেমা আর তুষারের বিয়ে। পুলিশ নাকি আসামীর বোনকে জেনে শুনে ঘরে আনে 👏👏👏 এক কথায় একটা সস্তা ৩য় শ্রেণীর উপন্যাস। 🌚🌚🌚
যারা সব সময় সাহিত্য পড়েন,তাদের ভালো লাগার কথা নয়। হিন্দি সিরিয়ালের মতো মনে হয়েছে আমার।আর এই উপন্যাস নিয়ে-ই এতো মাতামাতি!! কোথায় যাচ্ছে আমাদের বাংলা সাহিত্য!! কোথায় সে পাঠক যে "গোরা" পড়ে কুসংস্কার দূর করবে, যে "আরণ্যকে" পড়ে প্রকৃতি অনুভব করবে,যে "দূর্গেশনন্দিনী" পড়ে ইতিহাস জানবে,যে "শ্রীকান্ত " পড়ে ভালোবাসার অপেক্ষা ও ত্যাগ বুঝবে, যে "পুতুল নাচের ইতিকথা " পড়ে নোংরামি ব্যতীত ভালোবাসা অনুধাবন করবে, যে "অগ্নিবীণা" কাব্যগ্রন্থ পড়ে বিদ্রোহী হয়ে উঠবে!! কোথায় এমন পাঠক!!
হাইপড হওয়ার আগেই পড়েছিলাম। লেখিকা আগেই পোস্ট করে দিয়েছিল। তাছাড়া অডিও অ ছিল। সেই সময় কেউ একজন বুকস রিলেটেড গ্রুপে পোস্ট দেয় যে না যে পদ্মজা অনেক সুন্দর একটা উপন্যাস/এর মত উপন্যাস হয়না হেনতেন। কমেন্টেও দেখলাম মানুষ নাকি পদ্মজা পড়ে অনেক কান্নাকাটি করেছে, এটা বেস্ট, এর থেকে ভালো উপন্যাস নেই, সবার পড়া উচিত আরো কত কি। সেই কৌতুহল থেকেই বইটি পড়েছিলাম। প্রথমত এখানে এর রেট যদি মাইনাসে দেওয়া যায়, হয়ত দিতাম। এর থেকে জঘন্য অখাদ্য, কুখাদ্য আর হয়না। হাইপড হওয়ার কিছু নাই। টোটালি হিন্দি সিরিয়াল এর কাহিনি।
এভারেজ। তবে বইটা কেনার আগ্রহ কখনো হয়নি। গিফট পেয়েছিলাম, হাইপ দেখে কৌতুহলী হয়ে অনেক দিন পর পড়েছি। ভূল ধরার মানসিকতায় একদমই পড়িনি, তবুও দুএকটা ভুল চোখে পড়ে যায়, যা নিয়ে আমি ফেবুতেও লিখেছিলাম। যেমন, এক জায়গায় লেখা হেমলতা কলেজ পড়তে পারেনি,ম্যাট্রিকের পর বিয়ে হয়ে যায়। আবার এক জায়গায় এমন প্রসঙ্গ আসে যে সে ঢাবিতে পড়েছে, কোন পেইজে তা এখন মনে নেই, অনেক আগে পড়েছিলাম বইটা। আমি ফেবু পোস্টে ছবি সহ পোস্ট করেছিলাম। যাই হোক, এটা মেজর ইস্যু না হলেও, এতো হাইপ ওয়ালা বই নিখুঁত তো হওয়া চাই! আমার দ্বিতীয় পার্ট পড়ার আগ্রহ হয়নি।
"পদ্মজা" পড়ে মনে হয়েছে, এ যেন সাহিত্যের মোড়কে আবৃত এক দীর্ঘ সিরিয়ালধর্মী নাটক। আবেগের বাড়াবাড়ি আর নাটকীয়তার আধিক্যে ভরা। উপন্যাসটির মান গড়পড়তা। ব্যক্তিগত পছন্দের ব্যাপার অবশ্যই, তবে এটিকে "বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ" উপন্যাস বানিয়ে দেয়া বাড়াবাড়ি ছাড়া কিছু নয়।
সময় বয়ে চলেছে, বই ভাইরাল হচ্��ে — কিন্তু সাহিত্যের মান যেন ভাইরাল জ্বরে ভুগছে।
বইটির ভালো দিক ও খারাপ দিক, ২টাই রয়েছে। ভালো দিক হলো লেখিকার বয়স অনেক কম, বয়স হিসাবে মোটামুটি ভালোই লিখেছে।লিখতে লিখতে এক সময় হয়তো তার কাছ থেকে আরো ভালো ভালো বই পাওয়া যাবে। বইটি নিয়ে অতিরিক্ত মাতামাতির কারণে অনেক মানুষই বইটি পড়েছে, এতে করে কিছু মানুষ যদি বই পড়ার দিকে ধাবিত হয় তাহলে সেটি ভালো লক্ষ্মণ। এবার আসি খারাপ দিক নিয়ে। বইটি বাংলা সিরিয়ালের মতো টেনেটুনে দীর্ঘায়িত করা হয়েছে এবং কিছু কিছু জায়গায় আমার বাংলা সিরিয়ালের কাহিনীই মনে হয়েছে। অতিরিক্ত কান্নাকাটি যা আমার জন্য বিরক্তিকর ছিলো। হালকা হালকা থ্রিলার ভাব ছিলো যা আমার পড়া অন্যান্য থ্রিলার বইয়ের কাছে শিশু।সর্বোপরি বইটি ভালো কিন্তু কালজয়ী উপন্যাস গুলোর সাথে তুলনা করার মতো আহামরি কিছু নয়।যারা এটিকে তুলনা করছে তারা হয়তো সেজেগুজে বইয়ের লাইব্রেরি গুলায় ছবি তুলে চলে আসা পাবলিক।একান্ত ব্যক্তিগত মতামত 😑
ফেসবুকে এত আলোচনা দেখে বইটি পড়তে নিয়েছিলাম। একজন নিয়মিত উপন্যাস পড়ুয়া হিসেবে মোটেই এটাকে আমার কাছে উপন্যাসের মতো লাগেনি। বাক্যের মধ্যে গভীরতা নেই। তবে নতুন লেখক (২০ বছর) হিসেবে আমি উনার লেখাকে এপ্রিশিয়েট করি। হয়তোবা সামনের চ্যাপ্টারগুলো আরো ভালো হতে পারতো। কিন্তু আমি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছি যখন বর্ষাকালে পদ্মজা লাউ তুলতে গেল। আমরা জানি লাউ শীতকালীন ফসল। তাছাড়া আরও বেশ কিছু অসংগতি আছে। পদ্মজার পিতার যে বর্ণনা দেয়া হয়েছে, সেটা কেমন জানি মিশছে না। যদি লেখিকা কখনও এই মন্তব্যটি পড়ে তবে আমি বলবো আরও প্রচুর পড়াশোনা করতে এবং বাক্যগঠন নিয়ে কাজ করতে। এবং গল্পের বর্ণনা আরও কীভাবে সাবলীল করা যায়, সেটা নিয়ে কাজ করতে।
একটা সাধারণ উপন্যাস হিসেবে ধরলে বইটি মোটামুটি ভালো কিন্তু কিছুটা সিনেমাটিক। প্রথম খন্ডের চেয়ে দ্বিতীয় খন্ড আরো ভালো লেগেছে (ফেসবুকে পড়া হয়েছিলো)। প্রথম খন্ডটা মোটামুটি সামাজিক-ই বলা যায়। কিন্তু কিছু কিছু অপ্রয়োজনীয় জিনিস অনেক বেশি বর্ণনা করার ফলে বইয়ের পৃষ্ঠা ও মূল্যসংখ্যা দুটোই বেশি হয়েছে। আর অতিরিক্ত হাইপের কারণেই মূলত বইটা তার স্বকীয়তা হারিয়েছে।