তুষারশুভ্র পর্বতমালা, পুষ্পশোভিত তরুদল, পাইন বনানী এবং দিগন্তবিসারি হ্রদ শোভিত সেই স্থান যাকে যুগ-যুগান্ত আখ্যা দেওয়া হয়েছে ভূস্বর্গ।
এই উপত্যকার নারীরাও অপরূপ সুন্দরী, অনন্ত যৌবনা।
মহাকবি কলহন বিরচিত ‘রাজতরঙ্গিনী’ গ্রন্থ অন্যান্য ইতিহাস থেকে উঠে এসেছে এই গ্রন্থের প্রধান চরিত্র কাশ্মীর সুন্দরী। তিনিই এই ইতিহাস বিজড়িত কাহিনির প্রধান চরিত্র পালেবত, যার অর্থ ‘আপেল’।
অন্ধকার, নৈরাজ্যময় সময় চলেছে কাশ্মীর উপত্যকা জুড়ে। হিংস্র কামুক নৃপতি অতিষ্ঠ করে তুলেছে জনজীবন।
এই প্রেক্ষিতে শেষ পর্যন্ত কী হল কাশ্মীর সুন্দরী ‘পালেবত’-এর? জানতে হলে পড়তেই হবে ‘কাশ্মীর সুন্দরী’।
অপরূপ সৌন্দর্যের কাশ্মীর। সেই কাশ্মীরের রাজ সিংহাসনে বসে রাজা ললিতাপীড়। রাজার নির্দেশ মান্য করে পাহাড়ী মৃগনাভি ছেদন করে কস্তুরী সংগ্রহ করতে যায় উচ্ছল ও তার অনুগত শিকারীরা। এরপর ফিরে আসার সময় বরফ ঢাকা পড়ে যাওয়া এক নারীকে উদ্ধার করে উচ্ছল। তার নাম দেয় পালাবত। এদিকে রাজা ললিতাপীড় বজ্রদিত্য ছিলেন অত্যন্ত কামুক রাজা। তিনি তার মন্ত্রীমন্ডলীর তুলনায় বেশ্যাত্রয়ীর কাছ থেকে রাজ্যশাসনের অধিক মন্ত্রণা নিতেন।
এরপর এই স্বৈরাচারী রাজা ললিতাপীড় কীভাবে মৃত্যু ঘটবে? এর পশ্চাতে কোন রূঢ় সত্য লুকিয়ে আছে? পালাবত আর উচ্ছলের সম্পর্ক কি পরিণতির গন্ডীতে পৌছাবে? আবার পালবতই কি আসলে কাশ্মীর সুন্দরী নামে আখ্যায়িত হবে? এবং কেন হবে? এই সকল প্রশ্নের উত্তর পেতে কাশ্মীর সুন্দরী বইটি পড়তে হবে।
পাঠ্যঅনুভূতি- বইয়ের প্রথমেই কাশ্মীরের অপরূপ বর্ণনা বেশ ভালো লেগেছিল। তবে এমন সুন্দর দেশে এমন স্বৈরাচারী রাজার গল্প পড়তে বেশ লাগছিল। রাজ সভার বর্ণনা, বিষধর সাপের সঙ্গে নর্তকীর নাচ তারপর তার করুন মৃত্যু। বেশ্যাবৃত্তের তা দেখে উচ্ছসিত হওয়া,এমন ছোট ছোট ঘটনা গুলো, সবটাই মনের কোনো স্থানে গিয়ে একটা প্রভাবিত করেছে।
প্রচ্ছদ- প্রচ্ছদ শিল্পী রঞ্জন দত্ত, প্রচ্ছদটা কিন্তু অসাধারণ হয়েছে। আমার খুব মানানসই মনে হয়েছে।
মৃদুঅভিযোগ- অভিযোগ আমার সেই জায়গাতে যে অলংকরণ বইয়ের ভিতরে কিয়দাংশে। আসলে বইতে অলংকরণ থাকলে পড়ে আরাম পাওয়া যায়। এ আমার ব্যক্তিগত মতামত।
সবে মাত্র শেষ করলাম বইটি। এর আগে লেখকের সুন্দরী সিরিজের খাজুরাহ সুন্দরী ও বন্দর সুন্দরী পড়েছি। এই বইটা যেন তাদেরকেও ছাপিয়ে গেছে। নিন্দুকেরা বলেন লেখকের কলম নাকি ফুরিয়ে গেছে। আমি বলবো লেখকের কলম যেন দিনদিন আরও বেশি পরিণত ও গভীর হচ্ছে।
লেখকের প্রথম বই পড়া হয়েছিল 'খাজুরাহ সুন্দরী', নারী-ধারা ভাস্কর্য নির্মাণের মর্মান্তিক সত্য ইতিহাসের মিশেলে দারুন একটা ঐতিহাসিক কল্পকাহিনী। বিভিন্ন রিভিউ পড়ে 'কাশ্মীর সুন্দরী' বইটা সংগ্রহ করেছিলাম। এমনও মতামত পেয়েছি যে, খাজুরাহ সুন্দরী বইটাকেও ছাড়িয়ে গেছে কাশ্মীর সুন্দরী বইটার তাৎপর্য।
'কাশ্মীর সুন্দরী' বইটার প্রায় অর্ধেক খন্ড পর্যন্তই ধীর-গতির, ঠেলে-ঠেলে এগোচ্ছে কোনো রকম। সনাতনীয় ঐতিহ্য বহনের জন্য লেখার-ব্যাকারণে উপযুক্ত আমেজ ব্যবহার করা হয়েছে। যেরকম গাম্ভীর্যের প্রতিশব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, সেরকম ছন্দের লেখাই আমার ভীষণ পছন্দের। তাই ঘটনা ঠেলে-ঠেলে এগোনোর মতো আমিও ঠেলে-ঠেলে পড়ছিলাম। রাজসভার কিছু ঘটনা একঘেয়েমি আভাসকে সামান্য শিহরিত করে, খুব আহামরি না। এরপর প্রধান পুরুষ চরিত্রের উদ্ধার করা নারীর সঙ্গে, স্বেচ্ছাচার রাজার পদচ্যুতের জন্য বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গের কায়দা-পরিশ্রম, ইত্যাদিগুলোর সম্মিলিত প্রেক্ষাপটে যেরকম মর্মার্থ বহন করছিল সেটা প্রথম-অর্ধেক খন্ডের চেয়ে তুলনামূলক ভালো হলেও তা 'খাজুরাহ সুন্দরী' বইটার চেয়ে বেশি কিংবা সমমানেরও মনে হয়নি (ব্যক্তিগত ভাবে)।
কাশ্মীরি পরিবেশ এবং মেয়েদের সৌন্দর্য বুঝানোর জন্য যেসকল বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, তার মাধ্যমে যৎসামান্য অনুভব করা যায়। হয়তো উক্ত বিষয়টার প্রতি গুরুত্ব কমই দিয়েছে লেখক। হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্তের লেখা যে-কয়টা বই পড়েছি, সবগুলোতেই এডাল্ট-বয়সীদের ব্যাখ্যা-শৈলী পেয়েছি। স্বাচ্ছন্দ্য সাহিত্যিক ভাব বজায় রেখেছে, আবার অবর্জনা ধরণের চটিও লিখেছে।
🎋🍁সদ্য পড়ে শেষ করলাম সাহিত্যিক হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্তের লেখা “কাশ্মীর সুন্দরী” উপন্যাসটি। আহ্ কি অসাধারণ বর্ণনা করেছেন কাশ্মীরের, পড়ে আমি মুগ্ধ। আমরা সবাই জানি কাশ্মীরকে ভারতের ভূস্বর্গ বলা হয়। আর সেই ভূস্বর্গের সৌন্দর্য লেখক তুলে ধরেছেন প্রতিটি পাতায় পাতায়, আহ্ কি অপূর্ব বর্ণনা পড়তে পড়তে বারবার মনে হচ্ছিলো কাশ্মীরের হ্রদে ঘুরে বেড়াচ্ছি।
🎋🍁লেখক ভূমিকা তে খুব সুন্দর একটা কথা বলেছেন “এ উপন্যাস প্রেম কাহিনি না ঐতিহাসিক থ্রিলার তা বিচার করবেন পাঠক-পাঠিকারা”। আমি বলবো দুটোই সমান ভাবে এগিয়ে চলে এই উপন্যাসে ......
🎋🍁এই উপন্যাস কাশ্মীরের প্রাচীন রাজধানী শ্রীনগরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। উপন্যাসে কাশ্মীরের বহু প্রাচীন ইতিহাসকে জানলাম। দারুন লাগলো....... পুরো উপন্যাস জুড়ে লেখক প্রত্যেকটি চরিত্রকে সুনিপুণ হাতে বিশ্লেষণ করেছেন। এটা একটা ভালো লাগার জায়গা আমার। লেখকের ভাষার মাধুর্যে, গল্পের প্লটে আর লেখার টানে পাঠককে বই নামিয়ে রাখতে দেবে না। শেষ না হওয়া পর্যন্ত.......
🎋🍁লেখককে অসংখ্য ধন্যবাদ এতো সুন্দর একটা বই পাঠকদের উপহার দেওয়ার জন্য। আপনার লেখার দীর্ঘায়ু কামনা করি। ভালো থাকবেন........
ইতিহাস আশ্রিত বেশ ভালো একটা উপন্যাস! সুষেন কন্যা ,পালেবত (প্যালেবত একজন বিষ কন্যা! )এর পিতৃহত্যা প্রতিশোধ নিতে কাশ্মীর রাজ ললিতপির কে কৌশলে হত্যা করার কাহিনী। বেশ দুর্বল কাহিনী, আগে থেকেই অনুমান করা যাচ্ছিলো শেষ টা কি হতে পারে। লেখকের কাছ থেকে আরো ভালো লেখা প্রত্যাশা করেছিলাম। My personal Rating - 2.5/5
🎋🍁সদ্য পড়ে শেষ করলাম সাহিত্যিক হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্তের লেখা “কাশ্মীর সুন্দরী” উপন্যাসটি। আহ্ কি অসাধারণ বর্ণনা করেছেন কাশ্মীরের, পড়ে আমি মুগ্ধ। আমরা সবাই জানি কাশ্মীরকে ভারতের ভূস্বর্গ বলা হয়। আর সেই ভূস্বর্গের সৌন্দর্য লেখক তুলে ধরেছেন প্রতিটি পাতায় পাতায়, আহ্ কি অপূর্ব বর্ণনা পড়তে পড়তে বারবার মনে হচ্ছিলো কাশ্মীরের হ্রদে ঘুরে বেড়াচ্ছি।
🎋🍁লেখক ভূমিকা তে খুব সুন্দর একটা কথা বলেছেন “এ উপন্যাস প্রেম কাহিনি না ঐতিহাসিক থ্রিলার তা বিচার করবেন পাঠক-পাঠিকারা”। আমি বলবো দুটোই সমান ভাবে এগিয়ে চলে এই উপন্যাসে ......
🎋🍁এই উপন্যাস কাশ্মীরের প্রাচীন রাজধানী শ্রীনগরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। উপন্যাসে কাশ্মীরের বহু প্রাচীন ইতিহাসকে জানলাম। দার���ন লাগলো....... পুরো উপন্যাস জুড়ে লেখক প্রত্যেকটি চরিত্রকে সুনিপুণ হাতে বিশ্লেষণ করেছেন। এটা একটা ভালো লাগার জায়গা আমার। লেখকের ভাষার মাধুর্যে, গল্পের প্লটে আর লেখার টানে পাঠককে বই নামিয়ে রাখতে দেবে না। শেষ না হওয়া পর্যন্ত.......
🎋🍁লেখককে অসংখ্য ধন্যবাদ এতো সুন্দর একটা বই পাঠকদের উপহার দেওয়ার জন্য। আপনার লেখার দীর্ঘায়ু কামনা করি। ভালো থাকবেন........