সেই কবে কেটে গেছে সে কালিদাসের কাল, তবু কোনও দিনই ফুরোবে না সে-কালের অপ্রতিরোধ্য আকর্ষণ। সেই অফুরন্ত আকর্ষণের কথা মনে রেখেই বুঝি আচার্য সুকুমার সেন আবার ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চেয়েছেন মায়ামেদুর সুদূর উজ্জয়িনীতে, বিক্রমাদিত্যের আমলে; শুনিয়েছেন এমন-কিছু বিচিত্র স্বাদের অসামান্য গল্প, যার নায়ক স্বয়ং কালিদাস।
স্বাদে বিচিত্র এইসব গল্পে কালিদাসের ভূমিকাটি অবশ্য মূলত অভিন্ন।
সমস্যাতারণ, তুখোড় রহস্যভেদী। কত ধরনের সমসারই না সমাধান করেছেন কালিদাস। আঁতুড়-ঘরে সন্তান-বদল, বিবাহ-রাত্রে বর-বদল, খুন, অপহরণ, পরস্ত্রীলোলুপতা, বধূকন্টকী শাশুড়ীর নিগ্রহ, শঙ্খিনীর প্রকোপ, অন্ধ অপ্রাণের রোষ-এমন বিস্তর সমস্যার বুদ্ধিদীপ্ত, যুক্তিগ্রাহ্য সমাধানে কালিদাসের আশ্চর্য ভূমিকা নিয়ে একেকটি গল্প।
কবি-নাট্যকার কালিদাসের যেমন অজ্ঞাতপূর্ব এক পরিচয় তুলে ধরেছেন সুকুমার সেন, সেইসঙ্গে প্রতিটি কাহিনীর চালচিত্রে ফুটিয়ে তুলেছেন সমকালিক জীবনযাত্রার বিশ্বস্ত ছবি। সেদিক থেকেও এই কাহিনীগুলি বিশেষ মূল্যবান। সুকুমার সেনকেও যাঁরা একভাবে চেনেন, এ-কাহিনীগুচ্ছে তাঁরা পাবেন, অন্যবিধ পরিচয়।
সুকুমার সেন (১৬ জানুয়ারি ১৯০১ - ৩ মার্চ ১৯৯২) ছিলেন একজন ভাষাতাত্ত্বিক ও সাহিত্য বিশারদ। বৈদিক ও ধ্রুপদি সংস্কৃত, পালি, প্রাকৃত, বাংলা, আবেস্তা ও প্রাচীন পারসিক ভাষায় তাঁর বিশেষ বুৎপত্তি ছিল। তুলনামূলক ভাষাতত্ত্ব ও পুরাণতত্ত্ব আলোচনাতেও তিনি তাঁর বৈদগ্ধের পরিচয় রেখেছিলেন।
ভাষার ইতিবৃত্ত (বাংলা ভাষাতত্ত্বের একটি পূর্ণাঙ্গ আলোচনা) Women's Dialect in Bengali (বাংলা মেয়েলি ভাষা নিয়ে গবেষণামূলক রচনা) বাংলা স্থাননাম (বাংলা স্থাননাম নিয়ে ভাষাতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ) রামকথার প্রাক-ইতিহাস (রামায়ণ-সংক্রান্ত তুলনামূলক পুরাণতাত্ত্বিক আলোচনা) ভারত-কথার গ্রন্থিমোচন (মহাভারত-সংক্রান্ত তুলনামূলক পুরাণতাত্ত্বিক আলোচনা) ব্রজবুলি সাহিত্যের ইতিহাস বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস (৫ট খণ্ডে, সুকুমার সেনের সবচেয়ে বিখ্যাত বই, বাংলা সাহিত্যের একটি পূর্ণাঙ্গ ও সামগ্রিক ইতিহাস) বাঙ্গালা সাহিত্যের কথা বাঙ্গালা সাহিত্যে গদ্য বঙ্গভূমিকা (বাংলার আদি-ইতিহাস সংক্রান্ত গ্রন্থ) বাংলা ইসলামি সাহিত্য দিনের পরে দিন যে গেল ( আত্মজীবনীমূলক রচনা )