অবশ্যই, আজকের পরিবর্তিত দুনিয়ার প্রেক্ষাপটে লিখতে হলে, লেখাগুলি অন্তর্বয়ানে, নিশ্চয় ইতস্তত ঘাট বা লয় পরিবর্তন ঘটত। কিন্তু, সে কারণে মূলউৎসারে, কোনো অবচেতন বিপ্লব সংঘটনের হেতু বা সম্ভাবনা গোচরে নেই। বরং, পাঠক ইচ্ছে সাধ্য ও সাধনা মতো নিজের মতো করে উপসংহার বা দিক পরিবর্তন, সম্ভব করে নেবেন। শিল্প ও ব্যক্তিজীবনে এই স্বাধীনতার অঙ্গীকার লেখকের নান্দনিক অভিপ্রায় সঞ্জাত। বর্তমান, তিরক‚টে বিশ্বে, সেখানেই লেখা লেখক ও মানবপ্রকৃতির উদ্ধারশ্লোক নিহিত। বন্দনা গীত, গদ্যে বা পদ্যে। এই বইয়ের নবপরিকল্পিত এবং নির্মিত চরিত্রে ও অবয়বে, আশা করি, লেখকের নান্দনিক অভিপ্রায়টি আগ্রহী পাঠকের গোচরীভ হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ব্যত্যয় ঘটবে না।
মোহাম্মদ রফিক বাংলাদেশের একজন কবি, লেখক ও শিক্ষক। তিনি একজন মননশীল আধুনিক কবি হিসাবে পরিগণিত, যাঁর আত্মপ্রকাশ ১৯৬০-এর দশকে। পাকিস্তান আমলে ষাটের দশকে ছাত্র আন্দোলন ও কবিতায় এবং স্বাধীন বাংলাদেশে আশির দশকে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে কাব্যিক রসদ যুগিয়ে তিনি বিখ্যাত হয়ে আছেন। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়-এর ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসাবে ২০০৯-এ অবসর নিয়েছেন। ২০১০ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশ সরকার তাকে একুশে পদকে ভূষিত করে। মৃত্যু : ৬ আগস্ট, ২০২৩।