হিমু হওয়ার সাধ জাগলে কী করা উচিত? হলুদ পাঞ্জাবি সহজেই জোগাড় হতে পারে, কিন্তু পরের ধাপগুলো আর আমাদের নেওয়া হয়নি, হয় না। বরং সুনীলের নীরাকে ভেবে নেওয়ার মতো এক্ষেত্রেও আমাদের বাকিটা ভেবেই নিতে হয়। এপার বাংলায় অনেকেই চেষ্টা করেছেন নানাভাবে হিমুকে 'চ্যানেলাইজ' করতে। প্রচেত গুপ্ত'র সাগর প্রথমে কিছুটা সাফল্য পেলেও অচিরেই গড্ডলিকা প্রবাহের মধ্যে ঢুকে পড়ে। আরও কেউ-কেউ চেষ্টা করেছেন তাঁদের মতো করে ওই অদ্ভুত চরিত্রটিকে ধরতে। সম্প্রতি মিশির আলি ঘরানায় বেশ কিছু অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য রচনার জনক দেবব্রতও তাঁদের একজন। এই বইটি তাঁর হিমুর কাহিনি। কাহিনির মুখ্য চরিত্রের নাম হল শ্রীকান্ত— অর্থাৎ এমন সব চরিত্রের আর্কিটাইপ হিসেবে যাকে চিহ্নিত করা চলে। ভূমিকায় ঘোষিত এইসব অনুপ্রেরণা ও নামকরণ দেখে স্বাভাবিকভাবেই চিন্তিত হয়ে পড়েছিলাম। গল্পটাও উক্ত মহীরুহদের রচনার ঘ্যাঁট হবে না তো? সৌভাগ্যক্রমে তা হয়নি। এই উপন্যাস মৌলিক। এর চরিত্ররাও 'তাদের মতো করে' অদ্ভুত টাইপের। তাদের অভিজ্ঞতাই বলুন আর দর্শন, সেও একেবারে "সিনেমায় যেমন হয়" টাইপের। তবে... পড়ার পর প্রশ্ন জাগল, কেন পড়লাম এইসব? হুমায়ূনের লেখা যে অদ্ভুত বসন্তবায় আর জ্যোৎস্নায় আমাদের মুড়ে রাখত, সব অনটনের মধ্যেও বুকের ভেতরটা জুড়িয়ে দিত, তার লেশমাত্রও তো পেলাম না এখানে। বরং আরও একবার মনে হল, হিমু সমগ্রটা বের করে ডুব দিই তাতে। এ-সব আর পড়ব না। বরং শ্রদ্ধেয় রাজা ভট্টাচার্য তাঁর শান্তকে ফিরিয়ে আনুন এবার। আমাদের এই সময়ে ওই চরিত্রটির কাণ্ডকারখানা পড়লেই বরং অনেক বেশি ভালোলাগা অর্জিত হবে। আজ্ঞে হ্যাঁ, ভালোবাসার মতো ভালোলাগা-ও অর্জন করতে হয় বইকি— যা করতে এই বইয়ের লেখক ব্যর্থ হলেন।