পড়া হলো, মঈনুল আহসান সাবেরের 'নির্বাচিত গল্প'। বইটা পড়ার পর মনে হচ্ছে ইন দ্যা এন্ড, জ্যোৎস্না ও বাতাস ছাড়া কিছুই থাকে না চারপাশে। মঈনুল আহসান সাবের গল্পগুলো বলেছেন অবজারভারের জায়গায় দাঁড়িয়ে, যেন পুলিশ ও দমকল বাহিনী এসে ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে উদ্ধার করছে ডেডবডি, গল্পকার এখানে নির্বিকার, দেখে যাওয়া ছাড়া তাঁর আর কিছুই করার নাই।
গল্পকারের ভাষা সহজবোধ্য, গল্পের জগত আমাদের চেনা... তাই ক্লান্তিহীনভাবে পড়া যায়। কিন্তু, গল্পের শেষে এসে ধাক্কা খেতে হয় বারবার... সহজ বলতে আমরা যা বুঝি, মঈনুল আহসান সাবেরের গল্পের পরিণতি তেমন না। হিউমার, রাজনীতি, যাপিত জীবনের নির্যাস নিয়ে যে গল্পগুলো তৈরি করেছে নিজের পথ, সে পথের আড়ালে কোথাও বীরদর্পে লুকিয়ে আছে প্রগাঢ় দার্শনিকতা। তাই গল্পের শেষে থামতে হয়, থেমে ভাবতে হয়, বাস্তবতা হয়ে আসে ধূসর।
মঈনুল আহসান সাবের যেন গল্পের আড়ালে বলতে চান, কোশ্চেন এভ্রিথিং। তাই, পাঠক আমি, গল্পের কোন এক চরিত্র, যার নাম আজম, তাঁর মতো পিছু নেই ভাগ্যের, কিংবা ক্ষমতাধর কোন মানুষের উদ্ধতা দেখে মনে পড়ে যায় মহাজনের ভয়ার্ত চোখ। গভীর রাতে, না পাওয়া বেদনা ভুলে যাই, আলাদীনের প্রদীপ শূন্যে ফেলে দিয়ে আর বনের মধ্যে তখন হয়তো লুট হয়ে যায় সাজানো জিপ। সবশেষে নিজেকে আবিষ্কার করি কোন এক রোবট তৈরির কারখানায় যেখানে রক্ত মাংসের মানুষ ক্রমশ রোবট হয়ে যাচ্ছে।
ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট, ডিটেলিং, সংলাপ এতো স্পন্টেনিয়াস, গল্প পড়তে পড়তে দেখা পাওয়া যায় আনন্দের। তবে শেষে এসে গল্পগুলো আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি কারণে, গল্পগুলো কোন নির্দিষ্ট সময়ের জন্য না, গল্পগুলো চিরকালীন ঠিক যেমন আমাদের এই বেঁচে থাকা। যে বেঁচে থাকা একটি নির্দিষ্ট বৃত্তের মধ্যে ঘুরে বেড়ায় চিরকাল, আমরা এই বৃত্তের চারপাশ দিয়ে ঘুরি, কিন্তু কিছুতেই ভাঙতে পারি না... কিছুতেই ভাঙতে পারি না।