সীমানা জুড়ে কাঁটাতার যতই নাক উঁচিয়ে পাহারা দিক, নৃতাত্ত্বিক-ভাষিক-সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার বলে আম-বাঙালির 'ওপারে যে বাংলাদেশ, এপারে সেই বাংলা'। তথাপি দেশভাগ বিশেষ করে বাংলা-ভাগের কড়া সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক পরিসর তো সম্পূর্ণ স্বতন্ত্রই। সেই স্বাতন্ত্র্য নিয়ে বাংলাদেশের সাহিত্যচর্চা একটা নতুন পরম্পরাও বটে। ঐতিহ্যকে আত্মস্থ করেই এই পরম্পরা চলৎ প্রবাহ। বাংলাভাষায় বাংলাদেশের গল্পলেখার সোচ্চার ঘোষণা দিয়ে ছোটগল্প, উপন্যাস লিখতে এসেছেন জাকির তালুকদার। বিশেষ করে ছোট গল্প লেখার বিষয়ে তার মতো ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে লিখতে আসা লেখকের সংখ্যা খুবই কম। অবাস্তব কলাকৈবল্যবাদ এবং তরল বাস্তববাদ এই দুই রুগ্ন প্রকৃতির হাত থেকে মুক্ত জাকির ছোট গল্প। বাংলা ছোটগল্পে মুসলমান মিথ প্রয়োগের সফল পথিকৃৎ তিনি। আবার বাংলাদেশের নিম্নবর্গের মানুষ নিজেদের বেঁচে থাকার রস ও রসদ সংগ্রহ করে যেসব উপাচার থেকে, সেই গ্রামীণ আধ্যাত্মিকতার প্রথম আবিষ্কার ও প্রয়োগ জাকির তালুকদারের গল্পে। ফলত বাংলাদেশের কথা সাহিত্য মাত্র নয়, বাংলা কথা সাহিত্যেই অপরিহার্য হয়ে উঠেছে জাকির তালুকদারের গল্প।
জন্ম ২০ জনুয়ারি ১৯৬৫, নাটোরে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে স্নাতক। স্নাতকোত্তর ডিগ্রী স্বাস্থ্য অর্থনীতিতে। সমকালীন মূলধারার বাংলা কথাসাহিত্যে তাঁর অপরিহার্যতা ইতোমধ্যেই প্রতিষ্ঠিত। অনবরত বাঁকবদল তাঁর সাহিত্যিকতার প্রধান বৈশিষ্ট। বিষয় ও আঙ্গিকে, মাধ্যম ও প্রকরণে তাঁর স্বাতন্ত্র্যচিহ্নিত অবস্থান সকল মহলেই স্বীকৃত। পেয়েছেন বাংলা একাডেমিসহ দেশের প্রধান প্রায় সকল সাহিত্য পুরস্কার।