"দিনে করি শতেক বিয়ে, কাবিন টাবিন নাহি হয়, ছেলে মেয়ের মালিক আমি কোনকালে নয়। ইসসিরে পারলেননা"
"জামাই এল কাজে, বলতে পারিনি লাজে আমার একটা কাজ আছে দুই ঠ্যাঙের মাঝে। ইসসিরে পারলেননা!"
বাজি ধরে বলতে পারি ওপরের 'ধাঁধা' দুটির উত্তর আপনার জানা নেই। আচ্ছা যান, দান দান তিন দান। আরেকটা ধরা যাক। "বাগান থেকে আসল বুড়ি, এসে থালায় দিল প্রস্রাব করি"! শাহরুখ খান এর পেপসোডেন্ট এর বিজ্ঞাপন এর মত ধাঁধা তিনটির সমাধান নিয়ে দু'মিনিট ভাবতে থাকুন, ততক্ষণে এই পুস্তিকার ইতিহাস একটু বিবৃত করে আসি।
'শকুন্তলা'র রচয়িতা কবি কালিদাসকে তাঁর কবি প্রতিভা ও সংস্কৃত ভাষার পাণ্ডিত্যের জন্য সম্মানসূচক কালিদাস পণ্ডিত নামে ডাকা হয়। মুখে মুখে ছড়ার আকারে ধাঁধা ও হেঁয়ালি তৈরী করবার ক্ষমতা ছিলো কবি কালিদাস এর। সংস্কৃত ভাষায় রচিত এই ধাঁধা গুলো আমাদের বাংলা ভাষায়ও দীর্ঘদিন ব্যবহৃত হয়ে এসেছে। বর্তমান কালে এরা অবশ্য একরকম 'অবসোলিট' হয়ে গেছে এবং আমাদের কাছে এদের আবেদনও প্রায় নেই বললেই চলে। তবে 'সুপ্রভাত' বাসে ভাসমান ফেরীওয়ালা যখন ৬৫% মূল্যহ্রাসে ১০ টাকায় ৩ টি বইয়ের ('কালিদাস পণ্ডিতের ধাঁধা', 'বিশ্ব বিচিত্রা সাধারণ জ্ঞানের বই' আর 'গোপাল ভাঁড়ের গল্প') 'সেল' দেয় তখন কালিদাস পণ্ডিত কিছুটা আবেদন জানান বটে! সুপ্রভাত বাসের ভ্রমণ কখনোই খুব একটা 'সু' নয়। বাসের প্রচণ্ড ভীড়ে হঠাৎ মুষ্টিযোদ্ধা বনে যাওয়া সহযাত্রীদের ন্যায় অন্যায় বিভিন্ন কৌশলে কাবু করে, ১০ইঞ্চি চওড়া সিটে কোনমতে আশ্রয় নিয়ে যখন "অই ড্রাইভার! তর মায়রে বাপ! জোরে টান" ইত্যাদি সরোষ হুংকার শুনে শুনে ঝিমোচ্ছি, তখনই এক মুখ তেলতেলে হাসি নিয়ে ফেরীওয়ালার আগমন, লম্বা সালাম সহযোগে বিচিত্র কায়দায় পরিচয় দান, অতঃপর ঝোলার ভেতর থেকে ম্যাজিশিয়ান এর ভঙ্গীতে বই তিনটি বের করে যাত্রীদের সাধারণ জ্ঞানের নানা কুইজ প্রশ্ন আর কালিদাসের ধাঁধার প্রশ্নবাণে জর্জরিত করণ। বলাবাহুল্য, প্রশ্নকর্তার কোন প্রশ্নেরই উত্তর আমার জানা ছিলোনা। জ্ঞানলাভের সুযোগ পথেঘাটে সব খানেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে, কুড়িয়ে নিতে জানলেই হয়! এমন সুযোগ তো আর হেলায় ফেলে দেয়া যায়না (বিশেষত ধাঁধাগুলোর বেশিরভাগই যখন আদিরসাত্নক!)
বইয়ে সংকলিত সবগুলো ধাঁধাই কিংবা কোনটিই আদৌ কালিদাস পণ্ডিতের কী না, তা নিয়ে সন্দেহের যথেষ্ট অবকাশ থেকে যায়। দু একটি ধাঁধা তো কালিদাসের সময়কে অনেক পেছনে ফেলে এগিয়ে গিয়েছে। যেমন, "তিন অক্ষরে নাম তার সবার কাছে প্রিয় হয়, প্রথম অক্ষর বাদ দিলে আমেরিকার শহর হয়" ইত্যাদি। কালিদাস তাঁর সময়ে আমেরিকা নিয়ে ধাঁধা বানিয়েছেন কিনা সেটি তর্কের বিষয় হতে পারে। এই প্রশ্নটির উত্তর "জীবন" তবে আমেরিকা দেশে 'বন' বলে কোন শহর এর নাম আমার জানা নেই। জার্মানিতে আছে। উন্নত বিশ্বের সংজ্ঞায় আমেরিকা-জার্মানি সমার্থক শব্দ। কে জানে, 'কালিদাস পণ্ডিত' আমেরিকা বলতে জার্মানি কেই বুঝিয়েছেন কিনা।
কালিদাস লিখুন আর নাই লিখুন, কেউ না কেউ তো আদিরসের স্থূল সুড়সুড়ির এই ধাঁধাগুলো লিখেছেন। হেঁয়ালিগুলোকে এই ছোট্ট চটি বইতে সংকলন করেছেন বলে সংকলক মোঃ মোছলেম উদ্দিন (বি.এ.অনার্স) একটা ধন্যবাদ বোধহয় পেতেই পারেন। লোকাল বাসে প্রতিদিন যাতায়াতকারী অর্ধ/অল্পশিক্ষিত শ্রমিক, মিস্ত্রী ঘরানার মানুষগুলোই এই বইগুলোর সবচেয়ে বড় ক্রেতা। এমন দু'চারটি বইয়ের উছিলায় এই মানুষগুলো দুটো দেশের রাজধানী/ মুদ্রার নাম বেশী জানলো, দুটো ছড়ার হেঁয়ালি শিখলো, মন্দ কী?
উত্তরমালাঃ শুরুর ধাঁধা তিনটির উত্তর যথাক্রমে 'মোরগ', 'গাই দোহানো' ও 'লেবু'।