গ্রিক ট্রাজেডি ও হিন্দু মিথলজি এখানে মিলেমিশে একাকার, পৌরাণিক চরিত্ররা জীবন-নদীর কোনো এক পাড়ে বলে চলেছে ফেলে আসা নিজেদের জীবনের অজানা গল্প, হতাশা ও অনুতাপের গাঁথা।
কালিদাস ও অ্যারিস্টটলের মধ্যে বাকবিতন্ডা চলেছে 'অভিজ্ঞানম শকুন্তলা' বইয়ের শ্রেষ্ঠত্বের বিচার নিয়ে। প্রসঙ্গক্রমে এসেছে গ্রিক ট্রাজেডির বৈশিষ্ট্য।
ওডিপাস , ধৃতরাষ্ট্র ও তেইরেসিয়াস একত্রে বসে বলে চলেছে নিজ জীবনের দেখা-অদেখা গল্প। এদের মধ্যে ওডিপাস নিজেকে অন্ধ করেছেন, ধৃতরাষ্ট্র জন্মান্ধ ও তেইরেসিয়াস অভিশাপে অন্ধ।
মাতৃঘাতক পরশুরাম ও ওরেসতেসও একত্র হয়েছেন নিজ জীবনের গল্প বলবেন বলে। এদের মধ্যে মাতৃ হত্যায় পরশুরাম অনুতপ্ত কিন্তু ওরেসতেস নয়।
স্বামীকে বাঁচাতে তিন নারী সাবিত্রী, এউরুদিকে ও বেহুলা অনন্য দৃষ্টান্ত। দৈববাণীকে মিথ্যা প্রমাণিত করে স্বামীকে বাঁচায় সাবিত্রী, যমরাজকে সন্তুষ্ট করে স্বামীকে ফিরিয়ে আনে বেহুলা কিন্তু মৃত্যুরাজের কাছে পরাজিত হন এউরুদিকে।
গুরুপত্নী গৌতমের স্ত্রীকে ভালোবেসে অভিশপ্ত হন দেবরাজ ইন্দ্র এবং বন্ধুপত্নী হেলেনকে নিজ দেশে নিয়ে গিয়ে গ্রিক ও ট্রয়ের মধ্যে যুদ্ধ বাঁধিয়ে দেন প্যারিস।
দুই বৃদ্ধ প্রিয়াম ও ধৃতরাষ্ট্র বলছেন তাদের স্বপুত্র দ্বারা ঘটে যাওয়া ভয়ংকর যুদ্ধের অভিজ্ঞতা ও তাদের প্রশ্রয়।
অভিমন্যু ও ইফিগেনেইয়া দুই অল্পবয়সী যারা যুদ্ধের বলি হন।
আসতুয়ানাক্স ও অমল দুই কিশোর যারা তাদের পৃথিবীর স্বল্পজীবনের অভিজ্ঞতা বলে যায়। ধূলোয় মিশে যাওয়া ট্রয়কে পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রতিশোধ নিতে পৃথিবীতে ফিরতে চায় আসতুয়ানাক্স ও অদেখা পৃথিবীর রূপ দেখতে পৃথিবীতে ফিরতে চায় অমল।
পেনেলোপি , হেলেন ও রাম জড়িয়ে পড়ে বাকবিতন্ডায়।পেনোলোপি যুদ্ধজয়ী স্বামীকে রীতিমত পরীক্ষা করে গ্রহণ করে, যুদ্ধ শেষে কোনো রকম দ্বিধা ছাড়াই হেলেনকে গ্রহণ করে তার স্বামী । কিন্তু রাম ....?
আর্তেমিস সন্তানরুপে ভালোবেসেছিল হিপ্পোলুতুসকে , কিন্তু প্রেমে ব্যর্থ হয়ে হিপ্পোলুতুসকে উন্মাদ করে দেয়।সেই থেকে দুইজন দুইজনের শত্রু। এদিকে উর্বশী অর্জুনকে একদা কামনা করেছিল সেজন্য সে আজ অনুতপ্ত।
সফল-ব্যর্থ চরিত্ররা আজ প্রাণ খুলে বলেছেন তাদের জীবনের বিচিত্র সব ঘটনা। পৃথিবীর দুই ভিন্ন প্রান্তের ভিন্ন মিথলজি অথচ কি মিল। চরিত্ররা যেন একে অপরের প্রতিচ্ছায়া। তাদের জীবনের অব্যক্ত অনুভূতিই এই অলৌকিক সংলাপ।