মানুষটিকে পেয়ে দারুণভঅবে উল্লসিত হয়ে উঠল রোবটেরা। কতটা যন্ত্রণা দিয়ে মানুষটিকে হত্যা করা যায় সেটা নিয়ে দ্বিমত হওয়ার নিজেদের মধ্যে মারামারিও করল তারা। অবশেষে নৃশংসভাবে হত্যা করল মানুষটিকে। এখন শুধু নিস্তেজ দেহটা পড়ে আছে মাটিতে। মানুষটির মৃত্যু নিশ্চিত করতে রোবটেরা শরীর থেকে মাথাটা সম্পূর্ণ আলাদা করে ফেলেছে। একটা পা-ও বিচ্ছিন্ন করেছে দেহের নিচের অংশ থেকে। পেটের নাড়িভুঁড়ি বের করে নিয়ে এসেছে। হৃৎপিণ্ডটা শরীর থেকে দুই ফুট দূরে ছুড়ে ফেলেছে। মস্তিষ্কটা পায়ের নিচে ফেলে থেঁতলে ফেলেছে। এমন কী বিচ্ছিন্ন মাথার চোখ দুটো তুলো নিতেও দ্বিধা করেনি তারা। সবকিছু মিলিয়ে সত্যি এক বীভৎস দৃশ্য!
পৃথিবীতে এখন একটা বিষয় স্পষ্ট, মানুষের জন্য রোবটদের প্রোগ্রামে এতটুকু দয়া-মায়া, শ্রদ্ধা-ভঅলোবাসা অবশিষ।ট নেই। কারণ পৃথিবী এখন রোবটদের পৃথিবী। রোবটেরাই পৃথিবীর হর্তা-কর্তা, তারাই নিয়ন্ত্রক। তারা আজ মানুষের উপর প্রতিশোধ নিতে ব্যস্ত। তাই তো যে যেভাবে পারছে হত্যা করছে মানুষকে। পৃথিবীতে এখন আর মানুষ দেখা যায় না। যে দু’একজন বেঁচে আছে তাদের খুঁজে বের করে হত্যা করতেও সময় লাগবে না।
তাহলে কী পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাবে মানুষেরা? (সূত্র: বইয়ের ফ্ল্যাপ হতে)
মোশতাক আহমেদ (English: Mustak Ahmed) ৩০ ডিসেম্বর ১৯৭৫ সালে ফরিদপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী ডিপার্টমেন্ট হতে এম ফার্ম ডিগ্রী অর্জন করেছেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ হতে এমবিএ এবং ইংল্যান্ডের লেস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে ক্রিমিনোলোজিতে মাস্টার্স ডিগ্রী লাভ করেন। কর্ম জীবনে তিনি একজন চাকুরীজীবি। তাঁর লেখালেখির শুরু ছাত্রজীবন থেকে। বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীতে তিনি অধিক আগ্রহী হলেও গোয়েন্দা এবং ভৌতিক ক্ষেত্রেও যথেষ্ট পারদর্শীতার পরিচয় দিয়েছেন। তার উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে- রোবটিজম, ক্লিটি ভাইরাস, নিহির ভালভাসা,অতৃপ্ত আত্না, নীল মৃত্যু, লাল শৈবাল, জকি, মীম, প্রেতাত্মা, রোবো, পাইথিন, শিশিলিন ইত্যাদি। সায়েন্স ফিকশন সিরিজ- রিবিট, কালোমানুষ, রিবিট এবং ওরা, রিবিটের দুঃখ, শান্তিতে রিবিট, হিমালয়ে রিবিট। প্যারাসাইকোলজি- মায়াবী জোছনার বসন্তে, জোছনা রাতরে জোনাকি ইত্যাদি। ভ্রমণ উপন্যাস- বসন্ত বর্ষার দিগন্ত, লাল ডায়েরি, জকি। স্মৃতিকথা- এক ঝলক কিংবদন্তী হুমায়ূন আহমেদ। মুক্তিযুদ্ধ- নক্ষত্রের রাজারবাগ, মুক্তিযোদ্ধা রতন। তিনি কালি কলম সাহিত্য পুরস্কার ২০১৩, ছোটদের মেলা সাহিত্য পুরস্কার ২০১৪, কৃষ্ণকলি সাহিত্য পুরস্কার ২০১৪ পুরস্কার পেয়েছেন।