সূচিপত্র * পরম স্থান বলে কিছু নেই * ঘটনার সমকালীনতার কোনো পরম অর্থ হয় না * আলোর গতি বিশ্বে পরম * আলোর দ্রুতির ধ্রুবতা পরিমাপের প্রথম সফলতা * কর্তব্যপরায়ণতা নয়, ভালোবাসাই সবচেয়ে বড়ো শিক্ষক * ভবিষ্যতে যাওয়া যাবে, তবে পেছনে ফেরা যাবে না * প্রসারণশীল মহাবিশ্ব * আইনস্টাইনের অন্তিম স্বপ্ন * জ্যামিতি ও পদার্থবিজ্ঞানের একীভূত হওয়ার মহাপথ * মহাকর্ষীয় তরঙ্গ ও বক্রতার পরীক্ষামূলক প্রমাণ * টপোলজির সন্ধানে * সময়ের মৃত্যু, না নতুন ব্যাখ্যা * কৃষ্ণগহব্বর,শ্বেতগহ্বর ,কীটগহ্বর * আলোর গতিকে কি অতিক্রম করা সম্ভব! * ফোটন টেলিপোর্টেশন -এনটেঙ্গেলমেন্ট ব্যাখ্যার প্রয়োজন * সময় পরিভ্রমণ সম্ভব হলে ইতিহাসকে কতটা প্রভাবিত করা যেত * উপসংহার
বিজ্ঞানচর্চা ও তা প্রসারে নিবেদিত আসিফ ডিসকাশন প্রজেক্টের বক্তৃতার মাধ্যমে প্রথম সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। কসমিক ক্যালেণ্ডার, সময়ের প্রহেলিকা, নক্ষত্রের জন্ম-মৃত্যু, প্রাণের উৎপত্তি ও বিবর্তন, আন্তঃনাক্ষত্রিক সভ্যতা বিষয়ক জটিল বিষয়ে দর্শনীর বিনিময়ে বক্তৃতার আয়োজনের মধ্যে আছে অভিনবত্ব ও কল্পনার দুঃসাহস। তিনি এরকম ৪৮টি ওপেন ডিসকাশন বা বক্তৃতা অনুষ্ঠানের সফল উদ্যোক্তা। আসিফ এর নিজস্ব গ্রন্থাগারে রয়েছে পাঁচ হাজার বইয়ের এক সংগ্রহ। পাশাপাশি বিজ্ঞান ও সভ্যতা ভিত্তিক প্রচুর ম্যাপ, চার্ট ও ডকুমেন্টারী ফিল্মের ভিডিও ক্যাসেট। শৈশব থেকেই তিনি এ সমাজ ও সভ্যতা নিয়ে স্বপ্ন দেখেছেন ভিন্নভাবে। পদার্থবিজ্ঞান, গণিতশাস্ত্র, জীববিজ্ঞান, দর্শন, সংগীত ও সাহিত্যের উপর পড়াশুনা করেছেন ধারাবাহিকভাবে। এর মধ্যে জ্যামিতি, কোয়ান্টাম বলবিদ্যা ও আপেক্ষিকতত্ত্বের আধুনিক সমস্যাগুলো ছাড়াও সভ্যতার গতি-প্রকৃতি নিয়ে চিন্তা ভাবনা ও গবেষণা তার অন্যতম বিষয়। আসিফ ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি বই প্রাকাশিত। তারমধ্যে সাহিত্য প্রকাশ-২০০১ থেকে লেখা কার্ল সাগান: এক মহাজাগতিক পথিক, সময় প্রকাশন-২০০৩ থেকে মহাজাগিতক আলোয় ফিরে দেখা, বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র থেকে ইউক্লিড ও তার এলিমেন্টস এবং খালেদা ইয়াসমিন ইতির সঙ্গে মহাবিশ্ব ও নক্ষত্রের জন্মমৃত্যু মোট ৪টি বই প্রকাশিত হয়েছে। বাংলা একাডেমী জর্নালে আড়াই হাজার বছর আগের গ্রন’ ইউক্লিডের অ্যালিমেন্টস এর প্রথম খন্ড এবং তার বিশ্লেষণ বের হয়েছে। তিনি তার শৈশবের দিনগুলো সম্পর্কে বলেন, জীবনের এই স্বপ্নময় সময়ে কখনও অভিভূত হয়েছি রাশিয়ান লেখকদের সংকলন গ্রহান্তরের আগন্তুক, কখনো বাংলার লেখকদের রায়হানের রাজহাস বা নুলিয়াছড়ির সোনার পাহাড়, কখনো বা তিতিরমূখী চৈতা পড়ে। আলেক্সান্দার বেলায়েভের উভচর মানুষ অথবা মার্ক টোয়েনের হাকলবেরী ফিন বা টম সয়্যার আমাকে দেখিয়েছে জীবন কত সুন্দর। ভিক্টরহুগোর লা-মিজারেবলের মতো গ্রন্থ দেখিয়েছে জীবনের বাঁক কত আকস্মিকভাবে পরিবর্তীতে হয়ে যেতে পারে। আর পরিকল্পনা করেছি ইভান ইয়েফ্রেমভ আর আর্থার সি ক্লার্কের রচনাকে সামনে রেখে। এগুলো আমাকে গতি দিয়েছে, চলার পথে আনন্দ দিয়েছে জীবনানন্দ ও কার্ল সাগানের ভাষা। তারা আমাকে শিখিয়েছে দৃষ্টিভঙ্গি থাকলে এই পৃথিবীর যে কোন অঞ্চলই মহাজাগতিক সাগরের বেলাভূমি।
শত বছরেরও আগে বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার তত্ত্ব যুগান্ত বয়ে আনে বিজ্ঞানে, দর্শনে ও প্রযুক্তির অগ্রগতিতে; কিন্তু তার সাথে সমতালে বিকশিত হয়নি বিজ্ঞান-সংস্কৃতি। মানব সভ্যতা জ্ঞানের মহাদিগন্তে যাত্রা শুরু করেছিল সময়ের প্রহেলিকাজাল ছিন্ন করে নতুন এক চেতনার ভূমিতে উপনীত হয়ে, অথচ মহাসময়ের সেই ধারণার সঙ্গে মানুষজনের মহাবিশ্বের বোধ মানবচৈতন্যে কাঙ্খিত অভিঘাত বয়ে আনতে পারেনি। আধুনিক এই বিজ্ঞানোপলব্ধি সমাজে ব্যাপকভাবে সঞ্চারণের লক্ষ্যে নানাভাবে উদ্যোগী নিষ্ঠাব্রতী বিজ্ঞান-বক্তা আসিফ এবং সেই তাগিদ থেকে প্রণীত হয়েছে বিশেষ এই গ্রন্থ-আপেক্ষিকতা ও সময়ের আধুনিক ধারণার জনবোধ্য বিশ্লেষণ। নিছক বিজ্ঞানভাবনার গ্রন্থ এ নয়, বিজ্ঞানের সর্বশেষ অগ্রগতির সঙ্গে আমাদের যে যোগ, সেই ভূমিতে দাঁড়িয়ে আপেক্ষিকতার বিজ্ঞান ও দর্শনকে মানসসভ্যতার সাথে যুক্ত করে প্রাঞ্জলভাবে ব্যাখ্যা করেছেন লেখক। এই বই তাই বিজ্ঞানবোধ করবে গভীরতর, বিজ্ঞানচেতনায় পুষ্ট হয়ে জীবনকে বিশাল পটভূমিকায় বিবেচনা করতে সহায়ক হবে এবং পাঠকচিন্তা নিঃসন্দেহে আলোড়িক করবে প্রবলভাবে।