Jump to ratings and reviews
Rate this book

মোহনা

Rate this book

128 pages, Hardcover

First published February 1, 2013

Loading...
Loading...

About the author

Harishankar Jaladas

66 books100 followers
Harishankar is a promising Bangladeshi author. The most significant point to notice is that all the four novels produced from Harishankar's pen sketch the life of the downtrodden, some of whom are from among fisherfolks, some from among prostitutes and some others are the 'harijons' or 'methors'.

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
12 (16%)
4 stars
19 (26%)
3 stars
30 (42%)
2 stars
8 (11%)
1 star
2 (2%)
Displaying 1 - 15 of 15 reviews
Profile Image for Harun Ahmed.
1,773 reviews523 followers
February 21, 2026
পড়তে খারাপ লাগেনি। কিন্তু পরে দেখি এটা মহাশ্বেতা দেবী'র "কৈবর্ত খণ্ড" উপন্যাসের নকল।
Profile Image for Titu Acharjee.
263 reviews34 followers
March 5, 2021
হলেও হতে পারতো এপিক উপন্যাস...
Profile Image for Aparajito  Apu.
20 reviews1 follower
January 6, 2026
“ত্রিবিধং নরকস্যেদং দ্বারং নাশনমাত্মনঃ৷

কামঃ ক্রোধস্তথা লোভস্তস্মাদেতত্ত্রয়ং ত্যজেত্।”


দিব্বোকের নেতৃত্বে কৈবর্ত বিদ্রোহ হলে বরেন্দ্র জয়  করেন এবং তিনি বরেন্দ্রের রাজা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। তাঁর মৃত্যুর পর পর্যায়ক্রমে রুদোক এবং সর্বশেষ তাঁর সন্তান ভীম কৈবর্ত সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন।

হরিশংকর জলদাসের মোহনা উপন্যাসের পটভূমি ভীমের রাজত্বের শেষ পর্যায় থেকে পাল রাজা রামপালের কাছে পরাজয় বরণের সময়কালকে কেন্দ্র করে।


হরিশংকর জলদাসের কসবি, একলব্য, আমি মৃণালিনী নই, কুন্তীর বস্ত্রহরণ পড়েছি। 

তিনি বরাবরই ইতিহাসকে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করেন। এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র মোহনা ও চণ্ডক—একজন সামান্য এক বারাঙ্গনা নারী, আর অন্যজন পাল সৈন্যদের হাতে এক ধর্ষিত নারীর সন্তান। 

 উপন্যাসে কিছু ঐতিহাসিক তথ্যগত বিভ্রান্তি আছে, যেমন দিব্বোকের রাজত্বকাল বা রামপালের যুদ্ধ অভিযানের বর্ননা, লেখকের কাছে হয়তো ইতিহাসের নির্ভুলতার চেয়ে প্রান্তিক মানুষের গল্পই প্রধান্য পেয়েছে। 

জেলে, বারাঙ্গনা, নাপিত, কামার-কুমার, মেথর—এই সব অবহেলিত মানুষদের জীবন তিনি এমন মমতা মিশিয়ে লিখেছেন চরিত্রগুলো যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে। বর্ণনা, সংলাপ দারুণ ভাবে ভারসাম্য রাখতে পেরেছেন, তার গদ্যশৈলী অনবদ্য। 

এটা পড়ার আগে সত্যেন সেনের বিদ্রোহী কৈবর্ত পড়লে পড়তে সুবিধা হবে।  
Profile Image for Benozir Ahmed.
203 reviews89 followers
October 30, 2016
First of all, Whoever reads the book I'd suggest you to not to read the short briefing about the book written at the very beginning. It contains the worst spoiler there. just start from first page of the novel.
the novel is written basing on the history of the 11th century 'barendro'(presently rajshai,bordhoman...) region. Its always fascinating to know about history while its sugarcoated with little bit of romance and twists.
my rating: 3.4
Profile Image for রেজওয়ান আহমেদ.
12 reviews9 followers
July 23, 2021
'মোহনা' - অপ্রতিরোধ্য প্রতিশোধের কাহিনি

জীবন এবং পুরাণকে একীভূত করে কথাসাহিত্য লিখে চলেছেন হরিশংকর জলদাস। পুরোদস্তুর ঐতিহাসিক কাহিনিকে (কৈবর্ত বিদ্রোহ) অবলম্বন করে লিখেছেন 'মোহনা'। ছোটো পরিসরের উপন্যাসটি একদিকে যেমন সমরনায়কের বিশ্বাসঘাতকতায় কৈবর্তদের পরাজয়ের কাহিনি, অন্যদিকে এক দেহজীবীর প্রতিশোধপরায়ণতার আখ্যান। নামকরণে অবশ্য দ্বিতীয় দিকটিরই প্রাধান্য দিয়েছেন ঔপন্যাসিক।

উপন্যাসের নির্মাণে শুরুর দিকে প্রতীকায়িত পরিচর্যায় মনোযোগী হয়েছেন ঔপন্যাসিক। পরে ধীরে ধীরে আখ্যানে দুটো স্পষ্ট ভাগ নির্দেশ করে পরিমিত, হিসেবি বিবরণ চালিয়ে গেছেন। একভাগে পড়েছে কালিন্দীর পাড়ঘেঁষা ডমরনগরের যৌনপল্লীর আটপৌরে জীবন, অন্যভাগে রয়েছে ভীম আর রামপালের দ্বৈরথ। আমরা জানি, কৈবর্তরা পালদের দুঃশাসনের যে প্রতিরোধচেষ্টা করেছিল তা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়। হরিশংকর জলদাস এই ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধানে ব্রতী হয়েছেন 'মোহনা'র আখ্যানে।

একাদশ শতাব্দীতে কড়ির বিনিময়ে নারীদেহ মিলত তখনকার যৌনপল্লীগুলোতে। শুধু যে দেহজীবী হিসেবেই এরা থাকত এমন নয়। এরা সুবচনীরূপে যেমন কদর পেত, যুদ্ধগামী সুসজ্জিত সেনাবাহিনীর মনোরঞ্জনেও ডাক পড়ত তেমন। কারো বা স্ত্রীর গর্ভাবস্থা প্রয়োজনের দুয়ার খুলে দিত। যজ্ঞের পুরোহিতদের দক্ষিণা হিসেবেও মিলত অগনিত নারী। অর্থাৎ সে সময়ের জীবনে নারীকে পণ্য হিসেবে দেখাটা খুবই স্বাভাবিক ছিল। এ নারীরা যেত সব তখনকার যৌনপল্লীগুলো থেকে। এ পল্লীর কোনো নারীর যৌবন ফুরিয়ে গেলে সে-ই তার স্থলাভিষিক্ত করতে পার্শ্ববর্তী গ্রামের কোনো কমবয়সী মেয়েকে চুরি করে নিয়ে এলে তাকে যত্নসহকারে তৈরি করে দিত যৌনপল্লীর প্রধানা বা সর্দারনী। মোহনাকে গাঙ্গী গ্রাম থেকে সনকা এরকমই চুরি করে এনেছিল। পরে জানকির পরিচর্যায় ডমরনগর বারাঙ্গনাপল্লীতে বড়ো হয়ে ওঠে মোহনা।

কিশোরী বধূ থাকাকালীন অজ্ঞতাবশত শ্বশুরবাড়ির কোণে পাওয়া একটা কনডম ফুলিয়েছিলেন সীমা শেখ। রক্ষণশীল পরিবারের লোকেরা ভেবেছিল, সীমা বাপের বাড়ি থেকে কনডম এনেছে যাতে অন্য পুরুষের সাথে সম্পর্ক করতে পারে। অথচ নিরপরাধ সীমা শেখ তাঁর স্বামীকে লিখেছিলেন - 'আমাকে নিও যাও, আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারছি না। বিশ্বাস করো, ওই বেলুনটা আমি জীবনে আগে কখনো দেখিনি।'

বিশ্বাস তারা করেনি, নানা ঘটনাচক্রে সীমা শেখের আশ্রয় হয় সোনাগাছি যৌনপল্লীতে। অকুতোভয় সীমা শেখ হয়েছিলেন পল্লীর মেয়েদের অধিকার আদায়ের এক মূর্ত প্রতীক। (উৎস - লালবাতির নীল পরিরা - কৃষ্ণা দত্ত)

এ প্রসঙ্গে তুলনায় 'কসবি' উপন্যাস আসবে। 'কসবি'র প্রেক্ষাপট আধুনিক যুগ। জেলেকন্যা কৃষ্ণার দেবযানী হয়ে উঠবার আখ্যান বোধহয় একটু বেশিই হৃদয়বিদারক। সমর্থ মেয়েটার মা তখন বেঁচে নেই, বাবা রাস্তার পাগল। সংসারের হাল ধরতে গিয়ে ঘরের বাইরে যে-ই নেমেছে, বিপদে পড়েছে। ফুসলেফাসলে প্রেমের জালে ফাঁসিয়ে চট্টগ্রামের এক হোটেলে রেখে কথিত প্রেমিক নিজের পথে হেঁটে গেছে। সাহেবপাড়ার তৎকালীন যৌনপল্লীতে আশ্রয় হয় তার। 'মোহনা' আখ্যানের জানকি 'কসবি'র মোহিনী মাসির মতোই দয়ার শরীরের মানুষ।

'মোহনা'র পরিবেশ-প্রতিবেশ 'কসবি'র মতো অতটা বাণিজ্যিক - এমনটা বলবার উপায় নেই। মিলনের স্থানের বিবরণে 'মোহনা' বলছে -

"... ভেতরটা নয়নাভিরাম। একদিকে বিশাল পালঙ্ক, পালঙ্কের পাশে গদিমোড়া হাতলওয়ালা চতুষ্কী। চতুষ্কী ঘেঁষে একগুচ্ছ পুষ্প, পুষ্পাধারে সজ্জিত। ঘরময় অগুরু চন্দনের সুবাস। ঘরের ভেতরের তিন দেয়ালে ছোট ছোট কোটরি। সেই কোটরিতে মৃদু আলোর তৈলপ্রদীপ। পালঙ্কের পাশে গোলাকার ছোট্ট চৌকির ওপর গুবাক-তাম্বুলের বাটা। গুবাক-তাম্বুলের পাত্রটি অসাধারণ সুন্দর হতে হয়। ..."

আবার,

"তাম্বুল রাতুল হইল অধর পরশে।।"

'পদ্মাবতী'র গুরুত্বপূর্ণ লাইন। তাম্বুল হচ্ছে পান। সংস্কৃতে যা পর্ণ। হাজার বছরের বাঙালির ইতিহাসে পানের গুরুত্ব তুলে ধরছে মধ্যযুগের বাঙলা সাহিত্যোপাদান 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন'। কাব্যের তাম্বুলখণ্ডে রাধিকাকে প্রেমের প্রস্তাব পাঠাবার সময় অনুষঙ্গ হিসেবে কাহ্নাই তথা কৃষ্ণ পান দিয়েছিল। এদিকে কৌশিক মজুমদার রচিত 'নোলা খাবারের সরস গপ্পো' পানের ব্যাপারে 'মনসামঙ্গল কাব্যে'র ঘটনা উল্লেখ করছেন। সেই মধ্যযুগের শুরুর দিকে, ত্রয়োদশ শতকের শেষদিকে মার্কো পোলোর গুজরাটে পান পাতার সঙ্গে সাক্ষাৎ। পানের আদিদেশ ফিলিপাইন হলেও তাই এতদাঞ্চলে পানপ্রীতি কম নয়।

চর্যাপদে পান বিষয়ক তেমন কোনো আলোচনা না পেয়ে ধরে নেওয়া যেতে পারত বৌদ্ধ যুগে নয় বরং বৌদ্ধযুগ শেষেই এদেশে পানের বরজে-বরজে পানচাষীরা সরব।

কিন্তু হরিশংকর জলদাস এক চমকপ্রদ তথ্য দিয়ে বসলেন 'মোহনা' উপন্যাসে। কালিন্দীর উত্তরপাড়ের বেশ্যাপল্লীটির প্রণয়ীরা পান পরিবেশন করত মিলনপ্রত্যাশী অতিথিদের। মসলা-সুপারি-খয়েরসহযোগে পান খাইয়ে ছলনার খেলা শুরু করত তারা।

এদিকে 'কসবি' উপন্যাসে চিত্রিত সাহেবপাড়ার বৃত্তান্তে পানের আলাদা দোকান ছিল বলে উল্লেখ পাই। সাহেবপাড়া আধুনিক যুগের গণিকালয়। যুগ থেকে যুগান্তরে ব্যবসায়ী মনোবৃত্তি পানের আপ্যায়নকে পালঙ্ক থেকে আলাদা দোকানে নিয়ে গেছে। এ মনোবৃত্তির ফলে সেই প্রত্যন্ত অঞ্চলের পতিতাপল্লীর ঘরগুলোর অন্তঃপুরের বৃত্তান্তে এতটা সুসাজ রক্ষিত হয়েছে - বলা যাচ্ছে না।

"ঘরে একটামাত্র চৌকি। বিছানার চাদর ময়লা এবং কুঁচকানো। দুটো বালিশ, একটা বড়, অন্যটি ছোট। একটা মাথার, অন্যটি কোমরের। দুটো বালিশই ময়লায় থিকথিক। কখন কভার বদলানো হয়েছে, তার ঠিক নেই। চাদরের এখানে ওখানে ছোপ ছোপ দাগ, সাদা খড়িমাটির মতো; কোনোটা বৃত্তাকার, কোনোটা ত্রিভুজাকৃতি, কোনোটা আবার বৃত্ত ত্রিভুজে মেশামেশি‌।"

অন্যদিকে কথাসাহিত্যিক মোহিত কামালের লেখায় (উপন্যাস - 'চোরাবালি') এসেছে আধুনিক এসকর্টদের গমনাগমনের কক্ষের বিবরণ -

"... একটা মাত্র বেড। বেশ গোছানো। খুবই পরিচ্ছন্ন। একটা আলমারি আছে। বেডসাইড টেবিলে ইন্টারকম। সঙ্গে আছে লেমিনেটেড এ-ফোর সাইজের একটি কাগজ। তাতে লেখা : প্রতি রাতের ভাড়া পাঁচ হাজার। দিনের ভাড়া চার হাজার। নিরাপত্তা চার্জ দুই হাজার। সার্ভিস চার্জ এক হাজার। খাবার বিল আলাদা-আইটেম অনুযায়ী। অর্থাৎ এক রাত এক দিনের দৃশ্যমান খরচই বারো হাজার টাকা। খাবার বাদে। ..."

বেশ্যাবৃত্তির কোনো নির্ধারিত সময়ের বালাই থাকে না - এ নিষ্ঠুর সত্যটি 'মোহনা'র আখ্যানে এসেছে এভাবে -

"রাতে-দিনে অতিথি আসে বারাঙ্গনাগৃহে। পুরুষের শরীরক্ষুধার কোনো রাত-দিন নেই, সকাল-সন্ধ্যা নেই, বর্ষা-হেমন্ত নেই। শরীর চঞ্চল হলে তাদের নারীদেহ চাই-ই চাই; নরম, রসে ভরা নারীশরীর। শরীরের সঙ্গে সঙ্গে চাই রূপ - সৌষ্ঠবময়। চাই পুরুষহৃদয় নাচিয়ে দেওয়ার মতো কটাক্ষ, কূলপ্লাবী সুগহিন অন্ধকার গহ্বর।"

অবশ্য মোহনা কেবল চণ্ডকদেবের দেহসেবী হওয়ায় কেবল রাতেই কাজ থাকত তার, কড়ির বিনিময়ে। অবশ্য তাদের মধ্যে হৃদয়ের লেনাদেনাও ঘটেনি - শেষাংশের আগ পর্যন্ত এমনটা বলবার সুযোগ নেই।

'কসবি' উপন্যাসেও পদ্মাবতী-জব্বার এবং চম্পা-রাজনের মধ্যে এরকম প্রেমাস্পদ টান দেখানোর একটা প্রচ্ছন্ন প্রবণতা দেখা গেছে।

এদিকে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় 'কবি' উপন্যাসে আরেককাঠি সরেস - নিতাই-বসন্তের মধ্যে প্রেমের বন্ধন ত দেখিয়েছেনই - গন্ধর্বশ্রেণীর বিয়েও দেখিয়েছেন।

চণ্ডকদেবে ফিরি একটু। কথিত রাজপুত্র হয়েও যে প্রেম সে মোহনার জন্য পোষণ করেছে মনে, তা মোহনারও বিশ্বাসের অতীত। চণ্ডক যেমন শর্বদেবের আনীত নবরত্ন হার লুণ্ঠন করে, বজরা বানাতে কপর্দকের জন্য বাকযুদ্ধ করে বিল্বমঙ্গলের সাথে, তেমনি কিন্তু মোহনার প্রতি প্রেমের আতিশয্যেই বিয়েতে নিমরাজি থেকেছে। তার বিয়ে নিয়ে যেমন ভীম সচেতনভাবে ঘাঁটাতে চাননি তাকে, তেমনই সচেতন ছিলেন তিনি রাজ্য পরিচালনার বেলায়। ভীম প্রকৃতপক্ষেই কৈবর্তকল্যাণে উৎসর্গীকৃতপ্রাণ ছিলেন। ঘটনাক্রমে চণ্ডকের লোভী বিভীষণমানস রামপালের কাছে ভীমের পরাজয় তরান্বিত করে। এখানে প্রাকৃতিক পরিবেশের বিবরণে ট্র্যাজেডিকে জীবন্ত করে তুলেছেন হরিশংকর জলদাস -

"সূর্য তখন ডুবু ডুবু। ডুবন্ত তির্যক আলো বরেন্দ্রি সূর্য ভীমের মুখমণ্ডলে। ছেত্তা নতুন খড়্গ নিয়ে ভীমের দিকে এগিয়ে গেল।"

চণ্ডকের ইঙ্গিতে যেভাবে প্রাণ গেল ভীমের, কর্মফলের সূত্রে চণ্ডকেরও একই পরিণতি। তার হন্তারক মোহনা যতটা, ততটাই মোহনার জড় পতিবর বঁটিটি। সেকালে বেশ্যাদের অমরত্ব সূচিত হতো লোহা অথবা গাছের সাথে পরিণয়ে।

শুরুতে বলেছি পরিমিত, হিসেবি বিবরণ দিয়েছেন হরিশংকর জলদাস। উপন্যাসে ডিটেইলিংয়ের ক্ষেত্রে তাঁর জুড়ি মেলা ভার। 'মোহনা'তে এ ব্যাপারটি তেমন দেখা যায়নি। মোহনার প্লট যা তাতে এর দুটো ভাগের সব চরিত্রই পরিমিতভাবে বিকাশের সুযোগ পেয়েছে। এই জায়গাটিতে কৈবর্ত বিদ্রোহের প্রেক্ষাপটে জাকির তালুকদার রচিত 'পিতৃগণ' উপন্যাসের একটা দুর্বল দিক সূচিত হয় - চরিত্রের যথাযথ বিকাশে হতাশা।

ভাষার লোকায়তকরণে 'মোহনা' উপন্যাসে হরিশংকর জলদাসকে তেমন মনোযোগী মনে হয়নি। অল্প কিছু রূপমূল দেখেছি।

যেমন : আমাদের » মোরাদের

এর বাইরে বেশ্যালয়ের কিছু সমাজোপভাষিক রূপমূল এসেছে। ধনারাম চরিত্রের মেয়েলি ভাষাবৈচিত্র্য টের পেয়েছি। 'কসবি'সহ হরিশংকর জলদাসের আরো কিছু লেখায় একটা বাক্যাংশ দেখা যায় - 'মুখে টাট্টিখানা বসানো'। অশ্লীল, অশ্রাব্য ভাষা বোঝাতে প্রযুক্ত বাক্যাংশটি আসলে নিম্নবর্গের মানুষের আখ্যানে প্রযোজ্য। 'মোহনা'য় বেশ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব থাকলেও এরকম সমাজোপভাষিক বাস্তবতা বোধকরি সে সময়ে ছিল না। থাকলেও একেবারেই নিজেদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল সেসব। সে কারণে ভাষার বিষয়টি এক্ষেত্রে কিছু অস্পষ্টই থেকে গেছে ঔপন্যাসিকের অন্যান্য কথাসাহিত্যের তুলনায়।

একটা বিষয় বলতেই হয় শেষ করবার আগে। চণ্ডকের বিয়ের ব্যাপারে ভীম দূর���র্শী সচেতন ঔদাসীন্য না দেখালে হয়তো ভীমের পরিণতি ট্র্যাজিক হতো না। এটা বোধগম্য যে, অমন ঔদাসীন্যের ফলশ্রুতিতেই ঘটনাক্রম কৈবর্তদের বিদ্রোহে বাদ সেধেছে। মথনদেবের কূটনীতিক চালে সাড়া দিয়ে রামপালের ষড়যন্ত্রের ব্যাপারটা কেবল এতে অনুঘটকের কাজই করেছে।

🅒 রেজওয়ান আহমেদ,
শিক্ষার্থী-গবেষক,
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য (৬ষ্ঠ আবর্তন),
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
Profile Image for Sahib.
94 reviews9 followers
June 20, 2020

উপন্যাসের কাহিনি পালরাজা রামপাল আর কৈবর্তরাজ ভীমের দ্বন্দ্ব-সংঘাত নিয়ে।


কৈবর্তরা নিম্নজাত হয়েও বছরের পর বছর ধরে গোটা বরেন্দ্রভূমি তাদের দখলে তা মেনে নিতে পারেনি পাল আর তাদের সামন্তরা। তাই বংশ পরম্পরায় বারংবার বরেন্দ্র আক্রমণ করেছে পালরা। কিন্তু প্রতিবারই পর্যুদস্ত হয়েছে বরেন্দ্রের কৈবর্তরাজ শাষকদের হাতে। কৈবর্তরাজ ভীমের সবচেয়ে বড় শক্তি তার পালকপুত্র চণ্ডক। চণ্ডককে দিতে চেয়েছিলেন তিনি পুত্রের মর্যাদা। কিন্তু চণ্ডকের সাথে এক অলিখিত বিরোধ ছিলো ভীমের আত্মজদের সাথে। ভীমের পুত্র, স্ত্রী কেউই পুরোপুরি আপন করে নিতে পারেনি পালকপুত্র চণ্ডককে। মন্ত্রী আমলারাও যথাযথ সম্মান দেয়নি সেই চণ্ডককে৷ এর এ সকল গ্লানি একসময় তীর হয়ে বিঁধছিল চণ্ডকের হৃদয়ে।


উপন্যাসের নাম 'মোহনা'। কে এই মোহনা?


মোহনা সে সময়কার এক বারাঙ্গনা যার সাথে সখ্যতা হয়েছিল চণ্ডকের। আর বইটির প্রচ্ছদে এই মোহনা নিয়ে আছে কিছু চমকপ্রদ ইঙ্গিত। যা মোহনা আর চণ্ডকের পরিনতি নিয়ে জানতে আগ্রহ যোগাবে। কিন্তু উপন্যাসটির যতো গভীরে গমন করা হবে ততো অনুধাবন হবে যে উপন্যাসটি পাল-কৈবর্ত দ্বন্দ্ব-সংঘাতের এক গভীর বিয়োগান্তক পরিনতির উপাখ্যান আর চণ্ডক-মোহনার প্রেম সেই নির্মম পরিনতির প্রেক্ষাপট মাত্র।


উপন্যাসটিতে হরিশংকরের অনন্যসাধারণ লেখনীতে কৈবর্তদের একাত্মতা, ভীমের পালকপুত্র চণ্ডক ও ভীমের প্রথমপুত্র শর্বের মধ্যকার দ্বন্দ্ব, পাল রাজাদের ক্রোধের কারণ, মোহনার বারাঙ্গনা হওয়ার ইতিবৃত্ত, চণ্ডকের করুণ শৈশবকাল, সেসময়কার বারাঙ্গনাপল্লীর বিবরণ সকল কিছুর সুচারু বর্ণনা বর্ণিত হয়েছে।

Profile Image for Romel.
27 reviews
Read
October 7, 2022
ই‌তিহাস আশ্রয়ী উপন‌্যাস।
Profile Image for Mahidul Islam.
12 reviews
May 12, 2026
বিশ্বাসঘাতককে কখনোই বিশ্বস্ততার আসনে বসানো যায় না.......


💠ফ্ল্যাপের কিছুঃ

এই উপন্যাসের কাহিনির কাল একাদশ শতাব্দী। স্থানের বৃত্ত বিশাল বরেন্দ্রভূমি।
তারই দুই ধর্ম-সম্প্রদায়-পাল রাজা আর সাধারণ কৈবর্তরা মুখোমুখি। দ্বন্দ্ব-সংঘাতে পরস্পর সংক্ষুব্ধ। রাজ্যশাসনভার কার করতলগত হবে-শূদ্রদের, না বৌদ্ধদের? ঘটনার এই জটাজালে জড়িয়ে পড়ল কথিত ছোটজাতের কৈবর্তরা। ঘোরতর যুদ্ধে মুখোমুখি হলেন পালরাজা রামপাল আর কৈবর্তরাজ ভীম। রামপালের সহায় চৌদ্দ জন সামন্ত। আর ভীমের সহায় তার পালকপুত্র চণ্ডক। তার শরীরে বহমান বৌদ্ধ রক্ত। তার জন্মসূত্র রহস্যজালে ঘেরা। চণ্ডক গভীরভাবে মগ্ন বারবনিতা মোহনার রূপসৌন্দর্যে। তার অপার রূপ-যৌবন চণ্ডকের কাছে দুর্বার আকর্ষণের মতো। অথচ সেই মোহনার হাতেই অন্তিমে তার যে পরিণতি, পাঠককে নিঃসন্দেহে তা উদ্বেল ও উৎকণ্ঠ করবে। বস্তুত, মোহনা পাল রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে কৈবর্ত-গণতন্ত্রের সংঘাতের কাহিনিমাত্র নয়, এক গভীর মানবিক আখ্যানেরও আধার। দিব্যোক, ভীম, শার্বদেব, কঙ্কণদেব, রামপাল, মথনদেব ও চণ্ডককে ঘিরে এই উপন্যাসের কাহিনি আবর্তিত হলেও এর কেন্দ্রে মোহনীয় মোহনা।

💠 বইটির ঘটনার মূল প্রেক্ষাপট দুইটি সম্রাজ্য পাল ওবং কৈবর্ত্যরাজ ভীমের যুদ্ধ হলেও এই গল্পের প্রধান চরিত্র হিসেবে স্থান পেয়েছে মোহনা। মোহনাকে খুব ছোটবেলায় চুরি করে বারবাণিতাপল্লী অর্থাৎ নিষিদ্ধ পল্লীতে নিয়ে এসেছিলো জানকি। তখন থেকেই সে এখানের বাসিন্দা। একটি সম্রাজ্যের উত্থান-পতনের সাথে কিভাবে একজন বারবাণিতা সেটা জানতে হলে পড়তে হবে মোহনা। বইটিতে প্রাচীন যুদ্ধনীতি এবং বিভিন্ন প্রাচীন যুদ্ধাস্ত্র সম্পর্কে জানতে পেরেছি। বইটি পড়ে আমার ঠিক কেমন লেগেছে এনিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ায় আশি৷ সর্বোপরি ভালো এখব ভালো না এর মাঝামাঝিতে রাখতে চাচ্ছি।

🔹ব্যাক্তিগত রেটিং ৭.০/১০

যারা সমকালীন উপন্যাস পড়তে পছন্দ করেন তারা পড়ে দেখতে পারেন।

💠 হরিশংকর জলদাস সম্পর্কে একটু বলি, চট্টগ্রামের জেলেপল্লিতে তার জন্ম। তার লেখা প্রথম উপন্যাস ❝জলপুত্র❞। জাইল্লা ঘরের সন্তান বলে বিভিন্নভাবে অপমানিত হতে হয়েছে তাকে, শুনতে হয়েছে ❝জাওলাল ছাওয়াল❞ কটুক্তি। তার জবাব দিতে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে ❝নদীভিত্তিক বাংলা উপন্যাস ও কৈবর্ত্য জনজীবন❞ বিষয়ে। জেলেদের জীবন নিয়ে করেন গবেষণা। ২০১৯ সালে ভাষা ও সাহিত্যে একুশে পদক পান তিনি।



💠 এক নজরেঃ
🔹বইঃ মোহনা
🔹লেখকঃ হরিশংকর জলদাস
🔹ধরনঃ সমকালীন
🔹প্রকাশনীঃ প্রথমা প্রকাশনী
🔹মূল্যঃ ২২০ টাকা
Profile Image for Hossain Ahmed.
27 reviews1 follower
June 22, 2022
Portrays an outside & some different characters from the history, an uncommon but mixture with the ancient Bnagla age is মোহনা written by হরিশংকর জলদাস। History is always important & interesting to know many things. This story is between Mohona, who works in the brothel of Koiborto king Bheem & her lover Chandak whom Bheem found on a street & then adopted like his own son. They loved each other very much. In the 11th century, Koiborto revolt was the first successful revolt in the Indian subcontinent. Koiborto king Dibyak started this revolution. Borendri was independent until the reign of Bheem.

From the Pal dynasty king, 2nd Mohipal to Rampal they tried several times to get their land back but failed every time. Finding no other way Rampal united his 14 feidal lords to take revenge. This time they almost loosing their battle agin but the traitor Chandak helped them as he had anger with the royal family. Soon this anger turned into intense hatred. As a result the rule of Koiborto dynasty was just finished through this. But did Chandak survive? No. His lover Mohona killed him by her own hand for betraying like this. This is the story which never mentioned in the history. A story of Mohona.

Too much pleasant to read but felt sorry why it's short! It could be more larger & detailed but still lovable.
Profile Image for Hafizul Islam Nirob.
76 reviews1 follower
May 30, 2019
অতি অবশ্যই চমৎকার ও সুখপাঠ্য বই। এটাই আমার প্রথম পড়া হরিশংকরের কোন লেখা। মূল চরিত্র হিসেবে তিনি সমাজের আপাত ভুলে যাওয়া মানুষদের উপজীব্য করে তুলে এনেছেন। তার চরিত্র নির্মানের ধরণই এমন বলে জেনেছিলাম আগেই। তাই, অবাক হতে হয় নি। বইটিতে চরিত্রগুলোর মানোজাগতিক বিশ্লেষণের জায়গাতে আরেকটু চিন্তাশীল হওয়ার আশা করেছিলাম। তখনকার সমাজকে বইয়ের শব্দে শব্দে লেখক রীতিমতো এঁকেছেন। চোখ বন্ধ করলে নদীতীরবর্তী অঞ্চলটির একটি সবিস্তার ছবি ভেসে উঠবে, একথা প্রায় নিশ্চিত। তবে, বইয়ের ফ্ল্যাপে যে কয়েকটি লাইন লেখা ছিলো, সেটা আগে না পড়লেই ভালো হবে। এটা খুব জরুরী। বইটিকে অতি চমৎকারের সারি থেকে নামিয়ে আনার কারণ এই ফ্ল্যাপের অংশটুকু। আমার কাছে বিষয়টি কম ভালো লেগেছে।
Profile Image for Shayok Ghosh.
11 reviews3 followers
August 11, 2018
বরেন্দ্র ভূমির পটভূমিতে এক অসাধারন উপন্যাস। এই উপন্যাসে আছে সমাজের নিচু শ্রে���ীর মানুষদের স্বাধীনতা লাভের আকংখার অসাধারন এক দৃষ্টান্ত। তাই যখন দিব্যোক কিম্বা ভীম স্বাধীন বরেন্দ্রভুমি প্রতিষ্ঠা করলো তখন কৈবর্তরা তাদেরকে সর্বাত্মকভাবে সমর্থন এবং সাহায্য করে, কারন দিব্যোক কিম্বা ভীম ও জাতিতে কৈবর্ত, কৈবর্তদের ভাষায় " মোরাদের রাজা"। এই উপন্যাস বৌদ্ধ পাল সম্রাটদের অত্যাচারের বর্ননা, আছে আপন ভাইকে অবিশ্বাস করার গল্প। এবং সর্বোপরি আছে বিশ্বাসঘাতকতার এক নির্মম উদাহরণ। আছে বারাংগনাপল্লীর এক সাধারন মেয়ে " মোহনা"র মধ্যে অসাধারন এক নারী শক্তির স্ফুরণ।
This entire review has been hidden because of spoilers.
Profile Image for Nasrin.
108 reviews13 followers
July 21, 2018
বাংলার বরেন্দ্রের ইতিহাসের উপর দাঁড়িয়ে চমৎকার একটি ফিকশন। ঘটনার সত্য-মিথ্যা যাচাইয়ে না যাওয়াই ভালো, ফিকশন দিয়ে ইতিহাস চর্চার চেয়ে খারাপ অভ্যেস আর নেই। একটি শক্ত ট্যুইস্ট আর তার চেয়েও শক্তিশালী নারী চরিত্র - এই বইটি আরো বেশি পাঠকের মনোযোগ পাওয়ার দাবি রাখে।
Profile Image for Abu Syed sajib.
149 reviews16 followers
March 26, 2017
The writing is good.The story is compact but too short.The writer could've given some more insights of other character also.Last of all,there should have been an epilogue.
Displaying 1 - 15 of 15 reviews