বাঙালির সামাজিক ইতিহাসে বাঙালি পল্টন একটি মাইলফলক। বাঙালি পল্টনের মাধ্যমে বাঙালির আধুনিক সামরিক ইতিহাসের যাত্রা শুরু। প্রবল সামাজিক আন্দোলনের ফসল এই পল্টন। এর গঠনকালে বাঙালি একেবারেই সামরিক ঐতিহ্যবিহীন জাতি। প্রথম মহাযুদ্ধকালে গঠিত এই পল্টনের জন্য সারা বাংলা থেকে প্রায় ছয় হাজার সৈনিক সংগ্রহ করা হয়। এদের একটা অংশ মেসোপটেমিয়া আর কুর্দিস্তান রণাঙ্গনে যোগ দেয়, অন্যরা করাচি, কলকাতা আর ঢাকায় অবস্থান করে। পল্টনটির আয়ুষ্কাল ছিল মাত্র চার বছর। এ গ্রন্থে ক্ষণস্থায়ী এই পল্টনের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস বর্ণিত হয়েছে।
জন্ম ১৯৫৫, দিনাজপুরে। ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশন পান। ২০০৫ সালে লেফটেন্যান্ট কর্নেল হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। প্রকাশিত গবেষণাগ্রন্থ: স্বাধীনতাযুদ্ধের বীরত্বসূচক খেতাব (২০০৬), বাঙালি পল্টন: ব্রিটিশ ভারতের বাঙালি রেজিমেন্ট (২০১২), সৈনিক নজরুল (২০১৩), মোহাম্মদ আলীর বাংলাদেশ বিজয় (২০১৬)। সম্পাদনা: রাজশাহী ১৯৭১ (যৌথ ২০১২), কামালপুর ১৯৭১ (২০১২), দিনাজপুর ১৯৭১ (২০১৩), মুক্তিযুদ্ধে ২ নম্বর সেক্টর এবং কে ফোর্স (২০১৩)।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ আরম্ভ হলে কয়েকজন উৎসাহী নেতৃবৃন্দ বাঙালিদের ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে নিয়োগের আবেদন জানান। সে সময়টাতে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে বাঙালিদের নিয়োগ বন্ধ থাকা সত্ত্বেও বাস্তবতার নিরিখে তৎকালীন ঔপনিবেশিক শাসকেরা ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে বাঙালি পল্টন গঠন করতে সম্মত হন।
বইটায় লেখক মূলতঃ এ বাঙালি পল্টন গঠনের পূর্ব ইতিহাস থেকে আরম্ভ করে, প্রশিক্ষণ, রণাঙ্গনে গমন ও শেষ পরিণতির কাহিনি লিখেছেন।
বইটাতে বাঙালি পল্টন বিষয়ক অনেকগুলো রেফারেন্স যুক্ত করা হয়েছে। পড়ে বেশ ভালো লাগলো।