সন্ধ্যেবেলা, আঁধার ঘনিয়ে আসছে চারিদিক। বাইরে টিপটিপ বৃষ্টি, দরজায় কড়া নাড়ছে বাতাস। বাসা থেকে বের হবো ভাবছি। ছাতা খুঁজলাম, পেলাম না। অগত্যা পথ ধরলাম। রাস্তা কাদায় মাখামাখি, কোথাও একটু শুকনো নেই। ছাতাশূন্য এই আমি একাই হাঁটছি। হঠাৎ থমকে দাঁড়াই, দেখি অপরূপ দৃশ্য, পাশের বিল্ডিংয়ে। এক নারীর হাত, বাড়িয়েছে বৃষ্টিতে। কিসের আশায়? জানি না। তবে অনুমান করলাম, বৃষ্টির পানি ছুঁইছে। ভাবলাম, এমন দৃশ্য শহরে নেই। বেশ অবাক হয়ে কাছে গেলাম। দেখি, চোখ বুজে আছেন তিনি, যেনো অন্য এক জগতে।
মুনশি মুহাম্মদ উবাইদুল্লাহ ১২ ফেব্রয়ারি ১৯৯৫ সালে গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়া উপজেলার আশুতিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা আব্দুল মান্নান মুনশিকে শৈশবেই হারান। মা হেলেনা পারভিনের স্নেহছাঁয়ায় সম্ভ্রান্ত মুনশি পরিবারে ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠেন।
মায়ের কাছে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে ভর্তি হন স্কুলে। তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়ে চলে আসেন মাদরাসায়। লেখালেখির শুরু তার বাল্য থেকেই। বড় ভাই তরুণ সাংবাদিক মুহাম্মদ রেজাউল করিম তাকে কিনে দিতেন উপন্যাস, গল্প থেকে শুরু করে সাহিত্যের নানান বই। সেই প্রেরণা থেকেই তার লেখক হিসেবে গড়ে ওঠা। ২০০৯ সালে উচ্চশিক্ষা লাভের আশায় ঢাকায় আসেন তিনি। রাজধানীর মালিবাগে অবস্থিত আরবি বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চতর ইসলামি গবেষণা কেন্দ্র, জামিয়া শারইয়্যাহ মালিবাগে ভর্তি হন। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির তাফসির বিভাগে (জালালাইন শরিফে) তিনি অধ্যয়নরত এবং এসএসসি পরীক্ষার্থী। পড়াশুনা আর লেখালেখির পাশাপাশি ছাত্রজীবনেই তিনি পেশা হিসেবে বেছে নেন চ্যালেঞ্জিং পেশা সাংবাদিকতাকে। দীর্ঘ এক বছর বহুল প্রচারিত পাক্ষিক আমাদের মুক্ত আওয়াজ ও টাইমনিউজ টুয়েটিফোরডটকম-এ সাংবাদিক হিসেবে কাজ করছেন। এছাড়াও সাহিত্যের অনলাইন অন্যধারাডটকম-এর নিয়মিত লেখক। মে-২০১২য় অন্যধারা অনলাইনের সেরা লেখা পুরস্কার পান তিনি। দেয়ালিকাসহ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় লেখা এবং আরবি ও বাংলা বক্তৃতায় বহুবিধ পুরস্কার পান মেধাবী এ তরুণ লেখক। ‘বাড়িয়েছি হাত অধরায়’ তার প্রথম বই।